ইশার ওজু দিয়ে ফজরের সালাত আদায়

সালাফী শায়খ ইবনে জিবরীন রহ. বলেন,

هكذا حرص هؤلاء الصحابة- رضي الله عنهم- على أن يأتوا بهذه العبادات، فهذا، هؤلاء وغيرهم من الصحابة كثيرون يحرصون على قيام الليل.كذلك التابعون فيهم كثير يصلون الليل كله، ويجدون لصلاة الليل نشاطا وإقبالا من نفوسهم.ذكروا عن سعيد بن جبير -رضي الله عنه- أنه بقي عشرين سنة يصلي الفجر بوضوء العشاء، إذا توضأ لصلاة العشاء وصلى استمر يصلي حتى يطلع الفجر، لا يضع جنبه طوال الليل، يتقلب، ويصلي من صلاة إلى قراءة إلى ذكر، هذه حالتهم.وكذلك -أيضا- أُثر عن أبي حنيفة الإمام -رحمه الله- أنه بقي نحو أربعين سنة أو ثلاثين سنة لا ينام طوال الليل، بل يصلي الليل كله، أو يصلي جل الليل ويتلذذ بقيامه وتهجده.وكذلك ذُكر عن بعض السلف أنه قال: كابدت قيام الليل عشرين سنة، وتلذذت به عشرين سنة. أي أربعون سنة وهو يقوم الليل كله، العشرون الأولى كأنه يلاقي تعبا ومشقة، والعشرون الأخيرة يجد لقيام الليل لذة، ويجد له راحة، ويحبه ويتمنى أنه يطول، حتى قال بعضهم: ما أحزنني منذ عشرين سنة إلا طلوع الفجر.كيف يحزنه؟ كيف يسوءه؟ كيف يستاء؟ لأنه يقطع التذاذه، تلذذه بالعبادة يقطعها، ينقطع عن تلذذه بالقراءة وبالذكر وبالصلاة وما أشبه ذلك.ويقول بعضهم: أهل الليل في ليلهم ألذ من أهل اللهو في لهوهم، ويريد بأهل الليل أهل التهجد، وأهل قيام الليل، والأمثلة على ذلك كثيرة.

অর্থ: এটাই ছিলো সাহাবীদের ইবাদতের প্রতি আগ্রহ-উদ্দীপনার দৃশ্য। অনেক সাহাবী এভাবে রাত জেগে তাহাজ্জুদ আদায়ের প্রতি যারপর নাই যত্নবান ছিলেন।

তেমনিভাবে তাবেয়ীগণও তাহাজ্জুদের ব্যাপারে যত্নবান ছিলেন।  তাদের মাঝে অনেকেই সারা রাত নামায আদায় করতেন। রাতে নামায আদায়ের ক্ষেত্রে নিজেদের ভিতর থেকে একধরনের শক্তি, উদ্দীপনা ও পুলক অনুভব করতেন।  মুহাদ্দিসগণ  তাবেয়ী হযরত সাইদ ইবনুল মুসায়্যাব রহ. সম্পর্কে  বর্ণনা করেছেন,  তিনি বিশ বছর যাবৎ ইশার ওজু দিয়ে ফজরের নামায আদায় করেছেন।  তিনি  ইশার জন্য ওজু করতেন । ইশার নামায শেষ করে নফলে দাঁড়িয়ে যেতেন। এভাবে ভোর পর্যন্ত নামায আদায় করতেন।  রাতে কখনও বিছানায় পিঠ দিতেন না। এভাবে তেলাওয়াত, জিকর ও নামাযে তাদের রাত কেটে যেত। এই ছিল তাদের ইবাদতের চিত্র।  একইভাবে ইমাম আবু হানিফা রহ. সম্পকের্ বর্ণনা রয়েছে, তিনি চল্লিশ বছর অথবা ত্রিশ বছর রাতে ঘুমাতেন না।  বরং সারা রাত নামায আদায় করতেন। তাহাজ্জুদের মাধ্যমে বিশেষ স্বাদ আস্বাদন করতেন।

জনৈক সালাফ থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,  বিশ বছর যাবৎ আমি কষ্ট করে তাহাজ্জুদ আদায় করেছি। আর বিশ বছর তাহাজ্জুদের স্বাদ উপভোগ করেছি।  অর্থাৎ তিনি মোট চল্লিশ বছর সারা রাত নামায আদায় করেছেন।  প্রথম বিশ বছরে কিছুটা কষ্ট ও ক্লান্তি অনুভব করেছেন। পরবর্তী বিশ বছরে শুধু তাহাজ্জুদের স্বাদ উপভোগ করেছেন। তাহাজ্জুদের মাঝে পেয়েছেন অনাবিল প্রশান্তি।  তিনি আকাংখ্য ব্যক্ত করেছেন, তার এই প্রশান্তি যেন দীর্ঘ স্থায়ী হয়।  এমনকি কোন কোন সালাফ বলেছেন, বিশ বছর যাবৎ ভোরের আলো আমাকে পেরেশান করেছে।

ভোরের আলো কীভাবে চিন্তিত করে? ভোরের আলো কীভাবে পেরেশান করে? এটি কীভাবে তাঁকে কষ্ট দেয়?

কেননা এটি তার তাহাজ্জুদের প্রশান্তি ভঙ্গ করে। ইবাদতের অনাবিল সুখ থেকে বঞ্চিত করে।  তেলাওয়াত, জিকর, সালাত এগুলোর স্বাদ থেকে তাকে দূরে সরিয়ে দেয়।

জনৈক সালাফ বলেছেন, খেলা-ধুলায় মত্ত ব্যক্তি যেমন স্বাদ পায় তাহাজ্জুদ আদায়কারীগণ  এর চেয়েও বেশি স্বাদ পেয়ে থাকে। সালাফে-সালিহীনের তাহাজ্জুদের নিমগ্নতা ও প্রশান্তির অসংখ্য উদাহরণ ও বর্ণনা রয়েছে।

সূত্র: http://www.ibn-jebreen.com/books/8-205–7262-.html

তাবেয়ী সাইদ ইবনুল মুসায়্যাব রহ. এর আমল:

ইমাম ইবনে কাসীর রহ. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে বর্ণনা করেছেন,

وقال ابن إدريس: صلى سعيد بن المسيب الغداة بوضوء العتمة خمسين سنة

অর্থ: ইবনে ইদরীস রহ. বলেন, সাইদ ইবনুল মুসায়্যাব রহ. পঞ্চাশ বছর যাবৎ ইশার ওজু দিয়ে ফজরের নামায আদায় করেছেন।

আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খ.৯, সাইদু ইবনুল মুসায়্যাব রহ. এর জীবনী।

বর্ণনাটি ইমাম ইবুনল জাওযী রহ. তার সিফাতুস সাফওয়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন। (সিফাতুস সাফওয়া, খ.২, পৃ.৮০)

একই বর্ণনা ইমাম আবু নুয়াইম হিলয়াতুল আউলিয়াতে এটি সনদসহ বর্ণনা করেছেন। (হিলয়াতুল আউলিয়া, খ.২, পৃ.১৬৩)

সুলাইমান আত-তাইমী রহ [মৃত: ১৪৩] এর আমল:

তাবেয়ী  সুলাইমান আত-তাইমী রহ. চল্লিশ বছর যাবৎ ইশার ওজু দিয়ে ফজরের সালাত আদায় করতেন। এ বিষয়ে ইমাম যাহাবী রহ. সিয়ারু আ’লামিন নুবালাতে তিনটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।

আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. থেকে বর্ণিত,

 أقام سليمان التيمي أربعين سنة إمام الجامع بالبصرة يصلي العشاء والصبح بوضوء واحد .

অর্থ:  সুলাইমান আত-তাইমী রহ. চল্লিশ বছর যাবৎ বসরার জামে মসজিদের ইমাম ছিলেন,  তিনি চল্লিশ বছর ইশার ওজু দিয়ে ফজরের নামায আদায় করতেন।

-সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, খ.৬, পৃ.২০০, হিলয়াতুল আউলিয়া, খ.৩, পৃ.২৯

তাবেয়ী ইমাম আবু হানিফা রহ. এর আমল:

ইমাম আবু হানিফা রহ. চল্লিশ বছর যাবৎ ইশার ওজু দিয়ে ফজরের নামায আদায় করেছেন।  ইমাম যাহাবী রহ. সিয়ারু আ’লামিন নুবালাতে বর্ণনাটি উল্লেখ করেছেন। ইমাম যাহাবী রহ. লিখেছেন,

عن أسد بن عمرو أن أبا حنيفة رحمه الله صلى العشاء والصبح بوضوء أربعين سنة

অর্থ: আসাদ ইবনে আমর থেকে বর্ণিত, ইমাম আবু হানিফা রহ. চল্লিশ বছর যাবৎ  একই ওজু দিয়ে ইশা ও ফজরের নামায পড়েছেন।

-সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, খ.৬, পৃ.৩৯৯

-মানাকিবুল ইমাম আবি হানিফা, ইমাম কারদারী রহ, খ.১, পৃ.২৪১-২৪২

হুশাইম ইবনে বিশর আবু মুয়াবিয়া রহ. (মৃত:১৮৩ হি:) এর আমল:

তিনি বিশ বছর যাবৎ ইশার উজু দিয়ে ফজরের নামায আদায় করেছেন।  ইমাম যাহাবী ও ইবনে কাসীর রহ. তার এই আমল বর্ণনা করেছেন।

ইমাম যাহাবী রহ. লিখেছেন,

مكث هشيم يصلي الفجر بوضوء العشاء قبل أن يموت عشرين سنة .

অর্থ: আমর ইবনে আউন থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,  হুশাইম রহ.  মৃত্যুর পূর্বে বিশ বছর  যাবৎ  ইশার উজু দিয়ে ফজরের নামায আদায় করেছেন।

-সিয়ারু আ’লামিন নুবালা, খ.৮, পৃ.২৯০

-আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খ.১০, পৃ.১৯৮

আবু বকর নাইসাপুরী রহ. এর আমল:

ইমাম আবু বকর নাইসাপুরী রহ. চল্লিশ বছর যাবৎ ইশার উজু দিয়ে ফজরের নামায আদায় করেছেন।

-তাজকিরাতুল হুফফাজ, খ.৩, পৃ.৮২০, শাজারাতুয যাহাব, খ.৪, পৃ.১২৯

আবুল হাসান আশআরী রহ. এর আমল:

ইমাম আবুল হাসান আশআরী রহ. বিশ বছর যাবৎ  ইশার উজু দিয়ে ফজরের নামায আদায় করেছেন।

-আত-ত্ববাকাতুল কুবরা, খ.২, পৃ.১৯০

এছাড়াও আরও অনেক ইমাম থেকে ইশার উজু দিয়ে ফজরের সালাত আদায়ের কথা বর্ণিত আছে। ইবনুল জাওযী রহ. তার সিফাতুস সাফওয়া গ্রন্থে তাদের জীবনী আলোচনা করেছেন। এছাড়াও ইমাম যাহাবী রহ. সিয়ারু আ’লামিন নুবালাতে এবং ইমাম ইবনে কাসীর রহ. আল-বিদায়াতে  তাদের জীবনী এনেছেন। এসব ইমামদের মতো উদ্দীপনা ও ইবাদতের স্বাদ আমাদেরকে নসীব করুন। আমীন।

Print Friendly