iDEA

islamic dawah and education academy

Author: ideabd (Page 1 of 4)

শিরক সমাচার – ৯

আগের দু’টি পর্বে আমরা সিজদা ও তাওয়াফ সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আজকের পর্বে আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ  একটি বিষয়ে আলোচনা করব।

কাউকে ক্ষমা করা কিংবা জান্নাত দেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। কোন মানুষ কারও গোনাহ মাফ করতে পারবে না কিংবা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না। তবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা  কিছু মানুষকে শাফায়াত বা সুপারিশের অনুমতি দিবেন। তাদের সুপারিশ গ্রহণ করে আল্লাহ তায়ালা বহু লোককে মাফ করে তাদের জন্য জান্নাতের ফয়সালা করবেন।

সুপারিশের ক্ষেত্রে রাসুল সঃ হবেন সবার অগ্রগণ্য। তার একটি বিশেষ নামই হল, শাফিউল মুজনিবিন (পাপীদের সুপারিশকারী)। কিয়ামতের দিন অন্যান্য নবী-রাসুলদের কাছে আবেদন করে ব্যর্থ হয়ে সকলে রাসুল সঃ এর কাছে শাফায়াতের আবেদন নিয়ে হাজির হব। আল্লাহ তায়ালা রাসুল সঃ কে শাফায়াতের অনুমতি দিবেন।

রাসুল সঃ এর জীবদ্দশায় সাহাবায়ে কেরাম তার কাছে শাফায়াতের আবেদন করতেন। কেয়ামতের দিন তিনি যেন তাদের মুক্তি ও জান্নাতের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করেন, এই আবেদন নিয়ে হাজির হতেন রাসুল সঃ এর দরবারে।

তিরমিজি শরিফে হজরত আনাস রাঃ থেকে স্পষ্ট হাদিস রয়েছে। হজরত আনাস রাঃ বলেন, আমি রাসুল সঃ এর কাছে আবেদন করলাম, তিনি যেন কিয়ামতের দিন আমার জন্য সুপারিশ করেন। রাসুল সঃ বলেন, আমি সুপারিশ করব।  তিরমিজি-২৩৭০, হাদিসটি সহিহ। আলবানি সাহেব সাহিহুত তারগিবে  এই হাদিসকে সহিহ বলেছেন। হাদিসের আরবি পাঠ:

سَأَلْتُ النَّبِيَّ -صلى الله عليه وسلم- أَنْ يَشْفَعَ لِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، فَقَالَ : أَنَا فَاعِلٌ

যারা কিয়ামতের দিন শাফায়াতের অনুমতি পাবেন, তাদের কাছে আপনি শাফায়াতের আবেদন রাখতে পারবেন। তাকে আপনি বলতে পারবেন, সে যেন আপনার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে। হজরত আনাস রাঃ রাসুল সঃ এর কাছে এই আবেদন করেছেন। আরও অনেক সাহাবি এই ধরণের আবেদন করেছেন রাসুল সঃ এর কাছে । সুতরাং হাদিস থেকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, শাফায়াতের অনুমতিপ্রাপ্তদের কাছে শাফায়াতের আবেদন করা যাবে।

রাসুল সঃ এর জীবদ্দশায় সাহাবায়ে কেরাম রাঃ তাঁর কাছে শাফায়াতের আবেদন করেছেন, এখন প্রশ্ন হল, রাসুল সঃ এর এর ইন্তেকালের পরে কি তার কাছে শাফায়াতের আবেদন করা যাবে? একথা কি বলা যাবে যে, হে আল্লাহর রাসুল, আপনার কাছে শাফায়াতের আবেদন করছি। কাল কিয়ামতে কঠিন বিপদের মুহূর্তে আপনি আমার মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবেন।

চার মাজহাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণের ফাতওয়া হল, রাসুল সঃ এর ইন্তেকালের পরেও তার কাছে শাফায়াতের আবেদন করা যাবে। অনেকেই শাফায়াতের আবেদনকে রাসুল সঃ এর কবর জিয়ারতের আদবের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অর্থাৎ রাসুল সঃ এর কবর জিয়ারতের অন্যতম একটি আদব হল, তার কাছে শাফায়াতের আবেদন করা।

Read More

চেতনার সলতে

মাঝে মাঝে দেশের বিখ্যাত মিডিয়া ও পত্রিকাগুলোর কমেন্ট দেখি। সাধারণ মানুষের চিন্তা-চেতনার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে এসব কমেন্টে। দেশের মানুষকে বুঝতে ও পড়তে তাদের এই কমেন্তগুলো বেশ সহায়ক মনে হয়েছে।

সবচেয়ে মজার বিষয় হল, দেশের হলুদ মিডিয়া ও চেতনাধারিরা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। এখানে তাদের ব্যর্থতা নব্বই ভাগের উপরে। আপামর জনসাধারণ থেকে তারা অনেকটায় বিছিন্ন হয়ে পড়েছেন। আজকের আধুনিক সমাজে তাদের চেতনার সলতে নিভু নিভু প্রায়। দেশের সাধারণ মানুষ ও ইয়াং জেনেরেশান আগের থেকে যথেষ্ট স্মার্ট। তাদের চিন্তার পরিধিও অনেক বিস্তৃত মনে হয়েছে। যে কেউ ভুল-ভাল কোন কিছু তাদের গলঃধরণ করাতে পারবে না।

অনেক ইয়াং হয়ত বিপথে যাচ্ছে, তবে তারা কিন্ত আমাদের বুদ্ধিজীবিদের দেওয়া সবক নিচ্ছে না। এই হতাশার কথা হয়ত চেতনাধারিরা গভীরভাবে অনুভব করছেন।

জনগণকে সাথে নিতে না পারলে আপনাদের এই হলুদ সাংবাদিকতার স্বার্থকতা কী? এটা কিন্ত আমদের বুদ্ধিজীবি ও মিডিয়া কর্মীদের বোঝা উচিত। আগে মানুষ মিডিয়া কর্মীদেরকে শ্রদ্ধা করত তাদের নীতি ও আদর্শের কারণে। এখন মানুষ তাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। কী পরিমাণ ঘৃণা করে তা এসব কমেন্ট থেকে স্পষ্ট। হাজার হাজার লোক তাদের একটা সংবাদের প্রতিবাদ করছে। এটা তো বুদ্ধিজীবি ও মিডিয়া কর্মীদের জন্য সীমাহীন লজ্জার বিষয়।

আপনাদের কাছ থেকে মানুষ ভালোটা আশা করে। অন্তত এতটুকু চায় যে আপনারা গ্ণমানুষের কথা বলবেন। কিন্ত সত্য কথা হল, আপনারা আপনাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা সমাজের উপর চাপাতে চান। যেটা অন্যায়। আপনি হয়ত হুমায়ুন আজাদের আদর্শ লালন করেন। কিন্ত আমদের সমাজ তো তার আদর্শকে মোটেও তোয়াক্কা করে না; তাহলে আপনি কেন সমাজের মানুষকে এসব কথা শুনিয়ে বিরক্ত করছেন। তারা আপনদের এসব কথা শুনতে চায় না। আস্তে আস্তে আপনারা সমাজ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।

সমাজের উপকার করার চেষ্টা করুন। ভালো করতে না পারলে অন্তত খারাপ করবেন না। চেতনার ফেরি করে সমাজকে নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন। আপনারা যতই মৌলবাদি বলে চিৎকার করবেন, আপনাদের তত গলা ব্যথা হবে। মানুষ এগুলো নিবে না। তারা এখন যথেষ্ট সচেতন।

শাইখ নজদির যুদ্ধ ও একটি প্রশ্ন

আমার জানা মতে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদি বা তার পরবর্তী অনুসারিরা কখনও কাফেরদের বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধ করেননি। কারও জানা থাকলে জানালে উপকৃত হব।

তাদের সব যুদ্ধ ছিল মুসলমান ও মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলের বিরুদ্ধে। তাদের দৃষ্টিতে এরা অবশ্য মুসলমান ছিল না। তারা এদেরকে মুরতাদ ও মুশরিক মনে করে যুদ্ধ করেছেন।

আমরা বিশ্বাস করি, শাইখের মুসলমানদেরকে মুশরিক বলা এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাটা ছিল অন্যায় ও বাড়াবাড়ি। তার ও তার অনুসারীদের এই কাজকে সঙ্গত কারণেই আমরা শরয়ী জিহাদ বলতে পারছি না।

মূল ধারার দেওবনদী আলেমগণ এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই তাকফিরের ক্ষেত্রে শাইখের বাড়াবাড়ির কথা বলেছেন।

কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ আর মুসলমানদেরকে কাফের বানিয়ে তাদের রক্তপাত কখনও এক হতে পারে না। আকাশ পাতালের ফারাক। যারা এই ফারাক বোঝেন না তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, দেওবন্দি আকাবিরগণ শাইখের জিহাদের বিরোধী ছিলেন। যারা শাইখের অস্ত্রধারণ ও রক্তপাতের বিরোধিতা করেছেন, তারা কেউ একে জিহাদ মনে করেননি।

সুতরাং শাইখের বিরোধিতা করলেই সে জিহাদ ও কিতালের বিরোধী, মুজাহিদেরকে তাকফিরি বলে, এধরণের চিন্তা করা অন্যায়। শরিয়তের প্রত্যেকটা হুকুম তার সীমা-রেখার মধ্যে থেকেই মানতে হবে। এখানে আবেগের চেয়ে বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

বিচ্ছিন্ন চিন্তা-চেতনা ও আলেমদের করণীয়

আমার লেখার উদ্দেশ্য কখনও এটা নয় যে, দেওবন্দীরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাবে। অন্য কোন দল বা মতের সাথে চলতে পারবে না। আমার লেখার উদ্দেশ্য হল, মূল ধারার আহলে সুন্নতের সম্মিলিতভাবে স্বীকৃত আকাইদ ও উছুল থেকে অনেক বিচ্যুতি আসছে। অনেকে সালাফিদের বাড়াবাড়িকে হক মনে করছে। এই বিষয়ে আহলে সুন্নতের আলেমদের আরও আন্তরিক হওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে ইবনে তাইমিয়া রহঃ ও শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদির বিচ্ছিন্ন মতামত ও আকিদাকে আসল ইসলাম হিসেবে পেশ করা হচ্ছে। আমি দেওবন্দিসহ মূল ধারার আহলে সুন্নতের আলেমদের কাছে আশা করি, তারা এই বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করবে। কাউকে সম্মান ও ইজ্জত করা এক বিষয়। আর কারও বিচ্ছিন্ন চিন্তা-চেতনাকে উম্মতের সামনে পেশ করা ও তার চর্চা করা ভিন্ন বিষয়। যেহেতু বর্তমানে তাদের বিচ্ছিন্ন চিন্তা-চেতনা চর্চা হচ্ছে, এই জন্য আমি বিষয়গুলোতে কলম ধরেছি।

Read More

শাইখ নজদি ও মনজুর নুমানি রহ

কিছু দিন আগে আমি শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদি সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত কিছু মতামত উল্লেখ করেছিলাম। অনেকে ভাই শাইখকে মহব্বত করেন। তাদের কাছে বিষয়টি একটু কষ্টের। অনেকের কষ্টের কারণ হলেও আমি দলিলের আলোকে বুঝে-শুনেই শাইখের বিষয়ে মত পরিবর্তন করেছি।

অনেক ভাই মনে করেছন, আমি শাইখের বিষয়ে দেওবন্দি আলেমদের বক্তব্য সম্পর্কে অবগত নই বা জানলেও তেমন গুরুত্ব দেইনি। বিষয়টা আসলে এমন নয়। শাইখ নজদি সম্পর্কে দেওবন্দি আলেমগনের অধিকাংশের বক্তব্য আল-হামদুলিল্লাহ আমার সামনে আছে। বহু আগে মাওলানা মনজুর নুমানি রহঃ এর কিতাবটিও পড়ার সুযোগ হয়।

Read More

শিরক সমাচার – ৮

গত পর্বে সিজদার হুকুম ও এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি নিয়ে আলোচনা করেছি।  আজ আমরা তাওয়াফ সম্পর্কে আলোচনা করব। কোন পীর, আলেম, পীরের কবর, পীরের বাড়িকে তাওয়াফ করার শরয়ী বিধান কী?

শরিয়তে তাওয়াফ শুধু কাবা ঘরের জন্য নির্দিষ্ট। কাবা ঘর ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি, ঘর বা কবরকে তাওয়াফ করার কোন অনুমতি শরিয়তে নেই। এরপরেও কেউ যদি অন্য কারও কবর, ঘর বা ব্যক্তিকে তাওয়াফ করে তাহলে তার হুকুম হল-

১। যাকে তাওয়াফ করছে তার মধ্যে যদি আল্লাহর কোন গুণ (খাসাইসুর রুবুবিইয়া) আছে বলে বিশ্বাস করে অথবা ওই ব্যক্তির ইবাদতের নিয়ত থাকে, তাহলে এটি স্পষ্ট শিরক হবে। সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। যেমন যাকে তাওয়াফ করছে তার ব্যাপারে যদি বিশ্বাস থাকে, তিনি নিজের ইচ্ছা  ও ক্ষমতায় যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন, তার নিজের ক্ষমতায় তার যে কোন প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন।

২।  উপরের বিশ্বাসগুলো ছাড়া শুধু সম্মানের জন্য যদি কোন পীর বা পীরের কবরকে তাওাফ করে তাহলে সেটি হারাম ও বড় গোনাহের কাজ। তবে এটি শিরক হবে না।

এটি চার মাজহাব ও আহলে সুন্নতের সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের অভিমত। সালাফি শাইখ ইবন বাজ, ইবনে উছাইমিন, ফাতওয়া আল-লাজনা আদ-দাইমার মুফতিগ্ণ ও শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ এমন মত দিয়েছেন।

Read More

শিরক সমাচার -৭

আমরা আগের পর্বগুলোতে শিরকের বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করেছি।  সমাজে কিছু ভাই শিকরের বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন না করে ঢালাওভাবে কিছু বিষয়কে শিরক বলে থাকে। যা একটি বড় ধরণের অন্যায়। যে কোন বিষয়ে শরিয়তের সীমা অতিক্রম করা অন্যায়। শিরকের প্রতি ঘৃণা থাকা অবশ্য কাম্য, কিন্তু অতি উৎসাহী হয়ে শিরক নয়, এমন বিষয়কে শিরক বলে প্রচার করা অন্যায়।

আজ সিজদার বিষয়ে আলোচনা করব।

সিজদা দু’প্রকার।

১. সিজদায়ে ইবাদত। ইবাদতের উদ্দেশ্যে সিজদা করা।

২. সিজদায়ে তা’জিমী। সম্মানের  উদ্দেশ্যে সিজদা করা।

ইবাদতের নিয়তে কাউকে সিজদা করলে সেটা স্পষ্ট শিরক। এখানে আর কোন কিছু চিন্তার সুযোগ নেই। তা’জিম বা সম্মানের জন্য সিজদা করলে সেটা শিরক নয়। তবে ইসলামে হারাম। 

 

এই মতটি শুধু আমাদের ঘরানার আলেমদের নয়, বরং এটি সালাফিদেরও মত।  ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়িম, কাজি শাওকানি, শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম, শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জিদসহ প্রায় সকলে এই মতের অনুসারী।

শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ এই বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন।

ইংলিশঃ https://islamqa.info/en/229780

আরবি লিঙ্ক: https://islamqa.info/ar/229780

শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ এর দলিলগুলোর সারমর্মঃ

১। আল্লাহ তায়ালা ফেরেশাতেদেরকে আদম আঃ কে সিজদার আদেশ দিয়েছেন। মৌলিকভাবে শুধু সিজদা করায় যদি শিরক হত, তাহলে আল্লাহ তায়ালা এই আদেশ দিতেন না। কারণ আল্লাহ তায়ালা কখনও ঘৃণিত কাজের আদেশ করেন না। আর শিরক একটি ঘৃণিত কাজ।

২। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ইউসুফ আঃ এর ঘটনা উল্লেখ করেছেন। হজরত ইয়াকুব আঃ ও তার ছেলেরা হজরত ইউসুফ আ কে সিজদা করেছিলেন। তাদের এই ঘটনা  কুরআনে রয়েছে। মূল সিজদা যদি শিরক হত, কোন নবী কখনও এটি করতেন না।

৩। হজরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ ইয়ামান থেকে ফিরে এসে রাছুল সঃ কে সিজদা করেন। মূল সিজদা যদি শিরক হত তাহলে রাছুল সঃ তাকে সেটি বলে দিতেন। কিন্তু  রাছুল সঃ তাকে শুধু সিজদা হারাম হওয়ার কথা বলেছেন, শিরক হওয়ার কথা বলেননি।  হজরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ  এর ঘটনাটি ইবন মাজাতে রয়েছে। হাদিসকে শাইখ নাসিরুদ্দিন আলবানি হাসান বলেছেন।

৪। কিছু কিছু হাদিস থেকে প্রমাণিত যে, বিভিন্ন প্রাণী রাছুল সঃ কে দেখে সিজদ্বা করত। মূল সিজদা যদি শিরক হত, তাহলে রাছুল এঁর ক্ষেত্রে এটি হত না।

৫। সিজদা একটা শরিয়তের বিধান ও হুকুম। যা বিভিন্ন শরিয়তে পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু  তাউহিদ ও শিরক অপরিবর্তনশীল। এগুলো সব নবীর শরিয়তে একই রকম থাকবে।

৬। চার মাজহাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে ইবাদতের সিজদা ও তাজিমের সিজদার হুকুমের পার্থক্য রয়েছে। ইবাদতের সিজদা শিরক কিন্ত তাজিমের সিজদা হারাম।  এরপর শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ বিভিন্ন আলেমের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন।  ইমাম ফখরুদ্দিন জাইলাই, ইমাম ইবনে নুজাইম আল-হানাফি, ইমাম নববি ও ইমাম শিহাবুদ্দিন রমালির বক্তব্য এনেছেন।

চার মাজহাবের গ্রহণযোগ্য মত হল, তাজিমের সিজদা হারাম শিরক নয়। এটাই দলিলের বিবেচনায় শক্তিশালী।

আমরা এখানে আরও কিছু আলেমের বক্তব্য দেখব যারা এ বিষয়ে মত দিয়েছেন।

১। ফতওয়া আল্মগিরির বক্তব্যঃ

مَنْ سَجَدَ لِلسُّلْطَانِ عَلَى وَجْهِ التَّحِيَّةِ أَوْ قَبَّلَ الْأَرْضَ بَيْنَ يَدَيْهِ لَا يَكْفُرُ , وَلَكِنْ يَأْثَمُ لِارْتِكَابِهِ الْكَبِيرَةَ , هُوَ الْمُخْتَارُ

অর্থঃ কেউ যদি বাদশাকে অভিবাদনের উদ্দেশ্যে সিজদা করে বা তার সামনে জমিনে চুমু দেয়, তাহলে সে কাফের হবে না। তবে তার কবিরা গোনাহ হবে। এটাই গ্রহণযোগ্য ফতওয়া । https://goo.gl/AYKTQf

২। ইমাম জাহাবি রহঃ তার মুজামুশ শুউখ কিতাবে লিখেছেন,

ألا ترى الصحابة من فرط حبهم للنبي –صلى الله عليه وسلم- قالوا: ألا نسجد لك؟ فقال: لا، فلو أذن لهم لسجدوا سجود إجلال وتوقير لا سجود عبادة كما سجد إخوة يوسف عليه السلام ليوسف، وكذلك القول في سجود المسلم لقبر النبي صلى الله عليه وسلم على سبيل التعظيم والتبجيل لا يكفر به أصلا بل يكون عاصيا.

অর্থঃ তুমি কি দেখ না, সাহাবায়ে কেরাম রাছুল সঃ এঁর প্রতি অতিরিক্ত মহব্বতের কারণে বলেছিলেন, হে রাছুল, আমরা কি আপনার সিজদা করব না ? রাছুল সঃ বলেন, না। আল্লাহর রাছুল যদি অনুমতি দিতেন, তাহলে তারা সম্মান ও ভক্তির উদ্দেশ্যে সিজদা করতেন, ইবাদতের উদ্দেশ্যে নয়। যেমন হজরত ইউসুফ আঃ এঁর ভাইয়েরা তাকে সিজদা করেছিল। একই হুকুম হবে, কোন মুসলমান যদি  সম্মান ও ভক্তির উদ্দেশ্যে  রাছুল স এঁর কবরে সিজদা করে, তাহলে সে কাফের হবে না, কিন্তু গুনাহগার হবে।

মুজামুশ শুউখ  ১/৭৩।

 

৩। কাজি শাওকানি তার সাইলুল যারার কিতাবে লিখেছেন,

اعلم أن الحكم على الرجل المسلم بخروجه من دين الإسلام ودخوله في الكفر لا ينبغي لمسلم يؤمن بالله واليوم الآخر أن يقدم عليه إلا ببرهان أوضح من شمس النهار… وأما قوله : “ومنها السجود لغير الله” فلا بد من تقييده بأن يكون سجوده هذا قاصداً لربوبية من سجد له، فإنه بهذا السجود قد أشرك بالله عز وجل وأثبت معه إلهاً آخر، وأما إذا لم يقصد إلا مجرد التعظيم كما يقع كثيراً لمن دخل على ملوك الأعاجم أنه يقبل الأرض تعظيماً له، فليس هذا من الكفر في شيء، وقد علم كل من كان من الأعلام أن التكفير بالإلزام من أعظم مزالق الأقدام

অর্থঃ জেনে রেখ,  দ্বীনের আলোর চেয়ে পরিষ্কার প্রমাণ ছাড়া কোন মুসলমানের উপর  ইসলাম থেকে বের হয়ে কাফের হয়ে যাওয়ার হুকুম লাগানোর কারও অগ্রসর হওয়া উচিত নয়। আল্লাহ ও তার রাছুলের উপর ইমান রাখে এমন কেউ এধরণের কাজে অগ্রসর হতে পারে না… তিনি বলেছেন, ইমান ভঙ্গের একটি কারণ হল, আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা। তার এই বক্তব্যকে অবশ্যই শর্তযুক্ত করতে হবে। যার জন্য সিজদা করছে, তাকে রব মনে করে সিজদা করলেই কেবল শিরক হবে। কারণ, রব মনে করে সিজদা করলে সে আল্লাহর সাথে শরিক করল এবং অন্য একজন ইলাহকে বিশ্বাস করল। ওই ব্যক্তি যদি শুধু সম্মানের উদ্দেশ্যে সিজদা তাহলে এটি কখনও শিরক হবে না। যেমন অনেক অনারব রাজা বাদশার সামনে গেলে জমিনে চুমু দিয়ে থাকে। এটি কুফরি নয়। সমস্ত বিজ্ঞ আলেম এ বিষয়ে সচেতন যে, কাউকে অন্যায়ভাবে তাকফির করা অনেক বড় পদস্খলন।

সাইলুল যারার – 4/ 578

৪। আল্লামা ইবনে নুজাইম রহঃ বলেন,

وَالسُّجُودُ لِلْجَبَابِرَةِ : كُفْرٌ ، إنْ أَرَادَ بِهِ الْعِبَادَةَ ؛ لَا إِنْ أَرَادَ بِهِ التَّحِيَّةَ ، عَلَى قَوْلِ الْأَكْثَرِ

অর্থঃ ইবাদতের নিয়তে কেউ বাদশাকে সিজদা করলে কুফরি হবে। সম্মান বা অভিবাদনের উদ্দেশ্যে সিজদা করলে কুফরি হবে না।

আল-বাহরুর রায়েক (5/134)

মোট কথা, এ বিষয়ে যারা বাড়া-বাড়ি করেছেন, তাদের মত সঠিক নয়। যেমন সালাফি শাইখ ইবনে উছাইমিন রহঃ লিখেছেন,

ومن ذهب إلى قبر فسجد لصاحب القبر فهو مشرك سجد لغير الله ، والسجود لا يكون إلا لله عز وجل

অর্থঃ কেউ যদি কোন কবরের কাছে গিয়ে কবরে শায়িত ব্যক্তির জন্য সিজদা করে, তাহলে সে মুশরিক হয়ে যাবে। কারণ সে আল্লাহ ছাড়া  অন্যের জন্য সিজদা করেছে। আর সিজদা হবে শুধু আল্লাহর জন্য।

মাজমুঊ ফাতওয়া ও রাছাইল- 24/224

শরিয়তের দলিল ও  উছুলের আলোকে ইবনে  উছাইমিন রহঃ এঁর বক্তব্য স্পষ্ট ভুল ও বাড়াবাড়ি। কবরে শায়িত ব্যক্তির জন্য শুধু ইবাদতের নিয়তে সিজদা করলে শিরক হবে। ইবাদতের নিয়ত ছারা সিজদা করলে হারাম হবে। শাইখ সালহ আল-মুনাজ্জিদের ফাতওয়া থেকে উপরে আমরা দলিল আলোচনা করেছি।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এসব বিষয়ে বাড়াবাড়ি ও ছাড়া-ছাড়ি থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

 

শিরক সমাচার

শিরক সমাচার -১ 

কয়েকটা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কাজ করার ইচ্ছা ছিলো। অনেকের সাথে অঙ্গীকারবদ্ধও ছিলাম। কিছু ব্যস্ততার জন্য তেমন সময় দিতে পারি না। আরও কিছু দিন হয়তো বিচ্ছিন্ন থাকবো।
একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্যের কাছে কিছু চাওয়া। এক্ষেত্রে আমাদের কী বিশ্বাস রাখতে হবে। কতটুকু পর্যন্ত ইসলামের গন্ডির মধ্যে থাকবে। এ বিষয়টা নিয়ে একটু বিস্তারিত আলোচনা প্রয়োজন।

আকিদার অস্পষ্টতার কারণে বিষয়টি অনেক সময় ভয়াবহ হয়ে ওঠে। সঠিক আকিদা না জানার কারণে নিজে যেমন ভুলের মধ্যে থাকে। সেই সাথে অন্যকেও আক্রমণের লক্ষ্য বানায়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ইমাম ইবনুল জাওযী রহ. তার বিখ্যাত কিতাব আল-ওফা বি-আহওয়ালিল মুস্তফা কিতাবে আবু বকর আল-মিনকারী থেকে একটা ঘটনা বর্ণনা করেছেন। ইমাম ত্ববারানী, ইমাম আবুশ শায়খ ও ইমাম আব বকর মিনকারী মদিনায় অবস্থান করছিলেন। এক সময় তারা মারাত্মক ক্ষুধার্ত হয়ে পড়েন। ইমাম আবু বকর মিনকারী বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমরা ক্ষুধার্ত। আমরা ক্ষুধার্ত। একথা বলে আমি উঠে যাচ্ছিলাম। আবুশ শায়খ আমাকে বললো, বসো। হয়তো রিজিকের ব্যবস্থা হবে না হয় এখানে ইন্তেকাল করবো।

Read More

ইমাম তিরমিজী রহ. এর তাবীল সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়া রহ ও তার ছাত্রের মূল্যায়ন

ইমাম তিরমিজী রহ. তিরমিজি শরীফের ৩২৯৮ নং হাদীসে একটি দীর্ঘ হাদীস উল্লেখ করেছেন। হাদীসটির মান নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে। আমাদের আলোচনা সেটি নয়। হাদীস উল্লেখ করে ইমাম তিরমিজী রহ. হাদীসের একটি তাবীল বা ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন। সেই তাবীল সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়া রহ. ও তার ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বিশেষ মন্তব্য করেছেন। আমরা এখানে তাদের মন্তব্য দু’টি আলোচনা করবো।

প্রথমে হাদীসের শেষ অংশটি দেখা যাক।

রাসূল স. বলেছেন,
والذي نفس محمد بيده لو أنكم دليتم رجلا بحبل إلى الأرض السفلى لهبط على الله
সেই মহান সত্ত্বার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, তোমরা যদি কাউকে দড়ি দিয়ে ভূপৃষ্ঠের তলদেশে নামিয়ে দাও, তাহলে সে আল্লাহর কাছে গিয়ে উপনীত হবে।

ইমাম তিরমিজী রহ. এই হাদীসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন,
فسر بعض أهل العلم هذا الحديث فقالوا‏:‏ إنما هبط على علم الله وقدرته وسلطانه‏.‏
আলেমগণ এই হাদীসের ব্যাখ্যা করেছেন। তারা বলেছেন, ঐ ব্যক্তি আল্লাহর ইলম, কুদরত ও ক্ষমতার কাছে উপনীত হবে।

অর্থাত হাদীসে রয়েছে জমিনের তলদেশে গেলেও সেখানে আল্লাহ রয়েছেন। এখানে ইমাম তিরমিজী রহ. আলেমদের ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন, জমিনের তলদেশে আল্লাহ রয়েছেন এর অর্থ হলো, আল্লাহর ইলম ও কুদরত রয়েছে।

এটি ইমাম তিরমিজী ও অন্যান্য আলেমদের পক্ষ থেকে তাবীল বা ব্যাখ্যা।

আসুন এবার দেখি, এই ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়া রহ. ও তার ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম রহ. কী মন্তব্য করেছেন।

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. ইমাম তিরমিজী রহ. এর তাবীল সম্পর্কে বলেছেন,
وأما تأويل الترمذي وغيره بالعلم فقال شيخنا : هو ظاهر الفساد من جنس تأويلات الجهمية
অর্থ: ইমাম তিরমিজী ও অন্যান্যরা হাদীসে ভূগর্ভে আল্লাহর কাছে উপনীত হবে এর ব্যাখ্যায় বলেছেন আল্লাহর ইলমের কাছে উপনীত হবে। তাদের এ তাবীল সম্পর্কে আমার উস্তাদ (ইবনে তাইমিয়া রহ:) বলেছেন, তাদের এই তাবীলটি সুস্পষ্ট বাতিল। এটি জাহমিয়াদের তাবীলের মতো।
সূত্র: মুখতাসারুস সাওয়াকিল মুরসালা। https://goo.gl/F8G6yI

ইবনে তাইমিয়া রহ. উক্ত বক্তব্যটি তার মাজমুউয়াতুল ফাতাওয়াতেও রয়েছে। মূল কিতাবের ষষ্ঠ খন্ডের ৩৪৩ পৃষ্ঠায় বক্তব্যটি রয়েছে। পিডিএফ থেকে দেখুন,
https://goo.gl/0UGvAF

ইমাম তিরমিজী রহ. যে তাবীলটি উল্রেখ করেছেন এটি অন্যান্য অনেক আলেমের তাবীল। এই তাবীল সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়া রহ.এর অভিমত হলো এটি স্পষ্ট বাতিল এবং জাহমিয়াদের তাবীল। ইমাম তিরমিজী রহ. এর তাবীল হলো তাদের নিকট জাহমিয়াদের তাবীল।

আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করছি না….

সালাফি আকিদার ব্যাবচ্ছেদ

আমার এক ছোট ভাই কুষ্টিয়া ইউনিভারসিটি তে পড়ে। সেখানে সৌদি থেকে পরা-শুনা করা এক শিক্ষক তাফসির পড়ান। নিয়ম মত শাইখ আশ-আরি মাতুরিদি আকিদা সম্পর্কে বিশদ্গার করে থাকেন। ইমাম ফখরুদ্দিন রাজী রহঃ সহ আহলে সুন্নতের বড় বড় ইমামদের সমালোচনা করেন। সিফাতের মাসলায় একমাত্র সালাফিদের আকিদা সঠিক। এগুলো তিনি তাফসীরের ক্লাসে প্রায় আলোচনা করেন।

আমি ছোট ভাইকে বললাম, আচ্ছা ধরে নিলাম সবার আকিদা ভুল। সালাফিদের আকিদা একমাত্র সঠিক। ভালো। স্যার যেহেতু তাফসির পড়ান, স্যারকে বিনয়ের সাথে জিজ্ঞেস করবে যে, স্যার, সালাফিদের এই আকিদা-বিশ্বাস পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করে লিখিত মাত্র একটা তাফসির এর কিতার এর নাম বলুন। সালাফদের যুগ থেকে বহু তাফসির লেখা হয়েছে, সালাফি আকিদা পরিপূর্ণ মেনে লিখিত একটা বিখ্যাত তাফসীরের নাম বলুন। ব্যাস।

আমার সেই ছোট ভাই স্যারকে প্রশ্ন করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, স্যার কৌশলে প্রশ্নটি এড়িয়ে গেছেন।

আমিও এমনটি ভেবেছিলাম। স্যার এড়িয়ে যাবেন। সাধারণত সালাফি শাইখরা কিছু সত্য এড়িয়ে যান।

আসুন একটা সত্যের মুখোমুখি হই। আহলে সুন্নতের লেখা বিখ্যাত তাফসির গুলো নিয়ে বসি। দেখি, পরিপূর্ণভাবে কেঊ সালাফিদের আকিদা মেনে নিয়েছেন কি না?

যেসব মুফাসসির সালাফি আকিদা ফলো করেনি, তাদেরকে বাতিল ঘোষণা দিয়ে উম্মতকে সতর্ক করা আমাদের সালাফি ভাইদের একটা নৈতিক দায়িত্ব মনে করি।

আমার জানা মতে, বিখ্যাত তাফসিরবিদগণ কেউ পরিপূর্ণভাবে সালাফিদের আকিদা ফলো করেনি। সালাফি ভাইদের উচিত, বিষয়টা উম্মতের সামনে আনা এবং এসব মুফাসসিরের আকিদা সম্পর্কে স্পষ্ট ফয়সালা দেওয়া। যেমন তারা আহলে সুন্নতের অন্যান্য আলেমদেরকে বাতিল বলে প্রচার করে থাকে, একইভাবে এসব মুফাসসির ও তাদের তাফসির সম্পর্কে স্পষ্ট ফয়সালা দেওয়া উচিত।

Page 1 of 4

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA