iDEA

islamic dawah and education academy

Author: ijharul islam (Page 1 of 6)

আহলে হাদীসদের সাথে আমাদের মৌলিক বিরোধ কোথায়?

আহলে হাদীসদের বিরুদ্ধে আমরা কেন কথা বলছি? বর্তমান যুগে এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জবাব জানা সমস্ত মুসলিমদের জন্য জরুরী! বিস্তারিত জানতে ভিডিও দেখুন

এখানে বক্তব্যের কিছু বিশেষ অংশ তুলে ধরা হলোঃ আহলে হাদীসদের কিতাবে সাহাবায়ে কেরাম রাঃ দের বিরুদ্ধে বিষোদগার পাওয়া যায়! আহলে হাদীসদের এক মহা (!) মনিষী বলেন,কিছু কিছু সাহাবী ফাসেক ছিলেন! (নাউযুবিল্লাহ) এদের কিতাবে আরো আছে, কিছু কিছু সাহাবীদের রাদিআল্লাহু আনহু বলা যাবেনা! (নাউযুবিল্লাহ)।
(অথচ হাদীসে বলা হয়েছে,সাহাবায়ে কেরাম রাঃ সমালোচকদের উপর আল্লাহর লানত!) ।

আহলে হাদীসদের কিতাবে আছে আল্লাহ আরশে বসে আছেন এবং কিয়ামতের দিন আরশে আল্লাহর পাশে রাসূল সাঃ বসবেন! (নাউযুবিল্লাহ) এদের আরো ভ্রান্ত আকিদাহ হলো, আল্লাহ তায়ালার অঙ্গপ্রত্যঙ্গ আছে! এরা বিশ্বাস করে আল্লাহর ছায়া আছে! আল্লাহ দৌড়ান! (নাউযুবিল্লাহ)

মাযহাবের ইমামদের শরিয়াহ সিদ্ধান্ত কুরআন ও হাদীসেরই অংশ ও ব্যাখ্যা। অথচ,এই আহলে হাদীসরা কুরআন-হাদীসের ব‍্যাখ‍্যা তথা মাযহাবের বিষয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করছে!

গত ২২ ডিসেম্বর ২০১৫, ঐতিহ্যবাহী জামেয়া ক্বাসিমুল উলুম দরগাহে হজরত শাহজালাল রহঃ, সিলেট বাংলাদেশ এর উদ্যোগে,মাযহাব বিষয়ক তাহাফ্ফুজে সুন্নাহ কনফারেন্স,মাযহাব ও আহলে হাদীসদের ভ্রান্ত আকিদাহ বিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন,মুফতী ইজহারুল ইসলাম আল-কাউসারী সাহেব।

 

আফগান মুজাহিদদের কারামত ও কারামত অস্বীকারকারীদের মনস্তত্ত্ব

 আল্লাহ তায়ালা তার প্রিয় বান্দাদেরকে তার অসংখ্য নিয়ামত অবলোকন করান। কখনও সেগুলো সাধারণ মানুষের কাছে প্রকাশিত হয়, কখনও গোপন থাকে। আল্লাহর প্রিয় বান্দাগণের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা যেসব অলৌকিক ঘটনা বা অপ্রাকৃতিক বিষয় প্রকাশ করেন, সেগুলোকে কারামত বলা হয়। কারামত কখনও বান্দার নিজস্ব ক্ষমতা বা ইচ্ছায় সংঘঠিত হয় না। একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছা ও তার ক্ষমতায় বান্দার হাতে কারামত প্রকাশিত হয়। এক্ষেত্রে বান্দা উপলক্ষ মাত্র। মূল ক্ষমতা ও ইচ্ছা একমাত্র আল্লাহ তায়ালার।  কোন ব্যক্তি যদি প্রকৃত অর্থে আল্লাহর প্রিয় বান্দা হয়, এবং তার থেকে অস্বাভাবিক কোন কারামত প্রকাশিত হয়, তবে এটা অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে। ঐতিহাসিকভাবে বর্ণিত কারামতের সত্যতা যাচাই করাও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বর্তমানে সংগঠিত কারামত হোক, কিংবা ঐতিহাসিক সূত্রে বর্ণিত হোক, কারামতে বিশ্বাস স্থাপন আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের মৌলিক আকিদার একটি অংশ। কেউ যদি বস্তুবাদী ধ্যান-ধারণায় বিশ্বাসী হয়ে কারামত অস্বীকার করে তাহলে সে শুধু আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত থেকে বের হবে না, সেই সাথে ইমানহারা হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসসমূহে অসংখ্য কারামত বর্ণিত হয়েছে। মৌলিকভাবে কারামত অস্বীকারের অর্থ হল কুরআন ও হাদীসের এসব ঘটনা অস্বীকার করা। কারামত থেকে শিরক অনুসন্ধানের চেষ্টাও একটি ইমান বিধ্বংসী প্রয়াস।

Read More

আহলে হাদীসদের আকিদা-বিশ্বাস

আহলে হাদীসদের বর্তমান মুখপাত্র মুতিউর রহমান মাদানী বিভিন্ন ইসলামী দলের বিরুদ্ধে লেকচার দিয়ে থাকেন। এসব ইসলামী দলকে কাফের-মুশরিক, খারেজী, বাতিল, গোমরাহ  আখ্যা দেয়া তার মূল কাজ। এই লোকটি বর্তমান বিশ্বে দ্বীনের খেদমতে সবচেয়ে বেশি অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী দেওবন্দী উলামায়ে কেরাম সম্পর্কেও  লেকচার দিয়েছে। সে দেওবন্দী আকিদা নামে একটি লেকচার দিয়েছে। আহলে হাদীসদের নিকট এ লেকচারটি খুবই পরিচিতি লাভ করেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই তথাকথিত আহলে হাদীস মাদানী দুনিয়ার অন্য সবার বিরুদ্ধে লেকচার দিলেও আহলে হাদীস আলেমদের সম্পর্কে কখনও কোন লেকচার দেয় না। সালাফী আলেমদের বাতিল আকিদার বিরুদ্ধে কোন লেকচার সে দেয় ন। সৌদি আরবের নিয়মিত বেতন-ভাতা ভোগ করার কারণে সৌদি সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধেও মুখ খোলে না। এই দরবারী আলেম যেসব কারণ দেওবন্দী আলেমদের সমালোচনা করেছে, হুবহু সেসব আকিদা তথাকথিত সালাফী বা আহলে হাদীস আলেমরা পোষণ করলেও সে কখনও এদের বিরুদ্ধে কিছু বলে না। নিজের দলের হাজারটা ভুল থাকলেও সে অন্যের ভুল ধরতে উস্তাদ।

দেওবন্দী আলেমরা যদি কুফুরী-শিরকী আকিদা রাখে, তাহলে তাদের চেয়ে জঘন্য আকিদা রেখে তথাকথিত সালাফী-আহলে হাদীসরা তুলসী পাতা হয় কী করে? আমরা এবারের আলোচনায় ভারত উপমহাদেশের আহলে হাদীসদের বিখ্যাত আলেমদের আকীদা সম্পর্কে আলোচনা করবো। মতিউর রহমান ও তার ভক্তদের কাছে নিবেদন থাকবে, এসব আহলে হাদীসদের বিরুদ্ধেও  লেকচার তৈরি করুন। তাদেরকে কাফের-মুশরক, বাতিল-গোমরাহ ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে লেকচার দিন। আমরা আপনাদের উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম। আমরা এ পর্বগুলোতে মতি মাদানীর মিথ্যাচারের জওয়াব দিবো না। শুধু আহলে হাদীসদের সেসব আকিদা বর্ণনা করবো, যেগুলো মাদানী আহলে হাদীসদের নিকট কুফুরী ও শিরকী। ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে দেওবন্দী আকিদার নামে মতি মাদানী দেওবন্দী আলেমদের সম্পর্কে যে মিথ্যাচার করেছ তার বিস্তারিত উত্তর দেয়া হবে।

Read More

সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে আহলে হাদীসদের দৃষ্টিভঙ্গি (৪)

হযরত উমর রা. ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শরীয়ত বিরোধী মাসআলা দিতেন:

জামিয়া সালাফিয়া বেনারস এর গবেষক মুহাম্মাদ রইস নদভী আহলে হাদীস তানবীরুল আফাক নামে একটি কিতাব লিখেছে। এ কিতাবে সে হযরত উমর রা. ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা, সম্পর্কে লিখেছে,

অর্থাৎ স্পষ্টত: শরীয়তের নির্দেশনার বিপরীতে  এই দু’জন সম্মানিত সাহাবীর অবস্থান আমলযোগ্য ও শরীয়তের দলিল হতে পারে না। এটিও স্পষ্ট যে, বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত হলো, এই দুই সাহাবী যেহেতু শরীয়ত বিরোধী বিষয়টি গ্রহণ করেছিলেন, এজন্য তাদেরকে শরীয়তবিরোধী আখ্যায়িত করা হবে। [তানবীরুল আফাক, পৃ.৮৭-৮৮]

নাউযুবিল্লাহ, ছুম্মা নাউযুবিল্লাহ। হযরত উমর রা. ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে বার শরীয়ত বিরোধী আখ্যা দেয়ার মূল মাসআলাটি হলো, একই সাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাক পতিত হওয়া। পুরো মুসলিম উম্মাহ এ বিষয়ে একমত যে, একই সাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাক পতিত। তথাকথিত গাইরে মুকাল্লিদরা সমগ্র  সাহাবা ও মুসলিম উম্মাহের বিরোধীতার করে তিন তালাককে এক তালাক বানিয়েছে। হযরত উমর রা. ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. যেহেতু তাদের মতের বিপক্ষে গিয়েছে, এজন্য বার বার তাদেরকে শরীয়ত বিরোধী আখ্যা দিয়েছে, নাউযুবিল্লাহ। এসব লেখা পড়লে সন্দেহ হয়, এটি শিয়াদের লেখা না কি আহলে হাদীসদের?

Read More

সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে আহলে হাদীসদের দৃষ্টিভঙ্গি(৩)

হযরত আয়েশা রা. কে মুরতাদ আখ্যা

ইংরেজদের সময়ে সৃষ্ট তথাকথিত ভ্রান্ত মতবাদ আহলে হাদীসের পুরোধা হলো মৌলিভি আব্দুল হক বেনাসরী। পথভ্রষ্ট এই লোকটি এতটা সাহাবী বিদ্বেষী ছিলো যে সে হযরত আয়েশা রা. কে মুরতাদ আখ্যায়িত করে। ভারত উপমহাদেশে আহলে হাদীস ফেতনাটি সাহাবী বিদ্বেষী এই পথভ্রষ্ট্রের হাতে জন্ম লাভ করে। আব্দুল হক বেনারসী মূলত: হিন্দু ছিলো। আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা ইহুদীর মতো লোক দেখানো ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে থাকে। “মুযাহেরে হক” কিতাবের স্বনামধন্য লেখক মাওলানা কুতুব উদ্দীন তার “তুহফাতুল আরব ওয়াল আযম”গ্রন্থে লিখেন- “সৈয়দ আহমদ শহীদ রহঃ,মাওলানা ইসমাইল শহীদ রহঃ ও মাওলানা আব্দুল হাই রহঃ পাঞ্জাবে আগমন করার পরপর্‌ই কতিপয় বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীর সমন্বয়ে চার মাযহাবের ইমামগণের তাকলীদ অস্বীকারকারী নতুন ফিরকাটির সুত্রপাত লক্ষ করা যায়। যারা হযরত সায়্‌য়িদ আহমদ শহিদ রহঃ-এর মুজাহিদ বাহিনীর বিদ্রোহী গ্রুপের সদস্য ছিলেন,এদের মুখপাত্র ছিলেন মৌলভী আব্দুল হক বেনারসী(১২৭৫ হিঃ) তার এই ধরনের অসংখ্য ভ্রান্ত কর্মকান্ডের কারণে সাইয়ে‍্যদ আহমদ শহিদ রহঃ ১২৪৬ হিজরীতে তাকে মুজাহিদ বাহিনী থেকে বহিষ্কার করেন। তখন্‌ই গোটা ভারতবর্ষের সকল ধর্মপ্রাণ জনগন, বিশেষ করে শহিদ রহঃ এর খলীফা ও মুরীদগন হারামাইন শরিফাইনের তদানিন্তন উলামায়ে কেরাম ও মুফতিগণের নিকট এ ব্যপ্যারে ফতওয়া তলব করেন।ফলে সেখানখার তৎকালীন চার মাযহাবের সম্মানিত মুফতিগন ও অন্যান্য উলামায়ে কেরাম সর্বসম্মতিক্রমে মৌলবী আব্দুল হক বেনারসী ও তার অনুসারীদেরকে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী ফিরকা বলে অভিহিত করেন করেন এবং বেনারসীকে কতল(হত্যা)করার নির্দেশ প্রদান করেন।(এ ফতওয়া ১২৫৪ হিজরীতে তাম্বীহুদ্দাল্লীন নামে প্রকাশ করা হয়). বেনারসী পলায়ন করত ঃ কোনভাবে আত্নরক্ষা পান। সেখান থেকে গিয়ে তিনি নবআবিষ্কৃত দলের প্রধান হয়ে সরলমনা জনসাধারণের মধ্যে তার ভ্রান্ত মতবাদ ছড়াতে থাকে।” (তুহফাতুল আরব ওয়াল আজম, পৃঃ১৬, খঃ২; আল-নাজাতুল কামেলা, পৃঃ২১৪; তম্বীহুদ্দাল্লীন, পৃঃ৩১)

Read More

সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে আহলে হাদীসদের দৃষ্টিভঙ্গি (২)

সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে কাজী শাওকানী ও নওযাব সিদ্দিক হাসান খানের জঘন্য বক্তব্য:

এ পর্বে আহলে হাদীসদের বিখ্যাত দুই গুরুর বক্তব্য তুলে ধরা হলো।

হযরত ত্বলহা ও যোবায়ের রা. এর ব্যাপারে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ:

কাজী শাওকানী  ওবালুল গামাম নামে একটি কিতাব লিখেছেন। কিতাবটি তাহকীক করেছেন, মুহাম্মাদ সাবহী হাসান হাল্লাক। এটি প্রকাশ করেছে, মাকতাবাতুল ইলম, জিদ্দা ও মাকতাবায়ে ইবনে তাইমিয়া, কায়রো। প্রথম প্রকাশ, ১৪১৬ হি:

 

ওবালুল গামামের দ্বিতীয় খন্ড, পৃ.৪১৪-৪১৫ পৃষ্ঠায় হযরত ত্বলহা ও হযরত যুবায়ের রা. সম্পর্কে কাজী শাওকানী লিখেছে,

أما طلحة والزبير ومن معهم , فلأنهم قد كانوا بايعوه , فنكثوا بيعته بغياً عليه , وخرجوا في جيوش من المسلمين , فوجب قتاله

অর্থ: ত্বলহা, যোবায়ের ও তাদের সাথীরা যেহেতু হযরত আলী রা. এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন, অত:পর তার সাথে বিদ্রোহ করে তার বাইয়াত ভঙ্গ করেছে এবং মুসলমানদের একটি সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করেছে, সুতরাং তাদের সাথে হযরত আলী রা. এর যুদ্ধ করা ওয়াজিব হয়ে গেছে।  

Read More

সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে আহলে হাদীসদের দৃষ্টিভঙ্গি (১)

ভূমিকা

সাহাবায়ে কেরামের মর্যাদা ও সম্মান সস্পর্কে কুরআন ও হাদীসের বিস্তারিত বর্ণনা এখানে নিষ্প্রয়োজন। আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাতের একটা শিশুও সাহাবায়ে-কেরামের মর্যাদার ব্যাপারে সচেতন। সাহাবায়ে কেরাম রা. যেমন ছিলেন সত্যের মাপকাঠি, তেমনি তারা দুনিয়া থেকেই আল্লাহর সন্তুষ্টির ঘোষণাপ্রাপ্ত। ইসলামের সঠিক পথ নির্ণয়ের মাপকাঠি হলো, সাহাবায়ে কেরাম রা. এর অনুসৃত পথের অনুসরণ। যুগে যুগে যারাই সাহাবায়ে কেরাম রা. এর পথ থেকে দূরে সরে গিয়েছে, তারাই গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট হয়েছে। হক ও বাতিলের মাঝে পার্থক্যকারী হলেন সাহাবায়ে কেরাম। যারা সাহাবায়ে কেরামকে যথাযথ সম্মান করে, তাদের অনুসৃত পথে চলে,তারাই মুলত: কুরআন ও সুন্নাহের প্রকৃত অনুসারী। সাহাবায়ে কেরামের অনুসৃত পথ ব্যতীত লক্ষ-কোটি বারও কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরণের দাবী করলেও তারা গোমরাহ ও পথভ্রষ্ট।

যুগে যুগে যারা সাহাবায়ে কেরামের বুঝকে পায়ে দলে, তাদের অনুসৃত পথকে দূরে সরিয়ে নিজেদের মনগড়া মতবাদ চালু করেছে, তারাই মুলত: ভ্রষ্টতার গভীরে নিমজ্জিত হয়েছে। সাহাবায়ে কেরামের যথার্থ সম্মান ও মর্যাদা না দিয় যারা তাদের সমালোচনা করেছে, তারাই যুগে যুগে আস্তাকুড়ে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। সুতরাং হক ও বাতিলের পরিচয়ের জন্য আমাদের বিস্তর গোবেষণার প্রয়োজন নেই। সবচেয়ে সহজ উপায় হলো, আমরা দেখবো, কারা রাসূল স. এর সাহাবাদের অনুসৃত পথে চলে। যারা কুরআন ও সুন্নাহকে সাহাবায়ে কেরাম এর বুঝ অনুযায়ী অনুসরণ করে তারাই মুলত: মুক্তিপ্রাপ্ত সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত দল। এর বাইরে যতো দল, মত বা মতবাদ রয়েছে, সবগুলোই ভ্রষ্টতা ও গোমরাহী।

Read More

ভ্রান্ত সালাফী আকিদার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস(৪)

হাশাবিয়া মুহাদ্দিসদের মাঝে মুশাববিহা ও মুজাসসিমা ফেরকা: 

মুকাতেলিয়া ফেরকা:

মুকাতিল ইবনে সুলাইমান আল-বালখী (মৃত:১৫০ হি:) ও তার অনুসারীদেরকে মুকাতিলিয়া ফেরকা বলা হয়। মুকাতিল ইবনে সুলাইমান তাফসীর শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ছিলো, কিন্তু আক্বিদার ক্ষেত্রে সে ছিলো মুশাববিহা ও মুজাসসিমা। হাদীস শাস্ত্রে মুহাদ্দিসদের ঐকমত্য অনুসারে সে পরিত্যক্ত।

ইমাম যাহাবী রহ. সিয়ারু আ’লামিন নুবালাতে লিখেছেন,

أجمعوا على تركه

অর্থ: হাদীস শাস্ত্রে সে পরিত্যাক্ত হওয়ার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের ইজমা হয়েছে।[১]

মুকাতিল ইবনে সুলাইমান মুজাসসিমা হওয়ার বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তার আক্বিদা বিশ্বাস বাতিল হওয়ার ব্যাপারেও কারও দ্বিমত নেই।

ইমাম আবুল হাসান আশআরী রহ. তার সম্পর্কে বলেন,

حكي عن أصحاب مقاتل أن الله جسم وأن له جثةً وأنه على صورة الإنسان لحم ودم وشعر وعظم وجوارح وأعضاء من يد ورجل ورأس وعينين مصمت وهو مع ذلك لا يشبه غيره ولا يشبهه غيره

অর্থ: মুকাতিল ইবনে সুলাইমানের অনুসারীদের থেকে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তায়ালা দেহ ও শরীর বিশিষ্ট। তিনি মানুষের আকৃতি বিশিষ্ট। আল্লাহর গোশত, রক্ত, চুল, হাড্ডি ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গ যেমন হাত, পা, মাথা ও দু’ চোখ রয়েছে। এগুলো থাকা সত্ত্বেও তিনি কারও সঙ্গে সাদৃশ্য রাখেন না এবং কেউ তার সদৃশ নয়।[২]

Read More

ভ্রান্ত সালাফী আকিদার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস (৩)

মুগিরিয়া ফেরকা:

মুগিরা ইবনে সাইদ আল-ইজলি (মৃত:১১৯ হি:) ও তার অনুসারীদেরকে মুগিরিয়া বলা হয়। ইমাম যাহাবী মুগিরা ইবনে সাইদ সম্পর্কে বলেন,

وكان هذا الرجل ساحراً فاجراً شيعياً خبيثاً

অর্থ: সে যাদুকর, পাপী, শিয়া ও নিকৃষ্ট প্রকৃতির লোক ছিলো।

মুগিরিয়া ফেরকার আক্বিদা সম্পর্কে ইমাম আব্দুল কাহের বাগদাদী রহ. বলেন,

ومنها إفراطه في التشبيه، وذلك أنه زعم أن معبوده رجل من نور على رأسه تاج من نور، وله أعضاء على صور حروف الهجاء، وأن الألف منها مثال قدميه والعين على صورة عينيه، …ومنها أنه تكلم في بدء الخلق فزعم أن الله تعالى لما أراد أن يخلق العالم تكلم باسمه الأعظم فطار ذلك الاسم ووقع تاجاً على رأسه. وتأول على ذلك قوله تعالى: (سبح اسم ربك الأعلى) وزعم أن الاسم الأعلى إنما هو ذلك التاج. ثم إنه بعد وقوع التاج على رأسه كتب بإصبعه على كفه أعمال عباده. ثم نظر فيها فغضب من معاصيهم فعرق، فاجتمع من عرقه بحران أحدهما مالح والآخر عذب. ثم اطلع في البحر فأبصر ظله فذهب ليأخذه فطار فانتزع عيني ظله فخلق منها الشمس والقمر، وأفنى باقي ظله وقال: لا ينبغي أن يكون معي ثم خلق الخلق من البحرين فخلق الشيعة من البحر العذب النير فهم المؤمنون وخلق الكفرة وهم أعداء الشيعة من البحر المظلم المالح

অর্থ: তার ভ্রান্ত বিষয়গুলোর একটি হলো সে আল্লাহ তায়ালাকে নিকৃষ্টভাবে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য প্রদান করতো। সে বিশ্বাস করতো, আল্লাহ তায়ালা  আলোকময় এক ব্যক্তি, যার মাথায় নূরের মুকুট রয়েছে। আরবী বর্ণমালার আকৃতি অনুযায়ী আল্লাহর আকৃতি রয়েছে। আরবী বর্ণমালার আলিফ আল্লাহর পায়ের উদাহরণ। আরবী আইন অক্ষরটি আল্লাহর চোখের অনুরূপ। সে বিশ্বাস করতো, আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির শুরুতে কথা বলেন। সে ধারণা করতো আল্লাহ তায়ালা যখন মহাবিশ্ব সৃষ্টির ইচ্ছা করেন তিনি তার ইসমে আ’জম উচ্চারণ করেন। এই ইসমে আজম উড়ে গিয়ে তার মাথায় বসে এবং এটি তার মুকুট হয়। সে তার বক্তব্যের প্রমাণ হিসেবে পবিত্র কুরআনের আয়াত উপস্থাপন করে এর বিকৃত ব্যাখ্যা করে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আপনি আপনার প্রভূর নামের পবিত্রতা বর্ণনা করুন, যিনি মহান। সে এই আয়াতের বিকৃত ব্যাখ্যা করে বলেছে, এখানে সম্মানিত নাম দ্বারা আল্লাহর মুকুট উদ্দেশ্য। আল্লাহ তায়ালার মাথায় এই মুকুট আসার পর তিনি তার দুই আঙ্গুল দ্বারা হাতের তালুর উপরে বান্দার আমল লিপিবদ্ধ করেছেন। অত:পর তিনি এই আমলগুলোর দিকে দৃষ্টি বুলান। বান্দার গোনাহ দেখে তিনি রাগান্বিত হয়ে যান। এই রাগের কারণে তিনি ঘর্মাক্ত  হয়ে যান। তার ঘাম থেকে দু’টি সমুদ্র প্রবাহিত হয়। একটি লবণাক্ত, অপরটি সুমিষ্ট। এরপর তিনি সমুদ্রের দিকে উঁকি দেন। সেখানে তিনি নিজের ছায়া দেখতে পান। তিনি সেটা ধরতে যান। কিন্তু ছায়া উড়ে যায়। এরপর তিনি তার নিজ ছায়া থেকে চন্দ্র ও সূর্য সৃষ্টি করেন। অবশিষ্ট ছায়াকে তিনি নি:শেষ করে দেন। অত:পর তিনি বললেন, এগুলো আমার সাথে থাকা উচিৎ নয়। দুই সমুদ্র থেকে তিনি মাখলুককে সৃষ্টি করলেন। সুমিষ্ট পানির সমুদ্র থেকে শিয়াদেরকে সৃষ্টি করেন এবং লবণাক্ত  ও অন্ধকার সমুদ্র থেকে শিয়াদের শত্রুদেরকে সৃষ্টি করেন।”[১]

Read More

বড় বড় মনিষী অনারব ছিলেন !!

Page 1 of 6

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA