আল্লাহ তায়ালা দৌড়ান:

পূর্বের আলোচনায় আমরা উল্লেখ করেছি যে, সালাফীদের আকিদা হলো আল্লাহ তায়ালা আরশে বসে আছেন। এরা আল্লাহর জন্য উঠা, নামা, দৌড়ানো, স্থানান্তর হওয়া সব কিছুই সাব্যস্ত করে। এ পর্বে আল্লাহর দৌড়ানো সম্পর্কে আলোচনা করবো।

হাদীসে রয়েছে, আল্লাহ তায়ালা বলেন, “আমার নিকট যে হেটে হাসে, আমি তার দিকে দৌড়ে যায়। ” এই হাদীস থেকে তারা প্রমাণ দিয়েছে যে আল্লাহ পাক দৌড়ান। অথচ সহীহ আকিদার একজন শিশুও বুঝবে যে, এখানে দৌড়ানো দ্বারা আল্লাহ তায়ালা তাকে সাহায্য ও কবুল করা উদ্দেশ্য। যাই হোক, কতো বড় আশ্চর্যের বিষয়, এজাতীয় ভ্রান্ত বিশ্বাস রাখার পরেও এরা সহীহ আকিদার দাবী করে?

সউদি মুফতী বোর্ডের ফতোয়া:

সউদি মুফতী বোর্ডে প্রশ্ন করা হয়, আল্লাহ তায়ালার কী দৌড়ানোর গুণ রয়েছে। তারা উত্তর দেয়, হ্যা আল্লাহর জন্য দৌড়ানোর গুণ রয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা দৌড়ান। এ ফতোয়ায় সাক্ষর করেছে, ইবনে বাজ, আব্দুর রাজ্জাক আফিফী, আব্দুল্লাহ ইবনে গাদইয়ান, আব্দুল্লাহ বিন কুউদ।

ফতোয়া নং-৬৯৩২, [খ.৩, পৃ.১৪২]

ইবনে উসাইমিনের বক্তব্য:

ইবনে উসাইমিন বলেন,

“আল্লাহ তায়ালার জন্য দৌড়ানোর গুণ প্রমাণিত। …….সুতরাং এর উপর বিশ্বাস স্থাপন করা আবশ্যক”

[মাজমুউ ফাতাওয়া ও রসাইল, খ.১, পৃ.১৮২]

স্ক্রিনশট:

বিরোধী বক্তব্য:

ইবনে জিবরীনের বক্তব্য:

ইবনে জিবরীন বলেন, ” দৌড়ানো আল্লাহর গুণ নয়। বরং দৌড়ানো দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, বান্দার প্রয়োজন পূরণে বিলম্ব না করা।”

বিস্তারিত

সালেহ আল-ফাউজানের বক্তব্য:

শায়খ সালেহ আল-ফাউজানের মতে, দৌড়ানো আল্লাহর কোন গুণ নয়।

বিস্তারিত

আলবানী সাহেবের আশ্চর্যজনক উত্তর:

আলবানী সাহেব দৌড়ানোর বিষয়ে আশ্চর্যজনক স্ববিরোধীতার আশ্রয় নিয়েছেন। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন,

” আল্লাহর তায়ালার অবতরণ ও আসার মতো দৌড়ানো আল্লাহর একটি গুণ”

[মাউসুয়াতুল আলবানী, খ.১, পৃ.২৫৮]

স্ক্রিনশট:

আলবানী সাহেবকে একই প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন,

প্রশ্ন: যে আমার কাছে হেটে আসবে, আমি তার দিকে দৌড়ে যাবো। এই হাদীস থেকে আল্লাহ দৌড়ান একথা বলা যাবে?

উত্তর: আমাকে বহুবার এই প্রশ্ন করা হয়েছে। আমি এর উত্তর জানি না।

Print Friendly