আমার এক ছোট ভাই কুষ্টিয়া ইউনিভারসিটি তে পড়ে। সেখানে সৌদি থেকে পরা-শুনা করা এক শিক্ষক তাফসির পড়ান। নিয়ম মত শাইখ আশ-আরি মাতুরিদি আকিদা সম্পর্কে বিশদ্গার করে থাকেন। ইমাম ফখরুদ্দিন রাজী রহঃ সহ আহলে সুন্নতের বড় বড় ইমামদের সমালোচনা করেন। সিফাতের মাসলায় একমাত্র সালাফিদের আকিদা সঠিক। এগুলো তিনি তাফসীরের ক্লাসে প্রায় আলোচনা করেন।

আমি ছোট ভাইকে বললাম, আচ্ছা ধরে নিলাম সবার আকিদা ভুল। সালাফিদের আকিদা একমাত্র সঠিক। ভালো। স্যার যেহেতু তাফসির পড়ান, স্যারকে বিনয়ের সাথে জিজ্ঞেস করবে যে, স্যার, সালাফিদের এই আকিদা-বিশ্বাস পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করে লিখিত মাত্র একটা তাফসির এর কিতার এর নাম বলুন। সালাফদের যুগ থেকে বহু তাফসির লেখা হয়েছে, সালাফি আকিদা পরিপূর্ণ মেনে লিখিত একটা বিখ্যাত তাফসীরের নাম বলুন। ব্যাস।

আমার সেই ছোট ভাই স্যারকে প্রশ্ন করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, স্যার কৌশলে প্রশ্নটি এড়িয়ে গেছেন।

আমিও এমনটি ভেবেছিলাম। স্যার এড়িয়ে যাবেন। সাধারণত সালাফি শাইখরা কিছু সত্য এড়িয়ে যান।

আসুন একটা সত্যের মুখোমুখি হই। আহলে সুন্নতের লেখা বিখ্যাত তাফসির গুলো নিয়ে বসি। দেখি, পরিপূর্ণভাবে কেঊ সালাফিদের আকিদা মেনে নিয়েছেন কি না?

যেসব মুফাসসির সালাফি আকিদা ফলো করেনি, তাদেরকে বাতিল ঘোষণা দিয়ে উম্মতকে সতর্ক করা আমাদের সালাফি ভাইদের একটা নৈতিক দায়িত্ব মনে করি।

আমার জানা মতে, বিখ্যাত তাফসিরবিদগণ কেউ পরিপূর্ণভাবে সালাফিদের আকিদা ফলো করেনি। সালাফি ভাইদের উচিত, বিষয়টা উম্মতের সামনে আনা এবং এসব মুফাসসিরের আকিদা সম্পর্কে স্পষ্ট ফয়সালা দেওয়া। যেমন তারা আহলে সুন্নতের অন্যান্য আলেমদেরকে বাতিল বলে প্রচার করে থাকে, একইভাবে এসব মুফাসসির ও তাদের তাফসির সম্পর্কে স্পষ্ট ফয়সালা দেওয়া উচিত।

Print Friendly