তালফীক ও তার হুকুমঃ

তালফীকের পরিচয়ঃ তালফীকের শাব্দিক অর্থ হল, একত্র করা বা মিলান। তালফীকের পারিভাষিক সংজ্ঞায় উলামায়ে কেরামের মাঝে শাব্দিক কিছু তারতম্য থাকলেও মৌলিক দিক থেকে তালফীককে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে-

الجمع بين المذاهب الفقهية المختلفة في أجزاء الحكم الواحد

অর্থাৎ একই হুকুমের বিভিন্ন অংশের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মাযহাবের মতামতকে একত্র করাকে তালফীক বলে।

তালফীকের সার কথা হল, কোন ব্যক্তি কখনও হানাফী মাযহাবের কিছু মাসআলা, কখনও শাফেয়ী, কখনও মালেকী বা অন্য কোন ইমামের মাযহাবের কিছু মাসআলা অনুসরণ করে থাকে। এভাবে সে চার মাযহাব বা অন্য কোন ইমামের কোন মতামতকে তার ইচ্ছানুযায়ী  গ্রহণ করে থাকে, এধরণের ব্যক্তির এ আমলকে তালফীক বলে।

এ ব্যক্তির এক মাযহাব থেকে আরেক মাযহাবের দিকে স্থানান্তরের বিষয়টি তিনটি বিষয় থেকে খালি নয়-

১.    কোন বিশেষ কারণে স্থায়ীভাবে সে অন্য মাযহাব গ্রহণ করেছে। বিষয়টি স্বতঃসিদ্ধ ও বৈধ। এধরণের কাজে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।

২.    এ ব্যক্তি সুযোগ সন্ধানী হয়ে বিভিন্ন মাযহাবের মাঝে যেটি পছন্দ হয়, সেটি গ্রহণ করে। এধরণের কাজ নিন্দনীয় ও অবৈধ।

৩.    কোন একটি নির্দিষ্ট মাসআলার ক্ষেত্রে ইজতেহাদের যোগ্য ব্যক্তি দলিলের আলোকে উদ্দিষ্ট মাসআলা আহরণের জন্য প্রয়াসী হয়ে বিভিন্ন মাযহাবের দলিল বিশ্লেষণ ও তা অবলম্বন করবে।

এ ব্যক্তি যদি ইজতেহাদের যোগ্য হয় এবং প্রান্তিকতা, স্থূলতা, দৃষ্টির সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হয় এবং তার এ গবেষণায় ন্যায়-পরায়ণ হয়, তবে তা শুধু বৈধই নয়, বরং তা ফিকহ শাস্ত্রের একটি প্রশংসনীয় কাজ।

কিন্তু এ ব্যক্তি যদি ইজতেহাদের যোগ্য না হয়, গবেষণায় সত্যানুসন্ধানী-ন্যায়পরায়ণ না হয় এবং প্রান্তিকতার দোষে দুষ্ট হয়, তবে এ ব্যক্তির এ কাজ শুধু নিন্দনীয় নয় বরংএটি তার ঈমান ও আমলের জন্য একটি ধ্বংসাত্মক বিষয়।

প্রবৃত্তির ধোঁকায় পড়ে যারা এধরণের ক্রম স্থানান্তরের রোগে রুগ্ন, তাদের ভয়াবহ পরিণতি সম্পর্কে উলামায়ে কেরাম সতর্ক করে দিয়েছেন। এদের সম্পর্কে শায়খ আওয়ামাহ আসারুল হাদীসিশ শরীফ… নামক কিতাবে লিখেছেন-

إن هذا التنقل من المذهب الحنفي إلي المذهب الشافعي في هذه المسألة ، يجر إلي التنقل في غيرها إلي المذهب المالكي مثلا، و إلي التنقل إلي المذهب الحنبلي في مسألة أخري. و هكذا تعود السلسلة إلي أولها في مسألة رابعة، أو  إلي مذاهب أخري مندرسة غير المذاهب الأربعة

কোন একটি মাসআলায় ইমাম আবু হানীফা (রহঃ) এর মাযহাব থেকে ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) এর মাযহাবে স্থানান্তর, এ ব্যক্তিকে অন্য একটি মাসআলায় উদাহরণ স্বরূপ ইমাম মালেক (রহঃ) এর মাযহাবে স্থানান্তরের প্রতি উদ্বুদ্ধ করবে, কখনও অন্য মাসআলায় ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রহঃ) এর মাযহাবে স্থানান্তর করবে। একইভাবে চতুর্থ কোন মাসআলায় সে চক্রাকারে প্রথম মাযহাব অথবা অন্য কোন ইমামের মাযহাব অনুসরণ করবে।

এভাবে তার ক্রমাগমন শুধু চার মাযহাবে সীমাবদ্ধ থাকবে না। শায়খ আওয়ামাহ বলেন-

يؤول به الأمر إلي أن يجتهد لنفسه الخروج عن المذاهب الأربعة……و عن الأربعين…

পরিশেষে এ ব্যক্তি শুধু চার মাযহাব থেকেই বের হওয়াকে পছন্দ করবে না বরং সে এধরণের চল্লিশ মাযহাব থেকে বের হয়ে যাবে।

হযরত উমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহঃ) বলেন-

من جعل دينه غرضا للخصومة كثر تنقله

যে ব্যক্তি নিজের দ্বীনকে তর্ক-বিতর্কের লক্ষ্যবস্তু বানায় তার স্থানান্তর ও অভিবাসন বৃদ্ধি পায়।

যে ব্যক্তি মনে করে যে, ইমামদের অনুসরণ ব্যতীত শুধু দলিলের অনুরসণ করবে, তবে সে এমন মতামতের অবতারনা করবে যা ইতোপূর্বে কেউ করেনি; অথচ সে নিজেকে নাসিরুস সুন্নাহ (সুন্নতের সাহায্যকারী) মনে করে বসে আছে। দলিলের অনুসরণের নামে মূলতঃ সে তার প্রবৃত্তিকে দলিল হিসেবে গ্রহণ করেছে। প্রবৃত্তিপূজা মানুষের মাঝে তখন এমনভাবে জেঁকে বসে যে, সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) এর প্রতি বিষোদগার করতেও কুণ্ঠা বোধ করে না।

ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন-

سلموا للأيمة و لا تجادلوهم، فلو كنا كلما جاءنا رجل أجدل من رجل إتبعناه: لخفنا أن نقع في رد ما جاء به جبريل عليه السلام

তোমরা ইমামদের আনুগত্য করো এবং তাদের সাথে বিতর্কে লিপ্ত হয়ো না। আমাদের কর্মপন্থা যদি এই হত যে, যখনই আমাদের নিকট শক্তিশালী কোন যুক্তিবিদ আগমন করতো আর আমরা তার অনুসরণ করতাম, তবে আশঙ্কা করি যে, আমরা হযরত জিবরীল (আঃ) এর আনীত বিষয়েরও বিরোধীতায় লিপ্ত হয়ে পড়ব।

আল্লামা ইবনে আব্দুল বার (রহঃ) আল-ইন্তেকা নামক কিতাবে হযরত ইমাম মালেক (রহঃ) এর ঘটনা উল্লেখ করেছেন। ইমাম মালেক (রহঃ) এর ছাত্র মায়ান বিন ঈসা (রহঃ) বলেন- একদা আবুল জুয়াইরিয়া নামক এক ব্যক্তি ইমাম মালেক (রহঃ) এর নিকট মসজিদে নববীতে আগমন করল। এ লোকটি মুরজিয়া হওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত ছিল। সে এসে ইমাম মালেক (রহঃ) কে বলল-

يا أبا عبد الله! إسمع مني شيئا ، أكلمك به و أحاجك و أخبرك برأي. قال مالك: فإن غلبتني؟ قال: اتبعتني. قال مالك: فإن غلبتك ؟ قال: إتبعتك، قال: فإن جاءنا رجل فكلمناه فغلبنا؟ قال : تبعناه. قال أبو عبد الله مالك :

بعث الله محمدا صلي الله عليه وسلم بدين واحد، و أراك تنقل، قال عمر بن عبد العزيز: من جعل دينه عرضة للخصومات أكثر التنقل

    “হে আবু আব্দুল্লাহ! আমার কথা শ্রবণ করুন, আমি আপনার সাথে আলোচনা করব, বিতর্ক করব এবং আমার মতামত উল্লেখ করব। ইমাম মালেক (রহঃ) তাকে বললেন-যদি তুমি আমার উপর বিজয়ী হয়ে যাও? সে বলল- আপনি আমার অনুসরণ করবেন। ইমাম মালেক (রহঃ) পুনরায় জিজ্ঞেস করলেন-যদি আমি তোমার উপর বিজয়ী হই? সে বলল- আমি আপনার অনুসরণ করব। ইমাম মালেক বললেন- আমাদের নিকট যদি তৃতীয় কোন ব্যক্তি আসে এবং আমরা তার সাথে বিতর্ক করি এবং সে আমাদের উপর বিজয়ী হয়? সে বলল- আমরা তার অনুসরণ করব। ইমাম মালেক তাকে বললেন- আল্লাহ তায়ালা হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) কে একই ধর্ম দিয়ে প্রেরণ করেছেন। আমি তোমাকে দেখছি-এদিক সেদিক ছুঁটাছুঁটি করছ! হযরত উমর বিন আব্দুল আযীয (রহঃ) বলেন- যে ব্যক্তি তার দ্বীনকে বিতর্কের লক্ষ্যবস্তু বানায়, তার ছুঁটাছুঁটি বৃদ্ধি পায়”

বর্তমানে এধরণের ছুঁটাছুঁটিকে যারা নিজেদের আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে এবং সুন্নাহ অনুসরণের নামে মুসলিম উম্মাাহকে ধোঁকা দিচ্ছে, তাদের বাস্তবতা অনুসন্ধান করলে এর ব্যতিক্রম পরিলক্ষিত হবে না। এদের মূল শ্লোগান দলিলের অনুসরণ হলেও, তাদের কাছে উলামায়ে কেরামের বিচ্যুতি, একক মতামত ও বিরল বক্তব্য গুলোই গ্রহণযোগ্য ও পছন্দনীয়। তাদের কাছে প্রকৃত দলিল সেটিই যা বর্জনীয় হওয়ার ব্যাপারে সকলেই একমত।

ইমাম আওযায়ী (রহঃ) বলেন-

من أخذ بنوادر العلماء خرج من الإسلام

যে ব্যক্তি উলামায়ে কেরামের বিরল বক্তব্যগুলো গ্রহণ করবে, সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে।

সুলাইমান আত-তাইমী (রহঃ) বলেন-

لو أخذت برخصة كل عالم اجتمع فيك الشر كله

“যদি তুমি প্রত্যেক আলেমের রুখসতকে গ্রহণ করো, তবে তোমার মাঝে সব ধরণের অকল্যাণ ও নিকৃষ্টতা একত্র হবে”

ইমাম মালেক (রহঃ) এর উস্তাদ ইবরাহীম বিন আবি আবালাহ (রহঃ) বলেন-

من حمل شاذ العلماء حمل شرا كثيرا، و قال معاوية بن قرة: إياك و الشاذ من العلم

যে ব্যক্তি উলামায়ে কেরামের বিরল ও একক মতামতের অনুসরণ করে সে অনেক অকল্যাণের বাহক হয়। হযরত মুয়াবিয়া বিন কুররা (রহঃ) বলেন- সাবধান! বিরল বক্তব্য থেকে বিরত থাক।

আল্লামা যাহেদ আল-কাউসারী (রহঃ) ইবরাহীম বিন আবি আবালাহ্ (রহঃ) এর বক্তব্য এভাবে উল্লেখ করেছেন-

من أخذ شواذ العلماء ضل

যে ব্যক্তি উলামায়ে কেরামের বিরল ও শায বক্তব্যের অনুসরণ করল সে পথভ্রষ্ট হয়ে গেল।

ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল (রহঃ) হযরত ইহইয়া আল-কাত্তান (রহঃ) এর উক্তি বর্ণনা করেন-

لو أن إنسانا إتبع كل ما في الحديث من رخصة لكان به فاسقا

কেউ যদি হাদীসের প্রত্যেক রুখসতের অনুসরণ করে, তবে ঐ ব্যক্তি ফাসেক হয়ে যাবে।

ইমাম আব্দুর রাজ্জাক (রহঃ) হযরত মা’মার থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন-

لو أن رجلا أخذ بقول أهل المدينة في إستماع الغناء و إتيان النساء في أدبارهن ، و بقول أهل مكة في المتعة ، و الصرف و بقول أهل الكوفة في المسكر كان شر عباد الله

কেউ যদি গান শোনা ও মহিলাদের গুহ্যদ্বারে সঙ্গমের ব্যাপারে মদীনাবাসীর মতামত গ্রহণ করে এবং মুত’আ ও সরফ পদ্ধতিতে ক্রয়-বিক্রয়ে মক্কা বাসীর মতামত এবং মাদকদ্রব্যের ব্যাপারে কুফাবাসীর মতামত গ্রহণ করে তবে সে আল্লাহর সর্বনিকৃষ্ট বান্দা হিসেবে পরিগণিত হবে।

উপরোক্ত বক্তব্য থেকে স্পষ্টরূপে প্রতীয়মান হয় যে, ইজতেহাদের অযোগ্য ব্যক্তির জন্য তালফীক বৈধ নয়। আল্লামা ইবনে আব্দুল বার (রহঃ) এ ব্যাপারে ইজমার কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন-

هذا إجماع لا أعلم فيه خلاف

এ বিষয়টির উপর ইজমা হয়েছে। এর সাথে মতানৈক্য করেছে এমন কারও বিষয়ে আমার জানা নেই।

আল্লামা কারমী বলেন-

إعلم أنه قد ذهب كثير من العلماء إلي منع جواز التقليد حيث أدي إلي التلفيق من كل مذهب

“জেনে রেখ! অধিকাংশ উলামায়ে কেরাম তালফীক অবৈধ হওয়ার মতামত ব্যক্ত করেছেন”

শামসুল আইম্মা ইমাম হালওয়ানী (রহঃ) বলেন-

وهذا الذي تقرر من إشتراط عدم التلفيق هو المعتمد عندنا و عند الحنفية و الحنابلة فلا يجوز في عبادة ولا غيرها والقول بجوازه ضعيف جدا

তালফীক অবৈধ হওয়ার ব্যাপারে যে সিদ্ধান্তটি স্থির হয়েছে এটি আমাদের নিকট গ্রহণযোগ্য। এবং এটি হানাফী ও হাম্বলীদের নিকটও গ্রহণযোগ্য। সুতরাং ইবাদত বা অন্য কোন ক্ষেত্রে তালফীক বৈধ নয়। তালফীক বৈধ হওয়ার ব্যাপারে যে বক্তব্য রয়েছে সেটি নিতান্তই দূর্বল।

আল্লামা হালওয়ানী আরও বলেন,

فلذلك كان التلفيق باطلا محرما و هو الذي عليه المحققون من أئمتنا و غيرهم

এজন্য তালফীক বাতিল ও হারাম। অধিকাংশ গবেষক ইমামমদের মত এটি।

যাইনুদ্দিন কাসেম (রহঃ) তাউকীফুল হুক্কাম ফি গাওয়ামিদিল আহকাম নামক কিতাব থেকে বর্ণনা করেছেন-

ان الحكم الملفق باطل بإجماع المسلمين

তালফীকের পদ্ধতিতে নির্ণীত হুকুম মুসলমানদের সর্বসম্মতিক্রমে বাতিল।

ফতওয়ায়ে শামী তে রয়েছে-

“..وأن الحكم الملفق باطل بالإجماع” قال شارحه-مثاله متوضأ سال من بدنه دم، و لمس إمرأة، ثم صلي فإن صحة صلاته ملفقة من المذهب الشافعي و الحنفي، و التلفيق باطل، فصحته منتفية

অর্থাৎ তালফীকের পদ্ধতিতে নির্ণীত হুকুম সর্বসম্মতিক্রমে বাতেল। (ব্যাখ্যাকার বলেন) তালফীকের উদাহরণ হল, কোন ওযুকারী ব্যক্তির শরীর থেকে রক্ত বের হল (এর দ্বারা হানাফী মাযহাব অনুযায়ী ওযু ভেঙ্গে যাবে), আবার সে কোন মহিলাকে স্পর্শ করল (এর দ্বারা শাফেয়ী মাযহাব অনুযায়ী ওযু ভেঙ্গে যাবে), এ অবস্থায় যদি সে নামায আদায় করে তবে তার নামায বাতিল। কেননা তালফীক বাতিল।

আল্লামা আব্দুল গণী নাবুলুসী (রহঃ) বলেন,

إذا علمت ذلك ظهر لك عدم صحة التلفيق في وجه من الوجوه إجماعا

যখন তুমি উক্ত বিষয় সম্পর্কে অবগত হলে, তখন তোমার সামনে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, সর্বসম্মতিক্রমে কোন অবস্থাতেই তালফীক বৈধ নয়।

 ইমাম নববী রহ. বলেন,

ووجهه انه لو جاز اتباع أي مذهب شاء لا فضى إلى ان يلتقط رخص المذاهب متبعا هواه ويتخير بين التحليل والتحريم والوجوب والجواز وذلك يؤدى إلى انحلال ربقة التكليف بخلاف العصر الاول فانه لم تكن المذاهب الوافية بأحكام الحوادث مهذبة وعرفت: فعلى هذا يلزمه ان يجتهد في اختيار مذهب يقلده على التعيين

“ব্যক্তি তাকলীদের অপরিহার্যতার কারণ এই যে, মুক্ত তাকলীদের অনুমতি দেয়া হলে প্রবৃত্তি তাড়িত মানুষ সকল মাজহাবের অনুকূল বিষয়গুলোই শুধু বেছে নিবে। ফলে হালাল-হারাম ও বৈধ-অবৈধ নির্ধারণের এখতিয়ার এসে যাবে তার হাতে। প্রথম যুগে অবশ্য ব্যক্তি তাকলীদ সম্ভব ছিলো না। কেননা ফিকাহ বিষয়ক মাজহাবগুলো যেমন সুবিন্নস্ত ও পূর্ণাংগ ছিলো না তেমনি সর্বত্র সহজলভ্যও ছিলো না। কিন্তু এখন তা সুবিন্যস্ত ও পূর্ণাংগ আকারে সর্বত্র সহজলভ্য। সুতরাং যে কোন একটি মাজহাব বেছে নিয়ে একনিষ্টভাবে তা অনুসরণ করাই এখন অপরিহার্য”। (আল মাজমু শরহুল মুহায্যাব, ১/১৯)

সুতরাং বর্তমানে সাধারণ মানুষের না বুঝে, শরীয়তের জ্ঞান অর্জন না করে প্রবৃত্তির চাহিদা অনুযায়ী স্বেচ্ছাচারী হওয়ার কোন সুযোগ নেই।

Print Friendly