iDEA

islamic dawah and education academy

Category: আকিদা (Page 1 of 6)

শিরক সমাচার – ৯

আগের দু’টি পর্বে আমরা সিজদা ও তাওয়াফ সম্পর্কে আলোচনা করেছি। আজকের পর্বে আমরা খুবই গুরুত্বপূর্ণ  একটি বিষয়ে আলোচনা করব।

কাউকে ক্ষমা করা কিংবা জান্নাত দেয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ তায়ালা। কোন মানুষ কারও গোনাহ মাফ করতে পারবে না কিংবা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাতে পারবে না। তবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তায়ালা  কিছু মানুষকে শাফায়াত বা সুপারিশের অনুমতি দিবেন। তাদের সুপারিশ গ্রহণ করে আল্লাহ তায়ালা বহু লোককে মাফ করে তাদের জন্য জান্নাতের ফয়সালা করবেন।

সুপারিশের ক্ষেত্রে রাসুল সঃ হবেন সবার অগ্রগণ্য। তার একটি বিশেষ নামই হল, শাফিউল মুজনিবিন (পাপীদের সুপারিশকারী)। কিয়ামতের দিন অন্যান্য নবী-রাসুলদের কাছে আবেদন করে ব্যর্থ হয়ে সকলে রাসুল সঃ এর কাছে শাফায়াতের আবেদন নিয়ে হাজির হব। আল্লাহ তায়ালা রাসুল সঃ কে শাফায়াতের অনুমতি দিবেন।

রাসুল সঃ এর জীবদ্দশায় সাহাবায়ে কেরাম তার কাছে শাফায়াতের আবেদন করতেন। কেয়ামতের দিন তিনি যেন তাদের মুক্তি ও জান্নাতের জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করেন, এই আবেদন নিয়ে হাজির হতেন রাসুল সঃ এর দরবারে।

তিরমিজি শরিফে হজরত আনাস রাঃ থেকে স্পষ্ট হাদিস রয়েছে। হজরত আনাস রাঃ বলেন, আমি রাসুল সঃ এর কাছে আবেদন করলাম, তিনি যেন কিয়ামতের দিন আমার জন্য সুপারিশ করেন। রাসুল সঃ বলেন, আমি সুপারিশ করব।  তিরমিজি-২৩৭০, হাদিসটি সহিহ। আলবানি সাহেব সাহিহুত তারগিবে  এই হাদিসকে সহিহ বলেছেন। হাদিসের আরবি পাঠ:

سَأَلْتُ النَّبِيَّ -صلى الله عليه وسلم- أَنْ يَشْفَعَ لِي يَوْمَ الْقِيَامَةِ ، فَقَالَ : أَنَا فَاعِلٌ

যারা কিয়ামতের দিন শাফায়াতের অনুমতি পাবেন, তাদের কাছে আপনি শাফায়াতের আবেদন রাখতে পারবেন। তাকে আপনি বলতে পারবেন, সে যেন আপনার জন্য আল্লাহর কাছে সুপারিশ করে। হজরত আনাস রাঃ রাসুল সঃ এর কাছে এই আবেদন করেছেন। আরও অনেক সাহাবি এই ধরণের আবেদন করেছেন রাসুল সঃ এর কাছে । সুতরাং হাদিস থেকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে, শাফায়াতের অনুমতিপ্রাপ্তদের কাছে শাফায়াতের আবেদন করা যাবে।

রাসুল সঃ এর জীবদ্দশায় সাহাবায়ে কেরাম রাঃ তাঁর কাছে শাফায়াতের আবেদন করেছেন, এখন প্রশ্ন হল, রাসুল সঃ এর এর ইন্তেকালের পরে কি তার কাছে শাফায়াতের আবেদন করা যাবে? একথা কি বলা যাবে যে, হে আল্লাহর রাসুল, আপনার কাছে শাফায়াতের আবেদন করছি। কাল কিয়ামতে কঠিন বিপদের মুহূর্তে আপনি আমার মুক্তির জন্য মহান আল্লাহর দরবারে সুপারিশ করবেন।

চার মাজহাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমগণের ফাতওয়া হল, রাসুল সঃ এর ইন্তেকালের পরেও তার কাছে শাফায়াতের আবেদন করা যাবে। অনেকেই শাফায়াতের আবেদনকে রাসুল সঃ এর কবর জিয়ারতের আদবের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। অর্থাৎ রাসুল সঃ এর কবর জিয়ারতের অন্যতম একটি আদব হল, তার কাছে শাফায়াতের আবেদন করা।

Read More

শাইখ নজদি ও মনজুর নুমানি রহ

কিছু দিন আগে আমি শাইখ মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদি সম্পর্কে আমার ব্যক্তিগত কিছু মতামত উল্লেখ করেছিলাম। অনেকে ভাই শাইখকে মহব্বত করেন। তাদের কাছে বিষয়টি একটু কষ্টের। অনেকের কষ্টের কারণ হলেও আমি দলিলের আলোকে বুঝে-শুনেই শাইখের বিষয়ে মত পরিবর্তন করেছি।

অনেক ভাই মনে করেছন, আমি শাইখের বিষয়ে দেওবন্দি আলেমদের বক্তব্য সম্পর্কে অবগত নই বা জানলেও তেমন গুরুত্ব দেইনি। বিষয়টা আসলে এমন নয়। শাইখ নজদি সম্পর্কে দেওবন্দি আলেমগনের অধিকাংশের বক্তব্য আল-হামদুলিল্লাহ আমার সামনে আছে। বহু আগে মাওলানা মনজুর নুমানি রহঃ এর কিতাবটিও পড়ার সুযোগ হয়।

Read More

শিরক সমাচার – ৮

গত পর্বে সিজদার হুকুম ও এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি নিয়ে আলোচনা করেছি।  আজ আমরা তাওয়াফ সম্পর্কে আলোচনা করব। কোন পীর, আলেম, পীরের কবর, পীরের বাড়িকে তাওয়াফ করার শরয়ী বিধান কী?

শরিয়তে তাওয়াফ শুধু কাবা ঘরের জন্য নির্দিষ্ট। কাবা ঘর ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি, ঘর বা কবরকে তাওয়াফ করার কোন অনুমতি শরিয়তে নেই। এরপরেও কেউ যদি অন্য কারও কবর, ঘর বা ব্যক্তিকে তাওয়াফ করে তাহলে তার হুকুম হল-

১। যাকে তাওয়াফ করছে তার মধ্যে যদি আল্লাহর কোন গুণ (খাসাইসুর রুবুবিইয়া) আছে বলে বিশ্বাস করে অথবা ওই ব্যক্তির ইবাদতের নিয়ত থাকে, তাহলে এটি স্পষ্ট শিরক হবে। সে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাবে। যেমন যাকে তাওয়াফ করছে তার ব্যাপারে যদি বিশ্বাস থাকে, তিনি নিজের ইচ্ছা  ও ক্ষমতায় যা ইচ্ছা তাই করতে পারেন, তার নিজের ক্ষমতায় তার যে কোন প্রয়োজন পূরণ করতে পারেন।

২।  উপরের বিশ্বাসগুলো ছাড়া শুধু সম্মানের জন্য যদি কোন পীর বা পীরের কবরকে তাওাফ করে তাহলে সেটি হারাম ও বড় গোনাহের কাজ। তবে এটি শিরক হবে না।

এটি চার মাজহাব ও আহলে সুন্নতের সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের অভিমত। সালাফি শাইখ ইবন বাজ, ইবনে উছাইমিন, ফাতওয়া আল-লাজনা আদ-দাইমার মুফতিগ্ণ ও শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ এমন মত দিয়েছেন।

Read More

শিরক সমাচার -৭

আমরা আগের পর্বগুলোতে শিরকের বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা করেছি।  সমাজে কিছু ভাই শিকরের বিষয়ে যথেষ্ট জ্ঞান অর্জন না করে ঢালাওভাবে কিছু বিষয়কে শিরক বলে থাকে। যা একটি বড় ধরণের অন্যায়। যে কোন বিষয়ে শরিয়তের সীমা অতিক্রম করা অন্যায়। শিরকের প্রতি ঘৃণা থাকা অবশ্য কাম্য, কিন্তু অতি উৎসাহী হয়ে শিরক নয়, এমন বিষয়কে শিরক বলে প্রচার করা অন্যায়।

আজ সিজদার বিষয়ে আলোচনা করব।

সিজদা দু’প্রকার।

১. সিজদায়ে ইবাদত। ইবাদতের উদ্দেশ্যে সিজদা করা।

২. সিজদায়ে তা’জিমী। সম্মানের  উদ্দেশ্যে সিজদা করা।

ইবাদতের নিয়তে কাউকে সিজদা করলে সেটা স্পষ্ট শিরক। এখানে আর কোন কিছু চিন্তার সুযোগ নেই। তা’জিম বা সম্মানের জন্য সিজদা করলে সেটা শিরক নয়। তবে ইসলামে হারাম। 

 

এই মতটি শুধু আমাদের ঘরানার আলেমদের নয়, বরং এটি সালাফিদেরও মত।  ইবনে তাইমিয়া, ইবনুল কাইয়িম, কাজি শাওকানি, শাইখ মুহাম্মাদ বিন ইব্রাহিম, শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জিদসহ প্রায় সকলে এই মতের অনুসারী।

শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ এই বিষয়ে বিস্তারিত লিখেছেন।

ইংলিশঃ https://islamqa.info/en/229780

আরবি লিঙ্ক: https://islamqa.info/ar/229780

শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ এর দলিলগুলোর সারমর্মঃ

১। আল্লাহ তায়ালা ফেরেশাতেদেরকে আদম আঃ কে সিজদার আদেশ দিয়েছেন। মৌলিকভাবে শুধু সিজদা করায় যদি শিরক হত, তাহলে আল্লাহ তায়ালা এই আদেশ দিতেন না। কারণ আল্লাহ তায়ালা কখনও ঘৃণিত কাজের আদেশ করেন না। আর শিরক একটি ঘৃণিত কাজ।

২। আল্লাহ তায়ালা কুরআনে ইউসুফ আঃ এর ঘটনা উল্লেখ করেছেন। হজরত ইয়াকুব আঃ ও তার ছেলেরা হজরত ইউসুফ আ কে সিজদা করেছিলেন। তাদের এই ঘটনা  কুরআনে রয়েছে। মূল সিজদা যদি শিরক হত, কোন নবী কখনও এটি করতেন না।

৩। হজরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ ইয়ামান থেকে ফিরে এসে রাছুল সঃ কে সিজদা করেন। মূল সিজদা যদি শিরক হত তাহলে রাছুল সঃ তাকে সেটি বলে দিতেন। কিন্তু  রাছুল সঃ তাকে শুধু সিজদা হারাম হওয়ার কথা বলেছেন, শিরক হওয়ার কথা বলেননি।  হজরত মুয়াজ বিন জাবাল রাঃ  এর ঘটনাটি ইবন মাজাতে রয়েছে। হাদিসকে শাইখ নাসিরুদ্দিন আলবানি হাসান বলেছেন।

৪। কিছু কিছু হাদিস থেকে প্রমাণিত যে, বিভিন্ন প্রাণী রাছুল সঃ কে দেখে সিজদ্বা করত। মূল সিজদা যদি শিরক হত, তাহলে রাছুল এঁর ক্ষেত্রে এটি হত না।

৫। সিজদা একটা শরিয়তের বিধান ও হুকুম। যা বিভিন্ন শরিয়তে পরিবর্তন হতে পারে। কিন্তু  তাউহিদ ও শিরক অপরিবর্তনশীল। এগুলো সব নবীর শরিয়তে একই রকম থাকবে।

৬। চার মাজহাবের সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমদের মতে ইবাদতের সিজদা ও তাজিমের সিজদার হুকুমের পার্থক্য রয়েছে। ইবাদতের সিজদা শিরক কিন্ত তাজিমের সিজদা হারাম।  এরপর শাইখ সালেহ আল-মুনাজ্জিদ বিভিন্ন আলেমের বক্তব্য উল্লেখ করেছেন।  ইমাম ফখরুদ্দিন জাইলাই, ইমাম ইবনে নুজাইম আল-হানাফি, ইমাম নববি ও ইমাম শিহাবুদ্দিন রমালির বক্তব্য এনেছেন।

চার মাজহাবের গ্রহণযোগ্য মত হল, তাজিমের সিজদা হারাম শিরক নয়। এটাই দলিলের বিবেচনায় শক্তিশালী।

আমরা এখানে আরও কিছু আলেমের বক্তব্য দেখব যারা এ বিষয়ে মত দিয়েছেন।

১। ফতওয়া আল্মগিরির বক্তব্যঃ

مَنْ سَجَدَ لِلسُّلْطَانِ عَلَى وَجْهِ التَّحِيَّةِ أَوْ قَبَّلَ الْأَرْضَ بَيْنَ يَدَيْهِ لَا يَكْفُرُ , وَلَكِنْ يَأْثَمُ لِارْتِكَابِهِ الْكَبِيرَةَ , هُوَ الْمُخْتَارُ

অর্থঃ কেউ যদি বাদশাকে অভিবাদনের উদ্দেশ্যে সিজদা করে বা তার সামনে জমিনে চুমু দেয়, তাহলে সে কাফের হবে না। তবে তার কবিরা গোনাহ হবে। এটাই গ্রহণযোগ্য ফতওয়া । https://goo.gl/AYKTQf

২। ইমাম জাহাবি রহঃ তার মুজামুশ শুউখ কিতাবে লিখেছেন,

ألا ترى الصحابة من فرط حبهم للنبي –صلى الله عليه وسلم- قالوا: ألا نسجد لك؟ فقال: لا، فلو أذن لهم لسجدوا سجود إجلال وتوقير لا سجود عبادة كما سجد إخوة يوسف عليه السلام ليوسف، وكذلك القول في سجود المسلم لقبر النبي صلى الله عليه وسلم على سبيل التعظيم والتبجيل لا يكفر به أصلا بل يكون عاصيا.

অর্থঃ তুমি কি দেখ না, সাহাবায়ে কেরাম রাছুল সঃ এঁর প্রতি অতিরিক্ত মহব্বতের কারণে বলেছিলেন, হে রাছুল, আমরা কি আপনার সিজদা করব না ? রাছুল সঃ বলেন, না। আল্লাহর রাছুল যদি অনুমতি দিতেন, তাহলে তারা সম্মান ও ভক্তির উদ্দেশ্যে সিজদা করতেন, ইবাদতের উদ্দেশ্যে নয়। যেমন হজরত ইউসুফ আঃ এঁর ভাইয়েরা তাকে সিজদা করেছিল। একই হুকুম হবে, কোন মুসলমান যদি  সম্মান ও ভক্তির উদ্দেশ্যে  রাছুল স এঁর কবরে সিজদা করে, তাহলে সে কাফের হবে না, কিন্তু গুনাহগার হবে।

মুজামুশ শুউখ  ১/৭৩।

 

৩। কাজি শাওকানি তার সাইলুল যারার কিতাবে লিখেছেন,

اعلم أن الحكم على الرجل المسلم بخروجه من دين الإسلام ودخوله في الكفر لا ينبغي لمسلم يؤمن بالله واليوم الآخر أن يقدم عليه إلا ببرهان أوضح من شمس النهار… وأما قوله : “ومنها السجود لغير الله” فلا بد من تقييده بأن يكون سجوده هذا قاصداً لربوبية من سجد له، فإنه بهذا السجود قد أشرك بالله عز وجل وأثبت معه إلهاً آخر، وأما إذا لم يقصد إلا مجرد التعظيم كما يقع كثيراً لمن دخل على ملوك الأعاجم أنه يقبل الأرض تعظيماً له، فليس هذا من الكفر في شيء، وقد علم كل من كان من الأعلام أن التكفير بالإلزام من أعظم مزالق الأقدام

অর্থঃ জেনে রেখ,  দ্বীনের আলোর চেয়ে পরিষ্কার প্রমাণ ছাড়া কোন মুসলমানের উপর  ইসলাম থেকে বের হয়ে কাফের হয়ে যাওয়ার হুকুম লাগানোর কারও অগ্রসর হওয়া উচিত নয়। আল্লাহ ও তার রাছুলের উপর ইমান রাখে এমন কেউ এধরণের কাজে অগ্রসর হতে পারে না… তিনি বলেছেন, ইমান ভঙ্গের একটি কারণ হল, আল্লাহ ছাড়া অন্য কাউকে সিজদা করা। তার এই বক্তব্যকে অবশ্যই শর্তযুক্ত করতে হবে। যার জন্য সিজদা করছে, তাকে রব মনে করে সিজদা করলেই কেবল শিরক হবে। কারণ, রব মনে করে সিজদা করলে সে আল্লাহর সাথে শরিক করল এবং অন্য একজন ইলাহকে বিশ্বাস করল। ওই ব্যক্তি যদি শুধু সম্মানের উদ্দেশ্যে সিজদা তাহলে এটি কখনও শিরক হবে না। যেমন অনেক অনারব রাজা বাদশার সামনে গেলে জমিনে চুমু দিয়ে থাকে। এটি কুফরি নয়। সমস্ত বিজ্ঞ আলেম এ বিষয়ে সচেতন যে, কাউকে অন্যায়ভাবে তাকফির করা অনেক বড় পদস্খলন।

সাইলুল যারার – 4/ 578

৪। আল্লামা ইবনে নুজাইম রহঃ বলেন,

وَالسُّجُودُ لِلْجَبَابِرَةِ : كُفْرٌ ، إنْ أَرَادَ بِهِ الْعِبَادَةَ ؛ لَا إِنْ أَرَادَ بِهِ التَّحِيَّةَ ، عَلَى قَوْلِ الْأَكْثَرِ

অর্থঃ ইবাদতের নিয়তে কেউ বাদশাকে সিজদা করলে কুফরি হবে। সম্মান বা অভিবাদনের উদ্দেশ্যে সিজদা করলে কুফরি হবে না।

আল-বাহরুর রায়েক (5/134)

মোট কথা, এ বিষয়ে যারা বাড়া-বাড়ি করেছেন, তাদের মত সঠিক নয়। যেমন সালাফি শাইখ ইবনে উছাইমিন রহঃ লিখেছেন,

ومن ذهب إلى قبر فسجد لصاحب القبر فهو مشرك سجد لغير الله ، والسجود لا يكون إلا لله عز وجل

অর্থঃ কেউ যদি কোন কবরের কাছে গিয়ে কবরে শায়িত ব্যক্তির জন্য সিজদা করে, তাহলে সে মুশরিক হয়ে যাবে। কারণ সে আল্লাহ ছাড়া  অন্যের জন্য সিজদা করেছে। আর সিজদা হবে শুধু আল্লাহর জন্য।

মাজমুঊ ফাতওয়া ও রাছাইল- 24/224

শরিয়তের দলিল ও  উছুলের আলোকে ইবনে  উছাইমিন রহঃ এঁর বক্তব্য স্পষ্ট ভুল ও বাড়াবাড়ি। কবরে শায়িত ব্যক্তির জন্য শুধু ইবাদতের নিয়তে সিজদা করলে শিরক হবে। ইবাদতের নিয়ত ছারা সিজদা করলে হারাম হবে। শাইখ সালহ আল-মুনাজ্জিদের ফাতওয়া থেকে উপরে আমরা দলিল আলোচনা করেছি।

আল্লাহ তায়ালা আমাদেরকে এসব বিষয়ে বাড়াবাড়ি ও ছাড়া-ছাড়ি থেকে হেফাজত করুন। আমীন।

 

ইমাম তিরমিজী রহ. এর তাবীল সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়া রহ ও তার ছাত্রের মূল্যায়ন

ইমাম তিরমিজী রহ. তিরমিজি শরীফের ৩২৯৮ নং হাদীসে একটি দীর্ঘ হাদীস উল্লেখ করেছেন। হাদীসটির মান নিয়ে বেশ বিতর্ক রয়েছে। আমাদের আলোচনা সেটি নয়। হাদীস উল্লেখ করে ইমাম তিরমিজী রহ. হাদীসের একটি তাবীল বা ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন। সেই তাবীল সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়া রহ. ও তার ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম রহ. বিশেষ মন্তব্য করেছেন। আমরা এখানে তাদের মন্তব্য দু’টি আলোচনা করবো।

প্রথমে হাদীসের শেষ অংশটি দেখা যাক।

রাসূল স. বলেছেন,
والذي نفس محمد بيده لو أنكم دليتم رجلا بحبل إلى الأرض السفلى لهبط على الله
সেই মহান সত্ত্বার শপথ, যার হাতে মুহাম্মাদের প্রাণ, তোমরা যদি কাউকে দড়ি দিয়ে ভূপৃষ্ঠের তলদেশে নামিয়ে দাও, তাহলে সে আল্লাহর কাছে গিয়ে উপনীত হবে।

ইমাম তিরমিজী রহ. এই হাদীসের ব্যাখ্যায় লিখেছেন,
فسر بعض أهل العلم هذا الحديث فقالوا‏:‏ إنما هبط على علم الله وقدرته وسلطانه‏.‏
আলেমগণ এই হাদীসের ব্যাখ্যা করেছেন। তারা বলেছেন, ঐ ব্যক্তি আল্লাহর ইলম, কুদরত ও ক্ষমতার কাছে উপনীত হবে।

অর্থাত হাদীসে রয়েছে জমিনের তলদেশে গেলেও সেখানে আল্লাহ রয়েছেন। এখানে ইমাম তিরমিজী রহ. আলেমদের ব্যাখ্যা উল্লেখ করেছেন, জমিনের তলদেশে আল্লাহ রয়েছেন এর অর্থ হলো, আল্লাহর ইলম ও কুদরত রয়েছে।

এটি ইমাম তিরমিজী ও অন্যান্য আলেমদের পক্ষ থেকে তাবীল বা ব্যাখ্যা।

আসুন এবার দেখি, এই ব্যাখ্যা সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়া রহ. ও তার ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম রহ. কী মন্তব্য করেছেন।

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. ইমাম তিরমিজী রহ. এর তাবীল সম্পর্কে বলেছেন,
وأما تأويل الترمذي وغيره بالعلم فقال شيخنا : هو ظاهر الفساد من جنس تأويلات الجهمية
অর্থ: ইমাম তিরমিজী ও অন্যান্যরা হাদীসে ভূগর্ভে আল্লাহর কাছে উপনীত হবে এর ব্যাখ্যায় বলেছেন আল্লাহর ইলমের কাছে উপনীত হবে। তাদের এ তাবীল সম্পর্কে আমার উস্তাদ (ইবনে তাইমিয়া রহ:) বলেছেন, তাদের এই তাবীলটি সুস্পষ্ট বাতিল। এটি জাহমিয়াদের তাবীলের মতো।
সূত্র: মুখতাসারুস সাওয়াকিল মুরসালা। https://goo.gl/F8G6yI

ইবনে তাইমিয়া রহ. উক্ত বক্তব্যটি তার মাজমুউয়াতুল ফাতাওয়াতেও রয়েছে। মূল কিতাবের ষষ্ঠ খন্ডের ৩৪৩ পৃষ্ঠায় বক্তব্যটি রয়েছে। পিডিএফ থেকে দেখুন,
https://goo.gl/0UGvAF

ইমাম তিরমিজী রহ. যে তাবীলটি উল্রেখ করেছেন এটি অন্যান্য অনেক আলেমের তাবীল। এই তাবীল সম্পর্কে ইবনে তাইমিয়া রহ.এর অভিমত হলো এটি স্পষ্ট বাতিল এবং জাহমিয়াদের তাবীল। ইমাম তিরমিজী রহ. এর তাবীল হলো তাদের নিকট জাহমিয়াদের তাবীল।

আমি এ বিষয়ে কোন মন্তব্য করছি না….

সালাফি আকিদার ব্যাবচ্ছেদ

আমার এক ছোট ভাই কুষ্টিয়া ইউনিভারসিটি তে পড়ে। সেখানে সৌদি থেকে পরা-শুনা করা এক শিক্ষক তাফসির পড়ান। নিয়ম মত শাইখ আশ-আরি মাতুরিদি আকিদা সম্পর্কে বিশদ্গার করে থাকেন। ইমাম ফখরুদ্দিন রাজী রহঃ সহ আহলে সুন্নতের বড় বড় ইমামদের সমালোচনা করেন। সিফাতের মাসলায় একমাত্র সালাফিদের আকিদা সঠিক। এগুলো তিনি তাফসীরের ক্লাসে প্রায় আলোচনা করেন।

আমি ছোট ভাইকে বললাম, আচ্ছা ধরে নিলাম সবার আকিদা ভুল। সালাফিদের আকিদা একমাত্র সঠিক। ভালো। স্যার যেহেতু তাফসির পড়ান, স্যারকে বিনয়ের সাথে জিজ্ঞেস করবে যে, স্যার, সালাফিদের এই আকিদা-বিশ্বাস পরিপূর্ণভাবে অনুসরণ করে লিখিত মাত্র একটা তাফসির এর কিতার এর নাম বলুন। সালাফদের যুগ থেকে বহু তাফসির লেখা হয়েছে, সালাফি আকিদা পরিপূর্ণ মেনে লিখিত একটা বিখ্যাত তাফসীরের নাম বলুন। ব্যাস।

আমার সেই ছোট ভাই স্যারকে প্রশ্ন করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল, স্যার কৌশলে প্রশ্নটি এড়িয়ে গেছেন।

আমিও এমনটি ভেবেছিলাম। স্যার এড়িয়ে যাবেন। সাধারণত সালাফি শাইখরা কিছু সত্য এড়িয়ে যান।

আসুন একটা সত্যের মুখোমুখি হই। আহলে সুন্নতের লেখা বিখ্যাত তাফসির গুলো নিয়ে বসি। দেখি, পরিপূর্ণভাবে কেঊ সালাফিদের আকিদা মেনে নিয়েছেন কি না?

যেসব মুফাসসির সালাফি আকিদা ফলো করেনি, তাদেরকে বাতিল ঘোষণা দিয়ে উম্মতকে সতর্ক করা আমাদের সালাফি ভাইদের একটা নৈতিক দায়িত্ব মনে করি।

আমার জানা মতে, বিখ্যাত তাফসিরবিদগণ কেউ পরিপূর্ণভাবে সালাফিদের আকিদা ফলো করেনি। সালাফি ভাইদের উচিত, বিষয়টা উম্মতের সামনে আনা এবং এসব মুফাসসিরের আকিদা সম্পর্কে স্পষ্ট ফয়সালা দেওয়া। যেমন তারা আহলে সুন্নতের অন্যান্য আলেমদেরকে বাতিল বলে প্রচার করে থাকে, একইভাবে এসব মুফাসসির ও তাদের তাফসির সম্পর্কে স্পষ্ট ফয়সালা দেওয়া উচিত।

তাবিল কেন জরুরি

মৌলিক আকিদার ক্ষেত্রে আশ-আরি মাতুরিদি আকিদা এক ও অভিন্ন। এটা জানার জন্য আপনাকে উভয়ের আকিদা ভালভাবে জানতে হবে। কিছু শাব্দিক ও শাখাগত বিরোধ থাকলেও মৌলিক আকিদার ক্ষেত্রে তারা এক। উভয় আকিদা আহলে সুন্নতের আলেমগণের কাছে গ্রহণযোগ্য আকিদা ।

আপনি লিখেছেন, ফিকহ ভিন্ন হতে পারে কিন্তু আক্বীদাহ দুইটা হবে কেন? আকিদার ক্ষেত্রে সালাফিদের মাঝে অসংখ্য মতবিরোধ আছে। আকিদা বিষয় সালাফিদের মতবিরোধ সম্পর্কে আমি ১০ পরবে সংক্ষেপে আলোচনা করেছি।

এছাড়া সালফিদের আকিদা ও ফিকহের আরও ইখতেলাফ জানতে ড সায়াদ আল-বুরাইক এর আল-ইজাজ দেখুন।

আপনাকে ভালভাবে মনে রাখতে, ইসলামের মৌলিক যেসব আকিদার উপর মানুষের মুমিন ও মুসলিম হওয়া নির্ভর করে, সেগুলোতে কোন মতবিরোধ নেই। আল্লাহর হাত, পা, চোখ এগুলো ইসলামি আকিদায় পরে ঢুকান হয়েছে। এগুলো ইসলামি আকিদার অংশ নয়।

Read More

আকিদার দলিল গ্রহণে সতর্কতা..

শরীয়তের মৌলিক দলিল চারটি।
১.কুরআন।
২.সুন্নাহ।
৩.ইজমা।
৪.কিয়াস।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত এই চার মূলনীতি অনুসরণ করে। মুসলিম উম্মাহের ইজমা যে কোন যুগেই হতে পারে। সাহাবীদের ইজমা, তাবেয়ীগণের ইজমা কিংবা পরবর্তী যুগের আলেমদের ইজমাও শরীয়তের দলিল।
এই চার মূলনীতির বাইরে শরীয়তের অন্য কোন দলিল নেই। সালাফদের ব্যক্তিগত মতামত শরীয়তের পৃথক কোন দলিল নয়। বিষয়টা এমন নয় যে, সালাফদের যে কেউ যাই বলুক, সেটাই শরীয়তের দলিল হয়ে যাবে। তবে কোন বিষয়ে সালাফদের মধ্যে যদি ইজমা হয়, তাহলে সেটা শরীয়তের দলিল হবে। নতুবা এটা সাধারণ বক্তব্য হিসেবে ধর্তব্য হবে।
সালাফদের মধ্যে যারা ইজতিহাদের যোগ্য ছিলেন, তাদের কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক ইজতিহাদ শরীয়তের দলিল বলে গণ্য হবে। মুজতাহিদের ইজতিহাদ সব যুগেই শরীয়তের দলিল। এটা শুধু সালাফদের সাথেই নির্দিষ্ট নয়।
সালাফদের যুগ অবশ্যই উত্তম যুগ ছিলো। এটা রাসূল স. এর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। একইভাবে সালাফদের ইলম,তাকওয়া, যুহদ অবশ্যই অতুলনীয়। ইবনে রজব হাম্বলী রহ. তাদের ইলমের ফজীলতের বিষয়ে পৃথক কিতাব লিখেছেন। ফাজলু ইলমিস সালাফ আলাল খালাফ। কিন্তু তাদের প্রত্যেকের সকল বক্তব্য শরীয়তের দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে না। এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

Read More

আল্লাহ তায়ালা স্থান ও দিক থেকে মুক্ত

ইসলামী আকিদা বিষয়ে আব্দুল হক হক্বানী রহ. এর বিখ‍্যাত একটি কিতাব রয়েছে। আকাইদুল ইসলাম। এটি ১৩০২ হিজরী সালে উদুর্তে ছাপা হয়। মাতবায়ে আনসারে দিল্লী থেকে এটি প্রকাশিত হয়। কিতাবের শুরুতে দারুল উলুম দেওবন্দের প্রতিষ্ঠাতা হযরত মাওলানা কাসেম নানুতুবী রহ. এর সংক্ষিপ্ত অভিমত রয়েছে। কিতাবটি সম্পকর্ে কাসেম নানুতুবী রহ. বলেন,

“উদুর্ ভাষায় এটি একটি অদ্বিতীয় কিতাব। আমি কিতাবের শুরু থেকে শেষ পযর্ন্ত পড়েছি। সত‍্য কথা হলো, উদুর্ ভাষায় ইতোপূবর্ে এধরণের কোন কিতাব লেখা হয়নি। বিষয় বস্তুর দিক থেকেও এধরনের কোন কিতাব প্রকাশিত হয়নি। কিতাবটি লেখকের গভীর পান্ডিত‍্যের উজ্জল সাক্ষর। প্রবাদ রয়েছে, মানুষকে তার বক্তব‍্য ও লেখনী থেকে চেনা যায়। অতিরিক্ত ভূমিকা লেখা অথর্হীন। পাঠক নিজেই দেখে নিন, কিতাবটি কতো অসাধারণ”।

Read More

সহীহ হাদীসের আলোকে ওসিলার মাধ‍্যেম দু’য়া

ওসিলা আরবী শব্দ। শাব্দিক অথর্ মাধ‍্যম। কোন কিছু অজর্নের মাধ‍্যম বা উপায়-উপকরণকে শাব্দিক অথর্ে ওসিলা বলে। পরিভাষায়, যেসব জিনিসের দ্বারা আল্লাহর নৈকট‍্য অর্জনের চেষ্টা করা হয়, তাকে ওসিলা বলে। যেমন, নামায, রোজা, নেক আমল। এগুলো আল্লাহর নৈকট‍্য অর্জনের সবচেয়ে পরিচিত ওসিলা। শাব্দিক অথর্ের বিবেচনায় আমাদের প্রয়োজন পূরণে যেসব উপায়-উপকরণ গ্রহণ করা হয়, সেগুলোও ওসিলার অন্তভর্ূক্ত। যেমন, রোগ হলে ওষুধ খাওয়া। ক্ষুধা লাগলে খাবার গ্রহণ করা। ওষুধ, খাবার এগুলো জাগতিক ওসিলা।
ওসিলার আরেকটি শাব্দিক অর্থ মানজিলা। কারও অবস্থানকে মানজিলা বলা হয়। আল্লাহর কাছে রাসূল স. এর একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে। সুতরাং রাসূল স. এর এই অবস্থানের মাধ‍্যমে আল্লাহর কাছে দুয়া করাও অসিলার অন্তর্ভূক্ত হবে। আল্লাহর কাছে নৈকট‍্য অজর্নের মাধ‍্যম বা উপায় অথর্ের চেয়ে মানজিলা অথর্টি ব‍্যাপক অথর্ বহন করে। কেননা, যেসব মাধ‍্যম বা উপায়ের দ্বারা আল্লাহর কাছে দুয়া করা হয়, সেগুলোর একটি বিশেষ মানজিলা বা অবস্থান রয়েছে আল্লাহর কাছে। একারণেই মূলত: এগুলো দ্বারা ওসিলা দেয়া হচ্ছে। নামাযের মাধ‍্যেম আল্লাহর নৈকট‍্য অজর্নের চেষ্টা করা হচ্ছে। কারণ আল্লাহর কাছে নামাযের বিশেষ মানজিলা বা অবস্থান রয়েছে। একইভাবে রাসূল স. এর ওসিলা দিয়ে দুয়া করা হচ্ছে। কারণ আল্লাহর কাছে রাসূল স. এর বিশেষ মযর্াদা ও অবস্থান রয়েছে। একইভাবে বুজুগর্দের ওসিলায় দুয়া করা হয়, কারণ বুজুগর্দের বিশেষ অবস্থান রয়েছে আল্লাহর কাছে। মোটকথা, যেসব বিষয়ে ওসিলা করা হচ্ছে, সবগুলোর মাঝেই একটা মৌলিক কারণ হচ্ছে, এগুলোর একটি বিশেষ অবস্থান রয়েছে মহান আল্লাহর কাছে। এজন‍্য ওসিলার শাব্দিক অথর্ থেকে এই মূল কারণটি গ্রহণ করলে সমস্ত ওসিলার ক্ষেত্রে আমাদের মৌলিক বিশ্বাস স্পষ্ট হয়।

ওসিলার ক্ষেত্রে আমাদের মূল অবস্থান

 

আমরা জানি, যে কোন নেক আমলের মাধ‍্যমে ওসিলা দেয়া জায়েজ, কারণ আমলগুলোর কারণে আল্লাহ খুশি হোন। একারণে তিনি কবুল করেন। এটাকে আরেকটু বিস্তারিত বললে এভাবে বলা যায়, যেসব জিনিস আল্লাহ পছন্দ করেন, সেগুলো দিয়ে ওসিলা করলে আল্লাহ কবুল করেন। আল্লাহর প্রিয় হওয়া বা পছন্দের কারণেই মূলত: অসিলা করা হচ্ছে। নতুবা ওসিলা করার কোন দরকার ছিলো না। সরাসরি দোয়া করলেই হতো। বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয়, যখন কোন বুজুগর্ের কাছে দুয়া চাওয়া হয়। বুজুগর্ের কাছে দুয়া চাওয়ার কারণ হলো, তিনি আল্লাহর পছন্দনীয় ও প্রিয় বান্দা। তিনি দুয়া করলে আল্লাহ কবুল করবেন। অনে‍্যর কাছে দুয়ার ক্ষেত্রে মূল যদি তার দুয়া হতো, তাহলে মানূষ চোর-ডাকাতের কাছে দুয়া চেতো। কারণ চোর ডাকাত যেই কাজ করবে, বুজুগর্ও একই কাজ করবে। কিন্তু চোর ডাকাতের কাছে না গিয়ে ভালো ও নেককার মানুষের কাছে যাওয়ার মূল কারণ হলো, সে আল্লাহর পছন্দের। একইভাবে আমলের মাধ‍্যমে দুয়ার কারণ হলো আমলগুলো আল্লাহর পছন্দের। আমাদের অবস্থান এখানে খুবই স্পষ্ট। যেসব বিষয় আল্লাহর প্রিয় ও পছন্দের সেসব বিষয়ের ওসিলা দিয়ে দোয়া করা যাবে। কারণ ওসিলার মূল উদ্দেশ‍্য হলো যে বিষয়ের ওসিলা দেয়া হচ্ছে, সেটি আল্লাহর প্রিয়। সুতরাং যেসকল বিষয় আল্লাহর প্রিয় হবে, সেটা দিয়ে আমরা ওসিলা করবো। আল্লাহর প্রিয় বিষয়টি জীব হোক, জড় হোক, কোন আমল হোক। প্রিয় হওয়ার দিক থেকে সবই সমান। এজন‍্য আমাদের কাছে জাত ও আমলের মধে‍্য কোন পাথর্ক‍্য নেই। কারণ জাতও আল্লাহর প্রিয়। আমলও আল্লাহর প্রিয়। কেউ যদি কা’বার ওসিলা দিয়ে দোয়া করে, সেটাও আমাদের কাছে পছন্দনীয়। যদিও কাবা আমল বা কোন জীব নয়। কিন্তু কা’বা আল্লাহর প্রিয় ঘর হওয়ার কারণে আমরা এর ওসিলায় দুয়া করি। এক্ষেত্রে আমরা জীবিত, মৃতেরও কোন পাথর্ক‍্য করি না। ব‍্যক্তি জীবিত থাকলেও আল্লাহর প্রিয় থাকে, মারা গেলেও আল্লাহর প্রিয় থাকে।
ওসিলা দিয়ে দু’য়া করার সময় আমাদের অন্তরে এই বিশ্বাস থাকে যে, যেসব বিষয়ের ওসিলা দিচ্ছি, সেটি আল্লাহর প্রিয়, এজন‍্যই আমরা এর ওসিলা দিচ্ছি। আমরা আমলের ক্ষেত্রে এই বিশ্বাস করি না যে, এসব আমলের নিজস্ব ক্ষমতা আছে, যার কারণে দুয়া কবুল হয়। কোন নেককার ভালো মানুষের কাছে দুয়া চাওয়ার সময় আমরা এটা মনে করি না যে, এই ব‍্যক্তির নিজস্ব ক্ষমতা কারণে দুযা কবুল হবে। বরং আমাদের অন্তরের বিশ্বাস হলো, এই ব‍্যক্তি আল্লাহর প্রিয়। প্রিয় হওয়ার কারণে তার দুয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।আরেকটা বিষয় স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন, আমরা যার ওসিলা দিচ্ছি, তাকে আল্লাহ, আল্লাহর সমকক্ষ বা মূতর্ি মনে করছি না। নাউযুবিল্লাহ। বরং তাকে আল্লাহর বান্দা মনে করি। তাকে শুধু আল্লাহর প্রিয় বান্দা বিশ্বাস করি। আপনার যদি দিলে আমাদের ব‍্যাপারে অন‍্য কোন ধারণা আসে, তাহলে মুমিনের ব‍্যাপারে অমূলক ধারণা থেকে বেচে থাকুন। আপনার অন্তরে যদি ওসিলা দেয়া ব‍্যক্তিকে মূতর্ি মনে হয়, তাহলে আপনি তৌবা করুন। আমাদের অন্তরে যেহেতু এগুলো আসে না, সুতরাং এজাতীয় কথা আমাদের সামনে না বলে নিজে অ‍ন‍্যায় ধারণা থেকে বাচার চেষ্টা করুন।

Read More

Page 1 of 6

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA