আহলে সুন্নতের আকিদা হল, নবীজী স: কবরে জীবিত। নবীগণ তাদের কবরে জীবিত এবং তারা নামায আদায় করে থাকেন। শুধু নবীগণই নন, শহীদরাও কবরে জীবিত। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা শহীদদেরকে মৃত বলতে নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, তারা জীবিত। তারা আল্লাহর পক্ষ থেকে বিশেষ রিজিক পেয়ে থাকে। নবীগণের মর্যাদা শহীদদের চেয়েও বেশি। তাছাড়া নবীদের কবরে জীবিত থাকা এবং নামায আদায়ের বিষয়ে স্পষ্ট হাদীস রয়েছে।

যারা কবরে নবীগণকে মৃত মনে করে, তাদের আকিদা কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী।এরা আহলেসুন্নতের আকিদারও বিরোধী। এধরণের আকিদা পোষণকারী ব্যক্তি নিজেকে আহলে সুন্নতের পরিচয় দিলেও সে আহলে সুন্নত নয়। বরং কুরআন-সুন্নাহ বিরোধী বাতিল আকিদা পোষণকারী।

একটা সাধারণ বিষয় বুঝতে হবে। নবীগণের দুনিয়াবী হায়াত শেষ হয়ে গেছে। দুনিয়াবী দৃষ্টিকোণ থেকে তারা দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন। দুনিয়ার হায়াত শেষ হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে। আর এই মৃত্যুর মধ্য দিয়ে তারা কবরের জীবনে প্রবেশ করেছেন। তারা কবরের জীবনে মৃত নয়। কবরের জীবনে তারা জীবিত আছেন। আমরা নাস্তিকদের মত শুধু দুনিয়ার জীবনকেই মূল জীবন মনে করি না। আমরা বিশ্বাস করি, রুহের জগত যেমন সত্য, দুনিয়ার জগৎ সত্য, কবর ও হাশরের জীবন সত্য।

পাশ্চাত্যের বস্তবাদী প্রভাব, ওহাবী-সালাফীদের অজ্ঞতাপূর্ণ অপপ্রচারে আহলে সুন্নতের সঠিক আকিদা কখনও পাল্টে যাবে না। নবীগণ কবরে জীবিত এটাই আহলে সুন্নতের সর্বসম্মত সঠিক আকিদা।

নবীগণের কবরে জীবিত থাকার দলিল:

আলমে বরযখে শহীদগণের উল্লিখিত বিশেষ বৈশিষ্ট্যপূর্ণ জীবনের চেয়ে অধিক শক্তিমান ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন হচ্ছে নবী-রাসূলগণের বরযখী জীবন। কারণ, তাঁরা কবরে সশরীরে জীবিত আছেন–তাদের শরীরকে কখনো মাটি খেতে পারে না এবং তারা নামায পড়াসহ জীবিত মানুষের অনেক বৈশিষ্ট্য লাভ করেন।

নবীগণের কবরে জীবিত থাকা প্রসঙ্গে সহীহ বুখারীর ব্যাখ্যাগ্রন্হ ফাতহুল বারীতে আল্লামা ইবনে হাজর আসক্বালানী (রহ.) বলেন-
لأن الأنبياء أحياء عند الله وإن كانوا في صورة الأموات بالنسبة إلى أهل الدنيا ، وقد ثبت ذلك للشهداء . ولا شك أن الأنبياء أرفع رتبة من الشهداء

“কেননা, নবীগণ মহান আল্লাহর নিকট জীবিত৤ যদিও তারা দুনিয়াবাসীদের দিক দিয়ে মৃতের রূপে আছেন৤ কারণ, প্রমাণিত আছে যে, শহীদগণ আল্লাহর নিকট জীবিত; আর নবীগণ নিঃসন্দেহে শহীদগণের চেয়ে অধিক মর্যাদাবান।”
(ফাতহুল বারী, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ৪৪৪ পৃষ্ঠা)

আলমে বরযখে নবীগণের (আ.) জীবিত থাকার প্রমাণে বহু সহীহ ও নির্ভরযোগ্য হাদীস বর্ণিত হয়েছে। সেই হাদীসসমূহে তাঁদের কবরে জীবিত থাকা এবং শহীদগণের চেয়েও অধিক মর্যাদাপূর্ণ বিশেষ বৈশিষ্ট্যমণ্ডিতঅসাধারণ জীবন লাভের কথা বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন–
الأَنْبِيَاءُ أَحْيَاءٌ فِي قُبُورِهِمْ يُصَلُّونَ
“নিশ্চয়ই নবীগণ কবরে জীবিত; তারা নামায পড়েন।”
(বাইহাক্বী-হায়াতুল আম্বিয়া, ১৫ খণ্ড, ১৪৮ পৃষ্ঠা/ মুসনাদে বাযযার, হাদীস নং ৬৩৯১/ মুসনাদে আবী ইয়া‘লা, হাদীস নং ৩৪২৫ প্রভৃতি)

উক্ত হাদীসে নবীগণের (আ.) মৃত্যুর পর কবরে সশরীরে জীবিত থাকা এবং সেখানে নামায পড়ার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আবার কবরে নবীগণের নামায পড়ার ব্যাপারে প্রত্যক্ষ বর্ণনায় হযরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) হতে বর্ণিত অপর রিওয়ায়াতে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন–
مَرَرْتُ عَلَى مُوسَى لَيْلَةَ أُسْرِيَ بِي عِنْدَ الْكَثِيبِ الأَحْمِرِ وَهُوَ قَائِمٌ يُصَلِّي فِي قَبْرِهِ
“আমি যে রাতে আমাকে মি’রাজে নেয়া হলো মূসা (আ.)-এর নিকট এলাম এমতাবস্হায় যে, তিনি লাল বালুকাস্তুপের নিকট স্বীয় কবরে দাঁড়িয়ে নামায পড়ছিলেন।”
(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৫৯৮১/ মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১২৫০৪/ সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং ১৬৩১)

এ হাদীস উল্লেখ করার পর আল্লামা কুরতবী (রহ.) বলেন–
وهذا الحديث يدل بظاهره على : أنه صلى الله عليه وسلم رأى موسى رؤية حقيقية في اليقظة ، وأن موسى كان في قبره حيا ، يصلي فيه الصلاة التي كان يصليها في الحياة ، وهذا كله ممكن لا إحالة في شيء منه ، وقد صح أن الشهداء أحياء يرزقون ، ووجد منهم من لم يتغير في قبره من السنين ، وإذا كان هذا في الشهداء كان في الأنبياء أحرى وأولى
“এ হাদীসের দ্বারা বাহ্যতভাবে প্রমাণিত হয় যে, রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত মূসা (আ.)কে বাস্তবেই জাগ্রত অবস্হায়ই দেখেছেন এবং মূসা (আ.) কবরে জীবিত ছিলেন, তিনি সেখানে সেই নামাযই পড়ছিলেন-যা তিনি জীবদ্দশায় পড়তেন। এ সবই সম্ভব, এর কোন কিছুতে অবাস্তবতা নেই। আর বিশুদ্ধভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, শহীদগণ জীবিত এবং তারা রিযিকপ্রাপ্ত হন আর তাদের অনেককে এমন অবস্হায় পাওয়া গিয়েছে যে, অনেক বছর অতিক্রান্ত হলেও স্বীয় কবরের মধ্যে তাঁরা কোনরূপ পরিবর্তন হননি। তারা সম্পূর্ণ অবিকৃতরূপে আছেন। সুতরাং যখন শহীদগণের অবস্হা এই, তখনতো নবীগণের অবস্হা আরো উন্নত ও উত্তম হবে!” (আল-মুফহিম, ৬ষ্ঠ খণ্ড, ১৯২ পৃষ্ঠা)

তেমনি রাসূলুল্লাহ (সা.) হযরত ঈসা (আ.) ও হযরত ইবরাহীম (আ.)কে এ অবস্হায় দেখেছেন যে, তারা নামায পড়ছেন বলে অপর রিওয়ায়াতে রয়েছে। (দ্রষ্টব্য : সহীহ মুসলিম, ২য় খণ্ড, ২৬৮ পৃষ্ঠা)

উল্লিখিত হাদীসসমূহে নবীগণের ওফাতের পর কবরে যে নামায পড়ার কথা বর্ণিত হয়েছে, এটা দুনিয়াতে তাঁদের প্রতি আরোপিত তাকলীফী নামায নয়, বরং এটা কবরে তাঁদের বিশেষ মর্যাদার পরিচায়ক তাশরীফী নামায। তাঁরা কবরে সশরীরে জীবিত হওয়ার পর এ নামাযের মাধ্যমে মহান আল্লাহর গুণকীর্তন করেন-যেমন ফেরেশতাগণ মুকাল্লাফ না হওয়া সত্ত্বেও মহান আল্লাহর বিভিন্ন ইবাদত পালনের দ্বারা তাঁর গুণকীর্তন করেন। নবীগণ কবরে গমনের পর কখন এ তাশরীফী নামায আদায়ের সম্মান লাভ করেন, সে সম্পর্কে হযরত আনাস (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন–
إِنَّ الأَنْبِيَاءَ لا يُتْرَكُونَ فِي قُبُورِهِمْ بَعْدَ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً , وَلَكِنَّهُمْ يُصَلُّونَ بَيْنَ يَدَيِ اللَّهِ عَزَّ وَجَلَّ حَتَّى يُنْفَخَ فِي الصُّورِ
“নবীগণ তাঁদের কবরে চল্লিশদিন অতিবাহিত হওয়ার পর নিবৃত্ত থাকেন না এ ছাড়া যে, তারা মহান আল্লাহর সমীপে নামায পড়তে থাকেন। আর তা অব্যাহত থাকবে যাবত (কিয়ামতের জন্য) শিঙ্গায় ফুঁক দেয়া হয়।”
(মুসনাদে আবু ইয়া‘লা, হাদীস নং ৩৪২৮/ মুসনাদে বায্‌যার, হাদীস নং ৬৩৯৬/ মাজমাউয যাওয়ায়িদ, ৪র্থ খণ্ড, ২১১ পৃষ্ঠা)

(দলিলগুলি সংগৃহীত)

মৃত ব্যক্তি কি কবর জিয়ারতকারীকে চিনতে পারে?


ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বলেন, والسلف مجمعون على هذا ، وقد تواترت الآثار عنهم بأن الميت يعرف زيارة الحي له ويستبشر به অথর্: সালাফে-সালেহীন এ বিষয়ে সকলে একমত এবং সালাফ থেকে মুতাওয়াতির বর্ণনা দ্বারা প্রমাণিত যে, মৃত ব‍্যক্তি জীবিত জিয়ারতকারীকে চিনতে পারে এবং তার সাক্ষাতে খুশি হয়। কিতাবুর রুহ, পৃ.৫


মৃত ব‍্যক্তি জীবিত জিয়ারতকারীকে চেনার বিষয়ে বতর্মান ও অতীতের সালাফীরা একমত। এ বিষয়ে তারা একটি সহীহ হাদীস দিয়ে দলিল দিয়েছেন। রাসূল স. বলেন, ما من أحد مر بقبر أخيه المؤمن كان يعرفه في الدنيا ، فسلم عليه ، إلا عرفه ورد عليه السلامঅথর্: যখনই কোন মু’মিন দুনিয়াতে পরিচিত মু’মিন ভাইয়ের কবর জিয়ারত করে এবং সালাম দেয়, মৃত ব‍্যক্তি তাকে চিনতে পারে এবং তার সালামের উত্তর দেয়।


হাদীসটিকে বড় বড় সালাফী আলেম সহীহ বলেছেন। এবং জিয়ারতকারীকে চেনার বিষয়ে তারা একমত। যারা হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন,১. ইবনে তাইমিয়া রহ.২. ইমাম কুরতুবী রহ.৩. ইমাম আব্দুল হক ইশবিলী রহ.৪.ইমাম ইরাকী রহ.৫.ইমাম মোতর্জা যাবিদি রহ.৬.জালালুদ্দীন সুয়তী রহ.৭. আহলে হাদীস আলেম শামসুল হক আজীম আবাদী৮.কাজী শাওকানী ৯. ইবনে তাইমিয়া রহ. আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. থেকে সহীহ হওয়ার বণর্না এনেছেন।১০. শায়খ ইবনে উসাইমিন রহ.১১. শায়খ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ
ইবনে তাইমিয়া রহ, ইবনে কাসীর রহ, সালেহ আল-উসাইমিন, সালেহ আল-মুনাজ্জিদ সকলেই এটি বিশ্বাস করেন।
বিস্তারিত দেখুন,
https://islamqa.info/ar/answers/111939/%D9%87%D9%84-%D9%8A%D8%B9%D8%B1%D9%81-%D8%A7%D9%84%D9%85%D9%8A%D8%AA-%D9%85%D9%86-%D9%8A%D8%B2%D9%88%D8%B1%D9%87-%D9%85%D9%86-%D8%A7%D9%84%D8%A7%D8%AD%D9%8A%D8%A7%D8%A1

রুহ কি একে-অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে?

ইবনে তাইমিয়া রহ. লিখেছেন, 
وَأَمَّا قَوْلُهُ : هَلْ تَجْتَمِعُ رُوحُهُ مَعَ أَرْوَاحِ أَهْلِهِ وَأَقَارِبِهِ ؟ فَفِي الْحَدِيثِ عَنْ أبي أيوب الأنصاري وغيره من السلف ورواه أبو حاتم في الصحيح عن النبي صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ { أَنَّ الْمَيِّتَ إذَا عُرِجَ بِرُوحِهِ تَلَقَّتْهُ الْأَرْوَاحُ يَسْأَلُونَهُ عَنْ الْأَحْيَاءِ فَيَقُولُ بَعْضُهُمْ لِبَعْضِ : دَعُوهُ حَتَّى يَسْتَرِيحَ فَيَقُولُونَ لَهُ : مَا فَعَلَ فُلَانٌ ؟ فَيَقُولُ : عَمِلَ عَمَلَ صَلَاحٍ فَيَقُولُونَ : مَا فَعَلَ فُلَانٌ ؟ فَيَقُولُ : أَلَمْ يَقْدَمْ عَلَيْكُمْ فَيَقُولُونَ : لَا فَيَقُولُونَ ذُهِبَ بِهِ إلَى الْهَاوِيَةِ } . وَلَمَّا كَانَتْ أَعْمَالُ الْأَحْيَاءِ تُعْرَضُ عَلَى الْمَوْتَى كَانَ أَبُو الدَّرْدَاءِ يَقُولُ : ” اللَّهُمَّ إنِّي أَعُوذُ بِك أَنْ أَعْمَلَ عَمَلًا أُخْزَى بِهِ عِنْدَ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ رَوَاحَةَ ” . فَهَذَا اجْتِمَاعُهُمْ عِنْدَ قُدُومِهِ يَسْأَلُونَهُ فَيُجِيبُهُمْ . وَمَا اسْتِقْرَارُهُمْ فَبِحَسَبِ مَنَازِلِهِمْ عِنْدَ اللَّهِ فَمَنْ كَانَ مِنْ الْمُقَرَّبِينَ كَانَتْ مَنْزِلَتُهُ أَعْلَى مِنْ مَنْزِلَةِ مَنْ كَانَ مِنْ أَصْحَابِ الْيَمِينِ ؛ لَكِنَّ الْأَعْلَى يَنْزِلُ إلَى الْأَسْفَلِ وَالْأَسْفَلَ لَا يَصْعَدُ إلَى الْأَعْلَى فَيَجْتَمِعُونَ إذَا شَاءَ اللَّهُ كَمَا يَجْتَمِعُونَ فِي الدُّنْيَا مَعَ تَفَاوُتِ مَنَازِلِهِمْ وَيَتَزَاوَرُونَ .
وَسَوَاءٌ كَانَتْ الْمَدَافِنُ مُتَبَاعِدَةً فِي الدُّنْيَا أَوْ مُتَقَارِبَةً ، قَدْ تَجْتَمِعُ الْأَرْوَاحُ مَعَ تَبَاعُدِ الْمَدَافِنِ وَقَدْ تَفْتَرِقُ مَعَ تَقَارُبِ الْمَدَافِنِ
অথর্: প্রশ্নকারী জিজ্ঞাসা করেছে, মৃত ব‍্যক্তির রুহ কি তার আত্মীয়-স্বজন ও নিকটজনের রুহের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করে?
হযরত আবু আইয়ূব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত হাদীস ও অন্যান্য সালাফের বর্ণনায় রয়েছে, হাদীসটি ইমাম আবু হাতিম তার সহীহ আবি হাতিমে উল্লেখ করেছেন, রাসূল স. বলেন, মৃত ব্যক্তির রুহ নিয়ে যখন উর্ধ্বে গমন করা হয়, তার সাথে অন্যান্য রুহেরা সাক্ষাৎ করে এবং জীবিত লোকদের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে। রুহেরা একে-অপরকে বলে, তাকে ছেড়ে দাও। সে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিক। এরপর তারা তাকে জিজ্ঞেস করে, অমুক ব্যক্তির কী অবস্থা? নতুন রুহটি বলে, সে নেক আমল করেছে। এরপর তারা বলে, অমুকের কী অবস্থা? নতুন রুহ বলে, সে কি তোমাদের কাছে আসেনি? তারা বলে, না। রুহেরা বলে, তাকে হাবিয়া জাহান্নামে নেয়া হয়েছে।

জীবিত ব্যক্তিদের আমলগুলো যেহেতু মৃত ব্যক্তিদেরকে জানানো হয়, হযরত আবু দারদা রা. বলতেন, হে আল্লাহ, আমি আপনারে এমন আমল থেকে পানাহ চাই, যার কারণে আমি আব্দুল্লাহ ইবনে রাওয়াহ রা. এর কাছে লজ্জিত হবো।

নতুন রুহের আগমনে এভাবে রুহগুলো একত্রিত হয়ে জিজ্ঞাসা করতে থাকে। আর রুহটি তাদের কথার উত্তর দেয়। তবে আল্লাহর নিকটে তাদের মর্যাদার ভিত্তিতে তাদের অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। যারা আল্লাহর নৈকট‍্যপ্রাপ্ত তাদের অবস্থান আসহাবুল ইয়ামীন থেকে উর্ধ্বে। তবে উর্ধ্বে অবস্থানকারী রুহ নিচের স্তরে যেতে পারে, কিন্তু নিচের স্তরের রুহ উপরে যেতে পারে না। আল্লাহর ইচ্ছায় মর্যাদার স্তর অনুযায়ী তারা এক জায়গায় একত্র হয় এবং একে-অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে, যেমন দুনিয়াতে তারা একে-অপরের সাথে দেখা-সাক্ষাৎ করতো। দুনিয়াতে রুহদের কবরগুলো কাছে কাছে হোক কিংবা দূরে দূরে। রুহদের কবর দূরে দূরে হলেও তারা এক জায়গায় হতে পারে আবং কবর কাছে হলেও তারা দূরে থাকতে পারে। 
–মাজমুউল ফাতাওয়া খ.২৪, পৃ.৩৬৮

রুহের কার্যক্রম সম্পর্কে ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর বক্তব্য:

মৃত্যুপরবর্তী কার্যক্রম ও এর প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ইবনুল কাইয়্যিম রহ. লিখেছেন,
ومما ينبغي أن يعلم أن ما ذكرنا من شأن الروح يختلف بحسب حال الأرواح من القوة والضعف والكبر والصغر، فللروح العظيمة الكبيرة من ذلك ما ليس لمن هو دونها. وأنت ترى أحكام الأرواح في الدنيا كيف تتفاوت أعظم تفاوت بحسب تفارق الأرواح في كيفياتها وقواها وإبطائها وإسراعها والمعاونة لها، فللروح المطلقة من أسر البدن وعلائقه وعوائقه من التصرف والقوة والنفاذ والهمة وسرعة الصعود إلى الله والتعلق بالله ما ليس للروح المهينة المحبوسة في علائق البدن وعوائقه، فإذا كان هذا وهي محبوسة في بدنها فكيف إذا تجردت وفارقته واجتمعت فيها قواها وكانت في أصل شأنها روحا علية زكية كبيرة ذات همة عالية، فهذه لها بعد مفارقة البدن شأن آخر وفعل آخر. وقد تواترت الرؤيا في أصناف بني آدم على فعل الأرواح بعد موتها ما لا تقدر على مثله حال اتصالها بالبدن من هزيمة الجيوش الكثيرة بالواحد والاثنين والعدد القليل ونحو ذلك، وكم قد رئي النبي (صلى الله عليه وسلم) ومعه أبو بكر وعمر في النوم قد هزمت أرواحهم عساكر الكفر والظلم فإذا بجيوشهم مغلوبة مكسورة مع كثرة عَدَدهم وعُدَدهم وضعف المؤمنين وقلتهم
অর্থ: জেনে রাখা উচিৎ যে, পূর্বে আমরা রুহের বিভিন্ন অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করেছি। রুহের বিভিন্ন অবস্থা যেমন, শক্তি, ছোট-বড় হওয়া বা অন্যান্য অবস্থার প্রেক্ষিতে রুহের কার্যক্রম ভিন্ন ভিন্ন হয়। তুমি দেখে থাকবে, দুনিয়াতে রুহের অবস্থার কারণে কার্যক্রমের মাঝেও ব্যাপক তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। রুহের শক্তি ও অবস্থার করণে এর গতি, কার্যক্রম, চলাচল ও প্রতিক্রিয়ার মাঝে পার্থক্য দেখা যায়। দেহের বন্ধন থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত মর্যাদাসম্পন্ন রুহের ব্যাপক কার্যক্রম, শক্তি, গতিশীলতা, হিম্মত ও আল্লাহর দিকে ধাবিত হওয়ার ক্ষমতা থাকে, যেটা দেহের বন্ধনে আবদ্ধ বন্দী রুহের থাকে না। দেহের বন্ধনে আবদ্ধ থাকার পরও রুহের অনেক অপ্রাকৃতিক কার্যক্রম দেখা যায়, সুতরাং এটি দেহের বন্ধ মুক্ত হয়ে এর পরিপূর্ণ শক্তি ও প্রকৃত বাস্তবতায় যখন ফিরে যায়, পবিত্র ও অধিক শক্তিসম্পন্ন এসব রুহের কার্যক্রম তাহলে কেমন হবে? দেহের বন্ধনে আবদ্ধ রুহের কার্যক্রম থেকে দেহের বন্ধ মুক্ত রুহের কার্যক্রম ভিন্ন।

রুহের কার্যক্রম সম্পর্কে এতো অধিক বর্ণনা রয়েছে যে, এগুলো অস্বীকারের উপায় নেই। মৃত্যুর পরে রুহের কার্যক্রম সম্পর্কে অসংখ্য স্বপ্ন বর্ণিত হয়েছে। মৃত্যুর পরে রুহের মাধ্যমে এমন সব ঘটনা ঘটেছে, যেটি জীবিত থাকা অবস্থায় সম্ভব নয়। যেমন, একজন, দু’জন অথবা সামান্য কিছু লোক বিশাল সেনাবাহিনীকে পরাজিত করা। অসংখ্য লোক রাসূল স. কে স্বপ্নে দেখেছে, তার সাথে হযরত আবু বকর ও হযরত উমর রা. রয়েছেন। তাদের রুহ কাফেরদের সেনাবাহিনীকে পর্যুদস্ত করে দিয়েছে। কাফেরদের পরাজিত ছিন্ন-ভিন্ন সেনাদের লাশ ছড়িয়ে থাকে। অথচ তাদের সংখ্যা মুসলমানদের তুলনায় বহুগুণ বেশি ছিল। মুসলমানরা সংখ্যা ও শক্তিতে ছিল খুবই নগন্য ।

কিতাবুর রুহ, পৃ.১০২-১০৩, দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, বয়রুত থেকে প্রকাশিত।

এখানে তিনি রুহের বিভিন্ন কাযর্ক্রমের কথা উল্লেখ করেছেন। রুহ যুদ্ধ করে কাফেরদের পরাজিত করেছে। রাসূল স, হযরত আবু বকর ও হযরত উমর রা. এর কথাও তিনি উল্লেখ করেছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন, মৃত্যুর পরে রুহের মাধ্যমে এমন সব কাজ বা ঘটনা ঘটা সম্ভব যা তার জীবিত থাকা অবস্থায় সম্ভব নয়। এর উদাহরণও তিনি দিয়েছেন।

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. লিখেছেন,
وما يراه الناس من أرواح الموتى ومجيئهم إليهم من المكان البعيد أمر يعلمه عامة الناس ولا يشكون فيه
অথর্: মানুষ অনেক সময় মৃত ব‍্যক্তির রুহ দেখে থাকে এবং দূর থেকে তাদের রুহ মানুষের কাছে আগমন করার বিষয়টি সাধারণ মানুষও জানে। এ ব‍্যাপারে তারা সন্দেহ করে না।

http://islamport.com/w/qym/Web/3173/98.htm…

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. রুহের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। বিভিন্ন ইমামের উক্তি উল্লেখ করেছেন। বিস্তারিত জানতে কিতাবুর রুহ দেখুন। রুহ সম্পর্কে ইবনুল কাইয়্যিম রহ. লিখেছেন,
وإنما يغلط أكثر الناس في هذا الموضع حيث يعتقد أن الروح من جنس ما يعهد من الأجسام التي إذا شغلت مكانا لم يمكن أن تكون في غيره وهذا غلط محض بل الروح تكون فوق السموات في أعلى عليين وترد إلى القبر فترد السلام وتعلم بالمسلم وهي في مكانها هناك وروح رسول الله في الرفيق الأعلى دائما ويردها الله سبحانه إلى القبر فترد السلام على من سلم عليه وتسمع كلامه وقد رأى رسول الله موسى قائما يصلى في قبر ورآه في السماء السادسة والسابعة فإما أن تكون سريعة الحركة والانتقال كلمح البصر وإما أن يكون المتصل منها بالقبر وفنائه بمنزلة شعاع الشمس وجرمها في السماء

অথর্: রুহের অবস্থানের ক্ষেত্রে অধিকাংশ মানুষই ভুল করে থাকে। তারা মনে করে, রুহ সাধারণ দেহের মতো। দেহ যেমন এক জায়গায় থাকলে অন‍্য জায়গায় থাকতে পারে না, তাদের মতে রুহও এমন। এটি তাদের স্পষ্ট ভুল। বরং রুহ আসমান সমূহের উপরে ইল্লীয়‍্যীনের সবের্াচ্চ স্তরে থাকলেও কবরে এসে সালামের উত্তর দিতে পারে। এবং সালাম দাতাকে চিনতে পারে। অথচ রুহ তার নিজের জায়গায় থাকে। রাসূল স. এর রুহ তো সবর্দাই আল্লাহর সান্নিধ্যে থাকে, এরপর ও আল্লাহ তায়ালা রাসূল স. এর রুহকে কবরে পাঠান, তাকে যারা সালাম দেয়, তাদের সালামের উত্তর প্রদান করেন এবং তাদের কথা শোনেন। রাসূল স.হযরত মুসা আ.কে তার কবরে দাড়িয়ে নামায পড়তে দেখেছেন, এরপর আবার তাকে ষষ্ঠ ও সপ্তম আসমানে দেখেছেন। হয়তো রুহ খুবই দ্রুতগামী। চোখের পলকে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে। অথবা কবর ও কবরের পাশ্বর্বতী অবস্থার সাথে রুহের সম্পর্ক সূর্য্যের মতো। সূর্য্য আকাশে থাকা সত্ত্বেও এর আলো সব জায়গায় ছড়িয়ে থাকে।

এরপর রুহের চলাচল ও গতি সম্পর্কে আলোচনা করতে গিয়ে লিখেছেন,
ففي هذا الحديث بيان سرعة انتقال أرواحهم من العرش إلى الثرى ثم انتقالها من الثرى إلى مكانها ولهذا قال مالك وغيره من الأئمة أن الروح مرسلة تذهب حيث شاءت يراه الناس من أرواح الموتى ومجيئهم إليهم من المكان البعيد أمر يعلمه عامة الناس ولا يشكون فيه والله أعلم 
অথর্: উক্ত হাদীসে রুহের ক্ষিপ্র গতির সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। রুহে আরশ থেকে জমীনের তলদেশে এবং জমিনের তলদেশ থেকে তার অবস্থানের জায়গায় কতো দ্রুত যেতে পারে সেটি উল্লেখ করা হয়েছে। এজন্য ইমাম মালিক রহ. ও অন্যান্য ইমামগণ বলেছেন, রুহ মুক্ত থাকে। যেখানে ইচ্ছা সেখানেই যেতে পারে। মানুষ মৃত ব্যক্তিদের রুহ দেখতে পায়, এবং দূরবর্তী স্থান থেকেও মৃত ব্যক্তিদের আগমন দেখে থাকে। এসব বিষয়ে সাধারণ মানুষ সম্যক অবগত। তারা এ বিষয়ে সন্দেহও করে না। আল্লাহু আ’লাম।

বিস্তারিত দেখুন, কিতাবুর রুহ থেকে

http://islamport.com/w/qym/Web/3173/97.htm

সালাফী শায়খ ড. সালেহ আল-মুনাজ্জিদ রুহের অবস্থান সম্পকর্ে ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর বিভিন্ন উক্তি উল্লেখ করেছেন। এগুলোর মধ্যে ইমাম মালিক রহ. এর বক্তব্যটিও রয়েছে। 
বিস্তারিত দেখুন, 
https://islamqa.info/ar/129052

নোট: সাধারণ মানুষকে ধোকা দেয়ার জন্য সালাফীরা হয়তো মিথ্যা বলবে যে, কিতাবুর রুহ ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর প্রথম জীবনে লেখা। এটি ইবনে তাইমিয়া রহ. এর সাথে সাক্ষাতের পূর্বে লেখা। সালাফী এই দাবী সম্পূণর্ ভুল। বরং কিতাবুর রুহ ইবনে তাইমিয়া রহ. এর মৃত্যুর পরে লেখা, ইবনুল কাইয়্যিম রহ: নিজেই বইয়ে উল্লেখ করেছেন। এ বিষয়ে অন্য পোস্টে আমরা আলোচনা করেছি।

Print Friendly