– অধমের ক্ষুদ্র পর্যবেক্ষণে এর বেশ কিছু কারণ চোখে পড়েছে। নীচে এর কয়েকটি উল্লেখ করছি।

১। তাকফিরের বৈধতা অর্জন। মুসলমানদেরকে কাফির বলার অন্যতম দলিল হলেন শায়খ মুহাম্মাদ ইবনে নজদী। কিছু ক্ষেত্রে তারা ইবনে তাইমিয়া রহ: কেও দলিল বানিয়ে থাকে। তাকফিরের চিন্তা-চেতনার ক্ষেত্রে শায়খ নজদীর বিরাট ভূমিকা রয়েছে।

২। তাকফিরের উপর ভিত্তি করে অস্ত্রধারণের বৈধতা। এটাও তারা শায়খ নজদীর দাওয়াত ও বাস্তব আমল থেকে নিয়ে থাকে। শায়খ নজদী তাকফির করে অস্ত্রধারণ করেছিলেন। মানহাজী ভাইদেরকে তার এই আমলটিও প্রভাবিত করে।

৩। প্রচলিত রাষ্ট্র ও সরকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণ। উসমানী খিলাফতের বিশাল সম্রাজ্য থাকার পরেও শায়খ নজদী মুহাম্মাদ বিন সউদকে সাথে নিয়ে পৃথক একটি রাষ্ট্রের গোড়াপত্তন করেন। ইতিপূর্বে মুসলিম শাসকদের মধ্যে যারা আঞ্চলিক ক্ষমতা অর্জন করেন, তারা কেন্দ্রীয় খলিফার হাতে বাইয়াত দিতেন। এই ধারাবাহিকতা মোটামুটি সবাই রক্ষা করেছেন। শায়খ নজদী মৌলিকভাবে এই নীতির বিরুদ্ধে গিয়ে স্বতন্ত্র একটি রাষ্টের সূচনা করেন। উসমানীদের প্রতি আনুগত্য তো দূরে থাক, উল্টো তাদেরকে তাকফির করা হয়। পরিণতিতে উসমানীদের বিরুদ্ধে অস্ত্রধারণও অবশ্যম্ভাবী হয়ে ওঠে। ফলে ইতিহাস থেকে আমরা দেখি, শায়খের ইন্তিকালের অল্প কিছু দিনের মধ্যে আলে – সৌদ উসমানীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়।

৪। শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওহাবের চিন্তা – চেতনার একটা বড় অংশ তার নিজস্ব গবেষণা ও ইবনে তাইমিয়া রহ: এর চিন্তা-চেতনা থেকে নেয়া। এক্ষেত্রে শায়খ নজদী জমহুর আহলে সুন্নতের ধারা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। মূলধারার বড় বড় আলিমদের গবেষণা ও ইজতিহাদের প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করার মানসিকতা আমরা শায়খের বক্তব্য ও আমলে দেখতে পাই। পুরো নজদী চিন্তা ধারা ইবনে তাইমিয়া রহ: ও শায়খ নজদীর চিন্তাধারার মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এমনকি হাম্বলী মাজহাবের অন্যান্য আলেমও গৌণ বিবেচিত হতে থাকেন। পুরো ইসলামকে ব্যাখ্যার জন্য জমহুর আলিমদের বিপরীতে শায়খ নজদী ও ইবনে তাইমিয়া রহ: এর বক্তব্যকে মুখ্য বিবেচনা করা হয়। তাদের বক্তব্যকে দাড়িপাল্লা বানিয়ে অন্য সবাইকে পরিমাপ করা হয়। এভাবে জমহুর থেকে ইসলামী চিন্তা-চেন্তাকে বিকেন্দ্রীকরণ করা হয়।

শায়খের ভাবধারায় প্রভাবিত মানহাজীদের মধ্যেও এই চিন্তার বিকেন্দ্রীকরণ দেখতে পাবেন। আমি মনে করি, চিন্তার এই বিচ্ছিন্নতা সবচেয়ে ভয়ঙ্কর।

Print Friendly