নারীবাদের ব্যাপক চর্চা সত্ত্বেও একটা সত্য আমাদের স্বীকার করতে হবে। সত্যটা আমাদের সমাজের একেবারে মূলে প্রোথিত। সহজেই এর মূলোৎপাটন সম্ভব নয়। আর সে আশাও সুদূর পরাহত মনে হয়।

তিক্ত হলেও সত্য, তথাকথিত নারীবাদ পুরুষদেরকে একটুও নাড়া দেয়নি। দিলেও খুব সামান্য। দৃষ্টিগ্রাহ্য হওয়ার মত না। নারীরা ঠিকই নারীবাদের দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু বিপরীত মেরুর পুরুষদের সাথে এই নারীবাদের কোন বোঝাপড়া নেই। পুরুষরা সেই আগের মতই আছে।

এর পেছনে পুরুষদের স্বার্থপর মানসিকতা দায়ী নাকি নারীবাদের শ্লোগানটাই আমাদের প্রকৃতি বিরুদ্ধ, সেই বিতর্কে এখন যেতে চাচ্ছি না। সমস্যা আসলে দু’দিকেই। সহযোগিতার চেয়ে প্রতিযোগিতার মানসিকতা এখানে মুখ্য। মূল সমস্যা এখানেই।

কুরআন-হাদীসে নারী-পুরুষের সম্পর্ক বিশ্লেষণে যেসব বর্ণনা এসেছে, সেখানেও কোথাও এই প্রতিযোগিতার ছোঁয়া পাবেন না। পুরুষদের ক্ষমতা প্রয়োগের মানসিকতা থাকতে পারে। আল্লাহর রাসূল স: হুশিয়ার করে দিয়েছেন। সাবধান। নারীদের বিষয়ে আল্লাহকে ভয় করো। আবার নারীরা স্বেচ্ছাচারী হতে পারে। তাদেরকেও স্বামীর অধিকারের বিষয়ে সাবধান করা হয়েছে।

নারী-পুরুষের সম্পর্ক বিষয়ে পবিত্র কুরআনের উপমার চেয়ে সুন্দর কিছু আমার চোখে পড়েনি। নারী পুরুষের জন্য পোষাক স্বরূপ। পুরুষ নারীর জন্য। পোষাক দেহের শোভা বাড়িয়ে দেয়, গোপন অঙ্গকে আবৃত রাখে, ধোলাবালি-রোদবৃষ্টি থেকে রক্ষা করে। নারী-পুরুষও একে অপরের প্রতি এই ভূমিকা রাখবে। আবার পোষাক যেমন দেহের সবচেয়ে কাছে থাকে, দেহের সাথে লেগে থাকে। নারী-পুরুষ তথা স্বামী-স্ত্রীর সহবস্থান হবে এমন নিগূঢ়। তাদের বোঝাপড়া হবে আস্থা ও বিশ্বাসের। দেহ ও পোষাকের মত।

কুরআনের উপমা বিশ্লেষণ করলে আপনি নারী-পুরুষের সম্পূরক মানসিকতা দেখতে পাবেন। সব জায়গায় একটা ভারসাম্য আনার চেষ্টা করা হয়েছে। একে অপরের প্রতি সম্পূরক ভূমিকা পালন করবে। আত্মনির্ভরশীল হওয়ার সবক কোথাও দেয়া হয়নি।

আমাদের সমাজে নারীবাদের সবচেয়ে বড় ভুল এখানে। নারীর মাঝে তারা প্রতিযোগিতার মানসিকতা উস্কে দেয়ার চেষ্টা করছে। এই প্রতিযোগিতার কোন ভবিষ্যৎ নেই। এটা প্রকৃতি বিরুদ্ধ। এই প্রতিযোগিতায় পুরুষ হয় নারীর প্রতিপক্ষ। এই নারীবাদ পুরুষকে নাড়া দেয় না। পুরুষের মনে সম্মান জাগায় না। শ্রদ্ধা, সম্মান ও ভালবাসার বদলে তৈরি হয় ঘৃনা। যার ফলাফল আমরা প্রতিনিয়ত প্রত্যক্ষ করছি।


পুরুষ শাসিত হিন্দু-বাঙালী ভাবধারার সমাজে যখন পশ্চিমাদের উদম সংস্কৃতির চর্চা হয়, তখন পুরুষদেরকে লাগাম দেয়ার কে থাকে? এরা কি নারীকে ভোগ্য পণ্যের বাইরে কিছু ভাবতে শিখিয়েছে? নিজেরা সেই ভাবনার চর্চা করেছে কখনও? এই পুরুষ স্বার্থবাদী, ভোগবাদী হলে দোষ কার?

আমাদের সমাজে কখনও পুরোপুরি ইসলামী ভাবধারা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ইসলাম নারীর যে অধিকার দিয়েছে, সেই অধিকার ও সচেতনতা আমাদের সমাজে স্থান পায়নি। আগের সেই হিন্দুয়ানী মানসিকতার রেশ করোটির কোথাও ঘাপটি মেরে আছে। সাথে যুক্ত হয়েছে পশ্চিমাদের ভোগবাদ।

সমাজে নারীদের প্রতি অবহেলা ও নির্যাতনের জন্য পুরুষের ভোগবাদী, স্বার্থবাদী মানসিকতা অনেকাংশেই দায়ী। এই মানসিকতার পরিবর্তন আগে দরকার। প্রয়োজন সঠিক ইসলামী ভাবধারার। আর প্রকৃতিবিরুদ্ধ উস্কানীমূলক নারীবাদ চর্চায় কারও কোন কল্যাণ নেই। উত্তপ্ত তেলে পানি ঢালার মত ব্যাপার।

নারী-পুরুষ একে অপরের প্রতিযোগী না হয়ে যদি সহযোগী হয়, সম্পূরক হয়, তাহলে কোন দিবসের প্রয়োজন হবে না। আর দিবস পালন করে মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য অসহায় কসরত করতে হবে না।

Print Friendly