iDEA

islamic dawah and education academy

Month: March 2019

তাল নয় তিল

জীবনে পরিমিতিবোধ অর্জন করতে বহু কাঠ-খড় পোড়াতে হয়। সোহবত, দোয়া ও তলব থাকতে হয়। এরপরই আল্লাহ তায়ালা দ্বীনের সঠিক বুঝ দান করেন। সেই বুঝই মুমিনের জীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যাকে পরিভাষায় বলে তাফাক্কুহ ফিদদীন। এটা না থাকলে অন্য সবকিছুই ঝুঁকির মধ্যে থাকে। যোগ্যতা মাপকাঠি নয়। যোগ্যতা ধারণ করার মতো বুঝ থাকাটাই আসল।

তাফাক্কুহ যদি না থাকে, সমূহ সম্ভাবনা আছে আপনি তিলকে তাল বানাবেন। অপ্রয়োজনীয় বিষয়ে জীবন ব্যয় করবেন। অথচ এগুলো থেকে মুক্ত থাকতে পারলে আমার জীবন হয়ত ভিন্ন মাত্রা পেত। নীচে আমরা এরকম কিছু বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা করছি। যেগুলোকে আমরা তাল মনে করে জীবনের মূল্যবান সময় ব্যয় করতে পারি। কিন্তু বাস্তবে সেগুলো আমার জীবনে এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

Read More

উন্নত মম শির

১। আমরা সবাই চাই সমাজের শিক্ষিত, উচ্চবিত্ত ও প্রভাবশালী লোকগুলো দ্বীনদার হয়ে যাক। তাদের মাধ্যমে ইসলামের কল্যাণেরও সম্ভাবনা থাকে। 
এজন্য সমাজের এলিট শ্রেণির কাছে দাওয়াতের ব্যাপারে আমাদের বেশ আগ্রহ থাকে।

তাদেরকে দাওয়াত দেয়া ও দ্বীনের পথে আনার চেষ্টা অবশ্যই দ্বীনের একটি মহান খেদমত। কিন্তু এক্ষেত্রে আমাদের নিজস্ব সীমাবদ্ধতার কারণে কিছু বিপত্তি ঘটে। বিপত্তিগুলো কোথাও লঘু। কোথাও ঘোরতর। ধরুন, তাদেরকে কাছে টানার জন্য একটু উদার হলাম। দ্বীনের কিছু বিধি-বিধানে একটু শিথিল হলাম। যেমন,

Read More

নারী ও নারী দিবস

নারীবাদের ব্যাপক চর্চা সত্ত্বেও একটা সত্য আমাদের স্বীকার করতে হবে। সত্যটা আমাদের সমাজের একেবারে মূলে প্রোথিত। সহজেই এর মূলোৎপাটন সম্ভব নয়। আর সে আশাও সুদূর পরাহত মনে হয়।

তিক্ত হলেও সত্য, তথাকথিত নারীবাদ পুরুষদেরকে একটুও নাড়া দেয়নি। দিলেও খুব সামান্য। দৃষ্টিগ্রাহ্য হওয়ার মত না। নারীরা ঠিকই নারীবাদের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু বিপরীত মেরুর পুরুষদের সাথে এই নারীবাদের কোন বোঝাপড়া নেই। পুরুষরা সেই আগের মতই আছে।

এর পেছনে পুরুষদের স্বার্থপর মানসিকতা দায়ী নাকি নারীবাদের শ্লোগানটাই আমাদের প্রকৃতি বিরুদ্ধ, সেই বিতর্কে এখন যেতে চাচ্ছি না। সমস্যা আসলে দু’দিকেই। সহযোগিতার চেয়ে প্রতিযোগিতার মানসিকতা এখানে মুখ্য। মূল সমস্যা এখানেই।

Read More

আকাবির মান্যতা

সর্বপ্রথম আমাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়, আকাবিরগণ কি মা’সুম (ভুলের উর্ধ্বে) ছিলেন? এর উত্তর হল, অবশ্যই না। অমুক আকাবির এই এই বিষয়ে ভুল করেছেন।অমুক আরও বেশি কিছু বিষয়ে ভুল করেছেন। খোঁজ নিয়ে দেখা গেল সেই অমুক আকাবির আসলেই ভুল করেছেন। তাহলে প্রমাণিত হয়ে গেল, আকাবিররা মা’সুম না। তাদের ভুল হয় বা হয়েছে।

আকাবির যেহেতু ভুলের উর্ধ্বে না, তাহল আমাদের কী করণীয়?

আকাবিরদের যেহেতু ভুলের সম্ভাবনা আছে, এজন্য আকিবিরদের কথা আমরা কুরআন-সুন্নাহর দলিলের আলোকে মানব। কুরআন-সুন্নাহর দলিলের আলোকে যদি আকাবিরদের কথা ঠিক হয়, তাহলে মানব, নতুবা মানব না।

এই পর্যন্ত কথাগুলো যে কারও কাছে একেবারে টাটকা মজবুত মনে হবে।

একটু অপেক্ষা করুন। আমরা কথাগুলো একটু বিশ্নেষণ করতে চাই।

Read More

আদাবুল জিহাদ

ফাজাইলে জিহাদের পাশাপাশি আমাদের মাঝে আাদাবুল জিহাদের প্রয়োজনীয়তাকে সামনে রেখে শিরোনাম নির্বাচন করা হয়েছে। একটা ঘটনা দিয়ে শুরু করি। আমি তখন কাফিয়া জামাতে পড়ি। জযবাতি কথা তখন খুব আগ্রহ ভরে শুনতাম। সেসম সব দিকে জসিমুদ্দীন রহমানী সাহেবের আলোচনাগুলো বেশ জনপ্রিয়। এগুলো নিয়ে বিভিন্ন সময় আলোচনা হতো। সহপাঠীদের কয়েকজন তার ভক্তও ছিল। তাদের একজনের সাথে মাঝেই মাঝেই বিভিন্ন বিষয়ে আলাপ হতো। গুরুত্বের সাথে তাদের কথা শুনতাম।

একদিন তাকে বললাম, আগামী শুক্রবার রহমানী সাহেবের ওখানে জুমআ পড়ব। আমি তখন সবেমাত্র ঢাকায় এসেছি। একেবারেই ইয়াং। জুমআর দিন আগে আগে হাতেমবাগ মসজিদে গেলাম। মেম্বারের কাছাকাছি বসার চেষ্টা করলাম।

Read More

একজন আলিমের উপাখ্যান

উম্মত হাজারও সমস্যায় জর্জরিত। সেই সমস্যাগুলো ছড়িয়ে আছে চারদিকে। সমাজে। জীবনে। বিশ্বাসে।বিশ্বাসের প্রতিফলনে।

আলিমরা সেগুলো দেখে। একটু-আধটু সংশোধনের চেষ্টা করে। কিছু সত্য কষ্টের হয়। আমাদের ভাইয়েরা আহত হোন। সেটা দেখেও ব্যথিত হোন। মু’মিনকে কষ্ট দেয়া যে অন্যায়।

ডাক্তার জানে। রুগীর কষ্ট হবে। ব্যথা পাবে। রক্তক্ষরণ হবে। এরপরও ডাক্তার কাঁচি চালায়। একটা মহৎ উদ্দেশ্যে। যদি জীবনটা বেঁচে যায়।আলিমও ভাবে। যদি ইমানটা বেঁচে যায়। সে জানে। উম্মত কষ্ট পাবে। ব্যথিত হবে। উম্মতের ব্যথায় নিজেও ব্যথিত হয়। ছটফট করে। নির্ঘুম রাত কাটে। এরপরও সে হাল ছাড়ে না।

সে শুধু সিরাত পড়ে না। সিরাতকে আলিঙ্গন করে। নবীজির গভীর রাতের কান্না শুধু বইয়ের পাতায় থাকে না। সে জানে। এই কান্নার উত্তরাধিকারও সে। সংসারে অভাব। সে ভাবে। এটাও আমার মিরাস। মাহবুবে দোজাহান তো এমনই ছিলেন।

গালি আসে। আসে উপহাস ও তাচ্ছিল্য। সে ভাবে। গালি শোনাও মাহবুবে ইলাহীর মিরাস। পেছনে ফিরে যায়। হাজার বছর। মক্কার অলি-গলিতে। তায়েফের তপ্ত রোদে। সে ভাবে। হয়ত কোন একদিন এরাও হেদায়াত পাবে।

মানুষের বয়স বাড়ে। বুড়ো হয়। অবসরে যায়। আরাম-আয়েশ করে। আলিম যেন বুড়ো হয় না। তার বয়স বাড়ে। দায়িত্ব বাড়ে। উম্মতের ব্যথাও বাড়ে। আওয়াজ ক্ষীণ হয়। হাড়গুলো খটখট করে। এরপরও তার বিরাম নেই। বিশ্রাম নেই। পথচলা থেমে নেই। কখনও হুইল চেয়ারে। কখনও কাঁধে ভর করে। শেষ শক্তিটুকু উম্মতকে দিতে চান। ভাবেন, মুহাম্মাদে আরাবীর পূর্ণ অনুকরণ কী হল?

বুড়োদেরকে কেউ ভয় করে না। সবার কাছে অপাংক্তেয়। বুড়ো সিংহকে শিয়ালও ধাওয়া করে। বুড়ো আলিম সিংহকে ছাড়িয়ে যায়। তার আধিপত্যে শত্রুর বুকে কাঁপন ধরে। শয়তানী রাজ্য থরথর করে। কাপুরুষেরা এগিয়ে আসে। চোরের মত। কখনও ছুরি চালায়। কখনও গুলি। বুড়ো সিংহের শেষ রক্তটুকুও বৃথা যায় না। উম্মতের শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পড়ে। চেয়ে 
দ্যাখ কাপুরুষের দল। শেষ রক্তফোঁটা উম্মতের শিরায় কীভাবে টগবগ করছে।

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA