iDEA

islamic dawah and education academy

Month: June 2016

ইজতিহাদী মাসআলায় সঠিক অবস্থান

শরীয়তের যেসব মাসআলায় গবেষণার সুযোগ রয়েছে এগুলোকে ইজতিহাদী মাসআলা বলে। ইজতিহাদী মাসআলাগুলো নিয়েই মূলত: মতবিরোধ হয়ে থাকে। মতবিরোধপূণর্ ইজতিহাদী মাসআলার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সত‍্য কোনটি, তা বের করার তিন’টি পদ্ধতি রয়েছে।
১. আল্লাহর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সতে‍্যর ব‍্যাপারে ফয়সালা আসা। যেমন বদর যুদ্ধের বন্দীদের ব‍্যাপারে চূড়ান্ত সত‍্যটি আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের মাধ‍্যমে জানিয়ে দিয়েছেন।
২.সরাসরি রাসূল স.কে জিজ্ঞাসা করে জেনে নেয়া।
৩. মুসলিম উম্মাহের মাঝে ইজমা সংগঠিত হওয়া। কারণ রাসূল স. বলেছেন, আমার উম্মত ভ্রষ্টতার উপর একমত হবে না।

Read More

একটি কল্পিত বাস্তবতা

শায়খের মুরীদ: শায়খ অনেক পেরেশানীতে আছি!
শায়খ: কেন? কী হয়েছে?
মুরীদ: আপনি বলেছেন, মাজহাব ছেড়ে কুরআন-হাদীসের উপর আমল করতে। আমি মাজহাব ছাড়ার চেষ্টা করলেও মাজহাব আমার পিছু ছাড়ছে না। যে মাসআলায় আমল করছি, মাজহাবের ভেতরেই ঘুরপাক খাচ্ছে। কোনভাবেই মাজহাব ছাড়তে পারছি না। কোন মাসআলায় অনেক চেষ্টার পরেও যদি বের হই, তাহলে সেটা বিদয়াত হয়ে যাচ্ছে। বিদয়াত না হলেও কিছু কিছু আলেম বলছেন এগুলো ভুল। বহু চেষ্টা করে হাতটা নাভীর নীচ থেকে বুকের উপরের অংশে আনলাম। কিন্তু ড.বকর আবু যায়েদ বলে দিলেন, এটা না কি নতুন সৃষ্টি। এখন কি শায়খ মাথার উপর হাত বাধবো? বহু চেষ্টা করে পায়ের সাথে পা মিলিয়ে নামায পড়া শুরু করলাম। কিছু দিন পরে দেখালাম ইবনে বাজ ও ইবনে ইসাইমিন রহ. এর বিরোধীতা করেছেন। মাজহাব ছাড়তেও পারছি না। আবার ছাড়লেও সেটা না কি ঠিক হচ্ছে না। কী বিপদ বলুন তো শায়খ?

শায়খ: কে কী বললো, তুমি সেসব দেখো কেন? সরাসরি কুরআন-হাদীস মানো। আমরা ইবনে তাইমিয়াকেও মানি না, ইবনে বাজকেও মানি না। আমরা সরাসরি কুরআন হাদীস মানি।
মুরীদ : এই খানেই তো বিপত্তি শায়খ। কুরআনের আয়াতগুলো বিভিন্ন অথর্ রাখে। কুরু শব্দের অথর্ হায়েজ। আবার কুরু মানেই পবিত্রতা। এভাবে কুরআন থেকে মাসআলা বুঝতে গিয়েই তো মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। এসব বিষয়ে যে বই-ই পড়ছি, সেখানে এসব মাজহাবী ইমামদের কথা রয়েছে।

শায়খ: তুমি এখনোও কামেল মুজতাহিদ হতে পারোনি। পরিপূণর্ মুজতাহিদ হলে এসব সমস‍্যা থাকবে না।

মুরীদ: পরিপূণর্ মুজতাহিদ কীভাবে হবো। সমস‍্যা তো শায়খ এখানেই শেষ নয়। হাদীস মানতে গিয়ে দেখি হাদীসের কতো শ্রেণি বিভাগ। একজন একটাকে সহীহ বলছে, অপরজন সেটাকেই জয়ীফ বলছে। একজন জাল বলছে, আরেকজন কেমনে কেমনে সেটাকেই সহীহ বানিয়ে দিচ্ছে। এবার তাহলে আমাকে কামেল মুজতাহিদ হওয়ার পথ বলে দেন?

শায়খ: তোমার পছন্দ অনুযায়ী একটাকে গ্রহণ করবা। আর বলবা, এটাই একমাত্র শরীয়ত। এটাই বিশুদ্ধ। এর বাইরে যা আছে সব বাতিল। ব‍্যাস। তুমি কামেল হয়ে গেলে।
মুরীদ : অন‍্যরা যদি আমার বিরোধীতা করে?

শায়খ : করলে করুক। তুমি নিজেকে সব সময় হকের উপর মনে করবা। অত‍্যন্ত কনফিডেন্সের সাথে বলবা তোমারটাই সঠিক।
মুরীদ : ঠিক বলেছেন শায়খ। আত্মতৃপ্তি অনেক বড় গুণ। কামেল মুজতাহিদ হলে এটা অজর্িত হবে। যদিও মাজহাবীরা এখনও কামেল মুজতাহিদ হয়নি। অন‍্যদেরটাও সঠিক হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলে। তবে আমরা কিন্তু একমাত্র আমাদেরটাই সঠিক বলবো। একটু কনফিডেন্সের সাথে আমারটাই সত‍্য না বললে মানুষ তো খাবে না।

শায়খ : হুম। তাহলে তো তোমার কাছে বিষয়টা ক্লিয়ার। কুরআন হাদীস পড়বা। ইমামদের বিভিন্ন মতবিরোধ যাচাই-বাছাই করবা। এর মধে‍্য যেটা তোমার কাছে পছন্দনীয় ও শক্তিশালী মনে হয় সেটাকে একমাত্র শরীয়ত বলে চালিয়ে দিবা। কোন পেরেশানী থাকবে না। তোমার কথার বিপরীতে যদি ইবনে তাইমিয়া রহ. এর কথাও থাকে, তাহলে সাফ বলে দিবা, আমরা তো ইবনে তাইমিয়ার কালিমা পড়িনি। আমরা রাসূল স.এর কালিমা পড়েছি। কুরআন -হাদীসের বাইরে ইবনে তাইমিয়াও আমাদের দলিল নয়। একটা বিষয়ে সতকর্ থাকবা। তুমি যে কারও গবেষণাকে কুরআন হাদীস বলে চালিয়ে দিচ্ছো এটা কিন্তু ঘুনাক্ষরেও বুঝতে দিবা না। তাইলে কিন্তু শেষ। সব সময় নিজের গবেষণা ও পছন্দকে কুরআন – হাদীস মনে করবা।
মুরীদ: জাযাকাল্লাহ শায়খ। বহুত উমদা নুসখা বললেন। এখন তো নিজেকে অনেক হালকা লাগছে। বাসায় গিয়েই ইজতিহাদ শুরু করে দিবো।

শায়খ: আল্লাহ তোমার ইজতিহাদে বরকত দান করুন। বারাকাল্লাহু ফিক। তোমাদের দেখে আমার দিল ঠান্ডা হয়ে যায়। আহ। সমাজে কতো মুজতাহিদ বাড়ছে। আগের যুগে দু’একজন মুজতাহিদ ছিলো। তাও আবার কামেল না। এখন তো আমরা ঘরে ঘরে কামেল মুজতাহিদ তৈরি করছি। আর শোনো, আমার সম্পাদনায় বোখারীর নতুন অনুবাদ বেরিয়েছে। ওটা কিনে নিও। ইজতিহাদ করতে গেলে এরকম সহীহ দু’একটা অনুবাদ রাখার দরকার আছে।
মুরীদ : জি, শায়খ। আপনার তাহকীক করা সবগুলো বই আছে। ইজতিহাদে এগুলো প্রায়ই কাজে লাগে।

Read More

আল্লাহ তায়ালা স্থান ও দিক থেকে মুক্ত

ইসলামী আকিদা বিষয়ে আব্দুল হক হক্বানী রহ. এর বিখ‍্যাত একটি কিতাব রয়েছে। আকাইদুল ইসলাম। এটি ১৩০২ হিজরী সালে উদুর্তে ছাপা হয়। মাতবায়ে আনসারে দিল্লী থেকে এটি প্রকাশিত হয়। কিতাবের শুরুতে দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ. এর সংক্ষিপ্ত অভিমত রয়েছে। কিতাবটি সম্পকর্ে কাসেম নানুতুবী রহ. বলেন,

“উদুর্ ভাষায় এটি একটি অদ্বিতীয় কিতাব। আমি কিতাবের শুরু থেকে শেষ পযর্ন্ত পড়েছি। সত‍্য কথা হলো, উদুর্ ভাষায় ইতোপূবর্ে এধরণের কোন কিতাব লেখা হয়নি। বিষয় বস্তুর দিক থেকেও এধরনের কোন কিতাব প্রকাশিত হয়নি। কিতাবটি লেখকের গভীর পান্ডিত‍্যের উজ্জল সাক্ষর। প্রবাদ রয়েছে, মানুষকে তার বক্তব‍্য ও লেখনী থেকে চেনা যায়। অতিরিক্ত ভূমিকা লেখা অথর্হীন। পাঠক নিজেই দেখে নিন, কিতাবটি কতো অসাধারণ”।

Read More

সহীহ হাদীসের আলোকে ওসিলার মাধ‍্যেম দু’য়া

ওসিলা আরবী শব্দ। শাব্দিক অথর্ মাধ‍্যম। কোন কিছু অজর্নের মাধ‍্যম বা উপায়-উপকরণকে শাব্দিক অথর্ে ওসিলা বলে। পরিভাষায়, যেসব জিনিসের দ্বারা আল্লাহর নৈকট‍্য অর্জনের চেষ্টা করা হয়, তাকে ওসিলা বলে। যেমন, নামায, রোজা, নেক আমল। এগুলো আল্লাহর নৈকট‍্য অর্জনের সবচেয়ে পরিচিত ওসিলা। শাব্দিক অথর্ের বিবেচনায় আমাদের প্রয়োজন পূরণে যেসব উপায়-উপকরণ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোও ওসিলার অন্তভর্ূক্ত। যেমন, রোগ হলে ওষুধ খাওয়া। ক্ষুধা লাগলে খাবার গ্রহণ করা। ওষুধ, খাবার এগুলো জাগতিক ওসিলা।
ওসিলার আরেকটি শাব্দিক অর্থ মানজিলা। কারও অবস্থানকে মানজিলা বলা হয়। আল্লাহর কাছে রাসূল স. এর একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে। সুতরাং রাসূল স. এর এই অবস্থানের মাধ‍্যমে আল্লাহর কাছে দুয়া করাও অসিলার অন্তর্ভূক্ত হবে। আল্লাহর কাছে নৈকট‍্য অজর্নের মাধ‍্যম বা উপায় অথর্ের চেয়ে মানজিলা অথর্টি ব‍্যাপক অথর্ বহন করে। কেননা, যেসব মাধ‍্যম বা উপায়ের দ্বারা আল্লাহর কাছে দুয়া করা হয়, সেগুলোর একটি বিশেষ মানজিলা বা অবস্থান রয়েছে আল্লাহর কাছে। একারণেই মূলত: এগুলো দ্বারা ওসিলা দেয়া হচ্ছে। নামাযের মাধ‍্যেম আল্লাহর নৈকট‍্য অজর্নের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ আল্লাহর কাছে নামাযের বিশেষ মানজিলা বা অবস্থান রয়েছে। একইভাবে রাসূল স. এর ওসিলা দিয়ে দুয়া করা হচ্ছে। কারণ আল্লাহর কাছে রাসূল স. এর বিশেষ মযর্াদা ও অবস্থান রয়েছে। একইভাবে বুজুগর্দের ওসিলায় দুয়া করা হয়, কারণ বুজুগর্দের বিশেষ অবস্থান রয়েছে আল্লাহর কাছে। মোটকথা, যেসব বিষয়ে ওসিলা করা হচ্ছে, সবগুলোর মাঝেই একটা মৌলিক কারণ হচ্ছে, এগুলোর একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে মহান আল্লাহর কাছে। এজন‍্য ওসিলার শাব্দিক অথর্ থেকে এই মূল কারণটি গ্রহণ করলে সমস্ত ওসিলার ক্ষেত্রে আমাদের মৌলিক বিশ্বাস স্পষ্ট হয়।

ওসিলার ক্ষেত্রে আমাদের মূল অবস্থান

 

আমরা জানি, যে কোন নেক আমলের মাধ‍্যমে ওসিলা দেয়া জায়েজ, কারণ আমলগুলোর কারণে আল্লাহ খুশি হোন। একারণে তিনি কবুল করেন। এটাকে আরেকটু বিস্তারিত বললে এভাবে বলা যায়, যেসব জিনিস আল্লাহ পছন্দ করেন, সেগুলো দিয়ে ওসিলা করলে আল্লাহ কবুল করেন। আল্লাহর প্রিয় হওয়া বা পছন্দের কারণেই মূলত: অসিলা করা হচ্ছে। নতুবা ওসিলা করার কোন দরকার ছিলো না। সরাসরি দোয়া করলেই হতো। বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয়, যখন কোন বুজুগর্ের কাছে দুয়া চাওয়া হয়। বুজুগর্ের কাছে দুয়া চাওয়ার কারণ হলো, তিনি আল্লাহর পছন্দনীয় ও প্রিয় বান্দা। তিনি দুয়া করলে আল্লাহ কবুল করবেন। অনে‍্যর কাছে দুয়ার ক্ষেত্রে মূল যদি তার দুয়া হতো, তাহলে মানূষ চোর-ডাকাতের কাছে দুয়া চেতো। কারণ চোর ডাকাত যেই কাজ করবে, বুজুগর্ও একই কাজ করবে। কিন্তু চোর ডাকাতের কাছে না গিয়ে ভালো ও নেককার মানুষের কাছে যাওয়ার মূল কারণ হলো, সে আল্লাহর পছন্দের। একইভাবে আমলের মাধ‍্যমে দুয়ার কারণ হলো আমলগুলো আল্লাহর পছন্দের। আমাদের অবস্থান এখানে খুবই স্পষ্ট। যেসব বিষয় আল্লাহর প্রিয় ও পছন্দের সেসব বিষয়ের ওসিলা দিয়ে দোয়া করা যাবে। কারণ ওসিলার মূল উদ্দেশ‍্য হলো যে বিষয়ের ওসিলা দেয়া হচ্ছে, সেটি আল্লাহর প্রিয়। সুতরাং যেসকল বিষয় আল্লাহর প্রিয় হবে, সেটা দিয়ে আমরা ওসিলা করবো। আল্লাহর প্রিয় বিষয়টি জীব হোক, জড় হোক, কোন আমল হোক। প্রিয় হওয়ার দিক থেকে সবই সমান। এজন‍্য আমাদের কাছে জাত ও আমলের মধে‍্য কোন পাথর্ক‍্য নেই। কারণ জাতও আল্লাহর প্রিয়। আমলও আল্লাহর প্রিয়। কেউ যদি কা’বার ওসিলা দিয়ে দোয়া করে, সেটাও আমাদের কাছে পছন্দনীয়। যদিও কাবা আমল বা কোন জীব নয়। কিন্তু কা’বা আল্লাহর প্রিয় ঘর হওয়ার কারণে আমরা এর ওসিলায় দুয়া করি। এক্ষেত্রে আমরা জীবিত, মৃতেরও কোন পাথর্ক‍্য করি না। ব‍্যক্তি জীবিত থাকলেও আল্লাহর প্রিয় থাকে, মারা গেলেও আল্লাহর প্রিয় থাকে।
ওসিলা দিয়ে দু’য়া করার সময় আমাদের অন্তরে এই বিশ্বাস থাকে যে, যেসব বিষয়ের ওসিলা দিচ্ছি, সেটি আল্লাহর প্রিয়, এজন‍্যই আমরা এর ওসিলা দিচ্ছি। আমরা আমলের ক্ষেত্রে এই বিশ্বাস করি না যে, এসব আমলের নিজস্ব ক্ষমতা আছে, যার কারণে দুয়া কবুল হয়। কোন নেককার ভালো মানুষের কাছে দুয়া চাওয়ার সময় আমরা এটা মনে করি না যে, এই ব‍্যক্তির নিজস্ব ক্ষমতা কারণে দুযা কবুল হবে। বরং আমাদের অন্তরের বিশ্বাস হলো, এই ব‍্যক্তি আল্লাহর প্রিয়। প্রিয় হওয়ার কারণে তার দুয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।আরেকটা বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, আমরা যার ওসিলা দিচ্ছি, তাকে আল্লাহ, আল্লাহর সমকক্ষ বা মূতর্ি মনে করছি না। নাউযুবিল্লাহ। বরং তাকে আল্লাহর বান্দা মনে করি। তাকে শুধু আল্লাহর প্রিয় বান্দা বিশ্বাস করি। আপনার যদি দিলে আমাদের ব‍্যাপারে অন‍্য কোন ধারণা আসে, তাহলে মুমিনের ব‍্যাপারে অমূলক ধারণা থেকে বেচে থাকুন। আপনার অন্তরে যদি ওসিলা দেয়া ব‍্যক্তিকে মূতর্ি মনে হয়, তাহলে আপনি তৌবা করুন। আমাদের অন্তরে যেহেতু এগুলো আসে না, সুতরাং এজাতীয় কথা আমাদের সামনে না বলে নিজে অ‍ন‍্যায় ধারণা থেকে বাচার চেষ্টা করুন।

Read More

আকিদা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু আলোচনা

তা’বীল সম্পকর্ে…

– সালাফরা তা’বী করতেন না। এজন‍্য কোনভাবেই তা’বীল করা যাবে না।
– আপনার এই কথা শুনে আমার একটা আরবী প্রবাদ মনে পড়েছে। প্রবাদটা বলছি। আপনি আগে আমাকে তা’বীল কাকে বলে সংক্ষেপে একটু বলুন।

ক. শব্দের আক্ষরিক অথর্ না নেয়াকে তা’বীল বলে।
খ. আপনি তাহলে বলছেন, সালাফরা সকলে আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করতেন। আক্ষরিক অথর্ ছেড়ে অন‍্য কোন অথর্ নিতেন না।
ক.জি। আমি এটাই বলতে চাচ্ছি।

খ. আচ্ছা, ইয়াদ শব্দের আক্ষরিক অথর্ কী।
ক. ইয়াদ বা হাত হলো যে কোন প্রাণীর বিশেষ একটা অঙ্গ যার সাহাযে‍্য বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে। যেমন, মানুষের হাত। পিপড়ার হাত। হাতির হাত। এগুলো সব তাদের দেহের অংশ বা একটা বিশেষ অঙ্গ।

খ. সালাফরা আপনার এই আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস রাখতেন?
ক. না.. মানে..
খ. না মানে কি। আপনি তো হা বলবেন। আপনি হাতের যেই আক্ষরিক অথর্ বললেন, সেটা সালাফরা বিশ্বাস করতেন?
ক. না। সালাফরা অঙ্গ-প্রতঙ্গ অথর্ে বিশ্বাস করতেন না।

খ. তাহলে আপনি কেন সালাফদের ব‍্যাপারে বললেন, তারা আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করতেন?
ক……। তবে সালাফরা তো ইয়াদকে সিফাত বলেছেন।
খ. ইয়াদের আক্ষরিক অর্থ সিফাত বা গুণ?
ক. না।
খ. তাহলে আপনি কেন বলছেন, সালাফরা আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করতেন?
ক. তারা এটাকে সিফাত বা গুণ কেন বললেন?

খ. আপনি এই প্রশ্ন করতে পারতেন কেউ কেউ একে সিফাত কেন বলেছেন, কিনন্তু আপনি কেন দাবী করলেন, সালাফরা তা’বীল করতেন না, আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করতেন? আপনার সংজ্ঞা অনুযায়ী আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস না করা হলো তা’বীল। সালাফদের কেউ তো ইয়াদ বলে অংশ বা অঙ্গ উদ্দেশ‍্য নেয়নি। তাহলে সালাফদের কেউ ইয়াদের আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করেনি। সবাই আক্ষরিক অথর্ থেকে সরে গেছে। ফলে সবাই তা’বীল করেছে। যেহেতু আক্ষরিক অথর্ থেকে সরে যাওয়ার অথর্ই হলো তা’বীল করা। আমরা তো দেখছি, সব সালাফই তা’বীল করেছেন। অথচ আপনি বলছেন, সালাফরা তা’বীল করেননি।

ক. আচ্ছা, মেনে নিলাম সালাফরা আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করেননি। তাদের কেউ কেউ যে সিফাত বললেন?
খ. ইয়াদের আক্ষরিক অথর্ যেহেতু সিফাত বা গুণ নয়। সুতরাং কেউ যদি ইয়াদকে সিফাত বা গুণ বলে, তাহলে অবশ‍্যই বুঝতে হবে তিনি ইয়াদের তা’বীল করেছেন। কারণ আক্ষরিক অথর্ে ইয়াদ কখনও সিফাত বোঝায় না। এখন ইয়াদ বলে সিফাত উদ্দেশ‍্য নেয়ার অথর্ হলো, আক্ষরিক অথর্ থেকে সরে অন‍্য অথর্ে যাওয়া। আর এটাকেই তা’বীল বলে।
ক. আপনি বলতে চাচ্ছেন, সালাফদের কেউ কেউ যে ইয়াদকে সিফাত বলেছেন, এটাও এক ধরণের তা’বীল?

খ. অবশ‍্যই। এটা এক ধরণের তা’বীল নয়, বড় ধরণের তা’বীল। এবার আপনাকে আরবী প্রবাদটা শুনিয়ে দেই। ফাররা মিনাল মাতার ও কামা তাহতাল মিঝাব। বৃষ্টি থেকে বাচতে গিয়ে ঝরনার নীচে দাড়ানো। আপনি তো তা’বীল থেকে বাচতে গিয়ে বড় তা’বীলে চলে যাচ্ছেন।

ক. …..

Read More

আকিদা বিষয়ে সালাফে -সালেহীন ও আমাদের মৌলিক অবস্থান।

সালাফের মূল অবস্থান কী ছিলো?

আল্লাহর নাম ও গুণাবলী বিষয়ে অসাধারণ একটি কিতাব হলো ড. আয়‍্যাশ আল-কুবাইসী এর লেখা আস-সিফাতুল খাবারিয়‍্যা। এ কিতাবে তিনি সিফাতের বিষয়ে অত‍্যন্ত জ্ঞান গর্ভ আলোচনা করেছেন। যারা সিফাত বিষয়ে অধ‍্যয়ন করতে চান, তাদের প্রত্যেকের কিতাবটি পড়া উচিৎ। এ কিতাবে শায়খ আয়‍্যাশ কুবাইসী সিফাতের বিষয়ে সালাফের অবস্থান নিয়ে আলোচনা করেছেন। আলোচনার উপসংহারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা লিখেছেন। আমি তার উপসংহারের মোটামুটি অনুবাদ সাধারণ পাঠকের জন‍্য তুলে ধরছি।
“সিফাতের বিষয়ে সালাফের অবস্থান সম্পর্কে উপযুক্ত স্পষ্ট পর্যালোচনা থেকে আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে পারি যে, সিফাতের বিষয়ে সালাফে সালেহীনের সুস্পষ্ট কোন একক মাজহাব ছিলো না। কিছু ধারণা ও আলামতের উপর নিভর্র করে সিফাতের বিষয়ে সালাফদের অবস্থানের ব‍্যাখ‍্যা করা হয়। এই ধারণা ও আলমাত গুলো অকাট‍্য নয়। ফলে সালাফদের অবস্থানের বিষয়ে যেসব ব‍্যাখ‍্যা করা হয়, অনুমান নির্ভর হওয়ার কারণে সেই ব‍্যাখ‍্যাগুলো মেনে নেয়া আমাদের জন‍্য আবশ‍্যক নয়। এজন‍্য বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী আলেমগন মতবিরোধ করেছেন। পরবর্তীদের মধ্যে বিভিন্ন মাজহাব ও মতবাদ দেখা দিয়েছে। সিফাতের বিষয়ে সালাফের যদি একটিমাত্র সুস্পষ্ট মাজহাব থাকতো, তাহলে কোন মুসলিমের জন‍্য সেটার বিরোধীতা করা জায়েজ হতো না। এটা তো অকল্পনীয় যে, সালাফের একটি মাত্র সুস্পষ্ট মাজহাব থাকবে, আর মুসলিম উম্মাহর বিশাল একটা অংশের পক্ষে তাদের বিরোধীতা করা জায়েজ হয়ে যাবে।
আকিদা এমনকি ফিকহী বিষয়ে সালাফের একটিমাত্র মাজহাব ছিলো, এ ধরণের দাবী মূলত: বাস্তবতা বিবর্জিত ও ভয়ংকর। বাস্তবে এধরণের দাবী মুসলিম উম্মাহের মাঝে বিভেদের রাস্তা প্রশস্ত করেছে। বিভেদটি মুসলমানদের মধ্যে এমন ভয়ংকর দূরত্ব তৈরি করেছে যে এর উপশম কঠিন। এজন‍্য একজন আরেকজনকে পথভ্রষ্ট, বিদয়াতী এমনকি কাফের বলার বাজার গরম হয়েছে। লা হাওলা ওলা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ।
ধরুন, সিফাতের বিষয়ে সালাফে যতো কথা বলেছেন, আমরা সবগুলো একত্র করলাম। তাদের সমস্ত বক্তব‍্য একত্র করে কি আমরা একটা সুস্পষ্ট একক মাজহাব ও সিদ্ধান্তে উপনীত হতে পারবো? একটি একক মাজহাবে উপনীত হওয়া যে সম্ভব নয়, এটি প্রমাণের জন‍্য সালাফদের মতবিরোধের যে উদাহরণগুলো আমি আলোচনা করেছি, সেগুলোই যথেষ্ট।আর যারা সালাফের যুগে অবস্থান করতেন, তাদের সামনে তো সমস্ত সালাফের বক্তব‍্য সংকলিত অবস্থায় ছিলো না। কারণ তখন তারা এগুলো সংকলন, বিন‍্যাস ও লিপিবদ্ধের বিষয়ে এতটা গুরুত্ব দিতেন না। সে সময়ে তারা এগুলোর প্রতি মানুষকে আহ্বানও করতেন না আবার তাদের বক্তব্যের ব‍্যাখ‍্যাও দিতেন না।সালাফের অবস্থানের বিষয়ে আমার কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ‍্য মত হলো,সিফাতের এসব বিষয় শরীয়তের অবধারিত কোন কিছুর অন্তর্ভূক্ত নয়। (অথর্াৎ এগুলো প্রতে‍্যক মুসলিমকে অবশ‍্যই মানতে হবে, বিষয়টি এমন নয়)। তাই যদি হতো, তাহলে কি সমস্ত সাহাবী এটা জানতেন যে, আল্লাহর দু’টি হাত, আঙ্গুল, পা, পায়ের পিন্ডলী, চেহারা এবং আল্লাহর চোখ আছে? সাহাবীদের প্রতে‍্যকেই কি জানতেন যে আল্লাহ উপহাস করেন, ষড়যন্ত্র করেন, আল্লাহ তায়ালা হাসেন, উপর ওঠেন, নীচে নামেন? সাহাবীদের প্রত্যেকে কি এগুলো মুখস্থ রাখতেন, এগুলোকে দ্বীনের মৌলিক আকিদা ও দ্বীনের মৌলিক অংশ মনে করতেন? তারা কি অন‍্যদেরকে এগুলো বিশ্বাসের প্রতি দাওয়াত দিতেন? তারা কি এগুলো দিয়ে মানুষকে পরীক্ষা করতে যে, তারা প্রকৃত মুসলমান কি না? তারা কি তাদের ছেলে সন্তানদেরকে এগুলো গুরুত্ব সহকারে শিক্ষা দিতেন? তারা যদি এগুলো করে থাকেন, তাহলে এ বিষয়ে তো আমাদের কাছে তাদের একটা বর্ণনাও এলো না? তরকের খাতিরে ধরে নিলাম, একজন দু’জন সাহাবী করেছেন। (যদিও একজন দু’জন থেকেও বিষয়টি বর্ণিত নয়), তাদের সকলে কি এটি করেছেন? আপনার জন‍্য কি আদৌ এটা জায়েজ হবে যে, আপনি ইসলামের একেবারে মৌলিক কিছু আকিদা একেবারে বেমালুম ভুলে থাকবেন?এসমস্ত প্রশ্ন দিয়ে বিরামহীন সেমস্ত মস্তিষ্কে আঘাত করা উচিৎ যারা উম্মাহের দেহ খন্ড-বিখন্ড করার জন‍্য সিফাতের বিষয়গুলোকে কাচি হিসেবে ব‍্যবহার করছে। আল্লাহই একমাত্র সাহায‍্যকারী।
— আস-সিফাতুল খাবারিয়‍্যা, ড. আয়‍্যাশ আল-কুবাইসী, পৃ.৭৮ (স্ক্রিনশট দ্রষ্টব‍্য)

Read More

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA