মৌলিক আকিদার ক্ষেত্রে আশ-আরি মাতুরিদি আকিদা এক ও অভিন্ন। এটা জানার জন্য আপনাকে উভয়ের আকিদা ভালভাবে জানতে হবে। কিছু শাব্দিক ও শাখাগত বিরোধ থাকলেও মৌলিক আকিদার ক্ষেত্রে তারা এক। উভয় আকিদা আহলে সুন্নতের আলেমগণের কাছে গ্রহণযোগ্য আকিদা ।

আপনি লিখেছেন, ফিকহ ভিন্ন হতে পারে কিন্তু আক্বীদাহ দুইটা হবে কেন? আকিদার ক্ষেত্রে সালাফিদের মাঝে অসংখ্য মতবিরোধ আছে। আকিদা বিষয় সালাফিদের মতবিরোধ সম্পর্কে আমি ১০ পরবে সংক্ষেপে আলোচনা করেছি।

এছাড়া সালফিদের আকিদা ও ফিকহের আরও ইখতেলাফ জানতে ড সায়াদ আল-বুরাইক এর আল-ইজাজ দেখুন।

আপনাকে ভালভাবে মনে রাখতে, ইসলামের মৌলিক যেসব আকিদার উপর মানুষের মুমিন ও মুসলিম হওয়া নির্ভর করে, সেগুলোতে কোন মতবিরোধ নেই। আল্লাহর হাত, পা, চোখ এগুলো ইসলামি আকিদায় পরে ঢুকান হয়েছে। এগুলো ইসলামি আকিদার অংশ নয়।

আপনি আরও লিখেছেন, // আল্লাহর সিফাত তাবিল করা হবে আর সালাফিরা চুপ থাকবে তাহলে খুশি তাই না//

১। প্রথম কথা হল, আপনারা যেগুলোকে সিফাত বা গুণ বলছেন, এগুলো গুণ হিশেবে প্রমাণিত না। হাত, পা, চোখ, এগুলো পৃথিবীর কোন ভাষায় আক্ষরিক অর্থে গুণ বুঝায় না। এগুলোকে গুণ বলা অনেক বড় ভুল।

২। কোন বিষয় আগে প্রামাণ করতে হয়, এরপর সেটা অস্বীকারের প্রশ্ন আসে। এগুলো যে আল্লাহর গুণ, আপনারা এর কোন অকাট্য ও শক্তিশালী প্রমান দিতে পারেননি। সুতরাং আগে প্রমাণ করুন, আরবি বা যে কোন ভাষায় হাত গুণ হল কি করে? আমি যদি বলি, আব্দুল্লাহর কী কী গুণ আছে ? আপনি কি বলবেন, তার হাত আছে, পা আছে, চোখ আছে? এধরনের হাস্যকর কথা বললে আপনাকে কি বলা উচিত আপনিই বলুন। যাই হোক, মূল কথা হল, হাত পা, চোখ কান এগুলো কখনও সিফাত বা গুণ বুঝায় না। আপনারে একে শরিয়ত ও আরবি ভাষার কোন প্রমাণ ছাড়া সিফাত বা গুণ বলেছেন। এটি আপনাদের স্পষ্ট ভুল।

এবার আসুন, তাবিলের বিষয়ে। আমার পোস্ট তাবিল সম্পর্কে-ই। পৃথিবীর বিখ্যাত প্রায় সব তাফসিরের কিতাবে তাবিল আছে। তাবিল ছাড়া কোনও বিখ্যাত তাফসিরের কিতাব পাওয়া দুষ্কর।

পৃথিবীর সব ঘরানার আলেমরাই তাবিল করতে বাধ্য। সালাফি, আশ-আরি সবাই তাবিল করে থাকে। আসল কথা হল, তাবিল ছাড়া ইসলামি আকিদায় বিশ্বাসী হওয়া সম্ভব নয়।

কয়েকটা উদাহরণ দেই। পরে আরও বিস্তারিত লিখব ইনশা আল্লাহ।

১। হাদিছে এসেছে, আদম সন্তান আমাকে কষ্ট দেয়। কারণ সে সময়কে গালি দেয়। আমি হলাম সময়। অন্য বর্ণনায় আছে, আল্লাহ হলেন সময়। এই হাদিসকে যদি আপনি তাবিল না করে বিশ্বাস করেন যে, সময় বা যুগ হল আল্লাহ, তাহলে আপনি কাফের হয়ে যাবেন।

২। বুখারির হাদিসে রয়েছে, বান্দা নফল ইবাদত করতে করতে আমার এতো নিকটবর্তী হয় যে, আমি তার হাত হয়ে যাই, যা দিয়ে সে ধরে, আমি তার পা হয়ে যাই, যা দিয়ে সে চলে, আমি তার কান হয়ে যাই, যা দিয়ে সে শুনে…। এই হাদিস তাবিল না করে যদি আপনি বিশ্বাস করেন যে, আল্লাহ বান্দার হাত পা হয়ে যাই, তাহলে আপনি কাফের হয়ে যাবেন ।

৩। হাদিসে এসেছে, রাসুল স বলেছেন, নিশ্চয় আমি ইয়ামান থেকে আল্লাহর শ্বাস-প্রশ্বাস পাচ্ছি। এই হাদিস থেকে তাবিল ছাড়া যদি আপনি বিশ্বাস করেন, আল্লাহর শ্বাস-প্রশ্বাস আছে, এবং তা ইয়ামান থেকে আসে, তাহলে এটি কুফরি হবে।

৪। খ্রিস্টানদের একটি বিশ্বাস হল, ঈসা হলেন আল্লাহর রুহ বা আত্মা। আমরাও ঈসা আঃ কে রুহুল্লাহ বা আল্লাহর আত্মা বলে থাকি। পবিত্র কুরআনেও এটি রয়েছে। মুফতি তাকি উসমানী হাফিঃ লিখেছেন, বর্তমানে খ্রিস্টানরা কুরআন থেকে ত্রিত্ববাদ এর প্রমাণ দিয়ে থাকে। কুরআনে তার রুহ হওয়ার কথা রয়েছে। ঈসা আঃ কে রুহুল্লাহ মুসলিমরা বলছে, খ্রিস্টানরাও বলছে। কিন্তু এই কথা বলার কারণে মুসলিমরা কাফের হচ্ছে না, কিন্তু খ্রিস্টানরা কাফের হচ্ছে। এর মূল কারণ হল, খ্রিস্টানরা এখানে তাবিল না করার কারণে কাফের হয়েছে। আর মুসলিমরা তাবিল করার কারনে মুমিন রয়েছে। খ্রিস্টানরা আক্ষরিক অর্থে ঈসা আঃ কে আল্লহার আত্মা বিশ্বাস করে, কিন্তু মুসলিমরা রূপক অর্থে ঈসা আ কে রুহুল্লাহ বা আল্লাহর আত্মা বলে থাকে।

তাবিল না করলে এভাবে অসংখ্য বিষয়ে কুফরির শিকার হতে হাবে, এ বিষয়ে আরও বিসতারিত লিখব ইনশা আল্লাহ। সেই সাথে এটাও লিখব যে পৃথিবীর সব ঘরানার আলেমরাই তাবিল করতে বাধ্য। সবাই তাবিল করেছেন। ইবনে তাইমিয়া রহঃ সহ সকল সালাফি আলেমও তাবিল করেছেন এবং তারা তাবিল করতে বাধ্য।

Print Friendly