iDEA

islamic dawah and education academy

তাল নয় তিল

জীবনে পরিমিতিবোধ অর্জন করতে বহু কাঠ-খড় পোড়াতে হয়। সোহবত, দোয়া ও তলব থাকতে হয়। এরপরই আল্লাহ তায়ালা দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন। সেই বুঝই মুমিনের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যাকে পরিভাষায় বলে তাফাক্কুহ ফিদদীন। এটা না থাকলে অন্য সবকিছুই ঝুঁকির মধ্যে থাকে। যোগ্যতা মাপকাঠি নয়। যোগ্যতা ধারণ করার মতো বুঝ থাকাটাই আসল।

তাফাক্কুহ যদি না থাকে, সমূহ সম্ভাবনা আছে আপনি তিলকে তাল বানাবেন। অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে জীবন ব্যয় করবেন। অথচ এগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারলে আমার জীবন হয়ত ভিন্ন মাত্রা পেত। নীচে আমরা এরকম কিছু বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি। যেগুলোকে আমরা তাল মনে করে জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করতে পারি। কিন্তু বাস্তবে সেগুলো আমার জীবনে এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

Read More

উন্নত মম শির

১। আমরা সবাই চাই সমাজের শিক্ষিত, উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী লোকগুলো দ্বীনদার হয়ে যাক। তাদের মাধ্যমে ইসলামের কল্যাণেরও সম্ভাবনা থাকে। 
এজন্য সমাজের এলিট শ্রেণির কাছে দাওয়াতের ব্যাপারে আমাদের বেশ আগ্রহ থাকে।

তাদেরকে দাওয়াত দেয়া ও দ্বীনের পথে আনার চেষ্টা অবশ্যই দ্বীনের একটি মহান খেদমত। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু বিপত্তি ঘটে। বিপত্তিগুলো কোথাও লঘু। কোথাও ঘোরতর। ধরুন, তাদেরকে কাছে টানার জন্য একটু উদার হলাম। দ্বীনের কিছু বিধি-বিধানে একটু শিথিল হলাম। যেমন,

Read More

নারী ও নারী দিবস

নারীবাদের ব্যাপক চর্চা সত্ত্বেও একটা সত্য আমাদের স্বীকার করতে হবে। সত্যটা আমাদের সমাজের একেবারে মূলে প্রোথিত। সহজেই এর মূলোৎপাটন সম্ভব নয়। আর সে আশাও সুদূর পরাহত মনে হয়।

তিক্ত হলেও সত্য, তথাকথিত নারীবাদ পুরুষদেরকে একটুও নাড়া দেয়নি। দিলেও খুব সামান্য। দৃষ্টিগ্রাহ্য হওয়ার মত না। নারীরা ঠিকই নারীবাদের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু বিপরীত মেরুর পুরুষদের সাথে এই নারীবাদের কোন বোঝাপড়া নেই। পুরুষরা সেই আগের মতই আছে।

এর পেছনে পুরুষদের স্বার্থপর মানসিকতা দায়ী নাকি নারীবাদের শ্লোগানটাই আমাদের প্রকৃতি বিরুদ্ধ, সেই বিতর্কে এখন যেতে চাচ্ছি না। সমস্যা আসলে দু’দিকেই। সহযোগিতার চেয়ে প্রতিযোগিতার মানসিকতা এখানে মুখ্য। মূল সমস্যা এখানেই।

Read More

আকাবির মান্যতা

সর্বপ্রথম আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়, আকাবিরগণ কি মা’সুম (ভুলের উর্ধ্বে) ছিলেন? এর উত্তর হল, অবশ্যই না। অমুক আকাবির এই এই বিষয়ে ভুল করেছেন।অমুক আরও বেশি কিছু বিষয়ে ভুল করেছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল সেই অমুক আকাবির আসলেই ভুল করেছেন। তাহলে প্রমাণিত হয়ে গেল, আকাবিররা মা’সুম না। তাদের ভুল হয় বা হয়েছে।

আকাবির যেহেতু ভুলের উর্ধ্বে না, তাহল আমাদের কী করণীয়?

আকাবিরদের যেহেতু ভুলের সম্ভাবনা আছে, এজন্য আকিবিরদের কথা আমরা কুরআন-সুন্নাহর দলিলের আলোকে মানব। কুরআন-সুন্নাহর দলিলের আলোকে যদি আকাবিরদের কথা ঠিক হয়, তাহলে মানব, নতুবা মানব না।

এই পর্যন্ত কথাগুলো যে কারও কাছে একেবারে টাটকা মজবুত মনে হবে।

একটু অপেক্ষা করুন। আমরা কথাগুলো একটু বিশ্নেষণ করতে চাই।

Read More

আদাবুল জিহাদ

ফাজাইলে জিহাদের পাশাপাশি আমাদের মাঝে আাদাবুল জিহাদের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে শিরোনাম নির্বাচন করা হয়েছে। একটা ঘটনা দিয়ে শুরু করি। আমি তখন কাফিয়া জামাতে পড়ি। জযবাতি কথা তখন খুব আগ্রহ ভরে শুনতাম। সেসম সব দিকে জসিমুদ্দীন রহমানী সাহেবের আলোচনাগুলো বেশ জনপ্রিয়। এগুলো নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হতো। সহপাঠীদের কয়েকজন তার ভক্তও ছিল। তাদের একজনের সাথে মাঝেই মাঝেই বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হতো। গুরুত্বের সাথে তাদের কথা শুনতাম।

একদিন তাকে বললাম, আগামী শুক্রবার রহমানী সাহেবের ওখানে জুমআ পড়ব। আমি তখন সবেমাত্র ঢাকায় এসেছি। একেবারেই ইয়াং। জুমআর দিন আগে আগে হাতেমবাগ মসজিদে গেলাম। মেম্বারের কাছাকাছি বসার চেষ্টা করলাম।

Read More

একজন আলিমের উপাখ্যান

উম্মত হাজারও সমস্যায় জর্জরিত। সেই সমস্যাগুলো ছড়িয়ে আছে চারদিকে। সমাজে। জীবনে। বিশ্বাসে।বিশ্বাসের প্রতিফলনে।

আলিমরা সেগুলো দেখে। একটু-আধটু সংশোধনের চেষ্টা করে। কিছু সত্য কষ্টের হয়। আমাদের ভাইয়েরা আহত হোন। সেটা দেখেও ব্যথিত হোন। মু’মিনকে কষ্ট দেয়া যে অন্যায়।

ডাক্তার জানে। রুগীর কষ্ট হবে। ব্যথা পাবে। রক্তক্ষরণ হবে। এরপরও ডাক্তার কাঁচি চালায়। একটা মহৎ উদ্দেশ্যে। যদি জীবনটা বেঁচে যায়।আলিমও ভাবে। যদি ইমানটা বেঁচে যায়। সে জানে। উম্মত কষ্ট পাবে। ব্যথিত হবে। উম্মতের ব্যথায় নিজেও ব্যথিত হয়। ছটফট করে। নির্ঘুম রাত কাটে। এরপরও সে হাল ছাড়ে না।

সে শুধু সিরাত পড়ে না। সিরাতকে আলিঙ্গন করে। নবীজির গভীর রাতের কান্না শুধু বইয়ের পাতায় থাকে না। সে জানে। এই কান্নার উত্তরাধিকারও সে। সংসারে অভাব। সে ভাবে। এটাও আমার মিরাস। মাহবুবে দোজাহান তো এমনই ছিলেন।

গালি আসে। আসে উপহাস ও তাচ্ছিল্য। সে ভাবে। গালি শোনাও মাহবুবে ইলাহীর মিরাস। পেছনে ফিরে যায়। হাজার বছর। মক্কার অলি-গলিতে। তায়েফের তপ্ত রোদে। সে ভাবে। হয়ত কোন একদিন এরাও হেদায়াত পাবে।

মানুষের বয়স বাড়ে। বুড়ো হয়। অবসরে যায়। আরাম-আয়েশ করে। আলিম যেন বুড়ো হয় না। তার বয়স বাড়ে। দায়িত্ব বাড়ে। উম্মতের ব্যথাও বাড়ে। আওয়াজ ক্ষীণ হয়। হাড়গুলো খটখট করে। এরপরও তার বিরাম নেই। বিশ্রাম নেই। পথচলা থেমে নেই। কখনও হুইল চেয়ারে। কখনও কাঁধে ভর করে। শেষ শক্তিটুকু উম্মতকে দিতে চান। ভাবেন, মুহাম্মাদে আরাবীর পূর্ণ অনুকরণ কী হল?

বুড়োদেরকে কেউ ভয় করে না। সবার কাছে অপাংক্তেয়। বুড়ো সিংহকে শিয়ালও ধাওয়া করে। বুড়ো আলিম সিংহকে ছাড়িয়ে যায়। তার আধিপত্যে শত্রুর বুকে কাঁপন ধরে। শয়তানী রাজ্য থরথর করে। কাপুরুষেরা এগিয়ে আসে। চোরের মত। কখনও ছুরি চালায়। কখনও গুলি। বুড়ো সিংহের শেষ রক্তটুকুও বৃথা যায় না। উম্মতের শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পড়ে। চেয়ে 
দ্যাখ কাপুরুষের দল। শেষ রক্তফোঁটা উম্মতের শিরায় কীভাবে টগবগ করছে।

সিফাতে খাবারিয়্যা সম্পর্কে সালাফের অবস্থান

ইজহারুল ইসলাম

প্রশ্ন: সিফাতে খাবারিয়্যার ক্ষেত্রে সালাফের মাজহাব কী ছিল?

উত্তর:

সালাফদের ঐকমত্যপূর্ণ মাজহাব ছিল তানজীহ। সকলেই আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত বিশ্বাস করতেন। এ বিষয়ে কেউ দ্বিমত করতেন না। সুতরাং সালাফের সমস্ত বক্তব্য সামনে রাখলে সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয় যে, সকলের ঐকমত্যপূর্ণ মাজহাব ছিল তানজীহ।

যেমন নুজুল বা অবতরণ। আল্লাহর নুজুল যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গমন নয়, এব্যাপারে সকলেই একমত। একইভাবে আল্লাহর নুজুল উপর থেকে নীচে নামান নয়।

সালাফদের কেউ কেউ ইয়াদকে (হাত) সিফাত বলেছেন। কিন্তু তাদের সকলেই এ বিষয়ে একমত ছিলেন, ইয়াদ কোন অঙ্গ বা দেহের কোন অংশ নয়।

মোটকথা, তানজীহ (সৃষ্টির সাদৃশ্য থেকে আল্লাহ তায়ালাকে মুক্ত বিশ্বাস করা) হল সালাফের ঐকমত্যপূর্ণ মাজহাব।

Read More

তথাকথিত তাকফিরী জিহাদীরা কেন শায়খ নজদীকে ইমাম মনে করে?

– অধমের ক্ষুদ্র পর্যবেক্ষণে এর বেশ কিছু কারণ চোখে পড়েছে। নীচে এর কয়েকটি উল্লেখ করছি।

১। তাকফিরের বৈধতা অর্জন। মুসলমানদেরকে কাফির বলার অন্যতম দলিল হলেন শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে নজদী। কিছু ক্ষেত্রে তারা ইবনে তাইমিয়া রহ: কেও দলিল বানিয়ে থাকে। তাকফিরের চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রে শায়খ নজদীর বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

২। তাকফিরের উপর ভিত্তি করে অস্ত্রধারণের বৈধতা। এটাও তারা শায়খ নজদীর দাওয়াত ও বাস্তব আমল থেকে নিয়ে থাকে। শায়খ নজদী তাকফির করে অস্ত্রধারণ করেছিলেন। মানহাজী ভাইদেরকে তার এই আমলটিও প্রভাবিত করে।

Read More

হুলুলিয়া ফেরকা

আল্লাহ তায়ালাকে যে কোন সৃষ্টির মাঝে বিশ্বাস করাকে হুলুল বলে। খৃষ্টানরা ইসা আ: এর মাঝে আল্লাহর হুলুল বা অনুপ্রবেশের আকিদা রাখত। হিন্দুরা গাছ-পালা, গরু-গাভীর ভেতরে আল্লাহর অনুপ্রবেশের আকিদা রাখে।

হুলুলের আকিদা একটি মারাত্মক কুফুরী আকিদা। যে কোন মাখলুকের মধ্যে আল্লাহ তায়ালা প্রবেশ করেছেন, এই বিশ্বাস কুফুরী। এখানে মাখলুক ছোট না বড় সেটা বিবেচ্য নয়। গরু গাভীর মধ্যে আল্লাহকে বিশ্বাস করলে যেমন কুফুরী হবে, একইভাবে আসমানে আল্লাহ তায়ালাকে বিশ্বাস করলেও কুফুরী হবে। যে কোন স্থানে আল্লাহ তায়ালাকে বিশ্বাস করলে কুফুরী হবে। কারণ সমস্ত স্থান সৃষ্টি বা মাখলুক। যারা আল্লাহ তায়ালাকে আসমানে, আরশে বা আরশের উর্ধ্বে কোন জায়গায় অাছেন এই বিশ্বাস রাখে, এরা সবাই হুলুলিয়া ফেরকার অন্তর্ভূক্ত। আসমান, আরশ বা আরশের উর্ধ্বের কোন জায়গা সবই মাখলুক বা সৃষ্টি। আর যে কোন মাখলুকের মধ্যে আল্লাহ তায়ালাকে বিশ্বাস করাই হল হুলুল।

পৃথিবীতে, গরু-গাভীর মধ্যে আল্লাহ তায়ালাকে বিশ্বাস করা আর আসমান, আরশ বা অন্য কোন জায়গায় আল্লাহ তায়ালাকে বিশ্বাস করা একই। সবগুলিই মাখলুক। যে ধরণের মাখলুকই হোক না কেন, আল্লাহ তায়ালাকে মাখলুকের ভেতরে বিশ্বাস করা কুফুরী। এজন্য আল-বাহরুর রায়েক ও ফতোয়ায়ে আলমগীরিতে রয়েছে, কেউ যদি আল্লাহ তায়ালাকে আসমানে বিশ্বাস করে সে কাফের হয়ে যাবে।

এখানে কাউকে কাফের মুশরিক বলা উদ্দেশ্য নয়। আকিদার ভয়াবহতা তুলে ধরা উদ্দেশ্য। যারা বুঝে অথবা না বুঝে হুলুলের আকিদা রাখেন, তারা কতো মারাত্মক আকিদা পোষণ করছেন, একটু ভেবে দেখা দরকার।

আহলে সুন্নতের আকিদা হল, আল্লাহ তায়ালা সমস্ত সৃষ্টি থেকে মুক্ত। সব কিছু সৃষ্টির আগে তিনি যেমন ছিলেন, এখনও আছেন। আল্লাহর কোন গুণে কোন পরিবর্তন হয় না। তার কোন গুণ বিলুপ্ত হয় না। নতুন কোন গুণ তিনি অর্জন করেন না। আরশ সৃষ্টির পর তিনি নতুন কোন গুণ অর্জন করেছেন বা তার কোন গুণে পরিবর্তন হয়েছে, এটা বিশ্বাস করাও কুফুরী। এজন্য আহলে সুন্নতের আলেমগণ বলেন, كان الله بلا مكان وهو الآن علي ماكان। সব কিছু সৃষ্টির আগে আল্লাহ তায়ালা স্থান থেকে মুক্ত ছিলেন। এখনও তিনি তেমনই আছেন সব কিছু সৃষ্টির আগে যেমন ছিলেন।

ইমাম ত্বহাবী রহ: আকিদাতুত ত্বহাবিয়া-তে লিখেছেন,
مَا زَالَ بِصِفَاتِهِ قَدِيمًا قَبْلَ خَلْقِهِ، لَمْ يَزْدَدْ بِكَوْنِهِمْ شَيْئًا لَمْ يَكُنْ قَبْلَهُمْ مِنْ صِفَتِهِ، وَكَمَا كَانَ بِصِفَاتِهِ أَزَلِيًّا كَذَلِكَ لَا يَزَالُ عَلَيْهَا أَبَدِيًّا.

অর্থ: আল্লাহ তায়ালা তার সমস্ত গুণসহ সব কিছু সৃষ্টির পূর্ব থেকেই অনাদি। সব কিছু সৃষ্টির পর আল্লাহর নতুন কোন গুণ সংযোজিত হয়নি। আল্লাহ তার সমস্ত গুণসহ যেমন অনাদি, একইভাবে অনন্তকাল তিনি থাকবেন।

আল্লাহর গুণে কোন পরিবর্তন বা নতুনত্ব আসে না। আগে একটি গুণ আল্লাহর ছিল না, নতুনভাবে অর্জন করেছেন, এই বিশ্বাস কুফুরী। আল্লাহর জাত ও সিফাত সব কিছুই অনাদী। যারা বিশ্বাস করে আরশ সৃষ্টির পর আল্লাহ তায়ালা নতুন কোন গুণ অর্জন করেছেন, তাদের এই বিশ্বাসও কুফুরী।

যারা আল্লাহ তায়ালাকে আরশে, আসমানে বা অন্য কোন জায়গায় বিশ্বাস করে তারা দু’টি কুফুরী আকিদা রাখে,

১। যে কোন মাখলুকের ভেতরে আল্লাহ তায়ালাকে বিশ্বাসের কারণে হুলুলের আকিদা রাখে।

২। এরা বিশ্বাস করে, সব কিছু সৃষ্টির পর আল্লাহ তায়ালা নতুন গুণ অর্জন করেছেন বা আল্লাহর গুণে পরিবর্তন হয়েছে।

এই দু’টি কারণে আল্লাহর জন্য স্থান সাব্যস্ত করা কুফুরী। এ বিষয়ে ইমামগণের বক্তব্য জানতে লিংকের পিডিএফ দেখুন।

https://drive.google.com/file/d/1o_EJwCjebgbhhrFIUsoGXEXFMcWWdhXG/view

শিরক সমাচার – ৯

আগের দু’টি পর্বে আমরা সিজদা ও তাওয়াফ সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আজকের পর্বে আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ  একটি বিষয়ে আলোচনা করব।

কাউকে ক্ষমা করা কিংবা জান্নাত দেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। কোন মানুষ কারও গোনাহ মাফ করতে পারবে না কিংবা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না। তবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা  কিছু মানুষকে শাফায়াত বা সুপারিশের অনুমতি দিবেন। তাদের সুপারিশ গ্রহণ করে আল্লাহ তায়ালা বহু লোককে মাফ করে তাদের জন্য জান্নাতের ফয়সালা করবেন।

সুপারিশের ক্ষেত্রে রাসুল সঃ হবেন সবার অগ্রগণ্য। তার একটি বিশেষ নামই হল, শাফিউল মুজনিবিন (পাপীদের সুপারিশকারী)। কিয়ামতের দিন অন্যান্য নবী-রাসুলদের কাছে আবেদন করে ব্যর্থ হয়ে সকলে রাসুল সঃ এর কাছে শাফায়াতের আবেদন নিয়ে হাজির হব। আল্লাহ তায়ালা রাসুল সঃ কে শাফায়াতের অনুমতি দিবেন।

রাসুল সঃ এর জীবদ্দশায় সাহাবায়ে কেরাম তার কাছে শাফায়াতের আবেদন করতেন। কেয়ামতের দিন তিনি যেন তাদের মুক্তি ও জান্নাতের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করেন, এই আবেদন নিয়ে হাজির হতেন রাসুল সঃ এর দরবারে।

তিরমিজি শরিফে হজরত আনাস রাঃ থেকে স্পষ্ট হাদিস রয়েছে। হজরত আনাস রাঃ বলেন, আমি রাসুল সঃ এর কাছে আবেদন করলাম, তিনি যেন কিয়ামতের দিন আমার জন্য সুপারিশ করেন। রাসুল সঃ বলেন, আমি সুপারিশ করব।  তিরমিজি-২৩৭০, হাদিসটি সহিহ। আলবানি সাহেব সাহিহুত তারগিবে  এই হাদিসকে সহিহ বলেছেন। হাদিসের আরবি পাঠ:

سَأَلْتُ النَّبِيَّ -صلى الله عليه وسلم- أَنْ يَشْفَعَ لِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، فَقَالَ : أَنَا فَاعِلٌ

যারা কিয়ামতের দিন শাফায়াতের অনুমতি পাবেন, তাদের কাছে আপনি শাফায়াতের আবেদন রাখতে পারবেন। তাকে আপনি বলতে পারবেন, সে যেন আপনার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে। হজরত আনাস রাঃ রাসুল সঃ এর কাছে এই আবেদন করেছেন। আরও অনেক সাহাবি এই ধরণের আবেদন করেছেন রাসুল সঃ এর কাছে । সুতরাং হাদিস থেকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, শাফায়াতের অনুমতিপ্রাপ্তদের কাছে শাফায়াতের আবেদন করা যাবে।

রাসুল সঃ এর জীবদ্দশায় সাহাবায়ে কেরাম রাঃ তাঁর কাছে শাফায়াতের আবেদন করেছেন, এখন প্রশ্ন হল, রাসুল সঃ এর এর ইন্তেকালের পরে কি তার কাছে শাফায়াতের আবেদন করা যাবে? একথা কি বলা যাবে যে, হে আল্লাহর রাসুল, আপনার কাছে শাফায়াতের আবেদন করছি। কাল কিয়ামতে কঠিন বিপদের মুহূর্তে আপনি আমার মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবেন।

চার মাজহাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণের ফাতওয়া হল, রাসুল সঃ এর ইন্তেকালের পরেও তার কাছে শাফায়াতের আবেদন করা যাবে। অনেকেই শাফায়াতের আবেদনকে রাসুল সঃ এর কবর জিয়ারতের আদবের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অর্থাৎ রাসুল সঃ এর কবর জিয়ারতের অন্যতম একটি আদব হল, তার কাছে শাফায়াতের আবেদন করা।

Read More

Page 1 of 16

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA