iDEA

islamic dawah and education academy

Author: ijharul islam (Page 2 of 6)

টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা সম্পর্কে মদিনা ইউনির্ভাসিটির প্রতিনিধি দলের রিপোর্ট

ভ্রান্ত সালাফী আকিদার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ(২)

স্রষ্টাকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য প্রদানে বাতিল ফেরকাসমূহ  আসমানী ধর্মসমূহের মধ্যে স্রষ্টাকে সৃষ্টির স্তরে নামিয়েছে ইহুদীরা। খ্রিষ্টানরা স্বয়ং সৃষ্টিকে স্রষ্টা বানিয়েছে। এভাবে মূল তাউহীদের আক্বিদায় মারাত্মকভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে কুফুর-শিরকে নিপতিত হয়েছে। পরবর্তীতে মুসলমানদের অনেক বাতিল ফেরকা ইহুদী-খ্রিষ্টানদের এসব কুফুরী-শিরকী আক্বিদা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে ইহুদী-খ্রিষ্টানদের কুফুরী আক্বিদাগুলো মুসলমানদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। ইহুদী বর্ণনার দ্বারা প্রভাবিত মুসলমানদের মধ্যে সর্বপ্রথম শিয়ারা এসব কুফুরী আক্বিদা প্রচার করে। এদের পাশাপাশি একদল অজ্ঞ মুহাদ্দিস কুরআন-সুন্নাহের বাহ্যিক শব্দ অনুসরণের নামে ইহুদীদের এসব কুফুরী আক্বিদা প্রচার করতে থাকে।

এবাবে সাধারণ মুসলমানদের মাঝে ইহুদী-খ্রিষ্টানদের কুফুরী আক্বিদাগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মুসলমানদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে এবং কুরআন সুন্নাহের অনুসরণের ধুয়ো তুলে তারা অনেক সাধারণ মানুষকেও এসব কুফুরী আক্বিদার দিকে পরিচালিত করে। আল্লাহ তায়ালার নাম ও গুণাবলী বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে এসব বাতিল ফেরকাসমূহের পরিচিতি স্পষ্ট হওয়া আবশ্যক।

Read More

ভ্রান্ত সালাফী আকিদার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ (১)

আসমানী কিতাব যাদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে তাদের মধ্যে ইহুদীরা আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্য প্রদান করেছে। বনী ইসরাইল আল্লাহ তায়ালার জন্য এমনসব গুণাবলি সাব্যস্ত করেছে যা কেবল মানুষ ও সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মুসা আ. এর এর উপস্থিতিতে তারা তাজসীম তথা আল্লাহ তায়ালার দেহ সাব্যস্তের মতো বাতিল আক্বিদার দিকে ধাবিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তার দয়া ও রহমতের মাধ্যমে বনী ইসরাইলকে ফেরআউনের কবল থেকে রক্ষা করেন, অথচ সমুদ্র পার হয়ে তারা মুসা আ. কে আল্লাহর মূর্তি বানিয়ে দেয়ার আবেদন জানিয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,

وجاوزنا ببني إسرائيل البحر فأتوا على قوم يعكفون على أصنام لهم قالوا يا موسى اجعل لنا إلها كما لهم آلهة

অর্থ: আর আমি বনী ইসরাইলকে সাগর পার করে দিয়েছি, তখন তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে পৌঁছলো, যারা নিজেদের বানানো কতোগুলো প্রতিমার পূজায় রত ছিলো। বনী ইসরাইল বলল, হে মুসা, আমাদের জন্য এরূপ একটি উপাস্য নির্ধারণ করে দেন, যেরূপ এদের উপাস্য রয়েছে।[১]

পবিত্র কুরআনে আরও স্পষ্টভাবে বনী ইসরাইলের এই মানসিকতা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা মহান আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য দিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি, বরং রীতিমত মূর্তি বানিয়ে তার পূজা শুরু করেছে। তারা সর্বদা আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সদৃশ একটি সত্ত্বা বলেই বিশ্বাস করতো।

Read More

ফাজাইলে আমলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তাত্ত্বিক পযর্ালোচনা (বই)

মূল: ওকীলে আহনাফ মাওলানা ইলিয়াস গুম্মান হাফিজাহুল্লাহ

অনুবাদ: তৌফিক মো: হোসেন

সম্পাদনা: মুফতী আব্দুল আজিজ

ডাউনলোড করুন

 

মুফতী ইজহারুল ইসলাম আল-কাউসারীর কয়েকটি মূল‍্যবান কিতাব

উলামায়ে দেওবন্দের আক্বিদা-বিশ্বাস -১ (আল-মুহান্নাদ আলাল-মুফান্নাদের বঙ্গানুবাদ)

ভূমিকা:

দেওবন্দী বরেণ্য আলেমগণের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:

একাদশ শতাব্দীতে মুজাদ্দিদে আল-ফেসানী রহ. ও তার খলিফাগণ এবং দ্বাদশ শতাব্দীতে শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. ও তাঁর পরিবারের উলামায়ে কেরামগণ ভারত উপমহাদেশে আল্লাহ পাকের অশেষ মেহেরবাণীতে ইলম ও আমল তথা শরীয়তের ও ত্বরীকতের এক উজ্জল বাতি প্রজ্জলিত করেন। সেই বাতির আলোর দিশা নিয়ে ত্রয়োদশ শতাব্দীর শেষ মুহূর্তে মুজাদ্দিদে আল-ফেসানী রহ. ও শাহ ওয়ালীউল্লাহ মুহাদ্দিসে দেহলভী রহ. এর ইলম ও আধ্যাত্ত্বিকতার যোগ্য উত্তরসূরী হুজ্জাতুল ইসলাম হযরত মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ. ও কুতবুল ইরশাদ হযরত মাওলানা রশীদ আহমাদ গাঙ্গুহী রহ. ইসলামী বিশ্বকে আলোকিত করেন।এই দুই মহান ব্যক্তিত্ত্ব বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে ছিলেন ইলম ও আধ্যাত্ত্বিকতার নূরে আলোকিত। রাসূল স. এর পরিপূর্ণ অনুসরণ তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছিলো। প্রিয় নবীজী স. এর মহব্বত তাদের শরীরের প্রতিটি লোমকূপে ব্যাপ্ত ছিলো।

Read More

এক মাজহাব ছেড়ে অন‍্য মাজহাব গ্রহণ: একটি তাত্ত্বিক পযর্ালোচনা

তালফীক ও তার হুকুমঃ

তালফীকের পরিচয়ঃ তালফীকের শাব্দিক অর্থ হল, একত্র করা বা মিলান। তালফীকের পারিভাষিক সংজ্ঞায় উলামায়ে কেরামের মাঝে শাব্দিক কিছু তারতম্য থাকলেও মৌলিক দিক থেকে তালফীককে এভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে-

الجمع بين المذاهب الفقهية المختلفة في أجزاء الحكم الواحد

অর্থাৎ একই হুকুমের বিভিন্ন অংশের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মাযহাবের মতামতকে একত্র করাকে তালফীক বলে।

তালফীকের সার কথা হল, কোন ব্যক্তি কখনও হানাফী মাযহাবের কিছু মাসআলা, কখনও শাফেয়ী, কখনও মালেকী বা অন্য কোন ইমামের মাযহাবের কিছু মাসআলা অনুসরণ করে থাকে। এভাবে সে চার মাযহাব বা অন্য কোন ইমামের কোন মতামতকে তার ইচ্ছানুযায়ী  গ্রহণ করে থাকে, এধরণের ব্যক্তির এ আমলকে তালফীক বলে।

এ ব্যক্তির এক মাযহাব থেকে আরেক মাযহাবের দিকে স্থানান্তরের বিষয়টি তিনটি বিষয় থেকে খালি নয়-

১.    কোন বিশেষ কারণে স্থায়ীভাবে সে অন্য মাযহাব গ্রহণ করেছে। বিষয়টি স্বতঃসিদ্ধ ও বৈধ। এধরণের কাজে কোন নিষেধাজ্ঞা নেই।

২.    এ ব্যক্তি সুযোগ সন্ধানী হয়ে বিভিন্ন মাযহাবের মাঝে যেটি পছন্দ হয়, সেটি গ্রহণ করে। এধরণের কাজ নিন্দনীয় ও অবৈধ।

৩.    কোন একটি নির্দিষ্ট মাসআলার ক্ষেত্রে ইজতেহাদের যোগ্য ব্যক্তি দলিলের আলোকে উদ্দিষ্ট মাসআলা আহরণের জন্য প্রয়াসী হয়ে বিভিন্ন মাযহাবের দলিল বিশ্লেষণ ও তা অবলম্বন করবে।

এ ব্যক্তি যদি ইজতেহাদের যোগ্য হয় এবং প্রান্তিকতা, স্থূলতা, দৃষ্টির সংকীর্ণতা থেকে মুক্ত হয় এবং তার এ গবেষণায় ন্যায়-পরায়ণ হয়, তবে তা শুধু বৈধই নয়, বরং তা ফিকহ শাস্ত্রের একটি প্রশংসনীয় কাজ।

কিন্তু এ ব্যক্তি যদি ইজতেহাদের যোগ্য না হয়, গবেষণায় সত্যানুসন্ধানী-ন্যায়পরায়ণ না হয় এবং প্রান্তিকতার দোষে দুষ্ট হয়, তবে এ ব্যক্তির এ কাজ শুধু নিন্দনীয় নয় বরংএটি তার ঈমান ও আমলের জন্য একটি ধ্বংসাত্মক বিষয়।

Read More

ফতোয়া প্রদানে সতর্কতা অবলম্বন

ইসলামে ফেকাহ শাস্ত্রের গুরুত্ব অপরিসীম। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অধিকাংশ আমল ফেকাহশাস্ত্রের সাথে সম্পৃক্ত। মানুষের জন্ম থেকে কবরে কাফন সহ যাবতীয় আমল ফিকহ শাস্ত্রের উপর নির্ভর করে। ঈবাদত ছাড়াও লেন-দেন, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিচার ব্যবস্থা, অর্থনীতি, সমাজনীতি, রাষ্ট্রনীতি এক কথায় একজন মুসলমানের জীবনের সর্বক্ষেত্রে ফিকহশাস্ত্রের গুরুত্ব অনস্বীকার্য।

ফিকহ শাস্ত্রের বিষয়গুলো এমন যে, এ ব্যাপারে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন ব্যতীত কোন মতামত দেয়া নিতান্তই বোকামী। আর যারা এ বিষয়ে গভীর পাণ্ডিত্য অর্জন করেছেন, তাদেরক্ষেত্রেও দেখা যায়, এ বিষয়ে কোন মতামত দিতে গেলে খুবই সতর্কতা অবলম্বন করেছেন। রাসূল (সঃ) বলেছেন,

من قال علي ما لم أقل فليتبوأ بيتاً في جهنم ، ومن أُفتى بغير علم كان إثمه على من أفتاه ، ومن أشار على أخيه بأمر يعلم الرشد في غيره فقد خانه

“যে ব্যক্তি এমন কথা বলল, যা আমি বলিনি, তবে সে জাহান্নামে নিজের জন্য একটি ঘর তৈরি করল। আর যাকে ইলম ব্যতীত ফতোয়া প্রদান করা হল, এর গোনাহ ফতোয়া প্রদান কারীর উপর বর্তাবে। আর যে ব্যক্তি তার ভাইকে এমন বিষয়ে পরামর্শ দিল যার বিপরীত বিষয়ের মাঝে সে কল্যাণ দেখছে, তবে সে তার সাথে প্রতারণা করল”

[মুসনাদে আহমাদ, বাইহাকী শরীফ]

Read More

উস্তাদের প্রয়োজনীয়তা ও ইলম অর্জনের সঠিক পদ্ধতি

 খতীব বাগদাদী (রহঃ) “ আল-ফকীহ ও য়াল মুতাফাক্কিহ” নামক কিতাবে লেখেছেন,

قيل لبعض الحكماء : إن فلانا جمع كتبا كثيرة! فقال : هل فهمه علي قدر كتبه؟ قيل : لا، قال فما صنع شئا، ما تصنع البهيمة بالعلم.

কোন এক বিজ্ঞজনকে বলা হল, অমুক ব্যক্তি অনেক কিতাব সংগ্রহ করেছে। তিনি তাকে বললেন, তার বুঝ কি তার সংগৃহীত কিতাবের সমান? লোকটি উত্তর দিল, না। তখন তিনি বললেন, প্রকৃতপক্ষে সে কিছুই করেনি। চুতষ্পদ জন্তু ইলেম দিয়ে কী করবে!

অর্থাৎ বুঝ অর্জন না করে, কিতাব সংগ্রহ করা আর একটি জন্তুর নিকট অনেক কিতাব থাকা সমান।

সুতরাং কিতাব সংগ্রহের নাম ইলম নয়। কারও নিকট অধিক হাদীস থাকার কারণে সে যদি বড় হালেম হয়ে যেত, তবে যার নিকট এক ডিস্কের মধ্যে সমস্ত হাদীসের কিতাব রয়েছে, সেই পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ আলেম হয়ে যেত। চল্লিশ টাকার একটা ডিস্ক সংগ্রহ করা, আর ইলমের পিছে চল্লিশ বৎসর সাধনা করা এক জিনিস নয়। সুতরাং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নতির দোহাই দিয়ে একথা বলা যথেষ্ঠ নয় যে, আমার নিকট এক মিলিয়ন হাদীসের একটি ডিস্ক আছে, সুতরাং কাউকে অনুসরণের প্রয়োজনীয়তা নেই। বিষয়টি যদি এমনই হত, তবে পৃথিবীর যে কেউ ডিস্ক সংগ্রহ করবে, সেই স্বয়ংসম্পূর্ণ আলেম হয়ে যাবে।

Read More

আলবানী সাহেবের তাহকীকের বাস্তবতা

গত তিন পর্বে মোটামুটি আলবানী সাহেবের অভিযোগের বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করা হযেছে। একটা বিষয় অবশিষ্ট রয়েছে। ইমাম বোখারী রহ. এধরণের কথা বোখারী শরীফে বলেছেন কি না, এ বিষয়ে একটি ধুম্রজাল সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন আলবানী সাহেব। যারা আলবানী সাহেবের তাহকীকের অবস্থা সম্পর্কে অবগত নন, তারা আলবানীর এই কথায় সন্দেহে প্রকাশ করতে শুরু করেছেন। অথচ তারা কখনও বিষয়টি যাচাই করে দেখার প্রযোজনীয়তা অনুভব করে না। অন্যদেরকে অন্ধ অনুসরণ করতে নিষেধ করলেও এদের মধ্যে যে পরিমাণ অন্ধ অনুসরণ ও গোড়ামী দেখা যায়, তা অন্য কারও মাঝে পরিলক্ষিত হয় না। তাদের ভাবখানা এমন যেন আলবানী সাহেব কোন ভুলই করতে পারেন না। অন্যের নামে অপপ্রচারে লিপ্ত না হয়ে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেয়ার চেষ্টা অনেক কল্যাণকর। আশা করি তথাকথিত লা মাযহাবী ও সালাফী ভাইগণ বিষয়টি অনুধাবন করবেন।

Read More

Page 2 of 6

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA