iDEA

islamic dawah and education academy

Month: January 2017

নারীর ক্ষমতায়ন

চিন্তা করুন। দু’জন ভালো বন্ধু। একজনকে ছাড়া আরেকজন চলে না। চলতে পারে না। হঠাৎ কোন কারণে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। রেসলিং এর মতো একজন আরেকজনকে ধরাশায়ী করেছে। আরেকজনকে চেপে ধরে হুংকার ছাড়ছে।

আপনি এখানে দর্শক। দু’জনকে এ অবস্থায় দেখে আপনি কী কী করতে পারেন?

১. নীচে পড়া বন্ধুকে উপরে তুলে দিতে পারেন। যেন উপরের বন্ধুকে নীচের বন্ধু একইভাবে ধরাশায়ী করতে পারে।

২. উপরের বন্ধুকে বাহবা দিয়ে আরও কঠোর হতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন।

৩. দু’জনকে বুঝিয়ে উভয়ের মধ্যকার সমস্যার সমাধান করতে পারেন। তাদেরকে পূর্বের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে বলতে পারেন, একে অপরকে ধরাশায়ী করা তোমাদের সাজে না। তোমরা একে অপরের হাত ধরবে। বন্ধুত্বের নির্মল হাসি তোমাদের মুখে শোভা পায়।

আপনি যদি প্রথম দু’টি বেছে নেন, তাহলে উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের চলার পথ ভিন্ন হবে। উভয়ের প্রতি কল্যাণকামী ব্যক্তি অবশ্যই তৃতীয় পদ্ধতি বেছে নিবে। উভয়ের হৃদ্যতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে।

Read More

নিরপেক্ষতা ও ঘৃণার পঁচা লাশ

ঘৃণা, অহংকার ও আবেগ সঠিক মঞ্জিলে পৌছার অন্তরায় হতে পারে। এজন্য যে কোন বিষয়ে যথাসম্ভব এগুলো থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা জরুরি। নিজেকেই প্রশ্ন করতে থাকা। আমি কি এগুলোর কোনটায় আক্রান্ত?

আপনার যদি কোন বিষয়ের প্রতি পূর্ব থেকেই ঘৃণা থাকে তাহলে আপনি সহজে সঠিক সিদ্ধান্তে যেতে পারবেন। ঘৃণা আপনার চিন্তা শক্তিকে ভোতা করে দিবে।

আপনি যদি আত্ম অহংকারে ভোগেন তাহলে তো আরও মারাত্মক বিষয়। এটা সুষ্ঠু জ্ঞান চর্চার অন্যতম বাধা।

আর আবেগ যদি আপনার দাড়িপাল্লা হয়, তাহলে আপনি কখনও ইনসাফ করতে পারবেন কি না সন্দেহ। আপনার পছন্দের মত ও দলের দিকেই আপনি ঝুঁকবেন। মূল বিষয়কে এড়িয়ে যাবেন। সত্যকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। কখনও সত্যের মুখোমুখি হতে পারেবন না।

যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌছার আগে যাচাই করুন আপনার মধ্যে এসব উপসর্গ আছে কি না।

আমাদের সমাজের অনেক মডার্ণ চিন্তা-চেতনার ভাইয়েরা ইসলাম ও মুসলমানদেরকে নিয়ে কথা বলেন। চিন্তা-ভাবনা করেন। মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এদের অধিকাংশের কাছ থেকে আমরা হতাশাজনক কিছু আচরণ দেখতে পাই। যেমন,

শিক্ষা কারিকুলাম ও সামাজিকতার কারণে কলেজ ইউনিভার্সিটি পার হওয়ার আগেই একটা ধারণা তাদের মনে তৈরি হয়ে যায়। এসব মোল্লা-মৌলবীরা সেকেলে। কুপমন্ডুক । এরা আধুনিক সমাজে অপাংক্তেয়। বিভিন্নভাবে ইসলাম, মুসলমান ও হুজুরদের বিষয়ে যত্ন করে বপণ করা হয় ঘৃণার বীজ।

পরবর্তীতে যখন এই ভাইয়েরা ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে চিন্তা করেন, কথা বলেন, সেই ঘৃণার উদগীরণ হতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ঘৃণার মরা লাশ এমন দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা অসহনীয়। অকথ্য। অবর্ণনীয়। অনেক সময় এই ঘৃণাবোধ তাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে অধ্যয়ন থেকে বিমুখ রাখে।

শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, নাটক, সিনেমা, উপন্যাসেও এই ঘৃণা সুকৌশলে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। পুরো বিশ্বের মিডিয়া এ কাজে সমস্ত শক্তি নিয়োগ করেছে।

আপনি যদি সুস্থ্যভাবে চিন্তা করতে চান। ইসলাম ও মুসলমানদেরকে জানতে চান, তাহলে এই ঘৃণার জগত থেকে সামান্য বের হওয়ার চেষ্টা করুন। হয়তো ভালো কোন সিদ্ধান্তে সহজে পৌছতে পারবেন।

অহংকার জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে বড় বাধা। জ্ঞানের প্রথম শর্তই কিন্তু কারও কাছে নত হওয়া। আপনি জানেন না বা কম জানেন সেই উপলব্ধি ও বিনয় থাকা। উস্তাদের কাছে শিখছেন। নতজানু হয়ে বসছেন। এগুলো না থাকলে আপনি কিছু শিখতে পারবেন না। আপনি যদি চিন্তা করেন, আরে বাদ দাও। এসব মোল্লা-মৌলবীরা কী জানে। তাহলে আপনি মোল্লা-মৌলবীদের কাছ থেকে কিছু শিখতেও পারবেন না। নিতেও পারবেন না। এজন্য আপনার ডিগ্রি, সামাজিক স্ট্যাটাসের অহংকার থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করুন। এগুলো একেকটা কালো চশমা। যেগুলো আপনাকে সত্য ও সুন্দর থেকে পদে পদে বঞ্চিত করবে।

আমাদের অনেক ভাই রাসূল স. কে মহব্বত করেন। তাদের মহব্বত নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন ও সংশয় নেই। আশা করা যায়, এই মহব্বতের কারণে তারা সওয়াবও পাবেন। কিন্তু অতিরিক্ত মহব্বতের কারণে এমন কিছু কাজ করেন, যেগুলো শরীয়ত সমর্থন করে না। আবার অনেকে পীরের প্রতি অতিরিক্ত মহব্বত ও আবেগের কারণে শরীয়ত বিরোধী কাজ করে বসেন। আবেগ ও মহব্বত অনেক সময় তাদেরকে শরীয়তের বিধান নিয়ে চিন্তা ভাবনা থেকে বিরত রাখে।

যারা সমাজের ভালো চান, মানুষ ও মানবতার কল্যাণ নিয়ে একটু হলেও ভাবেন, তাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে। দৃষ্টিকে আরেকটু প্রসারিত করতে হবে। অহংকার, ঘৃণা ও আবেগের কালো চশমা খুলে সত্যের উন্মুক্ত চত্ত্বরে ডানা মেলে উড়তে হবে। আপনি নিজেকে পরিপূর্ণ করার সুযোগ পাবেন। সমাজকে দিতে পারবেন অকল্পনীয় কল্যাণ।

উপলব্ধি

অবসর সময় পেলে ইউটিউবে কিছু কিছু ভিডিও দেখি। বহু দিন থেকে নাস্তিকতার উপর বিভিন্ন ডিবেইট দেখি। ভালোই লাগে। বড় বড় নাস্তিকদের অধিকাংশ ডিবেইট দেখছি। অনেকগুলো অলরেডি দেখা শেষ হয়েছে।

সবার মধ্যে কয়েকটা কমন জিনিস লক্ষ্য করেছি।

১. স্রষ্টা নেই, এটা নিশ্চিতভাবে বলার মতো কোন প্রমাণ না থাকলেও বিভিন্নভাবে ঘুরিয়ে পেচিয়ে নিজের মতকে প্রমাণ করার চেষ্টা করা। এধরণের প্রচেষ্টা আমার কাছে হাস্যকর।

২. নাস্তিকতা আসলে একটা ধর্ম বিশ্বাস। অন্যান্য ধর্মের সাথে পার্থক্য এতটুকু যে, অন্যান্য ধর্মের লোকেরা নিজেদের অনেক জ্ঞানী বা পন্ডিত দাবী করে না, কিন্তু অধিকাংশ নাস্তিক নিজেকে একটু জ্ঞানী বা পন্ডিত মনে করে।

বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, নাস্তিকতার পেছনে তার এমন কোন প্রমাণ নেই যা তার অতিরিক্ত অহংকারের সহায়ক হতে পারে। ডারইউনের থিউরি, স্ট্রিং থিউরি, ইশ্বর কণা, অমুক-তমুক এগুলো দিয়ে আসলে কিছু প্রমাণিত হয় না। অন্তত স্রষ্টা না থাকর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তো নয়ই।

এসব থিউরি নাস্তিকদের টাইম পাসের একটা মাধ্যম। নাস্তিকতার আলোচনায় এসব থিউরি আমার কাছে গার্বেজ ছাড়া আর কিছুই মনে হয়নি। এগুলো দিয়ে কিছু হাই থটের কথা বলে মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে টাইম পাস ছাড়া আর তেমন কিছু হওয়ার কথা নয়।

৩. নাস্তিকতার যেই বিশ্বাস কিছু মানুষ লালন করে, সেখান থেকে আসলে পাওয়ার কিছু নেই। সমস্ত যুক্তি তর্কের উর্ধ্বে গিয়ে পরিণতিটা আমাকে ভাবতে হবে। নাস্তিকতা না আমার জীবনের কোন প্রশ্নের সমাধান দেয়। না জীবনের কোন উদ্দেশ্য বলতে পারে। না মানুষকে ভালো মন্দের বিচারে কোন গাইড করতে পারে।

যেখানে আমার পাওয়ার কিছু নেই, সেখানে আমি সময় নষ্ট করবো কেন? আজ পর্যন্ত কোন নাস্তিক কি বলতে পেরেছে এসমস্ত সৃষ্টি কোথা থেকে এলো? বিগ-ব্যাং টিগব্যাং অনেক পুরাতন বিষয়। এগুলো দিয়ে তো আর মৃল সৃষ্টির সূচনার সমাধান হয় না।

ডিবেইটগুলো দেখছি। আল-হামদুলিল্লাহ, আমার বিশ্বাসের জায়গাগুলো আরও মজবুত হচ্ছে। সত্য কথা হলো, মানুষ নাস্তিক হওয়ার পেছনে কোন প্রমাণ ও যুক্তি থাকতে পারে না।

সর্বোচ্চ এতটুকু বলতে পারে, স্রষ্টা আছে কি নেই, সেটা আমি জানি না।

কিন্তু দাম্ভিকতার সাথে স্রষ্টা নেই বলে দেয়া কপটতা ও মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়। ডিবেইটগুলো দেখার পরে এগুলো আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি। পরে হয়তো আরও বিস্তারিত লিখবো ইনশা আল্লাহ।

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA