iDEA

islamic dawah and education academy

Category: ভ্রান্ত আকিদা-বিশ্বাস (Page 1 of 3)

মতিউর রহমান মাদানীর কথা মেনে নিলে মুহাম্মদ সা, হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা., ইবনে তাইমিয়া রাহঃ , ইবনুল কাইউম রাহঃ সহ মুহাদ্দিসদের বিশাল এক জামাত বেরলভী আক্বিদায় বিশ্বাসী ছিলেন (নাউযুবিল্লাহ)

মানুষ কম জেনে যখন বেশি বয়ান করে তখন তার বড় বড় ভূল হয়। মাদানী সাহেবের অবস্থাও অনেকটা এরকম। আক্বিদার ব্যাপারে তাহার এলেম এত বেশি! যে, তার হুশও নেই তাবলীগ জামাত বা দেওবন্দীদের সাইজ করতে গিয়ে অনেক বিষয়ে পরক্ষ ভাবে রাসূল সা. , সাহাবীদের্‌, তাকফীর করে ফেলছে বা আহলুল বিদায়া ওয়াল ফিরকার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে। আল্লাহ তায়ালা এ ধরণের শায়খ থেকে উম্মাহকে হেফাযত করেন।

এবার মূল বিষয়ে আসি। বছর খানিক আগে iDEA এর youtube চ্যানেল iDEA TV এ “টঙ্গী বিশ্ব ইজতেমা সম্পর্কে মদিনা ইউনির্ভাসিটির প্রতিনিধি দলের রিপোর্ট ” নামে একটি ভিডিও আপ করেছিলাম। কিছু দিন আগে এ ভিডিওটির কাউন্টার হিসেবে মাদানী সাহেবের একটি ভিডিও নজরে পড়লো। ব্যাচারা মাদানী সেহেবকে এটা নিয়েই নাজেহাল করে দেওয়া যাবে। সামনের কোন এক পোস্টে সেটি নিয়ে আলোচনা করবো ইনশাআল্লাহ। আজকের আলোচনার বিষয়ে আসি। এ ভিডিওটির মধ্যে তিনি বলেছেন যে ফাযায়েলে আমাল,ফাযায়েলে হজ্জে, ফাযায়েলে সাদাকাতে এমন কিছু কিচ্ছা রয়েছে যা বেরলভিদেরও হার মানিয়ে দেয়। উদাহারণ হিসেবে সে কবর থেকে হাত বের হওয়ার কিচ্ছার কথা বললেন।

কিন্তু আফসোস, কারামত সম্পর্কে এ তথাকথিত শায়খের স্পষ্ট জ্ঞান না থাকার কারনে এ ঘটনাকে আক্বিদার অংশ বানালেন। এবং এর উপর ভিত্তি করে বেরলভি আক্বিদার সাথেও মিলিয়ে দিলেন। কিন্তু জনাব মাদানী সাহেব, এ ধরনের ঘটনা(কবর থেকে শরীরের অংশ বা সম্পূর্ণ শরীর বের হওয়া) যদি হাদীস হিসেবে বর্ণনা করা হয় তাহলে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম ও বিভ্রান্তকারী(বেরলভী) আক্বিদার প্রচারক ছিলেন(নাউযুবিল্লাহ), যে সাহাবী এ ধরণের ঘটনা বর্ণনা করবেন তার ব্যাপারে কি হুকুম হবে। ঐ সকল মুহাদ্দিসদের ব্যাপারেই বা কি হুকুম হবে যারা এ ধরণের ঘটনা সম্বলিত রেওয়াতকে নিজেদের কিতাবে ঠাই দিয়েছেন??? আর এ ধরনের ঘটনা যদি ইবনুল কাইয়্যিম রাহঃ বর্ণনা করেন বা এ ধরণের আক্বিদাকে যদি ইবনে তাইমিয়া রাহঃ সাপোর্ট করেন তাহলে তাদের ব্যাপারে কি হুকুম হবে?

এবার আমরা এক এক করে দেখি।

        শুধু হাত নয় পূর্ণ দেহ কবর থেকে বের হওয়ার ঘটনা হাদিসে রয়েছে

ফাজায়েলে হজ্বেতো শুধুমাত্র হাত বের হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামতো কবর থেকে সম্পূর্ণ দেহ বের হওয়ার ঘটনা বর্ণনা করেছেন।
হাদীসটি নিম্নরুপ –
হযরত জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূল স. বলেন,
حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِسْمَاعِيلَ ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ ، وَعَبْدُ اللَّهِ بْنُ نُمَيْرٍ , عَنِ الرَّبِيعِ بْنِ سَعْدٍ الْجُعْفِيِّ ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ ، عَنْ جَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ ، قَالَ : قَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ : ” حَدِّثُوا عَنْ بَنِي إِسْرَائِيلَ ، فَإِنَّهُ كَانَتْ فِيهِمُ الأَعَاجِيبُ ، ثُمَّ أَنْشَأَ يُحَدِّثُ ، قَالَ : خَرَجَتْ رُفْقَةٌ مَرَّةً يَسِيرُونَ فِي الأَرْضِ فَمَرُّوا بِمَقْبَرَةٍ ، فَقَالَ بَعْضُهُمْ لِبَعْضٍ : لَوْ صَلَّيْنَا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ دَعَوْنَا اللَّهَ لَعَلَّهُ يُخْرِجُ لَنَا بَعْضَ أَهْلِ هَذِهِ الْمَقْبَرَةِ فَيُخْبِرُنَا عَنِ الْمَوْتِ ، قَالَ : فَصَلُّوا رَكْعَتَيْنِ ثُمَّ دَعَوْا ، فَإِذَا هُمْ بِرَجُلٍ خِلاسِيٍّ قَدْ خَرَجَ مِنْ قَبْرٍ يَنْفُضُ رَأْسَهُ ، بَيْنَ عَيْنَيْهِ أَثَرُ السُّجُودِ ، فَقَالَ : يَا هَؤُلاءِ مَا أَرَدْتُمْ إِلَى هَذَا ؟ لَقَدْ مِتُّ مُنْذُ مِائَةِ سَنَةٍ فَمَا سَكَنَتْ عَنِّي حَرَارَةُ الْمَوْتِ إِلَى السَّاعَةِ ، فَادْعُوا اللَّهَ أَنْ يُعِيدَنِي كَمَا كُنْتُ ” .

“তোমরা বনী ইসরাইলদের ঘটনা বর্ণনা করো। কেননা তাদের মাঝে অনেক আশ্চর্যজনক ঘটনা সংগঠিত হয়েছে। এরপর রাসূল স. একটি ঘটনা বর্ণনা করলেন,
একদা বনী ইসরাইলের কয়েকজন বন্ধু ভ্রমণে বের হল। তারা একটি কবরস্থান দিয়ে অতিক্রম করছিল । তারা একে -অপরকে বলল, “আমরা যদি, দু’রাকাত নামায আদায় করে আল্লাহর কাছে দুয়া করি, তাহলে আল্লাহ তায়ালা হয়তো কবরের কোন ব্যক্তিকে আমাদের সামনে উপস্থিত করবেন। সে মৃত্যু সম্পর্কে আমাদেরকে বলবে।
তারা দু’রাকাত নামায আদায় করল। এরপর আল্লাহর কাছে দুয়া করল। হঠাৎ এক ব্যক্তি মাথা থেকে মাটি পরিষ্কার করতে করতে কবর থেকে বের হয়ে এল। তার কপালে সিজদার চিহ্ন ছিল। সে বলল, তোমরা কী চাও? আমি একশ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করেছি। এখনও আমার দেহ থেকে মৃত্যুর যন্ত্রনা উপশমিত হয়নি। আল্লাহর কাছে দুয়া করো, যেন তিনি আমাকে পূর্বের স্থানে (কবরে) ফেরত পাঠিয়ে দেন”

যেসব বিখ্যাত মুহাদ্দিস হাদীসটি তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন,
১. ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ., মান আশা বা’দাল মাউত। হাদীস নং ৫৮
২. মুসনাদে আব্দ ইবনে হুমাইদ, হাদীস নং ১১৬৪
৩.ফাওয়াইদু তামাম আর-রাজী, হাদীস নং ২১৭
৪. আল-জামে লি আখলাকির রাবী, খতীব বাগদাদী, হাদীস নং ১৩৭৮
৫. আল-বা’স, ইবনে আবি দাউদ, হা.৫
৬.আজ-জুহদ, ইমাম ওকী ইবনুল জাররাহ, হাদীস নং৮৮
৭. আজ-জুহদ, ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ.
৮. মাজালিস মিন আমালি ইবনে মান্দাহ, ইবনে মান্দাহ, হাদীস নং ৩৯৩
৯. আল-মাতালিবুল আলিয়া, ইবনে হাজার আসকালানী রহ. হাদীস নং ৮০৭
১০. ফুনুনুল আজাইব, হা.১৯
১১. শরহুস সুদুর, জালালুদ্দীন সুয়ূতী রহ. পৃ.৪২-৪৩

ঘটনাটি বিশুদ্ধ সনদে বর্ণিত। তামাম আর-রাজী এটি সরাসরি রাসূল স. থেকে বর্ণনা করেছেন। ইবনে হাজার আসকালানী রহ. হযরত জাবির রা. থেকে মওকুফ সূত্রে বর্ণনা করেছেন, যেটি মরফু এর হুকুমে। সুতরাং ঘটনার প্রামাণ্যতার ব্যাপারে কোন সন্দেহ নেই।

এবার রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম সম্পর্কে মতিউর রহমান মাদানী কি ফতোয়া দিবে ??? মাদানী সাহেবের কাছে আরো কয়েকটি প্রশ্ন
রাসূল স. এধরনের ঘটনা বর্ণনা করে উম্মতকে কুফুরী শিক্ষা দিয়েছেন? মুহাদ্দিসগণ ঘটনাটি তাদের কিতাবে উল্লেখ করে কুফুরী প্রচার করেছেন? বিখ্যাত ইমামগণ এই ঘটনার মূল বিষয় তথা কবর থেকে কেউ বের হয়ে কথা বলার উপর কোন আপত্তি করেননি। এটি অসম্ভব কিংবা এটি কুফুরী-শিরকী বলা তো দূরের বিষয়। সুতরাং নতুনভাবে এটাকে কুফুরী -শিরকী বলে সেসব ইমামদেরকে কেন অভিযুক্ত করছেন? ঘটনাটি যদি কুফুরী-শিরকী হয়, তাহলে যেসব মুহাদ্দিস এই ঘটনা তাদের কিতাবে উল্লেখ করেছেন, এবং এর উপর কোন অভিযোগ করেননি, তারা সকলেই কি কুফুরী-শিরকী করেছেন? মূল ঘটনা যদি কুফুরী-শিরকী হয়, তাহলে এর সনদ দেখার কোন প্রয়োজন নেই। কেননা, কুফুরী বিষয় বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হলেও কুফুরী, দুর্বল সনদে রর্ণিত হলেও কুফুরী। সুতরাং মূল ঘটনা যদি কুফুরী-শিরকী হয়, তাহলে উপর্যুক্ত ইমাম ও মুহাদ্দিসগণ সম্পর্কে আপনার বা আপনাদের ফতোয়া জানতে চাই।

           ইবনুল কাইয়্যিম জাওযিয়্যাহ এর কিতাবে বর্ণিত এ ধরণের ঘটনাঃ

আল্লামা ইবনুল কাইয়্যিম জাওযিয়্যাহ (রাহঃ) শাইখুল ইসলাম ইবনে তাইমিয়া রাহঃ এর খাছ সাগরিদ ছিলেন রবং তিনি বাংলাদেশের আহলে হাদীসদের কাছেও অনেক মান্যবর একজন আলেম। ইবনুল কাইয়্যিম রাহঃ ও কবর থেকে সম্পূর্ণ মানুষ বের হওয়ার বিভিন্ন রেওয়ায়েত বর্ণনা করেছেন যার কিছু রাসূল স. থেকে বর্ণনা করা হয়েছে কিছু সাহাবী থেকে এবং কিছু সালাফদের থেকে। আমরা এর একটি রেওয়াত এখানে উল্লেখ করবো ইনশাআল্লাহ।

ইবনুল কাইয়্যিম রাহঃ কিতাবুল কুবুর এর রেফারেন্সে তার কিতাবুর রুহ এ লেখেন –
এক ব্যাক্তির চাক্ষুষ ঘটনাঃ

আল্লামা শা’বী রাহঃ এক ব্যাক্তির ঘটনা বর্ণনা করেছেন যে,তিনি নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামকে বললেন, (হে আল্লাহর রাসূল!) আমি বদরের পাশদিয়ে অতিক্রম করছিলাম। এমন সময় দেখতে পেলাম এক ব্যাক্তি মাটি ভেদ করে বের হচ্ছে এবং এক ব্যাক্তি হাতে হাতুরী দিয়ে আঘাত করছে।পিটুনি খেতে খেতে সে মাটিতে ধুকে পড়ছে। আবার বের হচ্ছে , আবার ঢুকছে। নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লাম বললেন এ হল আবু জাহল । কিয়ামত পর্যন্ত তাকে এরুপে শাস্তি প্রদান করা হবে। (কিতাবুর রুহ, পৃ-১০০)।

আরব বিশ্বেতো কিতাবুর রুহ খুব গুরুত্বের সাথে মুতালায়া করা হয়। শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সালেহ আল উসাইমিন রাহঃ কিতাবুর রহঃকে খুব গুরুত্বের সাথে মুতালায়া করতে বলেছেন। এছাড়া কিতাবুর রুহ সামেলাতেও রয়েছে। তাও আবার আক্বিদার কিতাব হিসেবে। মতিউর রহমান মাদানী ফাযায়েলের কিতাব ‘ফাযায়েলে হজ্বে’ বর্ণিত কবর থেকে হাত বের হওয়ার ঘটনা বর্ণনার কারণে যে মন্তব্য করেছেন ঠিক একই মন্তব্য কি আক্বিদার কিতাব কিতাবুর রুহ এর ক্ষেত্রে দিতে পারবেন ??? এবং এ কিতাবের লেখক ইবনুল কাইউম রাহঃ সম্পর্কে তানি কি ফতোয়া দিবেন ? এবং ইবনে উসাইমিন সহ অন্যান্ন যে সায়খগণ এ কিতাব মুতালায়া করতে বলেছেন তাদের ক্ষেত্রেই বা কি ফতোয়া দিবেন ???

ইবনে তাইমিয়া রাহঃ এর বক্তব্য থেকেও বুঝা যায় যে আল্লাহ চাইলে মৃত্যুর পর সম্পূর্ণ মানুষও চলে আসতে পারেঃ

ইবনে তাইমিয়া রাহঃ বলেন –
অনেককে দেখতে পাবে, তাদের নিকট কেউ ওলী বা বুজুর্গ হওয়ার মানদন্ড হল, তাদের কাছ থেকে কিছু কাশফ প্রকাশিত হওয়া। অস্বাভাবিক ও অপ্রাকৃতিক ঘটনা সংঘঠিত হওয়া। যেমন, কারও দিকে ইঙ্গিত করলে সাথে সাথে মৃত্যুবরণ করা। অথবা বাতাসে উড়ে মক্কায় বা অন্য কোথাও যাওয়া । অথবা কখনও পানির উপর হাটা। বাতাস থেকে পাত্র পানি দ্বারা পূর্ণ করা। অদৃশ্য থেকে টাকা-পয়সা এনে খরচ করা। অথবা হঠাৎ মানুষের চোখ থেকে অদৃশ্য হওয়া। অথাব তার অনুপস্থিতে কিংবা তার মৃত্যুর পরে তাকে কেউ ডাক দিলে উপস্থিত হওয়া এবং ঐ ব্যক্তির প্রয়োজন পুরণ করা। মানুষের চুরি হয়ে যাওয়া জিনিসের সংবাদ বলে দেয়া। অদৃশ্য কোন বিষয়ের বর্ণনা দেয়া। অসুস্থ কারও সম্পর্কে সংবাদ দেয়া। ইত্যাদি।
এগুলোর কোনটি সংগঠিত হওয়া কখনও এটা প্রমাণ করে না যে, এ ব্যক্তি আল্লাহর ওলী। বরং সমস্ত ওলী-বুজুর্গ এ বিষয়ে একমত যে, কেউ যদি বাতাসে উড়ে, পানির উপর চলে তাহলে দেখতে হবে, সে রাসূল স. এর প্রকৃত অনুসারী কি না? শরীয়তের প্রকাশ্য বিধি-বিধান সে অনুসরণ করছে কি না? যদি এগুলো না থাকে তাহলে তার মাধ্যমে ধোকায় পড়া যাবে না। ওলীদের কারামত এসব বিষয় থেকে অনেক বড়। এধরনের অস্বাভাবিক বিষয় যার থেকে প্রকাশিত হয়, সে কখনও আল্লাহর ওলী হতে পারে, আবার আল্লাহর শত্রুও হতে পারে। কেননা এধরনে বিষয় অনেক কাফের, মুশরিক, আহলে কিতাব ও মুনাফিক থেকে প্রকাশিত হয়ে থাকে। অনেক বিদয়াতী থেকে এগুলো প্রকাশিত হয়। কখনও এগুলো শয়তানের পক্ষ থেকে হয়ে থাকে।
সুতরাং এই ধারণা করা সমীচিন নয় যে, এধরনের কোন ঘটনা কারও থেকে প্রকাশিত হলেই সে আল্লাহর ওলী। বরং কোন ব্যক্তিকে তার গুণাবলী, কুরআন-সুন্নাহের অনুসরণের দ্বারা আল্লাহর ওলী গণ্য করা হবে। ইমানের নূর ও কুরআনের নূর দ্বারা তাদেরকে চেনা সম্ভব। এবং বাতেনী ইমানের হাকিকত দ্বারা তাদের বাস্তবতা অনুধাবন করা হয়। সেই সাথে প্রকাশ্য শরীয়তের বিধি-বিধান ওলী হওয়ার অপরিহার্য অংশ।
[মাজমুয়াতুল ফাতাওয়া, খ.১১, পৃ.২১৩]

ইবনে তাইমিয়া রহ. কিছু অস্বাভাবিক ঘটনার উদাহরণ দিয়েছেন, যেগুলো অপ্রাকৃতিক ঘটনা হিসেবে ঘটতে পারে। তিনি স্পষ্টভাষায় বলেছেন, ওলীদের কারামত এসব উদাহরণ থেকেও অনেক বড়। ইবনে তাইমিয়া রহ. যেসব উদাহরণ দিয়েছেন, এর মাঝে আমাদের আলোচ্য বিষয়ের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি উদাহরণ রয়েছে। সেটি হল, কোন মৃত ব্যক্তি উপস্থিত হওয়া। একজন মৃতব্যক্তি কারও সামনে উপস্থিত হওয়াটা সম্ভব। এটি কারামত হিসেবে যে কোন ওলীর ক্ষেত্রে ঘটতে পারে। এধরনের কারামত প্রকাশিত হওয়া শরীয়তে অসম্ভব নয়। বরং এর চেযে বড় কারামত সংঘঠিত হতে পারে। ইবনে তাইমিয়া রহ. এর বক্তব্য থেকে বিষয়টি সুস্পষ্ট।

                  এ বিষয়ে আক্বিদাগত কিছু মৌলিক কথাঃ

আমরা বিশ্বাস করি, ওলীদের থেকে মৃত্যুর পূর্বে যেমন কারামত প্রকাশিত হতে পারে, তাদের মৃত্যুর পরেও কারামত প্রকাশিত হতে পারে। এটিই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদা। মৃত্যুর পরে কারামত প্রকাশিত হবে না, বা হওয়া অসম্ভব, এজাতীয় ধ্যান-ধারণা রাখা কুরআন ও সুন্নাহের বড় একটি অংশ অস্বীকারের নামান্তর। একইভাবে নবীদের থেকে তাদের জীবদ্দশায় যেমন মু’জিযা প্রকাশিত হতে পারে, তাদের ইন্তেকালের পরেও প্রকাশিত হতে পারে। কারণ কারামত একমাত্র আল্লাহর ক্ষমতা ও ইচ্ছায় সংঘঠিত হয়। এতে বান্দার ক্ষমতা ও ইচ্ছার কোন প্রভাব নেই। আল্লাহ কখন কার মাধ্যমে কোন কারামতের প্রকাশ ঘটাবেন তিনিই ভালো জানেন। এক্ষেত্রে বান্দা শুধুমাত্র উপলক্ষ। সুতরাং মৃত্যুর পূর্বেও যেমন আল্লাহর ক্ষমতা ও ইচ্ছায় কারামত প্রকাশিত হয়, তেমনি মৃত্যুর পরেও আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতায় কারামত প্রকাশিত হতে পারে। আল্লাহ তায়ালা চাইলে মৃত্যুর পরও রুহ,দেহ বা প্রতিচ্ছবির মাধ্যমে কারামত সংগঠিত করতে পারেন। অর্থাৎ আল্লাহ চাইলে মৃত্যুর পরও কবর থেকে কারো হাত বা সম্পূর্ণ দেহও বের হয়ে আসতে পারে।এটা কারামত হিসেবেও করতে পারেন আবার কোন কিছুর নিদর্শণ হিসেবেও করতে পারেন।এর বেশ কিছু উদাহারণ পুর্বে উল্লেখ করা হয়েছে। আর এ ধরণের ঘটনাকে অসম্ভব মনে করলে হাদীসে বর্ণিত ঘটনা সমূহকেও অসম্ভব মনে করতে হবে।(নাউযুবিল্লাহ)

Read More

আহলে হাদীসদের আকিদা-বিশ্বাস

আহলে হাদীসদের বর্তমান মুখপাত্র মুতিউর রহমান মাদানী বিভিন্ন ইসলামী দলের বিরুদ্ধে লেকচার দিয়ে থাকেন। এসব ইসলামী দলকে কাফের-মুশরিক, খারেজী, বাতিল, গোমরাহ  আখ্যা দেয়া তার মূল কাজ। এই লোকটি বর্তমান বিশ্বে দ্বীনের খেদমতে সবচেয়ে বেশি অগ্রণী ভূমিকা পালনকারী দেওবন্দী উলামায়ে কেরাম সম্পর্কেও  লেকচার দিয়েছে। সে দেওবন্দী আকিদা নামে একটি লেকচার দিয়েছে। আহলে হাদীসদের নিকট এ লেকচারটি খুবই পরিচিতি লাভ করেছে। আশ্চর্যের বিষয় হলো, এই তথাকথিত আহলে হাদীস মাদানী দুনিয়ার অন্য সবার বিরুদ্ধে লেকচার দিলেও আহলে হাদীস আলেমদের সম্পর্কে কখনও কোন লেকচার দেয় না। সালাফী আলেমদের বাতিল আকিদার বিরুদ্ধে কোন লেকচার সে দেয় ন। সৌদি আরবের নিয়মিত বেতন-ভাতা ভোগ করার কারণে সৌদি সরকারের অন্যায়ের বিরুদ্ধেও মুখ খোলে না। এই দরবারী আলেম যেসব কারণ দেওবন্দী আলেমদের সমালোচনা করেছে, হুবহু সেসব আকিদা তথাকথিত সালাফী বা আহলে হাদীস আলেমরা পোষণ করলেও সে কখনও এদের বিরুদ্ধে কিছু বলে না। নিজের দলের হাজারটা ভুল থাকলেও সে অন্যের ভুল ধরতে উস্তাদ।

দেওবন্দী আলেমরা যদি কুফুরী-শিরকী আকিদা রাখে, তাহলে তাদের চেয়ে জঘন্য আকিদা রেখে তথাকথিত সালাফী-আহলে হাদীসরা তুলসী পাতা হয় কী করে? আমরা এবারের আলোচনায় ভারত উপমহাদেশের আহলে হাদীসদের বিখ্যাত আলেমদের আকীদা সম্পর্কে আলোচনা করবো। মতিউর রহমান ও তার ভক্তদের কাছে নিবেদন থাকবে, এসব আহলে হাদীসদের বিরুদ্ধেও  লেকচার তৈরি করুন। তাদেরকে কাফের-মুশরক, বাতিল-গোমরাহ ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে লেকচার দিন। আমরা আপনাদের উত্তরের অপেক্ষায় রইলাম। আমরা এ পর্বগুলোতে মতি মাদানীর মিথ্যাচারের জওয়াব দিবো না। শুধু আহলে হাদীসদের সেসব আকিদা বর্ণনা করবো, যেগুলো মাদানী আহলে হাদীসদের নিকট কুফুরী ও শিরকী। ইনশাআল্লাহ পরবর্তীতে দেওবন্দী আকিদার নামে মতি মাদানী দেওবন্দী আলেমদের সম্পর্কে যে মিথ্যাচার করেছ তার বিস্তারিত উত্তর দেয়া হবে।

Read More

সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে আহলে হাদীসদের দৃষ্টিভঙ্গি (৪)

হযরত উমর রা. ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. শরীয়ত বিরোধী মাসআলা দিতেন:

জামিয়া সালাফিয়া বেনারস এর গবেষক মুহাম্মাদ রইস নদভী আহলে হাদীস তানবীরুল আফাক নামে একটি কিতাব লিখেছে। এ কিতাবে সে হযরত উমর রা. ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা, সম্পর্কে লিখেছে,

অর্থাৎ স্পষ্টত: শরীয়তের নির্দেশনার বিপরীতে  এই দু’জন সম্মানিত সাহাবীর অবস্থান আমলযোগ্য ও শরীয়তের দলিল হতে পারে না। এটিও স্পষ্ট যে, বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত হলো, এই দুই সাহাবী যেহেতু শরীয়ত বিরোধী বিষয়টি গ্রহণ করেছিলেন, এজন্য তাদেরকে শরীয়তবিরোধী আখ্যায়িত করা হবে। [তানবীরুল আফাক, পৃ.৮৭-৮৮]

নাউযুবিল্লাহ, ছুম্মা নাউযুবিল্লাহ। হযরত উমর রা. ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. কে বার শরীয়ত বিরোধী আখ্যা দেয়ার মূল মাসআলাটি হলো, একই সাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাক পতিত হওয়া। পুরো মুসলিম উম্মাহ এ বিষয়ে একমত যে, একই সাথে তিন তালাক দিলে তিন তালাক পতিত। তথাকথিত গাইরে মুকাল্লিদরা সমগ্র  সাহাবা ও মুসলিম উম্মাহের বিরোধীতার করে তিন তালাককে এক তালাক বানিয়েছে। হযরত উমর রা. ও হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. যেহেতু তাদের মতের বিপক্ষে গিয়েছে, এজন্য বার বার তাদেরকে শরীয়ত বিরোধী আখ্যা দিয়েছে, নাউযুবিল্লাহ। এসব লেখা পড়লে সন্দেহ হয়, এটি শিয়াদের লেখা না কি আহলে হাদীসদের?

Read More

সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে আহলে হাদীসদের দৃষ্টিভঙ্গি (২)

সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে কাজী শাওকানী ও নওযাব সিদ্দিক হাসান খানের জঘন্য বক্তব্য:

এ পর্বে আহলে হাদীসদের বিখ্যাত দুই গুরুর বক্তব্য তুলে ধরা হলো।

হযরত ত্বলহা ও যোবায়ের রা. এর ব্যাপারে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অভিযোগ:

কাজী শাওকানী  ওবালুল গামাম নামে একটি কিতাব লিখেছেন। কিতাবটি তাহকীক করেছেন, মুহাম্মাদ সাবহী হাসান হাল্লাক। এটি প্রকাশ করেছে, মাকতাবাতুল ইলম, জিদ্দা ও মাকতাবায়ে ইবনে তাইমিয়া, কায়রো। প্রথম প্রকাশ, ১৪১৬ হি:

 

ওবালুল গামামের দ্বিতীয় খন্ড, পৃ.৪১৪-৪১৫ পৃষ্ঠায় হযরত ত্বলহা ও হযরত যুবায়ের রা. সম্পর্কে কাজী শাওকানী লিখেছে,

أما طلحة والزبير ومن معهم , فلأنهم قد كانوا بايعوه , فنكثوا بيعته بغياً عليه , وخرجوا في جيوش من المسلمين , فوجب قتاله

অর্থ: ত্বলহা, যোবায়ের ও তাদের সাথীরা যেহেতু হযরত আলী রা. এর হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেছিলেন, অত:পর তার সাথে বিদ্রোহ করে তার বাইয়াত ভঙ্গ করেছে এবং মুসলমানদের একটি সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করেছে, সুতরাং তাদের সাথে হযরত আলী রা. এর যুদ্ধ করা ওয়াজিব হয়ে গেছে।  

Read More

ভ্রান্ত সালাফী আকিদার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস(৪)

হাশাবিয়া মুহাদ্দিসদের মাঝে মুশাববিহা ও মুজাসসিমা ফেরকা: 

মুকাতেলিয়া ফেরকা:

মুকাতিল ইবনে সুলাইমান আল-বালখী (মৃত:১৫০ হি:) ও তার অনুসারীদেরকে মুকাতিলিয়া ফেরকা বলা হয়। মুকাতিল ইবনে সুলাইমান তাফসীর শাস্ত্রে অভিজ্ঞ ছিলো, কিন্তু আক্বিদার ক্ষেত্রে সে ছিলো মুশাববিহা ও মুজাসসিমা। হাদীস শাস্ত্রে মুহাদ্দিসদের ঐকমত্য অনুসারে সে পরিত্যক্ত।

ইমাম যাহাবী রহ. সিয়ারু আ’লামিন নুবালাতে লিখেছেন,

أجمعوا على تركه

অর্থ: হাদীস শাস্ত্রে সে পরিত্যাক্ত হওয়ার ব্যাপারে মুহাদ্দিসগণের ইজমা হয়েছে।[১]

মুকাতিল ইবনে সুলাইমান মুজাসসিমা হওয়ার বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তার আক্বিদা বিশ্বাস বাতিল হওয়ার ব্যাপারেও কারও দ্বিমত নেই।

ইমাম আবুল হাসান আশআরী রহ. তার সম্পর্কে বলেন,

حكي عن أصحاب مقاتل أن الله جسم وأن له جثةً وأنه على صورة الإنسان لحم ودم وشعر وعظم وجوارح وأعضاء من يد ورجل ورأس وعينين مصمت وهو مع ذلك لا يشبه غيره ولا يشبهه غيره

অর্থ: মুকাতিল ইবনে সুলাইমানের অনুসারীদের থেকে বর্ণিত আছে, আল্লাহ তায়ালা দেহ ও শরীর বিশিষ্ট। তিনি মানুষের আকৃতি বিশিষ্ট। আল্লাহর গোশত, রক্ত, চুল, হাড্ডি ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গ যেমন হাত, পা, মাথা ও দু’ চোখ রয়েছে। এগুলো থাকা সত্ত্বেও তিনি কারও সঙ্গে সাদৃশ্য রাখেন না এবং কেউ তার সদৃশ নয়।[২]

Read More

ভ্রান্ত সালাফী আকিদার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশের ইতিহাস (৩)

মুগিরিয়া ফেরকা:

মুগিরা ইবনে সাইদ আল-ইজলি (মৃত:১১৯ হি:) ও তার অনুসারীদেরকে মুগিরিয়া বলা হয়। ইমাম যাহাবী মুগিরা ইবনে সাইদ সম্পর্কে বলেন,

وكان هذا الرجل ساحراً فاجراً شيعياً خبيثاً

অর্থ: সে যাদুকর, পাপী, শিয়া ও নিকৃষ্ট প্রকৃতির লোক ছিলো।

মুগিরিয়া ফেরকার আক্বিদা সম্পর্কে ইমাম আব্দুল কাহের বাগদাদী রহ. বলেন,

ومنها إفراطه في التشبيه، وذلك أنه زعم أن معبوده رجل من نور على رأسه تاج من نور، وله أعضاء على صور حروف الهجاء، وأن الألف منها مثال قدميه والعين على صورة عينيه، …ومنها أنه تكلم في بدء الخلق فزعم أن الله تعالى لما أراد أن يخلق العالم تكلم باسمه الأعظم فطار ذلك الاسم ووقع تاجاً على رأسه. وتأول على ذلك قوله تعالى: (سبح اسم ربك الأعلى) وزعم أن الاسم الأعلى إنما هو ذلك التاج. ثم إنه بعد وقوع التاج على رأسه كتب بإصبعه على كفه أعمال عباده. ثم نظر فيها فغضب من معاصيهم فعرق، فاجتمع من عرقه بحران أحدهما مالح والآخر عذب. ثم اطلع في البحر فأبصر ظله فذهب ليأخذه فطار فانتزع عيني ظله فخلق منها الشمس والقمر، وأفنى باقي ظله وقال: لا ينبغي أن يكون معي ثم خلق الخلق من البحرين فخلق الشيعة من البحر العذب النير فهم المؤمنون وخلق الكفرة وهم أعداء الشيعة من البحر المظلم المالح

অর্থ: তার ভ্রান্ত বিষয়গুলোর একটি হলো সে আল্লাহ তায়ালাকে নিকৃষ্টভাবে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য প্রদান করতো। সে বিশ্বাস করতো, আল্লাহ তায়ালা  আলোকময় এক ব্যক্তি, যার মাথায় নূরের মুকুট রয়েছে। আরবী বর্ণমালার আকৃতি অনুযায়ী আল্লাহর আকৃতি রয়েছে। আরবী বর্ণমালার আলিফ আল্লাহর পায়ের উদাহরণ। আরবী আইন অক্ষরটি আল্লাহর চোখের অনুরূপ। সে বিশ্বাস করতো, আল্লাহ তায়ালা সৃষ্টির শুরুতে কথা বলেন। সে ধারণা করতো আল্লাহ তায়ালা যখন মহাবিশ্ব সৃষ্টির ইচ্ছা করেন তিনি তার ইসমে আ’জম উচ্চারণ করেন। এই ইসমে আজম উড়ে গিয়ে তার মাথায় বসে এবং এটি তার মুকুট হয়। সে তার বক্তব্যের প্রমাণ হিসেবে পবিত্র কুরআনের আয়াত উপস্থাপন করে এর বিকৃত ব্যাখ্যা করে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন, আপনি আপনার প্রভূর নামের পবিত্রতা বর্ণনা করুন, যিনি মহান। সে এই আয়াতের বিকৃত ব্যাখ্যা করে বলেছে, এখানে সম্মানিত নাম দ্বারা আল্লাহর মুকুট উদ্দেশ্য। আল্লাহ তায়ালার মাথায় এই মুকুট আসার পর তিনি তার দুই আঙ্গুল দ্বারা হাতের তালুর উপরে বান্দার আমল লিপিবদ্ধ করেছেন। অত:পর তিনি এই আমলগুলোর দিকে দৃষ্টি বুলান। বান্দার গোনাহ দেখে তিনি রাগান্বিত হয়ে যান। এই রাগের কারণে তিনি ঘর্মাক্ত  হয়ে যান। তার ঘাম থেকে দু’টি সমুদ্র প্রবাহিত হয়। একটি লবণাক্ত, অপরটি সুমিষ্ট। এরপর তিনি সমুদ্রের দিকে উঁকি দেন। সেখানে তিনি নিজের ছায়া দেখতে পান। তিনি সেটা ধরতে যান। কিন্তু ছায়া উড়ে যায়। এরপর তিনি তার নিজ ছায়া থেকে চন্দ্র ও সূর্য সৃষ্টি করেন। অবশিষ্ট ছায়াকে তিনি নি:শেষ করে দেন। অত:পর তিনি বললেন, এগুলো আমার সাথে থাকা উচিৎ নয়। দুই সমুদ্র থেকে তিনি মাখলুককে সৃষ্টি করলেন। সুমিষ্ট পানির সমুদ্র থেকে শিয়াদেরকে সৃষ্টি করেন এবং লবণাক্ত  ও অন্ধকার সমুদ্র থেকে শিয়াদের শত্রুদেরকে সৃষ্টি করেন।”[১]

Read More

সৌদি ফতোয়া বোর্ডের ফতোয়া বনাম রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামের হাদীস

সৌদি ফতোয়া বোর্ডের ফতোয়া –
“ মৃতব্যাক্তি সম্বন্ধে সাধারণ নিয়ম হচ্ছে, নবী-রাসুল বা সাধারণ মুসলিম যেই হোন না কেন, তিনি তাঁর কবরে নড়া-চড়া করতে পারেন না।” (ফতোয়া নং ২১৪১২)

কিন্তু সহীহ হাদীস অনুযায়ী আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আক্বিদা হল –

তায়ালা চাইলে মৃত্যুর পরও রুহ,দেহ বা প্রতিচ্ছবির মাধ্যমে কারামত সংগঠিত করতে পারেন। অর্থাৎ আল্লাহ চাইলে মৃত্যুর পরও কারো জন্য কবরে নাড়াচড়ার ব্যাবস্থা করতে পারেন যেমন কবর থেকে কারো হাত বা সম্পূর্ণ দেহও বের হয়ে আসতে পারে। এটা কারামত হিসেবেও করতে পারেন আবার কোন কিছুর নিদর্শণ হিসেবেও করতে পারেন।

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওসাল্লামের হাদীস

Read More

সহীহ আকিদার নামে ফেরআউনী আকিদার দাওয়াত

ভ্রান্ত সালাফী আকিদার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ(২)

স্রষ্টাকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য প্রদানে বাতিল ফেরকাসমূহ  আসমানী ধর্মসমূহের মধ্যে স্রষ্টাকে সৃষ্টির স্তরে নামিয়েছে ইহুদীরা। খ্রিষ্টানরা স্বয়ং সৃষ্টিকে স্রষ্টা বানিয়েছে। এভাবে মূল তাউহীদের আক্বিদায় মারাত্মকভাবে পথভ্রষ্ট হয়ে কুফুর-শিরকে নিপতিত হয়েছে। পরবর্তীতে মুসলমানদের অনেক বাতিল ফেরকা ইহুদী-খ্রিষ্টানদের এসব কুফুরী-শিরকী আক্বিদা দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিভিন্ন সময়ে ইহুদী-খ্রিষ্টানদের কুফুরী আক্বিদাগুলো মুসলমানদের মাঝে ছড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছে। ইহুদী বর্ণনার দ্বারা প্রভাবিত মুসলমানদের মধ্যে সর্বপ্রথম শিয়ারা এসব কুফুরী আক্বিদা প্রচার করে। এদের পাশাপাশি একদল অজ্ঞ মুহাদ্দিস কুরআন-সুন্নাহের বাহ্যিক শব্দ অনুসরণের নামে ইহুদীদের এসব কুফুরী আক্বিদা প্রচার করতে থাকে।

এবাবে সাধারণ মুসলমানদের মাঝে ইহুদী-খ্রিষ্টানদের কুফুরী আক্বিদাগুলো ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মুসলমানদের অজ্ঞতার সুযোগ নিয়ে এবং কুরআন সুন্নাহের অনুসরণের ধুয়ো তুলে তারা অনেক সাধারণ মানুষকেও এসব কুফুরী আক্বিদার দিকে পরিচালিত করে। আল্লাহ তায়ালার নাম ও গুণাবলী বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পূর্বে এসব বাতিল ফেরকাসমূহের পরিচিতি স্পষ্ট হওয়া আবশ্যক।

Read More

ভ্রান্ত সালাফী আকিদার উৎপত্তি ও ক্রমবিকাশ (১)

আসমানী কিতাব যাদের উপর অবতীর্ণ হয়েছে তাদের মধ্যে ইহুদীরা আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সাদৃশ্য প্রদান করেছে। বনী ইসরাইল আল্লাহ তায়ালার জন্য এমনসব গুণাবলি সাব্যস্ত করেছে যা কেবল মানুষ ও সৃষ্টির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মুসা আ. এর এর উপস্থিতিতে তারা তাজসীম তথা আল্লাহ তায়ালার দেহ সাব্যস্তের মতো বাতিল আক্বিদার দিকে ধাবিত হয়েছে। আল্লাহ তায়ালা তার দয়া ও রহমতের মাধ্যমে বনী ইসরাইলকে ফেরআউনের কবল থেকে রক্ষা করেন, অথচ সমুদ্র পার হয়ে তারা মুসা আ. কে আল্লাহর মূর্তি বানিয়ে দেয়ার আবেদন জানিয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন,

وجاوزنا ببني إسرائيل البحر فأتوا على قوم يعكفون على أصنام لهم قالوا يا موسى اجعل لنا إلها كما لهم آلهة

অর্থ: আর আমি বনী ইসরাইলকে সাগর পার করে দিয়েছি, তখন তারা এমন এক সম্প্রদায়ের কাছে গিয়ে পৌঁছলো, যারা নিজেদের বানানো কতোগুলো প্রতিমার পূজায় রত ছিলো। বনী ইসরাইল বলল, হে মুসা, আমাদের জন্য এরূপ একটি উপাস্য নির্ধারণ করে দেন, যেরূপ এদের উপাস্য রয়েছে।[১]

পবিত্র কুরআনে আরও স্পষ্টভাবে বনী ইসরাইলের এই মানসিকতা উল্লেখ করা হয়েছে। তারা মহান আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সঙ্গে সাদৃশ্য দিয়েই ক্ষ্যান্ত হয়নি, বরং রীতিমত মূর্তি বানিয়ে তার পূজা শুরু করেছে। তারা সর্বদা আল্লাহ তায়ালাকে সৃষ্টির সদৃশ একটি সত্ত্বা বলেই বিশ্বাস করতো।

Read More

Page 1 of 3

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA