ইসলামী আকিদা বিষয়ে আব্দুল হক হক্বানী রহ. এর বিখ‍্যাত একটি কিতাব রয়েছে। আকাইদুল ইসলাম। এটি ১৩০২ হিজরী সালে উদুর্তে ছাপা হয়। মাতবায়ে আনসারে দিল্লী থেকে এটি প্রকাশিত হয়। কিতাবের শুরুতে দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ. এর সংক্ষিপ্ত অভিমত রয়েছে। কিতাবটি সম্পকর্ে কাসেম নানুতুবী রহ. বলেন,

“উদুর্ ভাষায় এটি একটি অদ্বিতীয় কিতাব। আমি কিতাবের শুরু থেকে শেষ পযর্ন্ত পড়েছি। সত‍্য কথা হলো, উদুর্ ভাষায় ইতোপূবর্ে এধরণের কোন কিতাব লেখা হয়নি। বিষয় বস্তুর দিক থেকেও এধরনের কোন কিতাব প্রকাশিত হয়নি। কিতাবটি লেখকের গভীর পান্ডিত‍্যের উজ্জল সাক্ষর। প্রবাদ রয়েছে, মানুষকে তার বক্তব‍্য ও লেখনী থেকে চেনা যায়। অতিরিক্ত ভূমিকা লেখা অথর্হীন। পাঠক নিজেই দেখে নিন, কিতাবটি কতো অসাধারণ”।

উলামায়ে দেওবন্দের অনুসরণীয় ব‍্যক্তিত্ব বিখ‍্যাত মুহাদ্দিস ও সুফী আব্দুল হক হক্নী রহ. তার আকাইদুল ইসলাম -এ লিখেছেন,
অথর্: আল্লাহ তায়ালার অস্তিত্ব ও অবস্থানের জন‍্য কোন স্থানের প্রয়োজন নেই। কেননা দেহবিশিষ্ট ও স্থানিক বস্তুর জন‍্যই কেবল অবস্থানের জন‍্য জায়গার প্রয়োজন হয়। মহান আল্লাহ তায়ালা দেহ থেকে সম্পূণর্ মুক্ত ও পবিত্র। সুতরাং তিনি আসমানে থাকেন না। তিনি জমিনে অবস্থান করেন না। পূবর্-পশ্চিম কোথাও তিনি থাকেন না। বরং সমগ্র মহাবিশ্ব তাঁর নিকট একটি অণু-পরমাণুতুল‍্য। সুতরাং তিনি এই ক্ষুদ্র সৃষ্টির মাঝে কেন অবস্থান করবেন? তবে সৃষ্টির সব কিছুই আল্লাহর সামনে পূণর্
উদ্ভাসিত। কোন কিছুই তাঁর থেকে সুপ্ত বা অজ্ঞাত নয়। সকল স্থান ও জায়গা আল্লাহর নিকট সমান।
[আকাইদুল ইসলাম, আব্দুল হক হক্কানী রহ.। পৃ.৩২, প্রকাশকাল, ১৩০২ হিজরী, প্রকাশনী, মাতবায়ে আনসারে দিল্লী, ইন্টারনেটে এই সংস্করণের স্ক‍্যানিং কপি রয়েছে। ডাউনলোড লিংক:https://ia801006.us.archive.org/…/Aqaid%20ul%20Islam%20By%2…]

আব্দুল হক হক্কানী রহ. বলেন,
অথর্: আল্লাহ তায়ালা কারও সমগোত্রীয় নন। তাঁর সাথে তুলনীয় কিছুই নেই। তিনি কোন বস্তুর সাথে মিশ্রিত বা একীভূতও নন।

আল্লাহর সত্তা কোন কিছুর সাথে মিশ্রিত বা একীভূত নন, এই কথার ব‍্যাখ‍্যায় তিনি বলেন,
“ আল্লাহর সত্তার সাথে কোন কিছু একীভূত নয়। কেননা, আল্লাহর সত্তা ছাড়া সব কিছুই সৃষ্টি। আর সৃষ্টির কোন কিছু আল্লাহর সত্তার সাথে মিশ্রিত হতে পারে, এধরনের ধারণা রাখা সুস্পষ্ট ভ্রান্তি। কিছু অজ্ঞ লোক বলে থাকে, মানুষ, গাছ-পালা, পাথর সব কিছুই আল্লাহ। তাদের এধরণের বিশ্বাস সুস্পষ্ট কুফুরী। কিছু কিছু সূফী ওয়াহদাতুল উজুদের কথা বলেছেন। তাদের থেকেও একথা প্রমাণিত নয় যে, সমস্ত সৃষ্টিই আল্লাহ। কেননা এসব সূফীগণ জিদ্দাতুল উজুদের প্রবক্তা। জিদ্দাতুল উজুদের অথর্ হলো, প্রকৃত, স্বাধীন ও একচ্ছত্র অস্তিত্ব একমাত্র আল্লাহ তায়ালার। আল্লাহর দেয়া অস্তিত্বের কারণে সৃষ্টি ক্ষণস্থায়ী অস্তিত্ব লাভ করেছে। বাস্তবে সৃষ্টির অস্তিত্ব স্বাধীন ও মৌলিক নয়। সুতরাং ওয়াহদাতুল উজুদের প্রবক্তা সূফীগণ স্রষ্টা ও সৃষ্টিকে অভিন্ন বিশ্বাস করেন না। কারণ, এটি সুস্পষ্ট কুফুরী। “
[আকাইদুল ইসলাম, আব্দুল হক হক্কানী রহ.। পৃ.৩৬, প্রকাশকাল ১৩০২, প্রকাশনী, মাতবায়ে আনসারে দিল্লী]

আব্দুল হক হক্বানী রহ. আরও স্পষ্টভাষায় লিখেছেন,
অথর্: “কেউ যদি বলে, ওয়াহদাতুল উজুদের মাধ‍্যমে স্রষ্টা ও সৃষ্টি এক ও অভিন্ন হওয়া প্রমাণিত হয়, তাহলে আমরা বলব, এটি সুস্পষ্ট কুফুরী। যেই এ মতবাদের প্রবক্তা হোক, আমরা এটিকে অবশ‍্যই কুফুরী বিশ্বাস করি। আমরা পবিত্র কুরআনের উপর ইমান এনেছি। এ ব‍্যক্তি এর সম্পূণর্ বিরোধী”।
একটি জিনিস অন‍্য কিছুর মাঝে প্রবেশ ও এর সাথে মিশে যাওয়াকে পরিভাষায় হুলুল বলে। যেমন কাপড়ের সাথে কালো বা সাদা রঙ মিশে যায়। আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে সৃষ্টির মাঝে প্রবেশ ও মিশে যাওয়া অবাস্তব ও অসম্ভব। একটি বস্তু অন‍্য কিছুর মাঝে প্রবেশ করলে এটি প্রবেশকৃত বস্তুর মুখাপেক্ষী হয়। একইভাবে আল্লাহ তায়ালা যদি কোন সৃষ্টির মাঝে প্রবেশ করেন, তাহলে তিনিও উক্ত সৃষ্টির মুখাপেক্ষী হবেন। অথচ আল্লাহ তায়ালা সমস্ত সৃষ্টি থেকে সম্পূণর্ অমুখাপেক্ষী।
একইভাবে আল্লাহ তায়ালার মাঝেও কোন সৃষ্টি প্রবেশ করে না। কোন সৃষ্টি যদি আল্লাহর সত্ত্বার মাঝে প্রবেশ করতো, তাহলে তিনি নশ্বর সৃষ্টির অবস্থানের জায়গা ও ধারক হতেন। আর কোন সৃষ্টি বা নশ্বর বস্তুর ধারক বা পাত্রও একটি সৃষ্টি। আল্লাহ তায়ালা এগুলো থেকে সম্পূণর্ পবিত্র ও মুক্ত।
সুতরাং পাত্রের মাঝে যেভাবে পানি থাকে অথবা কাপড়ের সাথে রঙ মিশে থাকে, এভাবে আল্লাহ তায়ালা কোন সৃষ্টির মাঝে অনুপ্রবেশ থেকে পবিত্র। গরম পানি ঠান্ডা পানির সাথে মিশে যেভাবে একাকার হয়ে যায় অথবা বরফ গলে যেমন পানি হয়ে যায়, এভাবে কোন সৃষ্টি আল্লাহর সত্তার মাঝে প্রবেশ ও মিশে যায় না। কিছু অজ্ঞ লোক বলে থাকে, সৃষ্টি বিশেষভাবে কামেল আল্লাহর ওলী, আল্লাহর সত্তার সাথে এমনভাবে মিশে যায়, যেমন বরফ পানির সাথে মিশে যায়, অথবা একফোঁটা পানি যেমন মহাসমুদ্রের মাঝে হারিয়ে যায়। তাদের কেউ কেউ বিশ্বাস করে, আল্লাহর ওলী ও আল্লাহ এক ও অভিন্ন। কেননা, আল্লাহর ওলীরা আল্লাহর সত্তার মাঝে প্রবেশ করে একীভূত হয়ে যায়। এধরনের সকল আকিদা-বিশ্বাস সম্পূণর্ ভ্রান্ত ও সুস্পষ্ট কুফুরী।
[আকাইদুল ইসলাম, আব্দুল হক হক্বানী রহ.। পৃ.৩৬-৩৭, প্রকাশকাল, ১৩০২হিজরী, প্রকাশনী, মাতবায়ে আনসারে দিল্লী]

 

মূল বইয়ের স্ক্রিনশট:

https://scontent-sin1-1.xx.fbcdn.net/t31.0-8/s960x960/12091242_557804554368961_9014227823086391314_o.jpg

https://scontent-sin1-1.xx.fbcdn.net/t31.0-8/s960x960/12034417_557804551035628_3983121093059866901_o.jpg

https://scontent-sin1-1.xx.fbcdn.net/t31.0-8/s960x960/12140041_557804547702295_6886214123191856006_o.jpg

https://scontent-sin1-1.xx.fbcdn.net/t31.0-8/s960x960/12138400_557804541035629_8103893010996775299_o.jpg

https://scontent-sin1-1.xx.fbcdn.net/t31.0-8/s960x960/12068561_557804544368962_3728418388908020057_o.jpg

 

Print Friendly