মৃত্যুর পর কথোপকথন: আমরা আগের পর্বে মৃত্যুর পর কথোপকথনের দু’টি ঘটনা উল্লেখ করেছি। এ বিষয়ে আরও অনেক ঘটনা রয়েছে। সংক্ষিপ্ত কয়েকটি উল্লেখ করে পরবর্তী বিষয়ের দিকে যাবো ইনশাআল্লাহ।

ঘটনা -৩:

বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক ইবনে আসাকির তার তারীখে লিখেছেন,

عن عبد الله بن عتبة الأنصاري ، قال بينما ثم يثورون القتلى يوم مسيلمة إذ تكلم رجل من الأنصار من القتلى ، فقال : محمد رسول الله أبو بكر الصديق عمر الشهيد عثمان الرحيم ثم سكت

আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা আল-আনসারী রা. বলেন, মুসালাইমাতুল কাজ্জাবের সাথে যখন ঘোরতর লড়াই চলছিল, আনসারী এক শহীদ  কথা বলে উঠল। সে বলল, “মুহাম্মাদ স. আল্লাহর রাসূল। আবু বকর হলেন সিদ্দিক (সত্যবাদী), উমর রা. হলেন শহীদ। উসমান রা. হলেন নম্র ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী। এরপর সে চুপ করল।

তারীখে দিমাশক, খ.৩০, পৃ.৪০৮

মান আশা বা’দাল মাউত, পৃ.১৭, বর্ণনা নং ৮

ঘটনা-৪: জঙ্গে সিফফীন অথবা জঙ্গে জামালে মৃতের কথোপকথন:

ইমাম ইবনে কাসীর রহ. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে লিখেছেন,

عن عبد الله بن عبيد الأنصاري ، قال : بينما هم يثورون القتلى يوم صفين أو يوم الجمل إذ تكلم رجلٌ من الأنصار من القتلى فقال محمد رسول الله أبو بكر الصديق عمر الشهيد عثمان الرحيم ثم سكت

“হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উবায়েদ আল-আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, জঙ্গে জামাল অথবা সিফফীনে  যখন ঘোরতর লড়াই চলছিল, হঠাৎ এক আনসারী শহীদ কথা বলে উঠল। সে বলল, মুহাম্মদ স. আল্লাহর রাসূল ।  আবু বকর হলেন, সত্যবাদী। উমর হলেন শহীদ।  উসমান কোমল হৃদয়ের অধিকারী। এরপর সে চুপ করল। “

[আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খ.৬, পৃ.১৫৮]

তারীখে দিমাশক, খ.৩৯, পৃ.২২২

মৃত্যুর পর হাসি:

বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ. বর্ণনা করেছেন,  হারিস আল-গানাবী বর্ণনা করেন, রবী ইবনে খিরাশ কসম খেয়েছিলেন, তিনি পরকালে তার অবস্থান না জানা পর্যন্ত দাঁত বের করে কখনও হাসবেন না। তার মৃত্যুর পরেই কেবল তিনি হেসেছিলেন।  রবী ইবনে খিরাশের ভাই রিবয়ী ইবনে খিরাশও একই কসম খেয়েছিলেন। তিনি জান্নাতী না কি জাহান্নামী সেটা না জানা পর্যন্ত হাসবেন না। হারেস আল-গানাবী বলেন, রিবয়ী ইবনে খিরাশের গোসলদাতা আমাকে বলেছে,  আমরা যতক্ষণ তাকে গোসল দিচ্ছিলাম ততক্ষণ তিনি খাটের উপর মুচকী হাসছিলেন।

মান-আশা বা’দাল মাউত, পৃ.২০, বর্ণনা নং ১২ ।

মৃত্যুর পর হাসি সংক্রান্ত সাম্প্রতিক কারামত:

শহীদ ড. আব্দুল্লাহ আজজাম রহ. তার আয়াতুর রহমানে আফগান মুজাহিদগণের অনেক কারামত উল্লেখ করেছেন। শাহাদাতের অমীয় সুধা পান করার পর অনেক শহীদ হেসেছেন। এধরনে কিছু ঘটনা শায়খের কিতাব থেকে,

১.  আমার নিকট আরসালান বর্ণনা করেছে, মুজাহিদ আব্দুল জলিল ত্বালিবে ইলম (ছাত্র) ছিল। খুব নেককার ছেলে ছিল।  বোম্বিং  এ সে  শাহাদাৎ বরণ করে।  আসর সময় তার জানাযা অনুষ্ঠিত হয়। আসরের পরে তাকে তার পিতার ঘরে দাফনের জন্য নেয়া হয়। সকাল পর্যন্ত তার লাশ সেখানে ছিল। মুজাহিদগণ তার কাছেই ছিল। সকাল পর্যন্ত সে চোখ খুলছিল, আর মুচকী হাসছিল। মুজাহিদগণ আরসালানের নিকট এসে বলল, আব্দুল জলিল তো মৃত্যুবরণ করেনি। আরসালান বললেন, সে শহীদ হয়েছে। অন্যরা বলল, তার মৃত্যু নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে কীভাবে দাফন করব? সে জীবিত থাকলে তার উপর নতুনভাবে জানাযা পড়তে হবে।  আরসালান বললেন, সে গতকালই ইন্তেকাল করেছে। তবে এটি শহীদের বিশেষ কারামত।

-আয়াতুর রহমান, পৃ.১২৭

২.  বাগমানের প্রধান কমান্ডার মুহাম্মদ উমর আমার কাছে বর্ণনা করেছে, আমাদের সাথী হামিদুল্লাহ শহীদ হল। দাফনের সময় আমি তাকে হাসতে দেখলাম। আমি প্রথমে মনে করেছিলাম, এটা আমার চোখের ভুল। পরবর্তীতে ভালোভাবে লক্ষ্য করলাম, সে আসলেই হাসছিল।

-আয়াতুর রহমান, পৃ.১২৭

৩. বিখ্যাত কমরান্ডার ফাতহুল্লাহ আমার কাছে বর্ণনা করেছেন, মুজাহিদ সুহাইত খানের দাফনের চার দিন পর আমরা তার কবর উন্মুক্ত করি।  কবর খুড়ে দেখি, সে মুচকী হাসছে। আল্লাহু আকবার, আমি দেখেছি,  সে  চোখ খুলে আমাদেরকে দেখছিল।

-আয়াতুর রহমান, পৃ.১২৭

কারামত অস্বীকারকারী ভাইয়েরা এসব কারামত থেকে নিশ্চয় শিরকের গন্ধ পেয়ে গেছেন।  ইমাম ইবনে আবিদ দুনিয়া, ইবনে কাসীর, ইবনে আসাকির, আব্দুল্লাহ আজ্জাম উম্মতের মাঝে শিরক প্রচার করেননি। আবার তারা নিজেরাও এসব বিশ্বাস করে শিরক করেননি। এধরনের কারামতে বিশ্বাস যদি শিরক হয়, তাহলে ইবনে কাসীর রহ. শিরকে লিপ্ত ছিলেন, এই ফতোয়া দিয়ে দিন। তাফসীরে ইবনে কাসীর পড়া নিষিদ্ধ করুন। আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া নিষিদ্ধ করুন। কারণ আল-বিদায়াতে এধরনের অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। আমরা পর্বে পর্বে আলোচনা করব ইনশাআল্লাহ। যেসব সহীহ আকিদার কারামত অস্বীকারকারী ভাইয়েরা ফাজায়েলে আমলের এধরনের ঘটনা থেকে শিরকের গন্ধ পান, তারা কি আল-বিদায়ার একই ঘটনা থেকে তাউহীদের গন্ধ পান? তাদের এই স্ববিরোধী আচরণ আমাদেরকে বিস্মিত করে। শুধু বিরোধীতার জন্যই যে বিরোধীতা হয়, এই বাস্তবতা আরও প্রকট করে তোলে। আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে দীনের সঠিক বুঝ দান করুন। আমীন।

Print Friendly