তা’বীল সম্পকর্ে…

– সালাফরা তা’বী করতেন না। এজন‍্য কোনভাবেই তা’বীল করা যাবে না।
– আপনার এই কথা শুনে আমার একটা আরবী প্রবাদ মনে পড়েছে। প্রবাদটা বলছি। আপনি আগে আমাকে তা’বীল কাকে বলে সংক্ষেপে একটু বলুন।

ক. শব্দের আক্ষরিক অথর্ না নেয়াকে তা’বীল বলে।
খ. আপনি তাহলে বলছেন, সালাফরা সকলে আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করতেন। আক্ষরিক অথর্ ছেড়ে অন‍্য কোন অথর্ নিতেন না।
ক.জি। আমি এটাই বলতে চাচ্ছি।

খ. আচ্ছা, ইয়াদ শব্দের আক্ষরিক অথর্ কী।
ক. ইয়াদ বা হাত হলো যে কোন প্রাণীর বিশেষ একটা অঙ্গ যার সাহাযে‍্য বিভিন্ন কাজ সম্পাদন করে। যেমন, মানুষের হাত। পিপড়ার হাত। হাতির হাত। এগুলো সব তাদের দেহের অংশ বা একটা বিশেষ অঙ্গ।

খ. সালাফরা আপনার এই আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস রাখতেন?
ক. না.. মানে..
খ. না মানে কি। আপনি তো হা বলবেন। আপনি হাতের যেই আক্ষরিক অথর্ বললেন, সেটা সালাফরা বিশ্বাস করতেন?
ক. না। সালাফরা অঙ্গ-প্রতঙ্গ অথর্ে বিশ্বাস করতেন না।

খ. তাহলে আপনি কেন সালাফদের ব‍্যাপারে বললেন, তারা আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করতেন?
ক……। তবে সালাফরা তো ইয়াদকে সিফাত বলেছেন।
খ. ইয়াদের আক্ষরিক অর্থ সিফাত বা গুণ?
ক. না।
খ. তাহলে আপনি কেন বলছেন, সালাফরা আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করতেন?
ক. তারা এটাকে সিফাত বা গুণ কেন বললেন?

খ. আপনি এই প্রশ্ন করতে পারতেন কেউ কেউ একে সিফাত কেন বলেছেন, কিনন্তু আপনি কেন দাবী করলেন, সালাফরা তা’বীল করতেন না, আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করতেন? আপনার সংজ্ঞা অনুযায়ী আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস না করা হলো তা’বীল। সালাফদের কেউ তো ইয়াদ বলে অংশ বা অঙ্গ উদ্দেশ‍্য নেয়নি। তাহলে সালাফদের কেউ ইয়াদের আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করেনি। সবাই আক্ষরিক অথর্ থেকে সরে গেছে। ফলে সবাই তা’বীল করেছে। যেহেতু আক্ষরিক অথর্ থেকে সরে যাওয়ার অথর্ই হলো তা’বীল করা। আমরা তো দেখছি, সব সালাফই তা’বীল করেছেন। অথচ আপনি বলছেন, সালাফরা তা’বীল করেননি।

ক. আচ্ছা, মেনে নিলাম সালাফরা আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করেননি। তাদের কেউ কেউ যে সিফাত বললেন?
খ. ইয়াদের আক্ষরিক অথর্ যেহেতু সিফাত বা গুণ নয়। সুতরাং কেউ যদি ইয়াদকে সিফাত বা গুণ বলে, তাহলে অবশ‍্যই বুঝতে হবে তিনি ইয়াদের তা’বীল করেছেন। কারণ আক্ষরিক অথর্ে ইয়াদ কখনও সিফাত বোঝায় না। এখন ইয়াদ বলে সিফাত উদ্দেশ‍্য নেয়ার অথর্ হলো, আক্ষরিক অথর্ থেকে সরে অন‍্য অথর্ে যাওয়া। আর এটাকেই তা’বীল বলে।
ক. আপনি বলতে চাচ্ছেন, সালাফদের কেউ কেউ যে ইয়াদকে সিফাত বলেছেন, এটাও এক ধরণের তা’বীল?

খ. অবশ‍্যই। এটা এক ধরণের তা’বীল নয়, বড় ধরণের তা’বীল। এবার আপনাকে আরবী প্রবাদটা শুনিয়ে দেই। ফাররা মিনাল মাতার ও কামা তাহতাল মিঝাব। বৃষ্টি থেকে বাচতে গিয়ে ঝরনার নীচে দাড়ানো। আপনি তো তা’বীল থেকে বাচতে গিয়ে বড় তা’বীলে চলে যাচ্ছেন।

ক. …..

ক. আপনি বলেছেন, সালাফদের কেউ কেউ যে সিফাত বলেছেন, এটা বড় ধরনের তা’বীল। এটা কীভাবে বড় ধরণের তা’বীল?

খ.আপনি যখন কোন ভাষার কোন শব্দ ব‍্যবহার করবেন, তখন আপনার সামনে দু’টো অপশন থাকে। ১. আক্ষরিক অথর্ নিবেন। ২. রুপক ব‍্যবহারগুলোর যে কোন একটা নিবেন। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ সাধারণত আপনার নেই। যেমন, ইয়াদ বলে আপনি হয়তো অঙ্গ অথর্ নিবেন, নতুবা ইয়াদের যে রুপক ব‍্যবহারগুলো রয়েছে, এর কোন একটা নিবেন। যেমন, কুদরত, নেয়ামত…এরকম বিশের উপরে অথর্ আছে।

আপনি যদি এই দুই পদ্ধতি ছেড়ে তৃতীয় আরেকটা পদ্ধতি অবলম্বন করেন অথর্াৎ ইয়াদ বলে আপনি অঙ্গ উদ্দেশ‍্য নিবেন না আবার পরিচিত রুপক অথর্গুলোও নিবেন না বরং সম্পূণর্ নতুন একটা অথর্ নিবেন, তাহলে এটা হবে আপনার বড় ধরণের তা’বীল। আপনি যদি পরিচিত রুপক অথর্ নিতেন তাহলে সেটা সাধারণ পযর্ায়ের তা’বীল হতো। কিন্তু আপনি যখন পরিচিত রুপক থেকেও দূরে সরে যাবেন, তখন সেটা আর সাধারণ পযর্ায়ের তাবীল থাকবে না, বড় ধরণের তাবীল হবে।

এবার ইয়াদের উদাহরণটা দেখেন। ইয়াদ বলে আপনি অঙ্গ নিচ্ছে না। আক্ষরিক অথর্ বাদ দিলেন। আবার ইয়াদ বলে প্রচলিত রুপকও নিচ্ছেন না। যেমন, কুদরত বা নিয়ামত। তাহলে আপনি দু’টো অপশন থেকে বের হয়ে গেলেন। এখন আপনি বলছেন, ইয়াদ হলো সিফাত। আপনাকে কেউ যদি বলে, ইয়াদ যদি সিফাত হয়, তাহলে সেটাকে কুদরত বলতে অসুবিধা কী? কুদরতও সিফাত? নিয়ামতও তো সিফাত? আপনি বলছেন, না। ইয়াদ এমন সিফাত যেটা কুদরতও নয়, নিয়ামতও নয়।
তাহলে আপনি সম্পূণর্ নতুন একটা অথর্ নিয়ে আসলেন ইয়াদের। এটা আরবী ভাষায় পরিচিত না। এখন এধরণের নতুন অথর্ নেয়া বা নতুন পরিভাষা তৈরি করাই মূলত: বড় ধরণের তা’বীল। আপনি যদি আরবী ভাষার প্রচলিত অথর্গুলোর মধে‍্য থাকতেন, তাহলে সেটাকে সাধারণ পযর্ায়ের তা’বীল বলা হতো। কিন্তু আপনি যখন সেগুলো থেকে বের হয়ে নতুন উদ্দেশ‍্য তৈরি করবেন, তখন সেটা মূল থেকে অনেক দূরে সরে যাওয়ার কারণে এটাকে আমরা বড় ধরণের তা’বিল বলছি।

ক. আপনি তাহলে বলতে চাচ্ছেন, সালাফদের কেউ কেউ যখন ইয়াদকে সিফাত বলেছেন, তারা এর দ্বারা সাধারণ তাবীল থেকেও দূরে সরে বড় ধরণের তা’বীল করেছেন?

খ. এটাই বলতে চাইছি। এজন‍্য বলেছি, বৃষ্টি থেকে বাচতে গিয়ে ঝরণার নিচে গিয়ে দাড়ানোর মতো হয়েছে বিষয়টা। সাধারণ তা’বীল থেকে বাচতে গিয়ে বড় তাবীলে চলে যাচ্ছেন।

মুখে আক্ষরিক অথর্টি বলতে পারেন না…

 

তিনি বললেন, ইয়াদ এর আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করতে হবে। আবার ইয়াদ বলতে অঙ্গ-প্রতঙ্গ উদ্দেশ‍্য নেয়াও যাবে না।

আমি বললাম, ভালো কথা। তাহলে অঙ্গ-প্রতঙ্গ ছাড়া ইয়াদের সেই আক্ষরিক অথর্টা আমাকে বলেন।

তিনি বললেন, ইয়াদ অথর্ হাত।
আমি বললাম, এটা অনুবাদ হয়েছে। এক ভাষা থেকে আরেক ভাষায়। ইয়াদের মা’না বা উদ্দেশ‍্য বলা হয়নি। আর হাত বলতে আমি অঙ্গ-প্রতঙ্গ ছাড়া কিছুই বুঝি না। সুতরাং আপনি আপনার শতর্ ভঙ্গ করেছেন। ইয়াদের অথর্ অঙ্গ-প্রতঙ্গ নেয়া যাবে না বলেছেন অথচ আমাকে সেটাই নিতে বলছেন। অঙ্গ-প্রতঙ্গ ছাড়া আরবীতে ইয়াদের একটা আক্ষরিক অথর্ বলুন।

তিনি বললেন, ইয়াদ মানে ইয়াদ।

আমি বললাম, শায়খ এটা ইয়াদ শব্দকে দুই বার বলা হলো। কোন অথর্ করা হলো না।

তিনি আমতা আমতা করতে থাকলেন। দীঘর্ সময় গেলো। তিনি কিছু বলতে পারলেন না। অঙ্গ-প্রতঙ্গ হবে না আবার সেটা আক্ষরিক অথর্ হবে, তিনি এমন কোন অথর্ আমাকে বলতে পারলেন না।

এখানে এসে তাঁর অসহায় অবস্থা ছিলো দেখার মতো।

তাদের আরেকজন আমকে বলল, ইয়াদের আক্ষরিক অথর্ে নিতে হবে। কোন তা’বীল বা ব‍্যাখ‍্যা করা যাবে না। ইয়াদ হলো সিফাত বা গুণ।

আমি বললাম, ভালো কথা। ইয়াদের আক্ষরিক অথর্ে নিতে হবে। কোন ব‍্যাখ‍্যা করা যাবে না। আমাকে বলুন, পৃথিবীর কোন ভাষায় ইয়াদ আক্ষরিক অথর্ে সিফাত বা গুণ বোঝায়?
আমাকে পৃথিবীর যে কোন একটা ভাষায় আক্ষরিক অথর্ে ইয়াদ সিফাত বা গুণ বোঝায় এমন একটা উদাহরণ দেন।
তিনি চুপ করে গেলেন। আক্ষরিক অথর্ে ইয়াদ সিফাত হয় কী করে? আর ইয়াদকে সিফাত বললে সেটা আক্ষরিক অথর্ে থাকে কী করে?

এজ‍ন‍্য আমি তাদেরকে বলি, না বুঝে বিভিন্ন ইমামের উদ্ধৃতি না বলে নিজের আকিদাগুলো ভালোভাবে শিখুন। বোঝার চেষ্টা করুন। আপনি কি বিশ্বাস করছেন এবং কী দাবী করছেন। বিশ্বাস আর দাবী আদৌ মিলছে কি না। আমাদের কাছে না বুঝে হাজারটা উদ্ধৃতির চেয়ে বুঝে-শুনে একটা উদ্ধৃতিই যথেষ্ট।

আলোচনা দু’টির উপসংহার,
================
১. যিনি ইয়াদের আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করেন, তিনি আল্লাহর অঙ্গ-প্রতঙ্গে বিশ্বাস করেন। আর যদি অঙ্গ-প্রতঙ্গে বিশ্বাস না করেন, তাহলে তিনি ইয়াদের আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করেন না। আক্ষরিক অথর্ হবে আবার সেটা অঙ্গ-প্রতঙ্গ হবে না, এমনটি সম্ভব নয়।

২. ইয়াদ আক্ষরিক অথর্ে পৃথিবীর কোন ভাষায় সিফাত হয় না। যিনি ইয়াদকে সিফাত বলেন, তিনি আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করেন না। আর যদি তিনি আক্ষরিক অথর্ে বিশ্বাস করেন, তাহলে এটি কখনও সিফাত হতে পারে না। আক্ষরিক অথর্ হবে আবার সেটি সিফাত হবে, একই সাথে এটি সম্ভব নয়।

মুস্তাহাব প্রমাণে দলিল লাগে কিন্তু আকিদা প্রমাণে ….

– আমাদেরকে সালাফী হতে হবে। সালাফদেরকে পথে চলতে হবে।

– সালাফদের পথে চলার মানে কি? সালাফরা যা বলেছেন, সেটা মাথা পেতে নিতে হবে?

-হ‍্যা। সালাফরা যেটা বলেছেন, সেটা মাথা পেতে নিতে হবে। সালাফদের বুঝ অনুযায়ি চলতে হবে।

– ইমাম আবু হানিফা রহ, ইমাম মালিক, ইমাম শাফেয়ী রহ, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ, এরা কি সালাফ না কি সালাফ না?
-তারা অবশ‍্যই সালাফ।
-আপনি তাদের কথা মানেন? অথর্াৎ তাদের কেউ একটা জিনিসকে মুস্তাহাব বললে সেটা মানেন?
– তাদের কথা যদি দলিল অনুযায়ী হয়, তাহলে মানি।

– তাদের কথা দলিল অনুযায়ি হলে মানেন। তাহলে আপনার এটা বলা উচিৎ ছিলো, সালাফদের যেসব কথা দলিল ভিত্তিক, শুধু সেগুলোকে মানি।

-জি। ঠিক আমার মনের কথাটা বলেছেন। সালাফরা কোন একটা কথা বললেই আমরা মানি না। তারা যদি একটা জিনিসকে মুসতাহাবও বলেন, দলিল ছাড়া তাদের সেই কথা আমরা মানি না।

– ভালো কথা। আপনারা সালাফদের কথা কুরআন সুন্নাহর আলোকে মানেন। দলিল ছাড়া তারা একটা বিষয়কে মুস্তাহাব বললেও মানেন না। তাই তো?

-জি। এটাই আমাদের মূলনীতি।

– আমাকে তাহলে একটা প্রশ্নের উত্তর দেন। শরীয়তে মুস্তাহাব তো একটা সাধারণ বিষয়। এই সাধারণ বিষয়েও আপনি দলিল ছাড়া কোন সালাফের কথা মানেন না। ভালো। আকিদার বিষয় তো অনেক গুরুত্বপূণর্। দলিল ছাড়া সেখানে সালাফের কথা মানার কল্পনায় করা যায় না। আমাকে একটা প্রশ্নের উত্তর দিন। আপনার মতে ইয়াদ হলো আল্লাহর সিফাত। কিছু কিছু সালাফ থেকে এধরণের কথা এসেছে। আপনার কাছে যেহেতু দলিল ছাড়া শুধু সালাফদের কথা দিয়ে মুস্তাহাবও প্রমানিত হয় না, সুতরাং আপনি যে তাদের কথা মেনে নিয়েছেন এবং ইয়াদকে আল্লাহর সিফাত বলেছেন, এটার দলিল কী? কিছু কিছু সালাফ সিফাত বলেছেন। বুঝলাম। আপনি এটা মেনে নিয়েছেন। কোন দলিলের আলোকে ইয়াদকে সিফাত মেনে নিয়েছেন?

– … (বিস্তর নীরবতা)

আসহাবুল হাদীসের আকিদা…

-আমাদেরকে আসহাবুল হাদীসের আকিদায় বিশ্বাসী হতে হবে।

– আসহাবুল হাদীস কী?
– যারা হাদীস চর্চা করতেন। মুহাদ্দিস ছিলেন। আমাদেরকে তাদের আকিদা গ্রহণ করতে হবে।
– তাই? মুহাদ্দিসদের মধে‍্য বিভিন্ন স্তর দেখি। কেউ ভালো ছিলেন, কেউ মিথু‍্যক ছিলেন, কেউ দাজ্জাল ছিলেন। এরা সবাই হাদীস চর্চা করতেন। আবার অনেকে নিভর্রযোগ‍্য হওয়ার পরও শিয়া ছিলেন, কেউ কাদেরিয়া ছিলেন, কেউ আবার মুজাসসিমা ছিলেন। কেউ কেউ তো খালকে কুরআনে বিশ্বাসী ছিলেন। আমরা কোন আসহাবুল হাদীসের আকিদা নিবো?
– আমি তো আপনাকে শিয়া মুহাদ্দিসের আকিদা নিতে বলিনি?

– আপনি তো ব‍্যাপকভাবে বলেছেন আসহাবুল হাদীসের আকিদা নিতে। হাদীস যারা চর্চা করেছেন, তাদের মধে‍্য তো কতো ধরণের আকিদা ছিলো। এগুলো বিশ্লেষণ না করে আপনি ব‍্যাপকভাবে কেন বলেন, আমাদেরকে আসহাবুল হাদীসের আকিদায় বিশ্বাস করতে হবে?

– আমি মূলত: মুহাদ্দিসদের মধে‍্য যারা শিরোমণি ছিলেন, তাদের আকিদায় বিশ্বাস করতে বলছি।
– শিরোমণিদের আকিদার মধে‍্যও তো কতো মতবিরোধ হয়েছে। খালকে কুরআনের মাসআলায় ইমাম বোখারী রহ. এর সাথে তার উস্তাদের বিরোধ। এছাড়াও আরও বহু বিখ‍্যাত মুহাদ্দিস এ মাসআলায় বিরোধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। শায়খ আব্দুল্লাহ ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রহ. এর পৃথক একটা কিতাবই আছে। مسألة خلق القرآن واثرها في صفوف الرواة والمحدثين وكتب الجرح والتعديل। খলকে কুরআনের মাসআলা এবং মুহাদ্দিস, রাবী ও জারাহ-তা’দীলের কিতাবে এর প্রভাব। এটা পড়ে দেখুন। আবার অনেক বিখ‍্যাত মুহাদ্দিস ছিলেন, যারা হাদীস শাস্ত্রে বিখ‍্যাত হওয়ার পরও আকিদার ক্ষেত্রে ভ্রান্তির স্বীকার হয়েছেন। তারা নিজেরাও বিষয়টা স্বীকার করেছেন। ইবনে খোজাইমা রহ. এর কথা ধরুন। তিনি কিতাবুত তাউহীদ নামে আকিদার কিতাব লিখেছেন। এই কিতাবকে ইমাম ফখরুদ্দিন রাজী রহ. কিতাবুশ শিরক বলেছেন। বাস্তবেই এই কিতাবে বিভিন্ন ধরণের জঘন‍্য আকিদা আছে। কিতাবটি নেটে পাওয়া যায়। যে কেউ যাচাই করতে পারে।

আরেকজন মুহাদ্দিস হলেন, উসমান ইবনে সাইদ আদ-দারিমি। তিনি সুনানে দারিমির লেখক নন। তিনি হাদীস শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ হলেও তার কিতাব খুলে দেখুন। তার কিতাবে আছে, আল্লাহ চাইলে মাছির পিঠে স্থির হতে পারেন, তাহলে তিনি আরশে কেন স্থির হতে পারবেন না? এটা হলো আকিদার অবস্থা। এধরণের আরও বহু মুহাদ্দিস হাদীস শাস্ত্রে প্রসিদ্ধ হলেও আকিদার ক্ষেত্রে ভ্রান্তির স্বীকার হয়েছিলেন। আপনি তো এটা অস্বীকার করতে পারবেন না যে, অনেক মুহাম্দিস শিয়া ছিলেন। অনেক মুহাদ্দিস কাদেরিয়া ছিলেন, অনেক মুহাদ্দিস নাসেবী ছিলেন।

– আপনি আসলে কী বলতে চাচ্ছেন?

– আমি বলতে চাচ্ছি, আসহাবুল হাদীসের আকিদা নামে বিশেষ কোন আকিদা নেই। আমাদের আকিদা হলো আহলে সুন্নতের আকিদা। এই আকিদায় সবাই একমত হবেন। তিনি ফকীহ হোন, ভাষাবিদ হোন, মুফাসসির হোন কিংবা মুহাদ্দিস। মুহাদ্দিসদের আলাদা আকিদা, ফকীহদের আলাদা আকীদা, মুফাসসিরদের আলাদা আকিদা, এভাবে আসলে কোন বিভাজন নেই।

Print Friendly