iDEA

islamic dawah and education academy

Month: December 2015 (Page 1 of 7)

মতিউর রহমান মাদানীর কথা মেনে নিলে মুহাম্মদ সা, হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা., ইবনে তাইমিয়া রাহঃ , ইবনুল কাইউম রাহঃ সহ মুহাদ্দিসদের বিশাল এক জামাত বেরলভী আক্বিদায় বিশ্বাসী ছিলেন (নাউযুবিল্লাহ)

মানুষ কম জেনে যখন বেশি বয়ান করে তখন তার বড় বড় ভূল হয়। মাদানী সাহেবের অবস্থাও অনেকটা এরকম। আক্বিদার ব্যাপারে তাহার এলেম এত বেশি! যে, তার হুশও নেই তাবলীগ জামাত বা দেওবন্দীদের সাইজ করতে গিয়ে অনেক বিষয়ে পরক্ষ ভাবে রাসূল সা. , সাহাবীদের্‌, তাকফীর করে ফেলছে বা আহলুল বিদায়া ওয়াল ফিরকার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা এ ধরণের শায়খ থেকে উম্মাহকে হেফাযত করেন।

এবার মূল বিষয়ে আসি। বছর খানিক আগে iDEA এর youtube চ্যানেল iDEA TV এ “টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা সম্পর্কে মদিনা ইউনির্ভাসিটির প্রতিনিধি দলের রিপোর্ট ” নামে একটি ভিডিও আপ করেছিলাম। কিছু দিন আগে এ ভিডিওটির কাউন্টার হিসেবে মাদানী সাহেবের একটি ভিডিও নজরে পড়লো। ব্যাচারা মাদানী সেহেবকে এটা নিয়েই নাজেহাল করে দেওয়া যাবে। সামনের কোন এক পোস্টে সেটি নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ। আজকের আলোচনার বিষয়ে আসি। এ ভিডিওটির মধ্যে তিনি বলেছেন যে ফাযায়েলে আমাল,ফাযায়েলে হজ্জে, ফাযায়েলে সাদাকাতে এমন কিছু কিচ্ছা রয়েছে যা বেরলভিদেরও হার মানিয়ে দেয়। উদাহারণ হিসেবে সে কবর থেকে হাত বের হওয়ার কিচ্ছার কথা বললেন।

কিন্তু আফসোস, কারামত সম্পর্কে এ তথাকথিত শায়খের স্পষ্ট জ্ঞান না থাকার কারনে এ ঘটনাকে আক্বিদার অংশ বানালেন। এবং এর উপর ভিত্তি করে বেরলভি আক্বিদার সাথেও মিলিয়ে দিলেন। কিন্তু জনাব মাদানী সাহেব, এ ধরনের ঘটনা(কবর থেকে শরীরের অংশ বা সম্পূর্ণ শরীর বের হওয়া) যদি হাদীস হিসেবে বর্ণনা করা হয় তাহলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম ও বিভ্রান্তকারী(বেরলভী) আক্বিদার প্রচারক ছিলেন(নাউযুবিল্লাহ), যে সাহাবী এ ধরণের ঘটনা বর্ণনা করবেন তার ব্যাপারে কি হুকুম হবে। ঐ সকল মুহাদ্দিসদের ব্যাপারেই বা কি হুকুম হবে যারা এ ধরণের ঘটনা সম্বলিত রেওয়াতকে নিজেদের কিতাবে ঠাই দিয়েছেন??? আর এ ধরনের ঘটনা যদি ইবনুল কাইয়্যিম রাহঃ বর্ণনা করেন বা এ ধরণের আক্বিদাকে যদি ইবনে তাইমিয়া রাহঃ সাপোর্ট করেন তাহলে তাদের ব্যাপারে কি হুকুম হবে?

এবার আমরা এক এক করে দেখি।

        শুধু হাত নয় পূর্ণ দেহ কবর থেকে বের হওয়ার ঘটনা হাদিসে রয়েছে

ফাজায়েলে হজ্বেতো শুধুমাত্র হাত বের হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামতো কবর থেকে সম্পূর্ণ দেহ বের হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটি নিম্নরুপ –
হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল স. বলেন,
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ , عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ سَعْدٍ الْجُعْفِيِّ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” حَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ ، فَإِنَّهُ كَانَتْ فِيهِمُ الأَعَاجِيبُ ، ثُمَّ أَنْشَأَ يُحَدِّثُ ، قَالَ : خَرَجَتْ رُفْقَةٌ مَرَّةً يَسِيرُونَ فِي الأَرْضِ فَمَرُّوا بِمَقْبَرَةٍ ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ : لَوْ صَلَّيْنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ دَعَوْنَا اللَّهَ لَعَلَّهُ يُخْرِجُ لَنَا بَعْضَ أَهْلِ هَذِهِ الْمَقْبَرَةِ فَيُخْبِرُنَا عَنِ الْمَوْتِ ، قَالَ : فَصَلُّوا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ دَعَوْا ، فَإِذَا هُمْ بِرَجُلٍ خِلاسِيٍّ قَدْ خَرَجَ مِنْ قَبْرٍ يَنْفُضُ رَأْسَهُ ، بَيْنَ عَيْنَيْهِ أَثَرُ السُّجُودِ ، فَقَالَ : يَا هَؤُلاءِ مَا أَرَدْتُمْ إِلَى هَذَا ؟ لَقَدْ مِتُّ مُنْذُ مِائَةِ سَنَةٍ فَمَا سَكَنَتْ عَنِّي حَرَارَةُ الْمَوْتِ إِلَى السَّاعَةِ ، فَادْعُوا اللَّهَ أَنْ يُعِيدَنِي كَمَا كُنْتُ ” .

“তোমরা বনী ইসরাইলদের ঘটনা বর্ণনা করো। কেননা তাদের মাঝে অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এরপর রাসূল স. একটি ঘটনা বর্ণনা করলেন,
একদা বনী ইসরাইলের কয়েকজন বন্ধু ভ্রমণে বের হল। তারা একটি কবরস্থান দিয়ে অতিক্রম করছিল । তারা একে -অপরকে বলল, “আমরা যদি, দু’রাকাত নামায আদায় করে আল্লাহর কাছে দুয়া করি, তাহলে আল্লাহ তায়ালা হয়তো কবরের কোন ব্যক্তিকে আমাদের সামনে উপস্থিত করবেন। সে মৃত্যু সম্পর্কে আমাদেরকে বলবে।
তারা দু’রাকাত নামায আদায় করল। এরপর আল্লাহর কাছে দুয়া করল। হঠাৎ এক ব্যক্তি মাথা থেকে মাটি পরিষ্কার করতে করতে কবর থেকে বের হয়ে এল। তার কপালে সিজদার চিহ্ন ছিল। সে বলল, তোমরা কী চাও? আমি একশ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছি। এখনও আমার দেহ থেকে মৃত্যুর যন্ত্রনা উপশমিত হয়নি। আল্লাহর কাছে দুয়া করো, যেন তিনি আমাকে পূর্বের স্থানে (কবরে) ফেরত পাঠিয়ে দেন”

যেসব বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাদীসটি তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন,
১. ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ., মান আশা বা’দাল মাউত। হাদীস নং ৫৮
২. মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমাইদ, হাদীস নং ১১৬৪
৩.ফাওয়াইদু তামাম আর-রাজী, হাদীস নং ২১৭
৪. আল-জামে লি আখলাকির রাবী, খতীব বাগদাদী, হাদীস নং ১৩৭৮
৫. আল-বা’স, ইবনে আবি দাউদ, হা.৫
৬.আজ-জুহদ, ইমাম ওকী ইবনুল জাররাহ, হাদীস নং৮৮
৭. আজ-জুহদ, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.
৮. মাজালিস মিন আমালি ইবনে মান্দাহ, ইবনে মান্দাহ, হাদীস নং ৩৯৩
৯. আল-মাতালিবুল আলিয়া, ইবনে হাজার আসকালানী রহ. হাদীস নং ৮০৭
১০. ফুনুনুল আজাইব, হা.১৯
১১. শরহুস সুদুর, জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ. পৃ.৪২-৪৩

ঘটনাটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত। তামাম আর-রাজী এটি সরাসরি রাসূল স. থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার আসকালানী রহ. হযরত জাবির রা. থেকে মওকুফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যেটি মরফু এর হুকুমে। সুতরাং ঘটনার প্রামাণ্যতার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

এবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম সম্পর্কে মতিউর রহমান মাদানী কি ফতোয়া দিবে ??? মাদানী সাহেবের কাছে আরো কয়েকটি প্রশ্ন
রাসূল স. এধরনের ঘটনা বর্ণনা করে উম্মতকে কুফুরী শিক্ষা দিয়েছেন? মুহাদ্দিসগণ ঘটনাটি তাদের কিতাবে উল্লেখ করে কুফুরী প্রচার করেছেন? বিখ্যাত ইমামগণ এই ঘটনার মূল বিষয় তথা কবর থেকে কেউ বের হয়ে কথা বলার উপর কোন আপত্তি করেননি। এটি অসম্ভব কিংবা এটি কুফুরী-শিরকী বলা তো দূরের বিষয়। সুতরাং নতুনভাবে এটাকে কুফুরী -শিরকী বলে সেসব ইমামদেরকে কেন অভিযুক্ত করছেন? ঘটনাটি যদি কুফুরী-শিরকী হয়, তাহলে যেসব মুহাদ্দিস এই ঘটনা তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন, এবং এর উপর কোন অভিযোগ করেননি, তারা সকলেই কি কুফুরী-শিরকী করেছেন? মূল ঘটনা যদি কুফুরী-শিরকী হয়, তাহলে এর সনদ দেখার কোন প্রয়োজন নেই। কেননা, কুফুরী বিষয় বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হলেও কুফুরী, দুর্বল সনদে রর্ণিত হলেও কুফুরী। সুতরাং মূল ঘটনা যদি কুফুরী-শিরকী হয়, তাহলে উপর্যুক্ত ইমাম ও মুহাদ্দিসগণ সম্পর্কে আপনার বা আপনাদের ফতোয়া জানতে চাই।

           ইবনুল কাইয়্যিম জাওযিয়্যাহ এর কিতাবে বর্ণিত এ ধরণের ঘটনাঃ

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম জাওযিয়্যাহ (রাহঃ) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহঃ এর খাছ সাগরিদ ছিলেন রবং তিনি বাংলাদেশের আহলে হাদীসদের কাছেও অনেক মান্যবর একজন আলেম। ইবনুল কাইয়্যিম রাহঃ ও কবর থেকে সম্পূর্ণ মানুষ বের হওয়ার বিভিন্ন রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন যার কিছু রাসূল স. থেকে বর্ণনা করা হয়েছে কিছু সাহাবী থেকে এবং কিছু সালাফদের থেকে। আমরা এর একটি রেওয়াত এখানে উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ।

ইবনুল কাইয়্যিম রাহঃ কিতাবুল কুবুর এর রেফারেন্সে তার কিতাবুর রুহ এ লেখেন –
এক ব্যাক্তির চাক্ষুষ ঘটনাঃ

আল্লামা শা’বী রাহঃ এক ব্যাক্তির ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে,তিনি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামকে বললেন, (হে আল্লাহর রাসূল!) আমি বদরের পাশদিয়ে অতিক্রম করছিলাম। এমন সময় দেখতে পেলাম এক ব্যাক্তি মাটি ভেদ করে বের হচ্ছে এবং এক ব্যাক্তি হাতে হাতুরী দিয়ে আঘাত করছে।পিটুনি খেতে খেতে সে মাটিতে ধুকে পড়ছে। আবার বের হচ্ছে , আবার ঢুকছে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম বললেন এ হল আবু জাহল । কিয়ামত পর্যন্ত তাকে এরুপে শাস্তি প্রদান করা হবে। (কিতাবুর রুহ, পৃ-১০০)।

আরব বিশ্বেতো কিতাবুর রুহ খুব গুরুত্বের সাথে মুতালায়া করা হয়। শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আল উসাইমিন রাহঃ কিতাবুর রহঃকে খুব গুরুত্বের সাথে মুতালায়া করতে বলেছেন। এছাড়া কিতাবুর রুহ সামেলাতেও রয়েছে। তাও আবার আক্বিদার কিতাব হিসেবে। মতিউর রহমান মাদানী ফাযায়েলের কিতাব ‘ফাযায়েলে হজ্বে’ বর্ণিত কবর থেকে হাত বের হওয়ার ঘটনা বর্ণনার কারণে যে মন্তব্য করেছেন ঠিক একই মন্তব্য কি আক্বিদার কিতাব কিতাবুর রুহ এর ক্ষেত্রে দিতে পারবেন ??? এবং এ কিতাবের লেখক ইবনুল কাইউম রাহঃ সম্পর্কে তানি কি ফতোয়া দিবেন ? এবং ইবনে উসাইমিন সহ অন্যান্ন যে সায়খগণ এ কিতাব মুতালায়া করতে বলেছেন তাদের ক্ষেত্রেই বা কি ফতোয়া দিবেন ???

ইবনে তাইমিয়া রাহঃ এর বক্তব্য থেকেও বুঝা যায় যে আল্লাহ চাইলে মৃত্যুর পর সম্পূর্ণ মানুষও চলে আসতে পারেঃ

ইবনে তাইমিয়া রাহঃ বলেন –
অনেককে দেখতে পাবে, তাদের নিকট কেউ ওলী বা বুজুর্গ হওয়ার মানদন্ড হল, তাদের কাছ থেকে কিছু কাশফ প্রকাশিত হওয়া। অস্বাভাবিক ও অপ্রাকৃতিক ঘটনা সংঘঠিত হওয়া। যেমন, কারও দিকে ইঙ্গিত করলে সাথে সাথে মৃত্যুবরণ করা। অথবা বাতাসে উড়ে মক্কায় বা অন্য কোথাও যাওয়া । অথবা কখনও পানির উপর হাটা। বাতাস থেকে পাত্র পানি দ্বারা পূর্ণ করা। অদৃশ্য থেকে টাকা-পয়সা এনে খরচ করা। অথবা হঠাৎ মানুষের চোখ থেকে অদৃশ্য হওয়া। অথাব তার অনুপস্থিতে কিংবা তার মৃত্যুর পরে তাকে কেউ ডাক দিলে উপস্থিত হওয়া এবং ঐ ব্যক্তির প্রয়োজন পুরণ করা। মানুষের চুরি হয়ে যাওয়া জিনিসের সংবাদ বলে দেয়া। অদৃশ্য কোন বিষয়ের বর্ণনা দেয়া। অসুস্থ কারও সম্পর্কে সংবাদ দেয়া। ইত্যাদি।
এগুলোর কোনটি সংগঠিত হওয়া কখনও এটা প্রমাণ করে না যে, এ ব্যক্তি আল্লাহর ওলী। বরং সমস্ত ওলী-বুজুর্গ এ বিষয়ে একমত যে, কেউ যদি বাতাসে উড়ে, পানির উপর চলে তাহলে দেখতে হবে, সে রাসূল স. এর প্রকৃত অনুসারী কি না? শরীয়তের প্রকাশ্য বিধি-বিধান সে অনুসরণ করছে কি না? যদি এগুলো না থাকে তাহলে তার মাধ্যমে ধোকায় পড়া যাবে না। ওলীদের কারামত এসব বিষয় থেকে অনেক বড়। এধরনের অস্বাভাবিক বিষয় যার থেকে প্রকাশিত হয়, সে কখনও আল্লাহর ওলী হতে পারে, আবার আল্লাহর শত্রুও হতে পারে। কেননা এধরনে বিষয় অনেক কাফের, মুশরিক, আহলে কিতাব ও মুনাফিক থেকে প্রকাশিত হয়ে থাকে। অনেক বিদয়াতী থেকে এগুলো প্রকাশিত হয়। কখনও এগুলো শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে।
সুতরাং এই ধারণা করা সমীচিন নয় যে, এধরনের কোন ঘটনা কারও থেকে প্রকাশিত হলেই সে আল্লাহর ওলী। বরং কোন ব্যক্তিকে তার গুণাবলী, কুরআন-সুন্নাহের অনুসরণের দ্বারা আল্লাহর ওলী গণ্য করা হবে। ইমানের নূর ও কুরআনের নূর দ্বারা তাদেরকে চেনা সম্ভব। এবং বাতেনী ইমানের হাকিকত দ্বারা তাদের বাস্তবতা অনুধাবন করা হয়। সেই সাথে প্রকাশ্য শরীয়তের বিধি-বিধান ওলী হওয়ার অপরিহার্য অংশ।
[মাজমুয়াতুল ফাতাওয়া, খ.১১, পৃ.২১৩]

ইবনে তাইমিয়া রহ. কিছু অস্বাভাবিক ঘটনার উদাহরণ দিয়েছেন, যেগুলো অপ্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে ঘটতে পারে। তিনি স্পষ্টভাষায় বলেছেন, ওলীদের কারামত এসব উদাহরণ থেকেও অনেক বড়। ইবনে তাইমিয়া রহ. যেসব উদাহরণ দিয়েছেন, এর মাঝে আমাদের আলোচ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি উদাহরণ রয়েছে। সেটি হল, কোন মৃত ব্যক্তি উপস্থিত হওয়া। একজন মৃতব্যক্তি কারও সামনে উপস্থিত হওয়াটা সম্ভব। এটি কারামত হিসেবে যে কোন ওলীর ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। এধরনের কারামত প্রকাশিত হওয়া শরীয়তে অসম্ভব নয়। বরং এর চেযে বড় কারামত সংঘঠিত হতে পারে। ইবনে তাইমিয়া রহ. এর বক্তব্য থেকে বিষয়টি সুস্পষ্ট।

                  এ বিষয়ে আক্বিদাগত কিছু মৌলিক কথাঃ

আমরা বিশ্বাস করি, ওলীদের থেকে মৃত্যুর পূর্বে যেমন কারামত প্রকাশিত হতে পারে, তাদের মৃত্যুর পরেও কারামত প্রকাশিত হতে পারে। এটিই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদা। মৃত্যুর পরে কারামত প্রকাশিত হবে না, বা হওয়া অসম্ভব, এজাতীয় ধ্যান-ধারণা রাখা কুরআন ও সুন্নাহের বড় একটি অংশ অস্বীকারের নামান্তর। একইভাবে নবীদের থেকে তাদের জীবদ্দশায় যেমন মু’জিযা প্রকাশিত হতে পারে, তাদের ইন্তেকালের পরেও প্রকাশিত হতে পারে। কারণ কারামত একমাত্র আল্লাহর ক্ষমতা ও ইচ্ছায় সংঘঠিত হয়। এতে বান্দার ক্ষমতা ও ইচ্ছার কোন প্রভাব নেই। আল্লাহ কখন কার মাধ্যমে কোন কারামতের প্রকাশ ঘটাবেন তিনিই ভালো জানেন। এক্ষেত্রে বান্দা শুধুমাত্র উপলক্ষ। সুতরাং মৃত্যুর পূর্বেও যেমন আল্লাহর ক্ষমতা ও ইচ্ছায় কারামত প্রকাশিত হয়, তেমনি মৃত্যুর পরেও আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতায় কারামত প্রকাশিত হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা চাইলে মৃত্যুর পরও রুহ,দেহ বা প্রতিচ্ছবির মাধ্যমে কারামত সংগঠিত করতে পারেন। অর্থাৎ আল্লাহ চাইলে মৃত্যুর পরও কবর থেকে কারো হাত বা সম্পূর্ণ দেহও বের হয়ে আসতে পারে।এটা কারামত হিসেবেও করতে পারেন আবার কোন কিছুর নিদর্শণ হিসেবেও করতে পারেন।এর বেশ কিছু উদাহারণ পুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এ ধরণের ঘটনাকে অসম্ভব মনে করলে হাদীসে বর্ণিত ঘটনা সমূহকেও অসম্ভব মনে করতে হবে।(নাউযুবিল্লাহ)

Read More

আলিমদের মাঝে মতভেদ হলে আম মানুষ কী করবে?

এই প্রশ্ন এখন মানুষের মুখে মুখে। আমল থেকে গা বাঁচানোর জন্য এবং ভুল থেকে ফিরে আসার সংকল্প না থাকলে অতি নিরীহভাবে এই অজুহাত দাঁড় করানো হয় যে, আমাদের কী করার আছে? আলিমদের মাঝে এত মতভেদ, আমরা কোন দিকে যাব? কার কথা ধরব, কার কথা ছাড়ব?

আমার আবেদন এই যে, আমরা যেন এই অজুহাত দ্বারা প্রতারিত না হই। এটি একটি নফসানী বাহানা এবং শয়তানের ওয়াসওয়াসা। নিচের কথাগুলো চিন্তা করলে এটা যে শয়তানের একটি ধোঁকামাত্র তা পরিষ্কার বুঝে আসবে।

১. জরুরিয়াতে দ্বীন, অর্থাৎ দ্বীনের ঐ সকল বুনিয়াদী আকীদা ও আহকাম এবং বিধান ও শিক্ষা, যা দ্বীনের অংশ হওয়া স্বতঃসিদ্ধ ও সর্বজনবিদিত, যেগুলো মুসলিম উম্মাহর মাঝে সকল যুগে সকল অঞ্চলে ব্যাপকভাবে অনুসৃত, যেমন আল্লাহর উপর ঈমান, তাওহীদে বিশ্বাস, আখিরাতের উপর ঈমান, কুরআনের উপর ঈমান, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং তাঁর হাদীস ও সুন্নাহর উপর ঈমান, মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আখেরী নবী ও রাসূল হওয়ার উপর ঈমান; পাঁচ ওয়াক্ত ফরয নামায, জুমার নামায, যাকাত, রোযা, হজ্ব ও পর্দা ফরয হওয়া, শিরক, কুফর, নিফাক, কাফির-মুশরিকদের প্রতীক ও নিদর্শন বর্জনীয় হওয়া, সুদ, ঘুষ, মদ, শূকর, ধোঁকাবাজি, প্রতারণা, মিথ্যাচার ইত্যাদি হারাম হওয়া এবং এ ধরনের অসংখ্য আকীদা ও বিধান, যা জরুরিয়াতে দ্বীনের মধ্যে শামিল তাতে আলিমদের মাঝে তো দূরের কথা, আম মুসলমানদের মাঝেও কোনো মতভেদ নেই। যারা দ্বীনের এই সকল স্বতঃসিদ্ধ বিষয়কেও বিশ্বাস ও কর্মে অনুসরণ করে না তারাও বলে; বরং অন্যদের চেয়ে বেশিই বলে যে, আলিমদের মাঝেই এত মতভেদ তো আমরা কী করব!

Read More

“এক হাতে মুসাফাহ করা” সম্পর্কে হানাফী আলেম ও গায়রে মুকাল্লিদ ভাইয়ের মজাদার কথোপকথন

পাকিস্তানের বিখ্যাত আলেম শায়খ মুহাম্মদ ইসমাইল মুহাম্মাদী সাহেব দা,বা এর তিন খন্ডের একটি উর্দূ কিতাব "তোহফায়ে আহলে হাদীস"। এ কিতাবে মূলত বিভিন্ন বিষয় নিয়ে শায়খের সাথে গায়রে মুকাল্লিদ ভাইদের  কথোপকথন  একত্রিত করা হয়েছে। আলহামদুলিল্লাহ কিতাবটির ১ম খন্ড বাংলা ভাষায় অনূদিত হয়েছে। অনুবাদ করেছেন মুফতি অকিল উদ্দিন যশরী। আমাদের আজকের আলোচিত বিষয় "এক হাতে মুসাফাহ করা"।

হানাফী: আসসালামু আলাইকুম! জনাব কেমন আছেন?

গায়রে মুকাল্লিদ: ওয়ালাইকুমুস সালাম! জ্বী ভাল আছি! আজ হঠাৎ কি মনে করে?

হানাফী: আপনাকে এখানে কয়েকবার নামায আদায় করতে দেখেছি, ভেবেছিলাম আপনার সাথে কিছু সময় বসে কিছু কথা জিজ্ঞাসা করব। আজ মন চাইল তাই বসে গেলাম।

গায়রে মুকাল্লিদ: খুব ভাল! যেহেতু মন চেয়েছে, বসেছেন, তবে মন খুলে প্রশ্ন করতে পারেন। ৪সহীহ হাদীসের আলোকে নামাযে আস্তে আমীন বলা।

হানাফী: জ্বী জনাব আপনাকে পূর্ব থেকেই খেয়াল করছি, আপনি যখন নামায পড়েন, তখন মাথা থেকে টুপি খুলে নিচে নিক্ষেপ করেন, ডান হাত বাম কনুইয়ের উপর বাঁধেন এবং গরদান বাকা করে পাকে খুব চওড়া করে দাড়ান। এগুলো আমার বুঝে আসেনা। সংক্ষেপে বর্ণনা দিন।

গায়রে মুকাল্লিদ: অবশ্যই ব্যাখ্যা দিব- আমরা এ জন্যই করে থাকি যেন মানুষ আমাদের থেকে প্রশ্ন করে। আর আমরা মানুষদের ফিক্হ (ইসলামী আইন) থেকে দুরে সরিয়ে কুরআন ও হাদীসে লাগাতে পারি।

হানাফী: ভাইয়া খুব ভাল! এই মাসআলাগুলি আলোচনা ও যাচাইয়ের পূর্বে যে এক হাত দ্বারা মুসাফাহা করেন তার ব্যাখ্যা করুন।

গায়রে মুকাল্লিদ: হ্যাঁ, অবশ্যই! মূল আলোচনার পূর্বে আমার কথা কান খুলে শুনুন যে, আমরা কুরআন ও হাদীস ব্যতিত ফেকাহ ঠেকাহ মানিনা। আমাদের যে মাসআলাই হোক আমরা ডিরেক্টলি কুরআন ও হাদীস থেকে গ্রহণ করি। কোন সাহাবী বা ইমামের কথা হয়, তবে তাকে আরামসে ডাস্টবিনে নিক্ষেপ করি। আর আমরা কোন ইমামের তাকলীদ করিনা।

Read More

নামাযে রফয়ে ইয়াদায়নের ব্যাপারে আল্লামা আলবানী একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত বুখারী শরীফের টীকায় তথ্য বিকৃতি, জালিয়াতি ।

       দলিল সহ নামাযের মাসায়েল (বর্ধিত সংস্করণ) কিতাব থেকে সংকলিত

আল্লামা আলবানী একাডেমী কর্তৃক প্রকাশিত বুখারী শরীফের টীকায় আহসানুল্লাহ বিন সানাউল্লাহ এ মাসআলায় প্রায় আঠার পৃষ্ঠা কলমবন্দ করেছেন। তথ্য বিকৃতি, জালিয়াতি, সাহাবী-তাবিঈ ও অন্যান্য মনীষীগণের নাম ও কিতাবের নামের বিকৃতিতে ভরা এই আঠার পৃষ্ঠা। নমুনা হিসাবে এখানে কিছু তুলে ধরা হলো।

১. রফয়ে ইয়াদায়নের পক্ষের হাদীসগুলো উল্লেখ করতে গিয়ে ১ নম্বরে ইবনে উমর রা. বর্ণিত ও বুখারী-মুসলিমসহ বহু হাদীসগ্রন্থে উদ্ধৃত হাদীসদুটি তুলে ধরার পর ২ নম্বরে লেখক বলেছেন, উপরোক্ত হাদীসটি বায়হাকীতে বর্ধিতভাবে বর্ণিত আছে যে, আব্দুল্লাহ ইবনু উমর (রাযি.) বলেন, রাসূলুল্লাহ স. মহান আল্লাহর সাথে সাক্ষাৎ লাভ অর্থাৎ মৃত্যু পর্যন্ত সর্বদাই উক্ত নিয়মেই সলাত আদায় করতেন (অর্থাৎ তিনি আজীবন উক্ত তিন সময়ে রফউল ইয়াদাইন করতেন।) (বায়হাকী, হিদায়াহ দিরায়াহ, ১/১১৪, ইমাম বুখারীর উস্তাদ আলী ইবনুল মাদীনী রহ. বলেন, এ হাদীস আমার নিকট সব উম্মাতের উপর হুজ্জাত বা দলীলস্বরূপ। (পৃ. ৫১৬)
এখানে এই জালিয়াতি করা হয়েছে যে, আলী ইবনুল মাদীনীর মন্তব্যটি প্রথম হাদীসটি সম্পর্কে। অথচ তিনি এটি দ্বিতীয় হাদীসটির সঙ্গে জুড়ে দিয়েছেন। এতে করে পাঠক মনে করবেন, এ হাদীসটিও সহীহ। অথচ এটি একটি জাল হাদীস। পেছনে তা বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

২. রফউল ইয়াদায়ন সম্পর্কে হানাফী মাযহাবের শ্রেষ্ঠ আলেমগণের অভিমত শিরোনামে ১ নম্বরে তিনি লিখেছেন, মোল্লা আলী ক্বারী হানাফী (রহ.) বলেন, সলাতে রুকু’তে যাওয়ার সময় ও রুকু’ থেকে উঠার সময় দু’হাত না তোলা সম্পর্কে যেসব হাদীস রয়েছে সেগুলো সবই বাতিল। তন্মধ্যে একটিও সহীহ নয়। (মাওযু’আতে কাবীর, পৃ. ১১০)
এখানে এই জালিয়াতি করা হয়েছে যে, একথাগুলো আসলে মোল্লা আলী কারীর নয়। বরং হাফেয ইবনুল কায়্যিমের, মোল্লা আলী কারী তা উল্লেখ করার পর খ-ন করেছেন। মনে হচ্ছে, এই লেখক কারী সাহেবের কিতাবটি দেখেন নি, অন্য কারো পুস্তক থেকে নকল করে দিয়েছেন।

Read More

হাদীসের বর্ণনা অনুযায়ি নামাযে রফয়ে ইয়াদাইন কত জায়গায় ছিল? কিন্তু গায়রে মুকাল্লিদ/আহলে হাদীস ভায়েরা কত জায়গায় করেন ?

         দলিল সহ নামাযের মাসায়েল (বর্ধিত সংস্করণ) কিতাব থেকে সংকলিত

সহীহ হাদীসসমূহে দেখা যায়, রফয়ে ইয়াদাইন একবার থেকে শুরু করে প্রত্যেক ওঠানামায় ছিল। খোদ হযরত ইবনে উমর রা. এর হাদীসে এক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বিবরণ উদ্ধৃত হয়েছে। নিম্নে সংক্ষেপে তা তুলে ধরা হলো।

(১). শুধু এক জায়গায় অর্থাৎ নামাযের শুরুতে।                                                                          যেমনটি তিরমিযি,আবু দাউদ সহ বিভিন্ন কিতাবে ইবনে মাসউদ রাযিঃ থেকে বর্ণিত আছে।

(২). দুই জায়গায়, অর্থাৎ শুরুতে এবং রুকু থেকে ওঠার পর।                                                          হযরত ইবনে উমর রা. থেকে ইমাম মালেক র. মুয়াত্তায় এটি উদ্ধৃত করেছেন। আবূ দাউদ হযরত ইবনে উমর রা. থেকে (৭৪২), ইবনে মাজা র. হযরত আনাস রা. থেকে (৮৬৬)।

(৩). তিন জায়গায়, অর্থাৎ নামাযের শুরুতে এবং রুকুর পূর্বে ও পরে।                                            হযরত ইবনে উমর রা. থেকে বুখারী ও মুসলিমসহ অনেকে এটি উদ্ধৃত করেছেন।

(৪). চার জায়গায়, অর্থাৎ উপরোক্ত তিন জায়গায় এবং দুরাকাত শেষ করে দাঁড়ানোর সময়।             ইবনে উমর রা. থেকে বুখারী (৭৩৯), আবূ দাউদ(৭৪৩)। আবূ হুমায়দ রা. থেকে ইবনে মাজা (৮৬২) ও তিরমিযী (৩০৪), তিনি এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। হযরত আলী রা. থেকে আবূ দাউদ (৭৪৪), ইবনে মাজাহ (৮৬৪), ও তিরমিযী (৩৪২৩)। তিনি এটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। হযরত আবূ হুরায়রা রা. থেকে আবূ দাউদ(৭৩৮)।

Read More

সৌদি আরবের বিখ্যাত তিনজন শায়খের দৃষ্টিতে মাযহাব ও তাকলীদ

তিনজন শায়খ হলেন শায়খ আব্দুল আযিয আব্দুল্লাহ বিন বায রাহঃ, শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আল উসাইমিন রাহঃ, শায়খ সালেহ আল ফাউযান হাফিযাহুল্লাহ।

              শায়খ আব্দুল আযিয আব্দুল্লাহ বিন বায রাহঃ 

ইবনে বাজের সাক্ষরিত একটি রেজুলেশনের অংশ –

আহকাম ও বিধানের ক্ষেত্রে এ ধরনের মাযহাবী ইখতিলাফ আমাদের দ্বিনের জন্য দোষের কিছু নয় এবং তা স্ববিরধিতাও নয়। এ ধরনের মতভেদ না হওয়া অসম্ভব। এমন কোন জাতি পাওয়া যাবে না যাদের আইন-ব্যাবস্থায় এ ধরনের ইজতিহাদী মতপার্থক্য নেই। 

‘অতএব বাস্তব সত্য এই যে, এ ধরনের মতভেদ না হওয়াই অসম্ভব। কেননা একদিকে যেমন নুসূসে শরঈ অনেক ক্ষেত্রে একাধিক অর্থের সম্ভাবনা রাখে অন্যদিকে শরঈ নস সম্ভাব্য সকল সমস্যাকে সুস্পষ্টভাবে বেষ্টন করতে পারে না। কারন নুসূস হল সীমাবদ্ধ আর নিত্যনতুন সমস্যার তো কোন সীমা নেই।
‘সুতরাং যে মতপার্থক্য কল্যান ও রহমতের ধারক তা বিদ্যমান থাকলে দোষ কেন হবে? বরং এ তো মুমিন বান্দার প্রতি আল্লাহ তায়ালার রহমত ও অনুগ্রহ। বরং মুসলিম উম্মাহর গর্ব ও গৌরবের বিষয়।
‘কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, কিছু মুসলমান তরুন বিশেষত করে যারা বাইরে লেখাপড়া করতে যায় তাদের ইসলামী জ্ঞানের দুর্বলতার সুযোগে কিছু গোমরাহকারী লোক তাদের সামনে ফিকহী মাসআলার এ জাতীয় মতপার্থক্যকে আকীদার মতভেদের মতো করে তুলে ধরে। অথচ এ দু’য়ের মাঝে আকাশ-পাতালের ব্যাবধান!

‘দ্বিতীয়ত যে শ্রেনীর লোকেরা মানুষকে মাযহাব বর্জন করার আহবান করে এবং ফিকহের মাযহাব ও তার ইমাম গনের সমালোচনা করে এবং মানুষকে নতুন ইজতিহাদের মধ্যে নিয়ে আসতে চায় তাদের কর্তব্য, এই নিকৃষ্ট পন্থা পরিহার করা। যা দ্বারা তারা মানুষকে গোমরাহ করছে এবং তাদের ঐক্যকে বিনষ্ট করছে। অথচ এখন প্রয়োজন ইসলামের দুশমনদের ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মোকাবেলায় নিজেদের ঐক্যকে সুদৃঢ় করা।

– মাজাল্লাতুল মাজলায়িল ফিকহী, রাবিতাতুল আলামিন ইসলামী, মক্কা মুকাররমা বর্ষঃ ১, সংখ্যাঃ ২, পৃষ্ঠাঃ ৫৯,২১৯

Read More

তাবলীগের জন্য ( ৩ দিন, ১ চিল্লা,৩ চিল্লা) সময় নির্দিষ্ট করা দাওয়াত ও তার ফযিলতের সীমাবদ্ধতা নয়

মানুষ কেন সৃষ্টির সেরা ??? – Sheikh Golamur Rahman

আফগান মুজাহিদদের কারামত ও কারামত অস্বীকারকারীদের মনস্তত্ত্ব

 আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বান্দাদেরকে তার অসংখ্য নিয়ামত অবলোকন করান। কখনও সেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশিত হয়, কখনও গোপন থাকে। আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা যেসব অলৌকিক ঘটনা বা অপ্রাকৃতিক বিষয় প্রকাশ করেন, সেগুলোকে কারামত বলা হয়। কারামত কখনও বান্দার নিজস্ব ক্ষমতা বা ইচ্ছায় সংঘঠিত হয় না। একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছা ও তার ক্ষমতায় বান্দার হাতে কারামত প্রকাশিত হয়। এক্ষেত্রে বান্দা উপলক্ষ মাত্র। মূল ক্ষমতা ও ইচ্ছা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার।  কোন ব্যক্তি যদি প্রকৃত অর্থে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হয়, এবং তার থেকে অস্বাভাবিক কোন কারামত প্রকাশিত হয়, তবে এটা অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। ঐতিহাসিকভাবে বর্ণিত কারামতের সত্যতা যাচাই করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে সংগঠিত কারামত হোক, কিংবা ঐতিহাসিক সূত্রে বর্ণিত হোক, কারামতে বিশ্বাস স্থাপন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের মৌলিক আকিদার একটি অংশ। কেউ যদি বস্তুবাদী ধ্যান-ধারণায় বিশ্বাসী হয়ে কারামত অস্বীকার করে তাহলে সে শুধু আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত থেকে বের হবে না, সেই সাথে ইমানহারা হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসসমূহে অসংখ্য কারামত বর্ণিত হয়েছে। মৌলিকভাবে কারামত অস্বীকারের অর্থ হল কুরআন ও হাদীসের এসব ঘটনা অস্বীকার করা। কারামত থেকে শিরক অনুসন্ধানের চেষ্টাও একটি ইমান বিধ্বংসী প্রয়াস।

Read More

ওয়াহদাতুল উযুদ সম্পর্কে রশীদ আহ্‌মাদ গাঙ্গুহী রাহঃ এর অভিমত – মুফতি ইজহারুল ইসলাম

Page 1 of 7

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA