iDEA

islamic dawah and education academy

Month: June 2017 (Page 2 of 2)

তাকফির ও শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদি

১। অনেকের মত আমিও বিশ্বাস করতাম শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদি একজন সংস্কারক ছিলেন। এখনও অনেক কওমি আলেম এই বিশ্বাস রাখেন। দেওবন্দি আলেমদের মধ্যে তার পক্ষে বিপক্ষে দু’ধরণের বক্তব্য আছে। মাওলানা মনজুর নুমানি রহঃ তার বিপক্ষের বক্তব্যগুলোর কিছু কিছু জওয়াব দিয়েছেন।

কারও ব্যাপারে যখন ভালো মন্দ দু ধরণের মতামত থাকে, তখন আমি কারও বক্তব্যকেই মূল হিসেবে বিবেচনা করি না । যারা প্রশংসা করেছেন, তাদের কথা চোখ বুজে মেনে নেইনি। আবার যারা বিরোধিতা করেছেন, তাদের কথাগুলোও মাথা পেতে মেনে নেইনি।

 

আমি শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদির নিজের লেখা কিতাবগুলো দেখা শুরু করি। তার লেখা কিতাব পড়তে গিয়ে বারবার হোঁচট খেতে থাকি। তার তাকফিরি চিন্তা-চেতনা দেখে যার পর নাই অবাক হতে থাকি।

এরপর আমি হুসাইন ইবন গান্নামের روضة الأفكار والأفهام لمرتاد حال الإمام وتعداد غزوات ذوي الإسلام কিতাবটি পড়া শুরু করি। কিতাবটি তারিখে নজদ নামে পরিচিত। কিতাবের নাম থেকেই আপনি বুঝতে পারছেন, ভেতরে কী আছে। এই কিতাবে এসে আমি শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদি এর তাকফিরি চিন্তা-চেতনাগুলোর বাস্তব প্রয়োগ দেখতে পাই। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলমানদেরকে কাফের বলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। মুসলমানদের রক্ত ও সম্পদ হালাল করেছেন তাকফির করে। মুসলমানদের সম্পদকে গনিমত বানিয়েছেন তাদেরকে মুশরিক ফাতাওয়া দিয়ে। এই কিতাবে এর বিস্তারিত ইতিহাস পাবেন। কিতাবের লিঙ্ক আমি কমেন্টে দিয়ে দিব।

আস্তে আস্তে বিষয়গুলো দিনের আলোর মত স্পষ্ট হতে থাকে। পরবর্তিতে আমার জন্য শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদিকে একজন দ্বীনের সংস্কারক বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। শাইখের নিজের কিতাবে যেই তাকফিরি চিন্তা-চেতনা দেখেছি, সেটাকে বাদ দিয়ে শুধু অন্যদের প্রশংসাবাণীর উপর নির্ভর করাটা বেশ কঠিন।

বিষয়টা যদি শুধু মৌখিক ফতওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে এর একটা ব্যাখ্যা দাড় করান যেত। তিনি ওই ফাতওয়াগুলোর উপর আমল করে যুদ্ধ করেছেন, মুসলমানদেরকে রক্ত ও সম্পদ হালাল করেছেন, এই জন্য তার ফাতওয়াগুলোর তাবিল করা সম্ভব হয়নি। ফলে আমি শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদির ব্যাপারে আমার বিশ্বাস ও অবস্থান পরিবর্তন করি। সব শেষে আমি তার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে উপনীত হই,

১। তিনি একজন তাকফিরি ছিলেন।
২। তিনি শুধু মুখে তাকফিরি ফাতওয়া দিয়ে ক্ষান্ত হননি, মুসলমানদের রক্তপাতের মাধ্যমে সেগুলো বাস্তবায়ন করেছেন।

শাইখের বিষয়ে এখনও আমি এই বিশ্বাস রাখি। এর বিপরীতে যদি যথেষ্ট দলিল পাই, তাহলে ভিন্ন বিষয় বিবেচনা করব ইনশা আল্লাহ।

২। শাইখ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদির ইতিহাস পড়তে গিয়ে সৌদি রাজ বংশের কালো অধ্যায় সামনে আসে। তাদের রক্তপাত ও খুন-খারাবির নোংরা ইতিহাস পড়ে তাদের প্রতি কোন ধরণের ভক্তি অবশিষ্ট নেই। এদেরকে আমি কখনও ইসলামের খাদেম বিশ্বাস করতে পারিনি।

যারা বিষয়গুলো নিয়ে ভাবেন, এদের ইতিহাস পড়ে দেখার অনুরোধ রইল।

তাবিল কেন জরুরি

মৌলিক আকিদার ক্ষেত্রে আশ-আরি মাতুরিদি আকিদা এক ও অভিন্ন। এটা জানার জন্য আপনাকে উভয়ের আকিদা ভালভাবে জানতে হবে। কিছু শাব্দিক ও শাখাগত বিরোধ থাকলেও মৌলিক আকিদার ক্ষেত্রে তারা এক। উভয় আকিদা আহলে সুন্নতের আলেমগণের কাছে গ্রহণযোগ্য আকিদা ।

আপনি লিখেছেন, ফিকহ ভিন্ন হতে পারে কিন্তু আক্বীদাহ দুইটা হবে কেন? আকিদার ক্ষেত্রে সালাফিদের মাঝে অসংখ্য মতবিরোধ আছে। আকিদা বিষয় সালাফিদের মতবিরোধ সম্পর্কে আমি ১০ পরবে সংক্ষেপে আলোচনা করেছি।

এছাড়া সালফিদের আকিদা ও ফিকহের আরও ইখতেলাফ জানতে ড সায়াদ আল-বুরাইক এর আল-ইজাজ দেখুন।

আপনাকে ভালভাবে মনে রাখতে, ইসলামের মৌলিক যেসব আকিদার উপর মানুষের মুমিন ও মুসলিম হওয়া নির্ভর করে, সেগুলোতে কোন মতবিরোধ নেই। আল্লাহর হাত, পা, চোখ এগুলো ইসলামি আকিদায় পরে ঢুকান হয়েছে। এগুলো ইসলামি আকিদার অংশ নয়।

Read More

Page 2 of 2

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA