আমার লেখার উদ্দেশ্য কখনও এটা নয় যে, দেওবন্দীরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাবে। অন্য কোন দল বা মতের সাথে চলতে পারবে না। আমার লেখার উদ্দেশ্য হল, মূল ধারার আহলে সুন্নতের সম্মিলিতভাবে স্বীকৃত আকাইদ ও উছুল থেকে অনেক বিচ্যুতি আসছে। অনেকে সালাফিদের বাড়াবাড়িকে হক মনে করছে। এই বিষয়ে আহলে সুন্নতের আলেমদের আরও আন্তরিক হওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে ইবনে তাইমিয়া রহঃ ও শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদির বিচ্ছিন্ন মতামত ও আকিদাকে আসল ইসলাম হিসেবে পেশ করা হচ্ছে। আমি দেওবন্দিসহ মূল ধারার আহলে সুন্নতের আলেমদের কাছে আশা করি, তারা এই বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করবে। কাউকে সম্মান ও ইজ্জত করা এক বিষয়। আর কারও বিচ্ছিন্ন চিন্তা-চেতনাকে উম্মতের সামনে পেশ করা ও তার চর্চা করা ভিন্ন বিষয়। যেহেতু বর্তমানে তাদের বিচ্ছিন্ন চিন্তা-চেতনা চর্চা হচ্ছে, এই জন্য আমি বিষয়গুলোতে কলম ধরেছি।

সহজ একটা উদাহরণ দেই। ইবনে তাইমিয়া রহঃ তিন তালাককে ১ তালাক বলতেন। এখন কিছু লোক তার এই বিচ্ছিন্ন ফাতওয়া প্রচার করছে। আমি মনে করি, ইবনে তাইমিয়া রহঃ কে সম্মান করার পরেও তার এই বিচ্ছিন্ন ফাতওয়ার বিপরীতে আহলে সুন্নতের ইজমায়ী ফাতওয়া প্রচার করা জরুরি। এই রকম প্রত্যেকটা বিচ্ছিন্ন মতের বিপরীতে আহলে সুন্নতের উলামাদের জামাতের চিন্তা ধারাকে সামনে আনা জরুরি।

যেখানেই বিচ্ছিন্ন মতের চর্চা সেখানে সঠিকটা তুলে ধরা আলেমদের দায়িত্ব। শুনেছি, হিন্দুস্তানে কেউ কেউ হিন্দুদেরকে কাফের বলতে নারাজ। তারা যে ঘরানার-ই হোন, তাদের এই বিচ্ছিন্ন মতকে খণ্ডন করা জরুরি। কিছু দিন আগে মিশরে খ্রিষ্টানদেরকে কাফের বলা নিয়ে তুল-কালাম শুরু হয়। আহলে হক আলেমগণ এর শক্ত প্রতিবাদ করেছেন।

আমাদের দেশে অনেকে আল্লাহ তায়ালার ক্ষেত্রে বলে, তিনি সর্বত্র বিরাজমান। আমি শুরু থেকেই বলে আসছি, এই কথা দিয়ে কেউ যদি উদ্দেশ্য নেয় আল্লাহ তায়ালা সব কিছুর মধ্যেই আছেন, তাহলে এটি গলদ আকিদা। একইভাবে সালাফিরা আল্লাহ আরশে আছেন, এই আকিদা প্রচার করছে। এই আকিদাও গলদ। আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত আল্লাহ তায়ালাকে স্থান ও দিক থেকে মুক্ত বিশ্বাস করে।

মোট কথা, যেখানেই বিচ্ছিন্ন চিন্তা-চেতনার চর্চা হবে, আলেম হিসেবে আপনার দায়িত্ব সে বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করা। বিষয়টি যে ঘরানা থেকেই আসুক না কেন।

এক সাথে চলার জন্য বিষয়গুলোকে অন্তরে না রেখে খোলাখুলি আলোচনা হওয়া আরও জরুরি। সালাফি শাইখগণ যদি আমাদেরকে কাফের-মুশরিক মনে করেন, এরপর এক টেবিলে বসে মুচকি হাসেন, তাহলে মুচকি হাসার সুন্নত আদায় হলেও মুসলমানকে মহব্বত করার ফরজ কখনও আদায় হবে না।

Print Friendly