হযরত আয়েশা রা. কে মুরতাদ আখ্যা

ইংরেজদের সময়ে সৃষ্ট তথাকথিত ভ্রান্ত মতবাদ আহলে হাদীসের পুরোধা হলো মৌলিভি আব্দুল হক বেনাসরী। পথভ্রষ্ট এই লোকটি এতটা সাহাবী বিদ্বেষী ছিলো যে সে হযরত আয়েশা রা. কে মুরতাদ আখ্যায়িত করে। ভারত উপমহাদেশে আহলে হাদীস ফেতনাটি সাহাবী বিদ্বেষী এই পথভ্রষ্ট্রের হাতে জন্ম লাভ করে। আব্দুল হক বেনারসী মূলত: হিন্দু ছিলো। আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা ইহুদীর মতো লোক দেখানো ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে থাকে। “মুযাহেরে হক” কিতাবের স্বনামধন্য লেখক মাওলানা কুতুব উদ্দীন তার “তুহফাতুল আরব ওয়াল আযম”গ্রন্থে লিখেন- “সৈয়দ আহমদ শহীদ রহঃ,মাওলানা ইসমাইল শহীদ রহঃ ও মাওলানা আব্দুল হাই রহঃ পাঞ্জাবে আগমন করার পরপর্‌ই কতিপয় বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীর সমন্বয়ে চার মাযহাবের ইমামগণের তাকলীদ অস্বীকারকারী নতুন ফিরকাটির সুত্রপাত লক্ষ করা যায়। যারা হযরত সায়্‌য়িদ আহমদ শহিদ রহঃ-এর মুজাহিদ বাহিনীর বিদ্রোহী গ্রুপের সদস্য ছিলেন,এদের মুখপাত্র ছিলেন মৌলভী আব্দুল হক বেনারসী(১২৭৫ হিঃ) তার এই ধরনের অসংখ্য ভ্রান্ত কর্মকান্ডের কারণে সাইয়ে‍্যদ আহমদ শহিদ রহঃ ১২৪৬ হিজরীতে তাকে মুজাহিদ বাহিনী থেকে বহিষ্কার করেন। তখন্‌ই গোটা ভারতবর্ষের সকল ধর্মপ্রাণ জনগন, বিশেষ করে শহিদ রহঃ এর খলীফা ও মুরীদগন হারামাইন শরিফাইনের তদানিন্তন উলামায়ে কেরাম ও মুফতিগণের নিকট এ ব্যপ্যারে ফতওয়া তলব করেন।ফলে সেখানখার তৎকালীন চার মাযহাবের সম্মানিত মুফতিগন ও অন্যান্য উলামায়ে কেরাম সর্বসম্মতিক্রমে মৌলবী আব্দুল হক বেনারসী ও তার অনুসারীদেরকে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী ফিরকা বলে অভিহিত করেন করেন এবং বেনারসীকে কতল(হত্যা)করার নির্দেশ প্রদান করেন।(এ ফতওয়া ১২৫৪ হিজরীতে তাম্বীহুদ্দাল্লীন নামে প্রকাশ করা হয়). বেনারসী পলায়ন করত ঃ কোনভাবে আত্নরক্ষা পান। সেখান থেকে গিয়ে তিনি নবআবিষ্কৃত দলের প্রধান হয়ে সরলমনা জনসাধারণের মধ্যে তার ভ্রান্ত মতবাদ ছড়াতে থাকে।” (তুহফাতুল আরব ওয়াল আজম, পৃঃ১৬, খঃ২; আল-নাজাতুল কামেলা, পৃঃ২১৪; তম্বীহুদ্দাল্লীন, পৃঃ৩১)

আহলে হাদীস আলেম আব্দুর রহমান পানিপত্তি তার কাশফুল হিজাব বইয়ে  লিখেছে,

” মৌলভী আব্দুল হক বেনারসী প্রকাশ্যে বলেছে যে, আয়েশা রা. হযরত আলীর সাথে যুদ্ধ করেছে। তিনি যদি তওবা না করে মারা গিয়ে থাকেন, তাহল তিনি মুরতাদ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। অন্য একটি মজলিশে সে বলেছে যে, আমাদের চেয়ে সাহাবায়ে কেরামের ইলম কম ছিলো। তাদের এক এক জন চার পাচটা হাদীস জানতেন, আমরা সব হাদীস জানি।”

সূত্র: কাশফুল হিজাব, পৃ.৪২, কারী আব্দুর রহমান পানিপতি।

নিচে প্রমাণ দেখুন:

হযরত মুয়াবিয়া রা. এর প্রতি কাজী শাওকানীর অভিশাপ:

আমরা সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে আহলে হাদীসদের দৃষ্টিভঙ্গি (পর্ব-৩) এ হযরত মুয়াবিয়া রা. সম্পর্কে আহলে হাদীসদের গুরু কাজী শাওকানীর বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখানে কাজী শাওকানী হযরত মুয়াবিয়া রা. কে বাতিল, ধোকাবাজ, দুনিযালোভী ইত্যাদি আখ্যায়িত করেছে নাউযুবিল্লাহ। কাজী শাওকানী শুধু আহলে হাদীসদেরই ইমাম নয়, বরং তথাকথিত সালাফীরাও তাকে নিজেদের ইমাম মনে করে থাকে। কাজী শাওকানীর একটি বিখ্যাত কিতাব হলো নাইলুল আওতার। নাইলুল আওতার কিতাবটি আমাদের দেশেও পাওয়া যায়। এই কিতাবে শাওকানী হযরত মুয়াবিয়া রা. এর প্রতি লা’নত বা অভিশাপ দিয়েছে।

আহলে হাদীস আলেম নওযাব সিদ্দিক হাসান কাজী শাওকানীর ছাত্র ছিলেন। তিনি নাইলুল আওতার নিজে প্রকাশ করেছিলেন। সিদ্দিক হাসান খানের কপির সাথে তার নিজেরও একটি কিতাব সংযুক্ত ছিলো। সিদ্দিক হাসান খান প্রকাশিত নাইলুল আওতার ডাউনলোড করুন নিচের লিংক থেকে,

http://ia600401.us.archive.org/7/items/nail_awtar_07/nail_awtar_07.pdf

নাইলুল আওতার সপ্তম খন্ডের ৮৪ পৃষ্ঠায় কাজী শাওকানী হযরত মুয়াবিয়া রা. ও ইয়াজীদের প্রতি অভিশাপ দিয়েছে। ইয়াজীদের প্রতি অভিশাপ  দেয়া নিয়ে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আলেমগনের মাঝে দু’ধরনের মতামত রয়েছে। তবে হযরত মুয়াবিয়া রা. কে এর প্রতি অভিশাপ দেয়া কতো ভয়ঙ্কর একটু ভেবে দেখুন। নাইলুল আওতার সকল এডিশনে এই অভিশাপের শব্দ রয়েছে। তবে বর্তমানের সালাফীরা যেহেতু কাজী শাওকানীকে তাদের ইমাম বানিয়েছে, এজন্য তারা শাওকানীর এজাতীয় কাজে খুবই বিব্রত বোধ করে থাকে। ফলে বর্তমানে কিছু সালাফী নাইলুল আওতার ছাপিয়েছে। এসব নাইলুল আওতারে অভিশাপের এই শব্দটি সম্পূর্ণ মুছে দিয়েছে। নিজেদের মতের বিরোধী হওয়ার কারণে এধরনের বিকৃতি সালাফী-আহলে হাদীসদের জন্য নতুন বিষয় নয়। তারা বিখ্যাত অনেক কিতাবে এই ধরনের বিকৃতির আশ্রয় নিয়েছে। ড. সুবহি হাল্লাক ও তারিক ইউয়াজুল্লাহ নামে দুই সালাফী নাইলুল আওতার তাকহকীক করেছে। আশ্চর্যের বিষয হলো, তারা দুজনই এই বিষয়টা নাইলুল আওতার থেকে উঠিয়ে দিয়েছে। এটা কেন মুছে দিলো, তার কোন কারণও লেখেনি। একজন সাধারণ পাঠক ঘুনাক্ষরেও বুঝবে না যে, কাজী শাওকানী হযরত মুয়াবিয়া রা. এর প্রতি অভিশাপ দিয়েছে। এভাবে বিকৃতির আশ্রয় নিয়ে বিভিন্ন কিতাব বিকৃতভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে।

যাদের কাছে নাইলুল আওতারের পুরাতন সংস্করণগুলো রয়েছে, তারা অভিশাপের বিষয়টি যাচাই করে নিবেন। নাইলুল আওতারের ৩২০১ নং হাদীসের অধীনে তিনি লা’নত করেছেন। অধ্যায়ের শিরোনাম হলো,

بَابُ الصَّبْرِ عَلَى جَوْرِ الْأَئِمَّةِ وَتَرْكِ قِتَالِهِمْ وَالْكَفِّ عَنْ إقَامَةِ السَّيْفِ

কাজী শাওকানী এখানে লিখেছে,

 وَلَقَدْ أَفْرَطَ بَعْضُ أَهْلِ الْعِلْمِ كَالْكَرَّامِيَّةِ وَمَنْ وَافَقَهُمْ فِي الْجُمُودِ عَلَى أَحَادِيثِ الْبَابِ حَتَّى حَكَمُوا بِأَنَّ الْحُسَيْنَ السِّبْطَ – رَضِيَ اللَّهُ عَنْهُ – وَأَرْضَاهُ بَاغٍ عَلَى الْخِمِّيرِ السِّكِّيرِ الْهَاتِكِ لِحُرُمِ الشَّرِيعَةِ الْمُطَهَّرَةِ يَزِيدَ بْنِ مُعَاوِيَةَ لَعَنَهُمْ اللَّهُ، فَيَالَلَّهِ الْعَجَبُ مِنْ مَقَالَاتٍ تَقْشَعِرُّ مِنْهَا الْجُلُودُ .

অর্থ: কিছু কিছু আলেম যেমন কাররামিয়া ও তাদের সহমতের কিছু গোড়া আলেম আলোচ্য হাদীসের উপর ভিত্তি করে বাড়াবাড়ি করেছে। এমনকি তারা বলেছে, হযরত হুসাইন রা. মদ্যম, মাতাল, শরীয়তের পবিত্র বিধি-বিধান লঙ্ঘনকারী ইয়াজীদ ইবনে মুয়াবিয়া [তাদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপ] এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেছে। কী আশ্চর্য, তাদের কথায় গা শিউরে উঠে।

মাকতাবাতুশ শামেলা থেকে প্রকাশিত নাইলুল আওতার দেখুন।

http://shamela.ws/browse.php/book-9242/page-2551#page-2570

সৌদি মন্ত্রনালয় নিয়ন্ত্রিত আল-ইসলাম সাইটেও নাইলুল আওতার প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে অভিশাপের শব্দটি রয়েছে।

http://www.al-islam.com/Page.aspx?pageid=695&BookID=513&PID=2406&SubjectID=25448

ইসলাম ওয়েব প্রকাশিত নাইলুল আওতারেও অভিশাপের শব্দটি রয়েছে,

http://library.islamweb.net/newlibrary/display_book.php?bk_no=47&ID=963&idfrom=2275&idto=2374&bookid=47&startno=36

নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান প্রকাশিত নাইলুল আওতারের স্ক্রিনশট:

নাইলুল আওতার, খ.৭, পৃ.৮৪। লিংক: http://ia600401.us.archive.org/7/items/nail_awtar_07/nail_awtar_07.pdf

কিছু সাহাবীর ক্ষেত্রে রাযিয়াল্লাহু আনহু না বলা:

ইংরেজদের সময়ে সৃষ্ট আহলে হাদীসদের অন্যতম আলেম হলেন ওহিদুজ্জামান হাইদ্রাবাদী। তিনি ইন্ডিয়ার আহলে হাদীসদের মাঝে বেশ বিখ্যাত। আহলে হাদীসদের মাঝে তার অনুবাদকৃত সিহাহ সিত্তাহ ব্যাপক প্রচলিত। ওহিদুজ্জামান হাইদ্রাবাদী আহলে হাদীসদের মাঝে স্বীকৃত একজন আলেম ছিলেন। আহলে হাদীস আলেমদের জীবনীর উপর লেখা চালিস উলামাযে আহলে হাদীস (চল্লিশজন আহলে হাদীস আলেম) কিতাবে তার ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। জনাব ওহিদুজ্জামান হাইদ্রাবাদীর লেখা একটি কিতাব হলো, কানযুল হাকাইক মিন ফিকহি খাইরিল খালাইক ( (সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর ফিকহের রহস্য ভান্ডার)।

কিতাবের নামকরণে মারাত্মক ধোকাবাজী:

যখন তাদের কিতাবের নামকরণ করে, হাদইয়াতুল মাহদী (হেদায়াতপ্রাপ্ত রাসূল (সঃ) এর হাদিয়া) তখন স্বাভাবিক একজন মানুষের বিবেকে এটি স্পষ্ট হয়ে উঠবে যে, এটি কোন ফকীহের রচিত ফেকাহ নয়, বরং এটি সরাসরি রাসূল (সঃ) এর ফিকহ, রাসূল (সঃ) এর হাদিয়া। নিজের জ্ঞান ও বুঝকে রাসূল  (সঃ) এর নামে চালিয়ে এধরণের জালিয়াতি, গোস্তাখী অন্য কেউ করেছে কি না আমাদের জানা নেই। ফেতনাবাজ এ আহলে হাদীস শ্রেণী শুরু থেকেই সাধারণ মানুষকে ধোঁকা দেয়ার পায়তারা করেছে। তারা যখন নিজেদেরকে ‘আহলে হাদীস’ বলে, তখন পৃথিবীতে এধরণের ঘৃণিত মিথ্যা আর হয় না, কেননা যে ব্যক্তি আহলে হাদীস কাকে বলে, এটিও জানে না, সে দাবী করে যে সে আহলে হাদীস। প্রতিটা পদক্ষেপে ধোঁকা দিয়ে মানুষকে কোথাও শিয়াদের আক্বিদা-বিশ্বাস, কোথাও গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী মালউনের চিন্তা-চেতনা এবং কোথাও মুজাস সিমা-মুশাব্বিহাদের আক্বিদা বিশ্বাসকে রাসূল (সঃ) এর আক্বিদা, রাসূল (সঃ) এর ফিকহের নামে সাধারণ মানুষকে ধোঁকায় নিপতিত করছে। আহলে হাদীসদের ফিকহের কিতাবের নামের দিকে দৃষ্টিপাত করলে রাসূল (সঃ) এর প্রতি আহলে হাদীসদের মিথ্যাচার আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। উদাহরণ স্বরূপ, তারা উর্দু ভাষায় “ফিকহে মুহাম্মাদিয়া” নামক কিতাব রচনা করেছে। এটি মূলতঃ যায়দী শিয়া কাযী শাওকানীর “আদ-দুরারুল বাহিয়্যা” এর উর্দু অনুবাদ। সম্পূর্ণ কিতাবের অনুবাদ করা হয়েছে। একটি মাসআলাও এদিক সেদিক হয়নি। এর থেকে এ বিষয়টি স্পষ্ট হয় যে, তথাকথিত আহলে হাদীসদের নিকট হানাফীদের ফিকহ ভুল অথচ যায়দী শিয়াদের ফিকহ বিশুদ্ধ। এ কিতাবেরই আরবী ব্যাখ্যা লিখেছেন বিখ্যাত আহলে হাদীস আলেম নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান। তার কিতাবের নাম, আর-রওজাতুন নাদিয়্যা শরহু দুরারিল বাহিয়্যা। এরা হানাফী ফিকহ ছেড়ে মানুষকে এই বলে ধোঁকা দিয়েছে যে, আমরা মক্কা-মদিনার ফিকহ উপহার দিব, অথচ দিয়েছে ইয়ামানের শিয়াদের ফিকহ। এরপর আহলে হাদীস আলেম ওহীদুজ্জামান খান আরবীতে একটি ফিকহের কিতাব লিখেছেন, নুযুলুল আবরার মিন ফিকহিন নাবিয়্যিল মুখতার ( নির্বাচিত নবী মুহাম্মাদ (সঃ) এর ফিকহ থেকে নেককার বুযুর্গদের মেহমানদারি)। এর দ্বারা তিনি মানুষকে ধোঁকা দিয়েছেন যে, আমাদের ফিকহ অন্য কোন ব্যক্তির ফিকহ নয়, সরাসরি রাসূল (সঃ) এর ফিকহ। কেমন যেন, তিনি এও বোঝাতে চেয়েছেন যে, ফিকহে হানাফীতে ইমাম আবু হানীফার ফিকহ, রাসূলের ফিকহ নয়, ফিকহে শাফেয়ীতে ইমাম শাফেয়ী (রহঃ) এর ফিকহ আর তাদের ফিকহ নিরেট নবীজী (সঃ) এর ফিকহ। আহলে হাদীস আলেম নওয়াব নুরুল হাসান খান ফিকহের কিতাব লিখেছেন, যার নাম দিয়েছেন, আরফুল জাদী মিন জিনানি হাদয়িল হাদী। নওয়াব ওহীদুজ্জামান খান লিখেছেন, কানযুল হাকায়েক মিন ফিকহি খাইরিল খালায়েক (সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর ফিকহের রহস্য ভান্ডার)।

এভাবে নিজেদের মস্তিষ্কপ্রসূত শরিয়তবিরোধী মাসআলাগুলোকেও তারা রাসূল স. এর বুঝ হিসেবে চালিয়ে দিযেছে। নাউযুবিল্লাহ। এধরনের চটকদার নামকরণের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ধোকায় ফেলেছে।  আসুন এবার দেখি, ওহিদুজ্জামান খান সাহেব কানজুল হাকায়েকে সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে কী লিখেছেন।

ওহিদুজ্জামান হাইদ্রাবাদী লিখেছে, 

“অর্থাৎ সাহাবায়ে কেরাম রা. সম্পর্কে রাযিয়াল্লাহু আনহু বলা মুস্তাহাব। তবে আবু সুফিয়ান, মুয়াবিয়া, আমর ইবনে আস, মুগীরা ইবনে শু’বা, সামুরা ইবনে জুনদুব এর নামের শেষে রাযিয়াল্লাহু আনহু বলা মুস্তাহাব নয়। “

নীচের স্ক্রিনশট দেখুন,

সাহাবায়ে কেরাম রা. সম্পর্কে এধরনের আকিদা মূলত: শিযাদের উদ্ভাবিত আকিদা।  কোন মুহাদ্দিস বা আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের কোন আলেমের আকিদা এটি নয়।  কানযুল হাকাইকের এ বক্তব্যটি রয়েছে ২৩৪ পৃষ্ঠায়। এই সংস্করণ প্রকাশিত হয় ১৩৩২ হি: সনে শাওকাতুল ইসলাম বেঙ্গলোর থেকে।

বিজ্ঞ পাঠক, ওহিদুজ্জামান সাহেব তার কিতাবের নাম দিয়েছে, কানযুল হাকাইক মিন ফিকহি খাইরিল খালাইক ( (সৃষ্টিকুলের শ্রেষ্ঠ মানব হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর ফিকহের রহস্য ভান্ডার)।  এটা কি রাসূল স. এর বুঝ ও ফিকহ? নাউযুবিল্লাহ। রাসূল স. এর ফিকহের নামে কীভাবে শিয়াদের আকিদা প্রচার করা হয়েছে লক্ষ করুন। অথচ এগুলোকে সাধারণ মানুষের সামনে রাসূল স. এর বুঝ বলে চালিয়ে দেয়া হচ্ছে।

সম্পূর্ণ কিতাবটি নিচের লিংকে পাবেন।

http://www.scribd.com/doc/223244353/Kanzul-Haqaiq-Min-Fiqa-Khair-Ul-Khalaiq-by-Nawab-Siddique-Hasssan-Khan-Phopali

হযরত মুয়াবিয়া রা. আমর ইবনে আস রা. এর প্রতি অভিশাপ

ভারত উপমহাদেশের আহলে হাদীসদের বিখ্যাত আলেম হলেন ওহিদুজ্জামান হাইদ্রাবাদী। তিনি বিভিন্ন বিষয়ে অনেক কিতাব লিখেছেন। ওহিদুজ্জামান সাহেব এর একটি বিখ্যাত কিতাব হলো, আল-ফিকহুল মুহাম্মাদী (রাসূল স. এর ফিকাহ বা বুঝ)। এই কিতাবের পন্চম খন্ডের নাম দিয়েছেন, আল-মাশরাবুল ওয়ারদি মিনাল ফিকহিল মুহাম্মাদী। এই কিতাবের ২৫১ পৃষ্ঠায় ওহিদুজ্জামান সাহেব লিখেছেন,

অর্থাৎ আল্লাহ তায়ালা বলেন [অনুবাদ] যারা আল্লাহ ও তার রাসূলকে কষ্ট দেয়, আল্লাহ তায়ালা তাদেরকে দুনিযা ও আখেরাতে লা’নত বা অভিশাপ দিয়েছেন। আর আল্লাহ তাদের জন্য জন্য লান্ছনাকর শাস্তি প্রস্তুত রেখেছেন।

“আমরা বলবো, নিশ্চয় মুয়াবিয়া, ইয়াজীদ, আমর ইবনে আস, শিমার, উমর ইবনে সায়াদ, সিনান, খাওলা, আল্লাহ ও তার রাসূলকে কষ্ট দিয়েছে। আর যারা আল্লাহ ও তার রাসুল স. কে কষ্ট দিযেছে তারা অভিশপ্ত। ফলে উল্লেখিত ব্যক্তিরাও অভিশপ্ত হবে। একারণে আমাদের আহলে হাদীসদের কিছু কিছু আলেম ইয়াজীদ ও তার সমগোত্রীয়দের প্রতি অভিশাপ দেয়াকে বৈধ বলেছেন। “

এই লিংকে মূল কিতাব রয়েছে। যাচাই করে নিন।

কিছু কিছু সাহাবী ফাসিক ছিলো

আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের মতে রাসূল স. এর সমস্ত সাহাবী আদেল বা ন্যায়-পরায়ণ। তাদের কেউ ফাসিক নয়। শরীয়তে ফাসিকের কোন বক্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়। অথচ হাদীস শাস্ত্রে প্রত্যেক সাহাবীর হাদীসই গ্রহণয়োগ্য। কারণ আমাদের নিকট সমস্ত সাহাবী  ন্যায়-পরায়ণ ও সত্যের  উপর প্রতিষ্ঠিত। অথচ আহলে হাদীস আলেম ওহিদুজ্জামান তার নুজুলুল আবরার কিতাবে লিখেছে,

অর্থাৎ, পবিত্র কুরআনের আয়াত, ” যদি তোমাদের নিকট কোন ফাসিক কোন সংবাদ আনে, তাহলে তোমরা তা অনুসন্ধান করো। আযাতটি ওলীদ ইবনে উকরা সম্পর্কে অবতীণ হয়েছে। একইভাবে  আল্লাহর বাণী, যে মু’মিন সে কখনও ফাসিকের মতো হতে পারে না। এসব আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, কিছু সাহাবী ফাসিক ছিলেন। যেমন ওলীদ। একইভাবে হযরত মুয়াবিয়া, আমর ইবনে আস, মুগিরা ইবনে শু’বা ও সামুরা ইবনে জুন্দুব ফাসিক ছিলেন।

নুজুলুল আবরার, খ.৩, পৃ.৯৪

যারা আমাদের দেয়া তথ্য যাচাই করতে আগ্রহী তারা নিচের লিংক  থেকে নুজুলু আবরার দেখুন।

পরবর্তী মুসলমান সাহাবীদের থেকে উত্তম

আহলে হাদীসদের একটি বিশ্বাস হলো, সাহাবীদের পরবর্তী মুসলমানরা রাসূল স. এর সাহাবীদের থেকে উত্তম হতে পারে। সাহাবীদের যুগের পরে এমন অনেক লোক এসেছে যারা রাসূল স. এর সাহাবীদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ছিলো।

আহলে হাদীসদের বিখ্যাত আলেম ওহিদুজ্জামান হাইদ্রাবাদী লিখেছে,

অর্থাৎ পরবর্তীরা পূর্ববর্তীদের চেয়ে উত্তম হবে না, এ আলোচনা দ্বারা তা আবশ্যক হয় না। কেননা পরবর্তী অনেক আলেম আলেম ইলম,  জ্ঞান ও সুন্নতের প্রচারে সাধারণ সাহাবীদের থেকে উত্তম ছিলো। বিষয়টি কোন বুদ্ধিমান ব্যক্তিই অস্বীকার করবে না।

সূত্র: হাদইয়াতুল মাহদী, পৃ.৯০।

স্ক্রিনশট দেখুন,

যারা মূল কিতাব যাচাই করতে আগ্রহী তারা নীচের লিংক থেকে ডাউনলোড করুন। 

এই হলো তথাকথিত আহলে হাদীসদের বিশ্বাস। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের কোন আলেম একথা বলে না যে, পরবর্তী কোন আলেম সাহাবীদের থেকে উত্তম । ইসলামের ইতিহাসে শিয়ারা ব্যতীত যেহেতু অন্য কোন আলেম এই দাবী করেনি যে সে সাহাবীদের চেয়ে উত্তম তাহলে আহলে হাদীসরা কেন এই দাবী করলো? তারা আসলে কাদেরকে উত্তম বোঝাতে চেয়েছে? আহলে সুন্নতের উলামায়ে কেরাম যেহেতু সাহাবীদের সাথে অন্যদের তুলনা করাকেও পছন্দ করে না, তাহলে পরবর্তী কোন আলেমদেরকে আহলে হাদীসরা শ্রেষ্ঠ বলল? তারা কি নিজেেদের আহলে হাদীস আলেমদেরকে সাহাবীদের চেয়ে উত্তম বলতে চায়? শিয়াদের বারো ইমামকে শ্রেষ্ঠ বলার ধারণা থেকেই কি আহলে হাদীসদের এই আকিদার উদ্ভব?

সাহাবীদের সাথে পরবর্তীদের তুলনা:

আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আলেমগণ পরবর্তী কোন মুসলমানকে সাহাবীদের সাথে তুলনা করতেও  কঠোরভাবে নিষেধ করেছেন। অন্যান্য উম্মত উত্তম হওয়া তো দূরে থাক, সাহাবায়ে কেরামের ঘোড়ার ধুলির সমতুল্যও হতে পারবে না।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক রহ. এর বক্তব্য:

و قد سئل عبد الله بن المبارك ، أيهما أفضل : معاوية بن أبي سفيان ، أم عمر بن عبد العزيز ؟فقال : و الله إن الغبار الذي دخل في أنف معاوية مع رسول الله صلى الله عليه وسلم أفضل من عمر بألف مرة

অর্থ: একদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মোবারক রা. কে প্রশ্নর করা হলো, কে উত্তম? হযরত মুয়াবিয়া রা. না কি উমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ.? তিনি উত্তর দিলেন,

আল্লাহর শপথ, রাসূল স. এর সাথে চলার সময় হযরত মুয়াবিয়া রা. এর নাকে যেই ধুলো প্রবেশ করেছে, সেটি হযরত উমর ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে হাজারগুণ উত্তম। 

[ওফায়াতুল আইয়ান, খ.৩, পৃ.৩৩, ইবনে খল্লিকান, কিতাবুশ শরীয়া, খ.৫, পৃ.২৪৬৬]

মুয়াফী ইবনে ইমরান রহ. এর বক্তব্য:

و أخرج الآجري بسنده إلى الجراح الموصلي قال : سمعت رجلاً يسأل المعافى بن عمران فقال : يا أبا مسعود ؛ أين عمر بن عبد العزيز من معاوية بن أبي سفيان ؟! فرأيته غضب غضباً شديداً و قال : لا يقاس بأصحاب محمد صلى الله عليه وسلم أحد

অর্থ: ইমাম আজুররী নিজ সনদে জাররাহ আল-মু’সিলী থেকে বর্ণনা করেছে, তিনি বলেন, আমি এক ব্যক্তিকে মুয়াফী ইবনে ইমরা রহ. কে প্রশ্ন করতে দেখলাম। সে জিজ্ঞাসা করলো, হে আবু মাসউদ, উমর ইবনে আব্দুল আজিজ উত্তম না কি মুয়াবিয়া রা.? আমি তাকে দেখলাম, তিনি খুবই রাগান্বিত হয়ে গেলেন। অত:পর বললেন, রাসূল স. এর সাহাবীদের সাথে কাউকে তুলনা করা যাবে না। 

[আশ-শরীয়া, খ.৫, পৃ.২৪৬৭]

আবু উসামা রহ. এর বক্তব‍্য:

ইমাম আজুররী নিজ সনদে ইমাম আবু উসামা রহ, থেকে বর্ণনা করেছেন, তাকে একদা প্রশ্ন করা হলো,

 أيهما أفضل معاوية أو عمر بن عبد العزيز ؟فقال : أصحاب رسول الله صلى الله عليه وسلم لا يقاس بهم أحد

অর্থ: হযরত মুয়াবিয়া ও উমর ইবনে আব্দুল আজির এর মধ্যে কে উত্তম? তিনি বললেন, রাসূল স. এর সাহাবীদের সাথে অন্য কারও তুলনা করা হবে না।

[কিতাবুশ শরীয়া, খ.৫, পৃ.২৪৬৬]

আহলে হাদীস মতবাদের সাথে হক্বপন্থী আহলে সুন্নতের বক্তব্য তুলনা করুন? কী পরিমাণ শিয়াদের আকিদার দ্বারা প্রভাবিত হলে তারা এতটা সাহাবী বিদ্বেষী হতে পারে? আল্লাহ আমাদেরকে আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদার উপর অটল রাখুন এবং আহলে হাদীসসহ সকল বাতিল ফেরকা থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

ওলীরা সাহাবীদের থেকে শ্রেষ্ঠ হতে পারে

আহলে হাদীসদের বিখ্যাত আলেম ওহিদুজ্জামান হাইদ্রাবাদী তার হাদইয়াতুল মাহদী কিতাবে লিখেছে,

” বিশুদ্ধ কথা হলো, সাহাবী রাসূল স. এর সংস্পর্শের মর্যাদা অর্জন করেছেন, যা কোন ওলী অর্জন করতে পারবে না, কিন্তু কিছু কিছু ওলী আউলিয়াদের এমন কিছু মর্যাদা ও ফজীলত থাকতে পারে, যা সাহাবীর ছিলো না।”

[ হাদইয়াতুল মাহদী, পৃ.৯০]

অথচ আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের সকলেই এ বিষয়ে একমত যে সাহাবায়ে কেরাম রা. সমস্ত ওলী আওলিয়া থেকে শ্রেষ্ঠ। সাহাবাদের তুলনায় কোন ওলীই কোন দিক থেকে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করতে পারবে না।

জুমার খুতবায় খুলাফায়ে রাশেদীনের নাম নেয়া বিদয়াত:

আহলে হাদীস আলেম জনাব ওহিদুজ্জামান হাইদ্রাবাদী তার হাদইয়াতুল মাহদী কিতাবে লিখেছে, 

অর্থাৎ আহলে হাদীসরা জুমার খুতনায় খুলাফায়ে রাশেদীন ও বাদশাহর নাম নেয় না। কারণ এটি একটি বিদয়াত। রাসূল স. ও সাহাবীদের যুগ থেকে এটি বর্ণিত নয়।

রাসূল স. ও সাহাবীদের থেকে এটি বর্ণিত নেই, একথা বলে সাহাবীদের নাম নেয়াকে বিদয়াত বলে চালিয়ে দিলেন। অথচ এই ওহিদুজ্জামান সাহেবই আবার লিখেছেন, আরবী ভাষা ছাড়া অন্য ভাষায় খুতবা দেয়া জায়েয। অন্য ভাষায় খুতবা দেযা জায়েজ, এটা রাসূল স. এর কোন হাদীস বা কোন সাহাবী থেকে বর্ণিত? আর খুতবার প্রত্যেকটা শব্দ রাসূল স. ও সাহাবীদের থেকে বর্ণিত হতে হবে, এই শর্ত ওহিদুজ্জামান সাহেব কোথায় পেলেন? বাস্তবে আহলে হাদীসরাও কি রাসূল স. ও সাহাবীদের থেকে বর্ণিত শব্দের মাধ্যমেই শুধু খুতবা দেয়, না কি অতিরিক্ত কিছু বলে? তারা যদি জুমার খুতবায় সব কিছু আলোচনা করতে পারে, সেগুলো বিদয়াত হয় না, আর জুমার খুতবায় সাহাবীর নাম নিলে সেটা বিদয়াত হয়ে যায়। নাউযুবিল্লাহ। এগুলো মূলত: এদের সাহাবী বিদ্বেষেরই বহি:প্রকাশ।  আল্লাহ পাক আমাদেরকে এসব সাহাবী বিদ্বেষীদের থেকে হেফাজত করুন।

সাহাবীদের বক্তব্য দলিল নয়:

আহলে হাদীসদের প্রথম শ্রেণির আলেম মাওলানা নজীর হুসাইন দেহলভী ফতোয়ায়ে নজীরিয়াতে লিখেছে, 

অর্থ: দ্বিতীয় কথা হলো, হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে যোবায়ের রা. এর ফতোয়া যদি সহীহও, তবুও একে দলিল হিসেবে গ্রহণ করা সঠিক নয়। কেননা, সাহাবীদের বক্তব্য দলিল নয়। 

[ফতোয়ায়ে নজীরিয়া, পৃ.৩৪০]

আহলে হাদীসদের বিখ্যাত আলেম নওয়াব সিদ্দিক হাসান খান তার আরফুল জাদী কিতাবে লিখেছে,  

অর্থাৎ এ বিষয়ে বর্ণিত বক্তব্যটি হজরত জাবের রা. এর। আর সাহাবীর কথা কোন দলিল নয়।

[আরফুল জাদী, পৃ.৩৮]

হযরত আলী রা. এর সম্পর্কে নজীর হুসাইনের মতামত:

আহলে হাদীস আলেম নজীর হুসাইন দেহলভী হযরত আলী রা. এর একটি বক্তব্য সম্পর্কে লিখেছে, 

অর্থাৎ খুব ভালো করে স্মরণ রাখা উচিৎ যে,  হযরত আলী রা. এর এ বক্তব্যের মাধ্যমে জুময়া বিশুদ্ধ হওয়ার জন্য শহর হওয়ার শর্তটি কখনও প্রমাণিত হয় না।

সাহাবীদের আমল দলিল নয়:

নওয়াব সিদ্দিক হাসান তার বিখ্যাত কিতাব আত-তাজুল মুকাল্লালে লিখেছে,

অর্থাৎ সাহাবীর আমল দলিল হওযার যোগ্য নয়।

[ আত- তাজুল মুকাল্লাল, পৃ.২৯২]

সাহাবায়ে কেরামের মতামত ও বুঝ দলিল নয়:

ফতোয়ায়ে নজীরিয়াতে রয়েছে, 

অর্থাৎ মহিলাদের মসজিদে যাওয়ার বিষয়ে হযরত আয়েশা রা. বলেন, যদি রাসূল স. এর সময় এমন হতো, তাহলে রাসূল স. মহিলাদেরকে মসজিদে যেতে নিষেধ করতেন। হযরত আয়েশা রা. এর এ বক্তব্য সম্পর্কে নজীর হুসাইন দেহলবী বলেন, যদি আমরা হযরত আয়েশা রা. এর বক্তব্য মেনেও নেই, তাহলে হযরত আয়েশা  রা. এটি নিজের বুঝ থেকে বলেছেন। আর সাহাবীদের বুঝ শরীয়তের দলিল নয়। 

[ফতোয়ায়ে নজীরিয়া, খ.১, পৃ.৬২২]

হযরত উমর রা.  সম্পর্কে আহলে হাদীসদের জঘন্য বিষোদগার:

হযরত উমর রা. ছিলেন দ্বিতীয় খলিফা। রাসূল স. এর প্রিয় সাহাবী। সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী। হযরত উমর রা. এর ব্যাপারে শিয়ারা সবচেয়ে বেশি বিষোদগার করে থাকে। তারা হযরত উমর রা. এর প্রতি নিকৃষ্ট শব ব্যবহারে যেন প্রতিযোগিতা করেছে। এক্ষেত্রে আহলে হাদীস মতবাদের অনুসারীরাও কোন অংশে পিছিয়ে নেই। তারাও রীতিমত বিভিন্ন বিষয়ে হযরত উমর  রা. এর বিষোদগার করে থাকে।

হযরত উমর রা. সাধারণ সাধারণ মাসআলায় ভুল করতেন: 

আহলে হাদীস আলেম মুহাম্মাদ জুনাগড়ী একটি কিতাব লিখেছেন। কিতাবের নাম ত্বরীকে মুহাম্মাদী (রাসূল স. এর পথ)। রাসূল স. এর পথ নাম দিয়ে কিতাব লিখে রাসূল স. এর পথ থেকে মানুষকে সবচেয়ে বেশি বিচ্যুত করার চেষ্টা করেছেন। এরা নিজেদের কিতাব নাম রাসূল স. এর ফিকাহ, রাসূল স. এর পথ ইত্যাদি রেখে, রাসূল স. এর শত্রুদের ইচ্ছার বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছে। রাসূল স, এর কাছে তার সাহাবীরা ছিলেন খুবই প্রিয়ভাজন। তাদের সম্পর্কে নিকৃষ্ট শব্দ ব্যবহার কখনও রাসূল স. এর পথ হতে পারে না।  মুহাম্মাদ জুনাগড়ী তার ত্বরীকে মুহাম্মদী বইয়ে লিখেছে,

অর্থাৎ শুনে রাখো, অনেক সুস্পষ্ট ও মোটা মোটা মাসআলায় হযরত উমর রা. ভুল করেছেন। আমরা ও আপনারা এ বিষয়ে একমত যে, হযরত উমর রা. এসব মাসআলার দলিল সম্পর্কে অবগত ছিলেন না। 

[ত্বরীকে মুহাম্মাদী, পৃ.৪১]

হযরত উমর রা. সাধারণ সাধারণ মাসআলায় যদি ভুল করে থাকেন, তাহলে সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম মাসআলায় তিনি কী করেছেন? যিনি সাধারণ মাসআলার দলিলও জানে না, তিনি কঠিন মাসআলার দলিল কীভাবে জানবে? আহলে হাদীসের এ বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়, হযরত উমর রা. সারা জীবন শুধু ভুলই করেছেন। কারণ যিনি সাধারণ মাসআলায়ও ভুল থেকে বাচতে পারেন না, তিনি কঠিন কঠিন মাসআলায় ভুল করবেন এটাই স্বাভাবিক। নাউযুবিল্লাহ, ছুম্মা নাউযুবিল্লাহ। 

অথচ রাসূল স. হযরত উমর রা. সম্পর্কে বলেন, 

 إن الله جعل الحق على لسان عمر وقلبه

অর্থাৎ নিশ্চয় আল্লাহ তায়ালা হযরত উমর রা. এর জিহ্বা ও অন্তরে সত্য নিহিত রেখেছেন। 

[তিরিমিযী, হা.৩৬৮২, ইবনে হিব্বান, ৬৮৯৫, আবু দাউদ, ২৯৬২]

আল্লাহ পাক পুরো উম্মতকে সাহাবী বিদ্বেষীদের থেকে হেফাজত করুন। আমীন। 

 

Print Friendly