উম্মত হাজারও সমস্যায় জর্জরিত। সেই সমস্যাগুলো ছড়িয়ে আছে চারদিকে। সমাজে। জীবনে। বিশ্বাসে।বিশ্বাসের প্রতিফলনে।

আলিমরা সেগুলো দেখে। একটু-আধটু সংশোধনের চেষ্টা করে। কিছু সত্য কষ্টের হয়। আমাদের ভাইয়েরা আহত হোন। সেটা দেখেও ব্যথিত হোন। মু’মিনকে কষ্ট দেয়া যে অন্যায়।

ডাক্তার জানে। রুগীর কষ্ট হবে। ব্যথা পাবে। রক্তক্ষরণ হবে। এরপরও ডাক্তার কাঁচি চালায়। একটা মহৎ উদ্দেশ্যে। যদি জীবনটা বেঁচে যায়।আলিমও ভাবে। যদি ইমানটা বেঁচে যায়। সে জানে। উম্মত কষ্ট পাবে। ব্যথিত হবে। উম্মতের ব্যথায় নিজেও ব্যথিত হয়। ছটফট করে। নির্ঘুম রাত কাটে। এরপরও সে হাল ছাড়ে না।

সে শুধু সিরাত পড়ে না। সিরাতকে আলিঙ্গন করে। নবীজির গভীর রাতের কান্না শুধু বইয়ের পাতায় থাকে না। সে জানে। এই কান্নার উত্তরাধিকারও সে। সংসারে অভাব। সে ভাবে। এটাও আমার মিরাস। মাহবুবে দোজাহান তো এমনই ছিলেন।

গালি আসে। আসে উপহাস ও তাচ্ছিল্য। সে ভাবে। গালি শোনাও মাহবুবে ইলাহীর মিরাস। পেছনে ফিরে যায়। হাজার বছর। মক্কার অলি-গলিতে। তায়েফের তপ্ত রোদে। সে ভাবে। হয়ত কোন একদিন এরাও হেদায়াত পাবে।

মানুষের বয়স বাড়ে। বুড়ো হয়। অবসরে যায়। আরাম-আয়েশ করে। আলিম যেন বুড়ো হয় না। তার বয়স বাড়ে। দায়িত্ব বাড়ে। উম্মতের ব্যথাও বাড়ে। আওয়াজ ক্ষীণ হয়। হাড়গুলো খটখট করে। এরপরও তার বিরাম নেই। বিশ্রাম নেই। পথচলা থেমে নেই। কখনও হুইল চেয়ারে। কখনও কাঁধে ভর করে। শেষ শক্তিটুকু উম্মতকে দিতে চান। ভাবেন, মুহাম্মাদে আরাবীর পূর্ণ অনুকরণ কী হল?

বুড়োদেরকে কেউ ভয় করে না। সবার কাছে অপাংক্তেয়। বুড়ো সিংহকে শিয়ালও ধাওয়া করে। বুড়ো আলিম সিংহকে ছাড়িয়ে যায়। তার আধিপত্যে শত্রুর বুকে কাঁপন ধরে। শয়তানী রাজ্য থরথর করে। কাপুরুষেরা এগিয়ে আসে। চোরের মত। কখনও ছুরি চালায়। কখনও গুলি। বুড়ো সিংহের শেষ রক্তটুকুও বৃথা যায় না। উম্মতের শিরায় শিরায় ছড়িয়ে পড়ে। চেয়ে 
দ্যাখ কাপুরুষের দল। শেষ রক্তফোঁটা উম্মতের শিরায় কীভাবে টগবগ করছে।

Print Friendly