আসমানী কিতাব যাদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে তাদের মধ্যে ইহুদীরা আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্য প্রদান করেছে। বনী ইসরাইল আল্লাহ তায়ালার জন্য এমনসব গুণাবলি সাব্যস্ত করেছে যা কেবল মানুষ ও সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মুসা আ. এর এর উপস্থিতিতে তারা তাজসীম তথা আল্লাহ তায়ালার দেহ সাব্যস্তের মতো বাতিল আক্বিদার দিকে ধাবিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তার দয়া ও রহমতের মাধ্যমে বনী ইসরাইলকে ফেরআউনের কবল থেকে রক্ষা করেন, অথচ সমুদ্র পার হয়ে তারা মুসা আ. কে আল্লাহর মূর্তি বানিয়ে দেয়ার আবেদন জানিয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,

وجاوزنا ببني إسرائيل البحر فأتوا على قوم يعكفون على أصنام لهم قالوا يا موسى اجعل لنا إلها كما لهم آلهة

অর্থ: আর আমি বনী ইসরাইলকে সাগর পার করে দিয়েছি, তখন তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে পৌঁছলো, যারা নিজেদের বানানো কতোগুলো প্রতিমার পূজায় রত ছিলো। বনী ইসরাইল বলল, হে মুসা, আমাদের জন্য এরূপ একটি উপাস্য নির্ধারণ করে দেন, যেরূপ এদের উপাস্য রয়েছে।[১]

পবিত্র কুরআনে আরও স্পষ্টভাবে বনী ইসরাইলের এই মানসিকতা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা মহান আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য দিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি, বরং রীতিমত মূর্তি বানিয়ে তার পূজা শুরু করেছে। তারা সর্বদা আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সদৃশ একটি সত্ত্বা বলেই বিশ্বাস করতো।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,

واتخذ قوم موسى من بعده من حليهم عجلاً جسداً له خوار

অর্থ: আর মুসার সম্প্রদায় তাঁর অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলংকার সমূহ দিয়ে একটি গো-বৎসের আকৃতি বানালো, যার আওয়াজ ছিলো।[২]

তাদের এই বাছুর পূজা সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা সূরা অন্য আয়াতে বলেন,

فَأَخْرَجَ لَهُمْ عِجْلًا جَسَدًا لَهُ خُوَارٌ فَقَالُوا هَٰذَا إِلَٰهُكُمْ وَإِلَٰهُ مُوسَىٰ فَنَسِيَ

অর্থ: “এরপর সে তাদের জন্য একটি বাছুর বানালো, যা একটি দেহ ছিলো, যাতে গরুর আওয়াজ ছিলো। তখন তারা বলতে লাগল, তোমাদের এবং মুসার মাবুদ তো এটাই, মূসা তো ভুলে গেছে।”[৩] ইহুদীদের বিকৃত তাউরাতের পরতে পরতে আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য দেয়া হয়েছে। তারা স্ররষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে কোন পার্থক্য রাখেনি। সৃষ্টির গুণাবলী স্রষ্টার দিকে সম্পৃক্ত করেছে। স্রষ্টাকে নামিয়েছে সৃষ্টির স্তরে। বনী ইসরাইলের মন-মগজে যেহেতু তাশবীহ (সৃষ্টির সঙ্গে স্রষ্টার সাদৃশ্য প্রদান) ও তাজসীম (স্রষ্টার জন্য দেহ ও সৃষ্টির বৈশিষ্ট্য প্রদান) আসন গেড়ে নিয়েছিলো, এজন্য তারা তাওরাতের বিকৃতির সময় স্রষ্টাকে মানুষের স্তরে নামিয়েছে। মানুষের গুণাবলী স্ররষ্টার জন্য এমনভাবে সাব্যস্ত করেছে, একজন পাঠক তাওরাত পড়লে স্রষ্টা ও সৃষ্টির মাঝে তেমন পার্থক্য খুঁজে পাবে না। স্ররষ্টাকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য দেয়ার বিকৃত মানসকিতা বনী ইসরাইলের মাঝে এতটা মারাত্মক রূপ লাভ করেছিলো যে, আসমানী কিতাব সমূহ বিকৃত করার সময় তারা এর পূর্ণ প্রতিফলন ঘটিয়েছে।

এজন্যই আমরা তাউরাতের পরতে পরতে তাশবীহ ও তাজসীমের ভ্রান্ত আক্বিদা দেখতে পাই।

 বাইবেলের বুক অব এক্সোডাসে রয়েছে,Now when the people saw that Moses delayed to come down from the mountain, the people assembled about Aaron and said to him, “Come, make us a god who will go before us”অর্থ: যখন লোকেরা দেখল মুসা আ. পাহাড় থেকে অবতরণ করতে বিলম্ব করছে, তারা হারুন আ. এর নিকট একত্রিত হয়ে বলল, “আমাদের জন্য এমন একটা প্রভূ তৈরি করো, যে আমাদের সামনে চলা-ফেরা করবে”[৪]

একই বইয়ে রয়েছে,

After leaving Sukkoth they camped at Etham on the edge of the desert. By day the LORD went ahead of them in a pillar of cloud to guide them on their way and by night in a pillar of fire to give them light, so that they could travel by day or night.অর্থ: তারা সুকুত থেকে যাত্রা করলো এবং মরুভূমির প্রান্তে ইছাম নামক স্থানে শিবির স্থাপন করলো। দিনের বেলায় প্রভূ তাদের সামনে মেঘের স্তম্ভ হয়ে চলছিলো এবং রাতে আগুনের স্তম্ভ হয়ে তাদেরকে আলো দিচ্ছিল , যেন তারা দিনে ও রাতে ভ্রমণ করতে পারে।[৫]

বাইবেলে রয়েছে,

Moses and Aaron, Nadab and Abihu, and the seventy elders of Israel went up. and they saw the God of Israel. There was under his feet as it were a pavement of sapphire stone, like the very heaven for clearness. But God did not raise his hand against these leaders of the Israelites; they saw God, and they ate and drank.

অর্থ: মুসা, হারুন, নাদাব, আবিহু এবং বনী ইসরাইলের সত্তরজন বয়স্ক লোক পাহাড়ে আরোহণ করল। তারা ইসরাইলের প্রভূকে দেখল। প্রভূর পায়ের নিচে যেন নীলকান্ত মণি পাথর ছিলো, যা ছিলো আকাশের মতো স্বচ্ছ। প্রভূ ইসরাইলের নেতাদের দিকে তার হাত প্রসারিত করলেন না। তারা প্রভূকে দেখল, আহার করল এবং পান করলো।[৬]বুক অব জেনেসিসে রয়েছে,

Whoever sheds the blood of man, by man shall his blood be shed, for God made man in his own image.

অর্থ: যে মানুষের রক্ত ঝরাবে, তার রক্তের বিনিময়ে হত্যাকারীর রক্ত ঝরানো হবে। কেননা প্রভূ মানুষকে নিজের আকৃতিতে সৃষ্টি করেছেন।[৭]

The LORD said to Moses, “Behold, I will come to you in a thick cloud, so that the people may hear when I speak with you and may also believe in you forever.” Then Moses told the words of the people to the LORD. The LORD also said to Moses, “Go to the people and consecrate them today and tomorrow, and let them wash their garments; and let them be ready for the third day, for on the third day the LORD will come down on Mount Sinai in the sight of all the people

অর্থ: প্রভূ মুসাকে বললেন, মনে রেখো, আমি তোমার নিকট পাতলা মেঘের আবরণে আগমণ করবো। আমি যখন তোমার সঙ্গে কথা বলব, মানুষ যেন শুনতে পায়। সম্ভবত: তারা তোমার উপর স্থায়ী বিশ্বাস স্থাপন করবে। অত:পর মুসা আ. প্রভূর বাণী লোকদেরকে শোনাল। প্রভূ মুসাকে আরও বলল, মানুষের কাছে যাও। আজ ও আগামীকাল তাদেরকে পবিত্র করো এবং তারা যেন তাদের কাপড় পবিত্র করে। তারা যেন তৃতীয় দিনের জন্য প্রস্তুত হয়। তৃতীয় দিন সব মানুষের চোখের সামনে প্রভূ সিনাই পর্বতে নেমে আসবে।[৮]

অল্ড টেস্টামেন্টের দি বুক অব সামে রয়েছে,

you have sat on the throne, giving righteous judgment.অর্থ: আপনি ন্যায়-পরায়ণ হিসেবে কুরসীতে উপবেশন করেছেন।[৯]

 বাইবেলের পুরাতন নিয়মে রয়েছে,

In my distress I called upon the LORD, and cried unto my God: he heard my voice out of his temple, and my cry came before him, even into his ears. Then the earth shook and trembled; the foundations also of the hills moved and were shaken, because he was wroth. There went up a smoke out of his nostrils, and fire out of his mouth devoured: coals were kindled by it.

আমার বিপদের মুহূর্তে আমি প্রভূকে ডাকলাম এবং আমার প্রভূর নিকট ক্রন্দন করলাম। তিনি তার উপাসনালয়ের বাইরে থেকে আমার আওয়াজ শুনলেন। আমার ক্রন্দন তাঁর নিকট পৌছল। এমনকি তার কর্ণকুহরে প্রবেশ করল। অত:পর ভূমি প্রকম্পিত হলো এবং ঝাকুনি দিল। পাহাড়ের ভিত নড়ে উঠল। কেননা প্রভূ রাগান্বিত ছিলেন। তার নাক থেকে ধুয়া বের হলো এবং তার মুখ থেকে আগুন বের হলো, সেই আগুনে কয়লা জ্বলে উঠল।[১০]

আমরা যদি এভাবে বাইবেল থেকে উদ্ধৃতি দিতে থাকি, তাহলে বাইবেলের খুব অল্প সংখ্যক বক্তব্যই আমাদের উদ্ধৃতির বাইরে থাকবে। একজন সাধারণ মানুষ বাইবেল পড়লে আল্লাহ তায়ালাকে তার সদৃশ ছাড়া আর কিছুই ভাবতে পারবে না। আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে ইহুদীদের কতোটা নিকৃষ্ট আক্বিদা ছিলো চিন্তা  করুন। স্রষ্টা সম্পর্কে কীভাবে তারা বাইবেলে একথা লিখল যে আল্লাহর নাক দিয়ে ধুয়া বের হয় এবং তার মুখ দিয়ে আগুন। তারা আল্লাহ তায়ালাকে অতি-প্রাকৃতিক একজন মানুষ ছাড়া আর কিছুই মনে করতো না। তাদের নিকট আল্লাহ তায়ালা মানুষের মতোই ছিলো। এজন্য তারা আল্লাহ তায়ালার জন্য মানুষের বৈশিষ্ট্যগুলো সাব্যস্ত করেছে। আল্লাহ তায়ালার দিকে এসব গুনাবলি সম্পৃক্ত করতে তারা সামান্য দ্বিধা করেনি। এভাবেই ইহুদী ধর্মের মাধ্যমে স্রষ্টাকে সৃষ্টির সাঙ্গে সাদৃশ্য দেয়ার বিষয়টি মানুষের কাছে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করে। মুসলমানদের মাঝে ইহুদী আক্বিদার প্রভাব:রাসূল স. সাহাবীদেরকে পরিশুদ্ধ আক্বিদা শিক্ষা দেন।  ইসলামের স্বচ্ছ আক্বিদা-বিশ্বাস সাহাবীদের মন-মস্তিষ্কে  এমনভাবে বদ্ধমূল হয়েছিলো সেখানে অমুসলিমদের ভ্রান্ত আক্বিদা অনুপ্রবেশের সুযোগ ছিল না। সাহাবায়ে কেরাম রা. সর্বদা ইহুদীদের এসব ভ্রান্ত আক্বিদা  থেকে দূরে থাকতেন। রাসূল স.এর ইন্তেকালের পর বিভিন্ন ধরনের ফেতনার উদ্ভব হতে থাকে। ইসলামী আক্বিদার পরিচ্ছন্ন ঝরণাধারায় বিভিন্ন ধরনের খড়কুটার আবির্ভাব হতে শুরু করে। রিদ্দার ফেতনা, খারেজী, কাদেরিয়া, রাফেযী ও নাসেবীদের ফেতনা সাধারণ মুসলমানদেরকে বিভিন্ন বাতিল আক্বিদায় নিপতিত করে। বিভিন্ন ধরনের নিত্য-নতুন শ্লোগানে বিমোহিত হয়ে রাসূল স. ও সাহাবীদের দেখানো পথ ও পদ্ধতি থেকে মানুষ বিচ্যুত হতে থাকে। আল্লাহ তায়ালা সম্পর্কে মুসলমানদের আক্বিদা বিনষ্টের ক্ষেত্রে ইহুদীদের থেকে বর্ণিত বিভিন্ন ইসরায়েলী রেওয়াত বিশেষ ভূমিকা পালন করে। ইহুদীরা যেভাবে আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির স্তরে নামিয়ে ছিলো, ইহুদী ভাবধারায় প্রভাবিত হয়ে কিছু মুসলমানও আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য দিতে থাকে। তারা আল্লাহ তায়ালার মূর্তি তৈরি না করলেও মূর্তির বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য আল্লাহর দিকে সম্পৃক্ত করতে থাকে। ইহুদীদের থেকে আল্লাহ তায়ালাকে সাদৃশ্যদানের এই আক্বিদা সর্বপ্রথম শিয়ারা গ্রহণ করে। তারা এগুলো তাদের অনুসারীদের মাঝে প্রচার করতে থাকে। আল্লাহ তায়ালার জন্য সৃষ্টির গুণাবলী সাব্যস্তের ক্ষেত্রে ইহুদীদের উত্তরসূরী শিয়া সম্প্রদায় সর্বপ্রথম ইসলামী আক্বিদাকে কলুষিত করে। শিয়াদের এই প্রচারণায় এবং বিভিন্ন ইসরাইলী রেওয়াত দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অনেক মুহাদ্দিসও এই ভ্রান্ত আক্বিদায় বিশ্বাসী হতে শুরু করে। মুহাদ্দিসদের মাঝে যারা হাদীসের মান যাচাই এবং বিশুদ্ধ ইসলামী আক্বিদা সম্পর্কে সচেতন ছিলো না, তারা অধিকহারে ইসরাইলী বর্ণনা মানুষের মাঝে ছড়াতে থাকে। একদিকে ইসরাইলী বর্ণনার আধিক্য, অপরদিকে শরীয়তের সঠিক আক্বিদা ও বুঝের স্বল্পতা অনেক মুহাদ্দিসকে ইহুদীদের এই ভ্রান্ত আক্বিদায় নিপতিত করে। কুরআন-সুন্নাহের সঠিক বুঝ অর্জন না করে শব্দকে বাহ্যিক অর্থে প্রয়োগের মানসিকতাও তাদের এই ভ্রান্তির অন্যতম কারণ।

গভীরভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যাবে ইসলামে যতো ভ্রান্ত দল রয়েছে এর অধিকাংশ দল কুরআন সুন্নাহের কিছু শব্দের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করেই ভ্রান্ত হয়েছে। এদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, তারা কুরআন-সুন্নাহের কিছু শব্দের বাহ্যিক অর্থ গ্রহণ করে এবং অন্যান্য বাণী থেকে সম্পূর্ণভাবে বিমুখ থাকে। একারণে কুরআন-সুন্নাহের অন্তর্নিহিত বুঝ অর্জন থেকে বিমুখ মুহাদ্দিসরা আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য দেয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ইহুদীদের প্রতিনিধিত্ব করে।

ইমাম ফখরুদ্দিন রাজী রহ. বলেন,

اعلم أن اليهود أكثرهم مشبهة، وكان بدو ظهور التشبيه في الإسلام من الروافض مثل بيان بن سمعان الذي كان يثبت لله الأعضاء والجوارح وهشام بن الحكم وهشام بن سالم الجواليقي ويونس بن عبد الرحمن القمي وأبي جعفر الأحول الذي كان يدعى شيطان الطاق، وهؤلاء رؤساء علماء الروافض، ثم تهافت في ذلك المحدثون ممن لم يكن لهم نصيب من علم المعقولات

অর্থ: জেনে রেখো, ইহুদীদের অধিকাংশ মুশাববিহা (আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য প্রদানকারী)। ইসলামে স্রষ্টাকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য প্রদানের ভ্রান্ত আক্বিদার সূচনা হয় শিয়াদের হাতে। যেমন বয়ান ইবনে সাময়ান আল্লাহ তায়ালার অঙ্গ-প্রতঙ্গ সাব্যস্ত করতো। এছাড়া শিয়াদের বিখ্যাত মুশাববিহা হলো, হিশাম ইবনে হাকাম, হিশাম ইবনে সালেম জাওয়ালেকী, ইউনুস ইবনে আব্দির রহমান আল-কুমা, আবু জা’ফর আল-আহওয়াল যে শয়াতানুত তাক নামে পরিচিত ছিলো। এরা ছিলো শিয়াদের বিখ্যাত ইমাম। এরপর আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের অনেক মুহাদ্দিসের মাঝে আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য প্রদানের ভ্রান্ত আক্বিদা প্রবেশ করে, যারা কুরআন-সুন্নাহের প্রকৃত বুঝ ও যুক্তিবিজ্ঞানের সাথে সম্পর্ক রাখতো না।[১১]

আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য প্রদানে ইহুদীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। খ্রিষ্টানরা একধাপ এগিয়ে সৃষ্টিকেই স্রষ্টা হিসেবে গ্রহণ করেছে। ইসলাম ধর্মে এই সাদৃশ্য প্রদানের ভ্রান্ত আক্বিদার অনুপ্রবেশ হয়েছে শিয়াদের মাধ্যমে। শিয়াদের পাশাপাশি ইসরাইলী বর্ণনা দ্বারা প্রভাবিত অনেক মুহাদ্দিস এই ভ্রান্ত আক্বিদায় নিপতিত হয়েছে। শিয়া ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের যেসব মুহাদ্দিস এই ভ্রান্ত আক্বিদা প্রচার করেছে তাদের সম্পর্কে পরবর্তী পরিচ্ছেদে বিস্তারিত আলোচনা করবো।

উদ্ধৃতিসমূহ:

[১]  সূরা আ’রাফ, আয়াত নং ১৩৮। [২]  সূরা আ’রাফ, আয়াত নং ১৪৮। [৩]  সূরা ত্বহা, আয়াত  নং ৮৮। [৪]  বুক অব এক্সোডাস, পরিচ্ছেদ, ৩২, শ্লোক, ১। [৫]  বুক অফ এক্সোডাস, পরিচ্ছেদ, ১৩, শ্লোক, ২০-২১। [৬] বুক অব এক্সোডাস, পরিচ্ছেদ, ২৩, শ্লোক, ৯-১১। [৭] বুক অব জেনেসিস, পরিচ্ছেদ, ৯, শ্লোক, ৬। [৮]  বুক অব এক্সোডাস, পরিচ্ছেদ,১৯, শ্লোক, ৯-১১। [৯] বুক অব সাম, পরিচ্ছেদ,৯, শ্লোক, ৪। [১০]  বুক অব সাম, পরিচ্ছেদ, ১৮, শ্লোক, ৬,৭,৮। [১১]  ই’তেকাদাতু ফিরাকিল মুসলিমিনা ওয়াল মুশরিকিন, পৃ.৩৪।

Print Friendly