ঘৃণা, অহংকার ও আবেগ সঠিক মঞ্জিলে পৌছার অন্তরায় হতে পারে। এজন্য যে কোন বিষয়ে যথাসম্ভব এগুলো থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা জরুরি। নিজেকেই প্রশ্ন করতে থাকা। আমি কি এগুলোর কোনটায় আক্রান্ত?

আপনার যদি কোন বিষয়ের প্রতি পূর্ব থেকেই ঘৃণা থাকে তাহলে আপনি সহজে সঠিক সিদ্ধান্তে যেতে পারবেন। ঘৃণা আপনার চিন্তা শক্তিকে ভোতা করে দিবে।

আপনি যদি আত্ম অহংকারে ভোগেন তাহলে তো আরও মারাত্মক বিষয়। এটা সুষ্ঠু জ্ঞান চর্চার অন্যতম বাধা।

আর আবেগ যদি আপনার দাড়িপাল্লা হয়, তাহলে আপনি কখনও ইনসাফ করতে পারবেন কি না সন্দেহ। আপনার পছন্দের মত ও দলের দিকেই আপনি ঝুঁকবেন। মূল বিষয়কে এড়িয়ে যাবেন। সত্যকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। কখনও সত্যের মুখোমুখি হতে পারেবন না।

যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌছার আগে যাচাই করুন আপনার মধ্যে এসব উপসর্গ আছে কি না।

আমাদের সমাজের অনেক মডার্ণ চিন্তা-চেতনার ভাইয়েরা ইসলাম ও মুসলমানদেরকে নিয়ে কথা বলেন। চিন্তা-ভাবনা করেন। মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এদের অধিকাংশের কাছ থেকে আমরা হতাশাজনক কিছু আচরণ দেখতে পাই। যেমন,

শিক্ষা কারিকুলাম ও সামাজিকতার কারণে কলেজ ইউনিভার্সিটি পার হওয়ার আগেই একটা ধারণা তাদের মনে তৈরি হয়ে যায়। এসব মোল্লা-মৌলবীরা সেকেলে। কুপমন্ডুক । এরা আধুনিক সমাজে অপাংক্তেয়। বিভিন্নভাবে ইসলাম, মুসলমান ও হুজুরদের বিষয়ে যত্ন করে বপণ করা হয় ঘৃণার বীজ।

পরবর্তীতে যখন এই ভাইয়েরা ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে চিন্তা করেন, কথা বলেন, সেই ঘৃণার উদগীরণ হতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ঘৃণার মরা লাশ এমন দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা অসহনীয়। অকথ্য। অবর্ণনীয়। অনেক সময় এই ঘৃণাবোধ তাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে অধ্যয়ন থেকে বিমুখ রাখে।

শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, নাটক, সিনেমা, উপন্যাসেও এই ঘৃণা সুকৌশলে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। পুরো বিশ্বের মিডিয়া এ কাজে সমস্ত শক্তি নিয়োগ করেছে।

আপনি যদি সুস্থ্যভাবে চিন্তা করতে চান। ইসলাম ও মুসলমানদেরকে জানতে চান, তাহলে এই ঘৃণার জগত থেকে সামান্য বের হওয়ার চেষ্টা করুন। হয়তো ভালো কোন সিদ্ধান্তে সহজে পৌছতে পারবেন।

অহংকার জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে বড় বাধা। জ্ঞানের প্রথম শর্তই কিন্তু কারও কাছে নত হওয়া। আপনি জানেন না বা কম জানেন সেই উপলব্ধি ও বিনয় থাকা। উস্তাদের কাছে শিখছেন। নতজানু হয়ে বসছেন। এগুলো না থাকলে আপনি কিছু শিখতে পারবেন না। আপনি যদি চিন্তা করেন, আরে বাদ দাও। এসব মোল্লা-মৌলবীরা কী জানে। তাহলে আপনি মোল্লা-মৌলবীদের কাছ থেকে কিছু শিখতেও পারবেন না। নিতেও পারবেন না। এজন্য আপনার ডিগ্রি, সামাজিক স্ট্যাটাসের অহংকার থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করুন। এগুলো একেকটা কালো চশমা। যেগুলো আপনাকে সত্য ও সুন্দর থেকে পদে পদে বঞ্চিত করবে।

আমাদের অনেক ভাই রাসূল স. কে মহব্বত করেন। তাদের মহব্বত নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন ও সংশয় নেই। আশা করা যায়, এই মহব্বতের কারণে তারা সওয়াবও পাবেন। কিন্তু অতিরিক্ত মহব্বতের কারণে এমন কিছু কাজ করেন, যেগুলো শরীয়ত সমর্থন করে না। আবার অনেকে পীরের প্রতি অতিরিক্ত মহব্বত ও আবেগের কারণে শরীয়ত বিরোধী কাজ করে বসেন। আবেগ ও মহব্বত অনেক সময় তাদেরকে শরীয়তের বিধান নিয়ে চিন্তা ভাবনা থেকে বিরত রাখে।

যারা সমাজের ভালো চান, মানুষ ও মানবতার কল্যাণ নিয়ে একটু হলেও ভাবেন, তাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে। দৃষ্টিকে আরেকটু প্রসারিত করতে হবে। অহংকার, ঘৃণা ও আবেগের কালো চশমা খুলে সত্যের উন্মুক্ত চত্ত্বরে ডানা মেলে উড়তে হবে। আপনি নিজেকে পরিপূর্ণ করার সুযোগ পাবেন। সমাজকে দিতে পারবেন অকল্পনীয় কল্যাণ।

Print Friendly