জামাতে তাবলীগের মেহনতকে নতুন করে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার কিছু নেই। আল্লাহ তায়ালা তার কিছু বান্দার কোরবানিকে কবুল করে সমগ্র পৃথিবীতে এ মেহনতকে সচল রেখেছেন আলহামদুলিল্লাহ। এ জামাতের হক্কানিয়ের আলামত সূর্যের আলোর মত পরিস্কার। এ জামাত সম্পর্কে মানুষদের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য শায়খ বিন বায রাহঃ এর দু একটি বিচ্ছন্ন মতকে মানুষের সামনে পেশ করা হয় আর তার সর্বশেষ তাহকীক মানুষের কাছে সম্পূর্ণ গোপন করা হয়। আমরা আজকে দেখাবো যে বিন বাজ রাহঃ বিভিন্ন পত্রে তাবলীগ জামাত সম্পর্কে কি কি বলেছেন।

(1) ডক্টর মুহাম্মদ তকীউদ্দীন আল হেলালী-এর নিকট লিখিত পত্রে শায়খ বিন বাজ রাহঃ বলেন –

তাবলীগে বের হওয়াটা নিন্দনীয় সফরের অন্তর্ভূক্ত নয়। কারণ তারা আল্লাহর দ্বীনের প্রতি আহবানের জন্য শহরে শহরে ও গ্রামগঞ্জে ঘুরে বেড়ায়। আর ছোট বড় সকল জনসাধারণের সাথে সাক্ষাৎ করে থাকে। বাংলাদেশে ও অন্যান্য দেশে তাদের যে ইজতেমা হয় তাতে ছোট বড় সব লোক শরীক হয়ে থাকে। গত বছর বাংলাদেশে ইজতেমায় শরীক হওয়ার জন্য যাদেরকে পাঠিয়েছিলাম তাদের মধ্যে বিশ্বস্ত মাশায়েখরা আমাদেরকে এই খবর দিয়েছে। সুতরাং আপনি তাদের খুরুজের নিন্দার জন্য যে দলীল দিয়েছেন যে হাফেজ ইবনে কাসীর (রহঃ) যা উল্লেখ করেছেন-যারা শুধু পৃথিবীতে ঘুরে বেড়ানোকে অথবা পাহাড়ের গুহায় ও নির্জন জঙ্গলে ইবাদত করাকে উত্তম মনে করে-তাদের অবস্থা তাবলীগের উপর প্রতীয়মান হয়-আপনার এই দলীল ঠিক নয়। কারণ তাবলীগের অবস্থা তার বিপরীত আর তাদের আমলও তার বিপরীত। (لإداراتالبحوثالعلميةوالإفتاءوالدعوةوالإرشاد – নং ৮৮৯/খ, তারিখ ১০/১০/১৪০৩ হিজরী )

(2) শায়খ এওয়ায ইবনে এওয়ায কাহতানির নিকট লিখিত পত্রে শায়খ বিন বাজ রাহঃ বলেন –

লোকদের মধ্যে তাবলীগ জামাত সম্পর্কে ভিন্ন মত পাওয়া যায়। কেউ তাদের প্রশংসা করে আবার কেউ তাদের সমালোচনা করে। কিন্তু আমরা ‘নজদ’ ও অন্যান্য স্থানের আমাদের অনেক বিশ্বস্থ ভাইদের কাছ থেকে জামাত সম্পর্কে পুর্ণ খবর নিয়েছি। তাদের কেউ জামাতে শরীয়ত বিরোধী কোন কার্যকালাপ আছে বলে বলেননি এবং এমন কোন বস্তু আছে বলেও বলেননি যদ্বারা তাদের সাথে বের হওয়া বা দাওয়াতী কাজে অংশগ্রহন করতে বাধা সৃষ্টি হয়, অথচ এ সকল ভাইয়েরা জামাতের সহিত ভারত-পাকিস্তানের অনেক সফর করেছেন।
অনেক ব্যাক্তি আমরা দেখেছি যারা তাবলীগ জামাতের সহিত বের হয়েছে এবং সঙ্গ লাভ করেছে, তারা প্রভাবিত হয়েছে এবং তাদের ধর্মীয় ও চারিত্রিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে আর আখেরাতের প্রতি তাদের অনুরাগ আরো বেড়ে গেছে। তাই আমি তাদের সাথে বের হওয়া এবং দাওয়াতের কাজে তাদের সাথে অংশগ্রহন করাকে কোন প্রতিবন্ধকতা মনে করি না। বরং জ্ঞানী, প্রজ্ঞাবান ও উত্তম আকীদা সম্পন্ন ব্যাক্তিদের জন্য জামাতে শরিক হওয়া উত্তম। যেন তারা তাবলীগি ভাইদের মধ্যে ভূল থাকলে তা সংশোধন করে দিতে পারে। কারণ পথভ্রষ্ট ও পাপাচারে লিপ্ত ব্যক্তিবর্গের উপর তাবলীগ জামাতের ছোহবতের গভির প্রভাব হয়ে থাকে। (لإداراتالبحوثالعلميةوالإفتاءوالدعوةوالإرشاد – নং ১১৫৫/খ, তারিখঃ ৫/৯/১৩৯৯ হিজরী )।

(3) শায়খ আবদুল আজীজ ইবনে ইউসূফ বাহযাদ সাহেবের নিকট লিখিত পত্রে শায়খ বিন বাজ রাহঃ বলেন –

এই শুভ লগ্নে আমি আপনাকে আপনার পিতা ও ভাই মাহমূদকে সময় সুযোগ মতে নিয়মিত জামাতের সহিত দাওয়াত ইলাল্লাহের কাজে বের হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। যারা আপনাদের সাথে বের হয় তাদেরকে সহীহ আকীদার দিকে আহবান করবেন এবং অন্যান্য দায়ীদেরকেও তা বলবেন।ছাত্রদেরকে আপনাদের সাথে বের হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করবেন এবং কর্ম তৎপরতায় শরীক থাকার জন্য উৎসাহ দিবেন। এটিই হল নবী রাসূলগণ ও তাঁদের অনুসারীদের নীতি। আল্লাহপাক আমাকে ও আপনাদেরকে তাঁদের অনুসরণ করার তাওফিক দান করুন। (لإداراتالبحوثالعلميةوالإفتاءوالدعوةوالإرشاد – নং ২৫১/খ, তারিখ ২৫/২/১৪০৮ হিজরী)।

(4) উস্তাদ আবদুস সালাম ইবনে মুহাম্মদ আমীন সুলাইমানীর নিকট লিখিত পত্রে শায়খ বিন বাজ রাহঃ বলেন –

আমাদের কাছে মদিনা ইউনিভার্সিটির ‘তাওহীদ’ বিষয়ক শিক্ষকগণ এবং নজদবাসী ও আরো অন্যান্য যারা তাবলীগ জামাতের সহীত সময় লাগিয়েছেন তাদের কাছ থেকে মুতাওয়াতির ভাবে সেই কথাই পৌছেছে যা আপনি পত্রে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ তাদের মধ্যে নম্রতা , হক্ব গ্রহণ করার আবেগ, আল্লাহর প্রতি দাওয়াত দানের ধৈর্য্যশীলতা ও দ্বীনের রাস্তায় মেহনত ও কষ্ট স্বীকার করা ইত্যাদি গুন পাওয়া যায়। আল্লাহ পাক এদের দ্বারা অনেক পথ হারা ব্যাক্তিকে পথের দিশা দিয়েছেন আর কত কাফেরকে হেদায়েত দান করেছেন। আমি সদাসর্বদা জ্ঞানী ও প্রজ্ঞাবান ভাইদের দাওয়াতের কাজে তাদের সহযোগিতা করার পরামর্শ দিয়ে থাকি। আমার পূর্বে আমার শায়খ সাবেক সৌদি আরবের প্রধান মুফতি জনাব মুহাম্মদ ইবরাহীম আল্‌ শায়খ তাবলীগ জামাতের প্রশংশা করেছেন এবং তাদের সহযোগীতা করতে বলেছেন।এটি ১৩৭৩ হিজরী সনে পূর্ব এলাকার লোকজনের কাছে লিখিত তার পত্রে উল্লেখিত আছে। তাতে তিনি বলেছেন, “এদের মিশন হল মসজিদে মসজিদে গিয়ে জনসাধারণকে তাওহীদ, শুষ্ঠু আকীদা বিশ্বাস এবং কিতাব সুন্নাহ মতে আমল করার প্রতি উদ্ভুদ্ধ করা এবং কবরপূজা, মৃতদের কাছ থেকে চাওয়া ইত্যাদি বিভিন্ন বেদায়াত-কুসস্কার থেকে বেঁচে থাকার প্রতি আহব্বান করা আর ওয়াজ নসীহত করা।” এ পত্রের সাথে এওয়াজ ইবনে এওয়াজ কাহতাহানীর কাছে যে পত্র লিখেছিলাম তার একটি কপি পাঠালাম। এটা নিশ্চিত কথা যে ভূল-ত্রুটি মানুষের মধ্যে অবশ্যকীয় একটি ব্যাপার। হাঁ আল্লাহ পাক যাকে বাচান তার কথা ভিন্ন। কিন্তু কোন এক ব্যাক্তির ভূলের কারণে পুরা জামাতের উপর দোষ চাপিয়ে দেওয়া ঠিক নয়। বরং মুসলমানদের জন্য নম্রতা, ভদ্রতা ও মিষ্টি ভাষায় তাদের ভাইগণকে বুঝানো উচিত। এটিই হল নবী রাসূলগন ও তাদের অনুসারীদের তরীকা। (لإداراتالبحوثالعلميةوالإفتاءوالدعوةوالإرشاد – নং ৩২৫/খ তারিখ- ২০/৩ /১৪০৬ হিজরী)

(5) শায়খ ফালেহ বিন নাফে আল্‌ হারবীর নিকট লিখিত পত্রে শায়খ বিন বাজ রাহঃ বলেন –

অনেক খোঁজ-খবর নেওয়ার পর বর্তমানে আমরা এ ব্যাপারে সুনিশ্চিত যে, আমাদেরকে তাবলীগ জামাতের পার্শ্বে দাড়াতে হবে। সাথে সাথে তাদের মধ্যে কারো কারো কাছে যে ঘাটতি রয়েছে সেজন্য তাকে বুঝাতে হবে। আর ভূল হওয়া মানুষের জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার। তবে যাদেরকে আল্লাহ তায়ালা হেফাযত রাখেন তাদের কথা ভিন্ন।
(لإداراتالبحوثالعلميةوالإفتاءوالدعوةوالإرشاد – নং ৮৮৮৯/খ, তারিখ ১২/৮/১৪০৬ হিজরী)

(6) সলেহ বীন আলী সাবিমানির নিকট লিখিত পত্রে শায়খ বিন বাজ রাহঃ বলেন –

(সালেহ বীন সাবিমানি হলেন আদ্দাওতুল ইরসাদ এর উনাইঝা এলাকার প্রতিনিধী। তিনি পাকিস্থানের রায়বেন্ডের ইজতেমায় অংশগ্রহন করে এর বিবারণ বিন বাজ রাহ এর কাছে পাঠিয়েছিলেন। এর জবাবে বিন বাজ রাহ যে পত্র লিখেছেন সেটি থেকে – ) আমি এ কথার দ্বারা অত্যন্ত খুশি হয়েছি যা আপনি উল্লেখ করেছেন যে, এ ইজতিমাতে উপস্থিত জনতা অনেক উপকৃত হয়েছে। আর উপস্থিতরা নিজেদের মাঝে ভালো ও কল্যানকর কথা আলোচনা করছিলো। আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিন। তারা এ ধরনণের ইজতিমা বেশি পরিমানে করবে আর মুসলমানদেরকে এর দ্বারা উপকৃত করবে। এতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই যে লোকদের জন্য এ ধরণের নিষ্কুলুষ পুত-ও পবিত্র ইজতিমার খুব বেশি প্রয়োজন যা ওয়াজ নসিহাত সমৃদ্ধ, আর যাতে ইসলামের উপর অটল অবিচল থাকার ব্যাপারে আহবান করা হয় যাতে সেখার সাথে সাথে আমলের বাস্তব প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। বেদায়াত ও কুসংস্কার থেকে মুক্ত একনিষ্ঠ একাত্ববাদের কথা আলচিত হয়। আমি আল্লাহ তালালার কাছে মিনতি জানাই যে, সকল মুসলমানকে চাই সে রাজা হোক বা প্রজা হোক সবাইকে পরিপূর্ণ ভাবে প্রতিষ্ঠিত রাখুক, নিঃসন্দেহে তিনি অতিব দয়ালু ও দাতা।
(لإداراتالبحوثالعلميةوالإفتاءوالدعوةوالإرشاد – সূত্র ১০০৭ , ১৭ ই শাবান ১৪০৭ হিজরী)

(পত্রগুলো সৌদি আরবের কেন্দ্রিয় ইসলামি গবেষণা ও ফতোয়া অধিদপ্তর আল মামলাকাতুল আরবিয়্যাতু সাউদিয়া- ইদারাতুল বুহুসিল ইলমিয়্যাতি ওয়াল ইফতা ওদ্দাওয়াতি ওয়াল ইরশাদ (মাকতাবুর রয়িস) এ সংরক্ষিত আছে।)

Print Friendly