iDEA

islamic dawah and education academy

Category: ইলম

চেতনার সলতে

মাঝে মাঝে দেশের বিখ্যাত মিডিয়া ও পত্রিকাগুলোর কমেন্ট দেখি। সাধারণ মানুষের চিন্তা-চেতনার প্রতিচ্ছবি ফুটে ওঠে এসব কমেন্টে। দেশের মানুষকে বুঝতে ও পড়তে তাদের এই কমেন্তগুলো বেশ সহায়ক মনে হয়েছে।

সবচেয়ে মজার বিষয় হল, দেশের হলুদ মিডিয়া ও চেতনাধারিরা সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। এখানে তাদের ব্যর্থতা নব্বই ভাগের উপরে। আপামর জনসাধারণ থেকে তারা অনেকটায় বিছিন্ন হয়ে পড়েছেন। আজকের আধুনিক সমাজে তাদের চেতনার সলতে নিভু নিভু প্রায়। দেশের সাধারণ মানুষ ও ইয়াং জেনেরেশান আগের থেকে যথেষ্ট স্মার্ট। তাদের চিন্তার পরিধিও অনেক বিস্তৃত মনে হয়েছে। যে কেউ ভুল-ভাল কোন কিছু তাদের গলঃধরণ করাতে পারবে না।

অনেক ইয়াং হয়ত বিপথে যাচ্ছে, তবে তারা কিন্ত আমাদের বুদ্ধিজীবিদের দেওয়া সবক নিচ্ছে না। এই হতাশার কথা হয়ত চেতনাধারিরা গভীরভাবে অনুভব করছেন।

জনগণকে সাথে নিতে না পারলে আপনাদের এই হলুদ সাংবাদিকতার স্বার্থকতা কী? এটা কিন্ত আমদের বুদ্ধিজীবি ও মিডিয়া কর্মীদের বোঝা উচিত। আগে মানুষ মিডিয়া কর্মীদেরকে শ্রদ্ধা করত তাদের নীতি ও আদর্শের কারণে। এখন মানুষ তাদের প্রতি আস্থা হারিয়ে ফেলেছে। কী পরিমাণ ঘৃণা করে তা এসব কমেন্ট থেকে স্পষ্ট। হাজার হাজার লোক তাদের একটা সংবাদের প্রতিবাদ করছে। এটা তো বুদ্ধিজীবি ও মিডিয়া কর্মীদের জন্য সীমাহীন লজ্জার বিষয়।

আপনাদের কাছ থেকে মানুষ ভালোটা আশা করে। অন্তত এতটুকু চায় যে আপনারা গ্ণমানুষের কথা বলবেন। কিন্ত সত্য কথা হল, আপনারা আপনাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা সমাজের উপর চাপাতে চান। যেটা অন্যায়। আপনি হয়ত হুমায়ুন আজাদের আদর্শ লালন করেন। কিন্ত আমদের সমাজ তো তার আদর্শকে মোটেও তোয়াক্কা করে না; তাহলে আপনি কেন সমাজের মানুষকে এসব কথা শুনিয়ে বিরক্ত করছেন। তারা আপনদের এসব কথা শুনতে চায় না। আস্তে আস্তে আপনারা সমাজ থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন।

সমাজের উপকার করার চেষ্টা করুন। ভালো করতে না পারলে অন্তত খারাপ করবেন না। চেতনার ফেরি করে সমাজকে নষ্ট করা থেকে বিরত থাকুন। আপনারা যতই মৌলবাদি বলে চিৎকার করবেন, আপনাদের তত গলা ব্যথা হবে। মানুষ এগুলো নিবে না। তারা এখন যথেষ্ট সচেতন।

শাইখ নজদির যুদ্ধ ও একটি প্রশ্ন

আমার জানা মতে শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদি বা তার পরবর্তী অনুসারিরা কখনও কাফেরদের বিরুদ্ধে কোন যুদ্ধ করেননি। কারও জানা থাকলে জানালে উপকৃত হব।

তাদের সব যুদ্ধ ছিল মুসলমান ও মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলের বিরুদ্ধে। তাদের দৃষ্টিতে এরা অবশ্য মুসলমান ছিল না। তারা এদেরকে মুরতাদ ও মুশরিক মনে করে যুদ্ধ করেছেন।

আমরা বিশ্বাস করি, শাইখের মুসলমানদেরকে মুশরিক বলা এবং তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাটা ছিল অন্যায় ও বাড়াবাড়ি। তার ও তার অনুসারীদের এই কাজকে সঙ্গত কারণেই আমরা শরয়ী জিহাদ বলতে পারছি না।

মূল ধারার দেওবনদী আলেমগণ এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই তাকফিরের ক্ষেত্রে শাইখের বাড়াবাড়ির কথা বলেছেন।

কাফেরদের বিরুদ্ধে জিহাদ আর মুসলমানদেরকে কাফের বানিয়ে তাদের রক্তপাত কখনও এক হতে পারে না। আকাশ পাতালের ফারাক। যারা এই ফারাক বোঝেন না তাদের কেউ কেউ মনে করছেন, দেওবন্দি আকাবিরগণ শাইখের জিহাদের বিরোধী ছিলেন। যারা শাইখের অস্ত্রধারণ ও রক্তপাতের বিরোধিতা করেছেন, তারা কেউ একে জিহাদ মনে করেননি।

সুতরাং শাইখের বিরোধিতা করলেই সে জিহাদ ও কিতালের বিরোধী, মুজাহিদেরকে তাকফিরি বলে, এধরণের চিন্তা করা অন্যায়। শরিয়তের প্রত্যেকটা হুকুম তার সীমা-রেখার মধ্যে থেকেই মানতে হবে। এখানে আবেগের চেয়ে বাস্তবতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

বিচ্ছিন্ন চিন্তা-চেতনা ও আলেমদের করণীয়

আমার লেখার উদ্দেশ্য কখনও এটা নয় যে, দেওবন্দীরা আত্মকেন্দ্রিক হয়ে যাবে। অন্য কোন দল বা মতের সাথে চলতে পারবে না। আমার লেখার উদ্দেশ্য হল, মূল ধারার আহলে সুন্নতের সম্মিলিতভাবে স্বীকৃত আকাইদ ও উছুল থেকে অনেক বিচ্যুতি আসছে। অনেকে সালাফিদের বাড়াবাড়িকে হক মনে করছে। এই বিষয়ে আহলে সুন্নতের আলেমদের আরও আন্তরিক হওয়া জরুরি। এক্ষেত্রে ইবনে তাইমিয়া রহঃ ও শাইখ মুহাম্মাদ ইবনে আব্দুল ওহাব নজদির বিচ্ছিন্ন মতামত ও আকিদাকে আসল ইসলাম হিসেবে পেশ করা হচ্ছে। আমি দেওবন্দিসহ মূল ধারার আহলে সুন্নতের আলেমদের কাছে আশা করি, তারা এই বিচ্ছিন্নতার বিষয়ে উম্মতকে সতর্ক করবে। কাউকে সম্মান ও ইজ্জত করা এক বিষয়। আর কারও বিচ্ছিন্ন চিন্তা-চেতনাকে উম্মতের সামনে পেশ করা ও তার চর্চা করা ভিন্ন বিষয়। যেহেতু বর্তমানে তাদের বিচ্ছিন্ন চিন্তা-চেতনা চর্চা হচ্ছে, এই জন্য আমি বিষয়গুলোতে কলম ধরেছি।

Read More

নারীর ক্ষমতায়ন

চিন্তা করুন। দু’জন ভালো বন্ধু। একজনকে ছাড়া আরেকজন চলে না। চলতে পারে না। হঠাৎ কোন কারণে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। রেসলিং এর মতো একজন আরেকজনকে ধরাশায়ী করেছে। আরেকজনকে চেপে ধরে হুংকার ছাড়ছে।

আপনি এখানে দর্শক। দু’জনকে এ অবস্থায় দেখে আপনি কী কী করতে পারেন?

১. নীচে পড়া বন্ধুকে উপরে তুলে দিতে পারেন। যেন উপরের বন্ধুকে নীচের বন্ধু একইভাবে ধরাশায়ী করতে পারে।

২. উপরের বন্ধুকে বাহবা দিয়ে আরও কঠোর হতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন।

৩. দু’জনকে বুঝিয়ে উভয়ের মধ্যকার সমস্যার সমাধান করতে পারেন। তাদেরকে পূর্বের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে বলতে পারেন, একে অপরকে ধরাশায়ী করা তোমাদের সাজে না। তোমরা একে অপরের হাত ধরবে। বন্ধুত্বের নির্মল হাসি তোমাদের মুখে শোভা পায়।

আপনি যদি প্রথম দু’টি বেছে নেন, তাহলে উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের চলার পথ ভিন্ন হবে। উভয়ের প্রতি কল্যাণকামী ব্যক্তি অবশ্যই তৃতীয় পদ্ধতি বেছে নিবে। উভয়ের হৃদ্যতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে।

Read More

নিরপেক্ষতা ও ঘৃণার পঁচা লাশ

ঘৃণা, অহংকার ও আবেগ সঠিক মঞ্জিলে পৌছার অন্তরায় হতে পারে। এজন্য যে কোন বিষয়ে যথাসম্ভব এগুলো থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা জরুরি। নিজেকেই প্রশ্ন করতে থাকা। আমি কি এগুলোর কোনটায় আক্রান্ত?

আপনার যদি কোন বিষয়ের প্রতি পূর্ব থেকেই ঘৃণা থাকে তাহলে আপনি সহজে সঠিক সিদ্ধান্তে যেতে পারবেন। ঘৃণা আপনার চিন্তা শক্তিকে ভোতা করে দিবে।

আপনি যদি আত্ম অহংকারে ভোগেন তাহলে তো আরও মারাত্মক বিষয়। এটা সুষ্ঠু জ্ঞান চর্চার অন্যতম বাধা।

আর আবেগ যদি আপনার দাড়িপাল্লা হয়, তাহলে আপনি কখনও ইনসাফ করতে পারবেন কি না সন্দেহ। আপনার পছন্দের মত ও দলের দিকেই আপনি ঝুঁকবেন। মূল বিষয়কে এড়িয়ে যাবেন। সত্যকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। কখনও সত্যের মুখোমুখি হতে পারেবন না।

যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌছার আগে যাচাই করুন আপনার মধ্যে এসব উপসর্গ আছে কি না।

আমাদের সমাজের অনেক মডার্ণ চিন্তা-চেতনার ভাইয়েরা ইসলাম ও মুসলমানদেরকে নিয়ে কথা বলেন। চিন্তা-ভাবনা করেন। মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এদের অধিকাংশের কাছ থেকে আমরা হতাশাজনক কিছু আচরণ দেখতে পাই। যেমন,

শিক্ষা কারিকুলাম ও সামাজিকতার কারণে কলেজ ইউনিভার্সিটি পার হওয়ার আগেই একটা ধারণা তাদের মনে তৈরি হয়ে যায়। এসব মোল্লা-মৌলবীরা সেকেলে। কুপমন্ডুক । এরা আধুনিক সমাজে অপাংক্তেয়। বিভিন্নভাবে ইসলাম, মুসলমান ও হুজুরদের বিষয়ে যত্ন করে বপণ করা হয় ঘৃণার বীজ।

পরবর্তীতে যখন এই ভাইয়েরা ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে চিন্তা করেন, কথা বলেন, সেই ঘৃণার উদগীরণ হতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ঘৃণার মরা লাশ এমন দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা অসহনীয়। অকথ্য। অবর্ণনীয়। অনেক সময় এই ঘৃণাবোধ তাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে অধ্যয়ন থেকে বিমুখ রাখে।

শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, নাটক, সিনেমা, উপন্যাসেও এই ঘৃণা সুকৌশলে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। পুরো বিশ্বের মিডিয়া এ কাজে সমস্ত শক্তি নিয়োগ করেছে।

আপনি যদি সুস্থ্যভাবে চিন্তা করতে চান। ইসলাম ও মুসলমানদেরকে জানতে চান, তাহলে এই ঘৃণার জগত থেকে সামান্য বের হওয়ার চেষ্টা করুন। হয়তো ভালো কোন সিদ্ধান্তে সহজে পৌছতে পারবেন।

অহংকার জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে বড় বাধা। জ্ঞানের প্রথম শর্তই কিন্তু কারও কাছে নত হওয়া। আপনি জানেন না বা কম জানেন সেই উপলব্ধি ও বিনয় থাকা। উস্তাদের কাছে শিখছেন। নতজানু হয়ে বসছেন। এগুলো না থাকলে আপনি কিছু শিখতে পারবেন না। আপনি যদি চিন্তা করেন, আরে বাদ দাও। এসব মোল্লা-মৌলবীরা কী জানে। তাহলে আপনি মোল্লা-মৌলবীদের কাছ থেকে কিছু শিখতেও পারবেন না। নিতেও পারবেন না। এজন্য আপনার ডিগ্রি, সামাজিক স্ট্যাটাসের অহংকার থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করুন। এগুলো একেকটা কালো চশমা। যেগুলো আপনাকে সত্য ও সুন্দর থেকে পদে পদে বঞ্চিত করবে।

আমাদের অনেক ভাই রাসূল স. কে মহব্বত করেন। তাদের মহব্বত নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন ও সংশয় নেই। আশা করা যায়, এই মহব্বতের কারণে তারা সওয়াবও পাবেন। কিন্তু অতিরিক্ত মহব্বতের কারণে এমন কিছু কাজ করেন, যেগুলো শরীয়ত সমর্থন করে না। আবার অনেকে পীরের প্রতি অতিরিক্ত মহব্বত ও আবেগের কারণে শরীয়ত বিরোধী কাজ করে বসেন। আবেগ ও মহব্বত অনেক সময় তাদেরকে শরীয়তের বিধান নিয়ে চিন্তা ভাবনা থেকে বিরত রাখে।

যারা সমাজের ভালো চান, মানুষ ও মানবতার কল্যাণ নিয়ে একটু হলেও ভাবেন, তাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে। দৃষ্টিকে আরেকটু প্রসারিত করতে হবে। অহংকার, ঘৃণা ও আবেগের কালো চশমা খুলে সত্যের উন্মুক্ত চত্ত্বরে ডানা মেলে উড়তে হবে। আপনি নিজেকে পরিপূর্ণ করার সুযোগ পাবেন। সমাজকে দিতে পারবেন অকল্পনীয় কল্যাণ।

উপলব্ধি

অবসর সময় পেলে ইউটিউবে কিছু কিছু ভিডিও দেখি। বহু দিন থেকে নাস্তিকতার উপর বিভিন্ন ডিবেইট দেখি। ভালোই লাগে। বড় বড় নাস্তিকদের অধিকাংশ ডিবেইট দেখছি। অনেকগুলো অলরেডি দেখা শেষ হয়েছে।

সবার মধ্যে কয়েকটা কমন জিনিস লক্ষ্য করেছি।

১. স্রষ্টা নেই, এটা নিশ্চিতভাবে বলার মতো কোন প্রমাণ না থাকলেও বিভিন্নভাবে ঘুরিয়ে পেচিয়ে নিজের মতকে প্রমাণ করার চেষ্টা করা। এধরণের প্রচেষ্টা আমার কাছে হাস্যকর।

২. নাস্তিকতা আসলে একটা ধর্ম বিশ্বাস। অন্যান্য ধর্মের সাথে পার্থক্য এতটুকু যে, অন্যান্য ধর্মের লোকেরা নিজেদের অনেক জ্ঞানী বা পন্ডিত দাবী করে না, কিন্তু অধিকাংশ নাস্তিক নিজেকে একটু জ্ঞানী বা পন্ডিত মনে করে।

বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, নাস্তিকতার পেছনে তার এমন কোন প্রমাণ নেই যা তার অতিরিক্ত অহংকারের সহায়ক হতে পারে। ডারইউনের থিউরি, স্ট্রিং থিউরি, ইশ্বর কণা, অমুক-তমুক এগুলো দিয়ে আসলে কিছু প্রমাণিত হয় না। অন্তত স্রষ্টা না থাকর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তো নয়ই।

এসব থিউরি নাস্তিকদের টাইম পাসের একটা মাধ্যম। নাস্তিকতার আলোচনায় এসব থিউরি আমার কাছে গার্বেজ ছাড়া আর কিছুই মনে হয়নি। এগুলো দিয়ে কিছু হাই থটের কথা বলে মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে টাইম পাস ছাড়া আর তেমন কিছু হওয়ার কথা নয়।

৩. নাস্তিকতার যেই বিশ্বাস কিছু মানুষ লালন করে, সেখান থেকে আসলে পাওয়ার কিছু নেই। সমস্ত যুক্তি তর্কের উর্ধ্বে গিয়ে পরিণতিটা আমাকে ভাবতে হবে। নাস্তিকতা না আমার জীবনের কোন প্রশ্নের সমাধান দেয়। না জীবনের কোন উদ্দেশ্য বলতে পারে। না মানুষকে ভালো মন্দের বিচারে কোন গাইড করতে পারে।

যেখানে আমার পাওয়ার কিছু নেই, সেখানে আমি সময় নষ্ট করবো কেন? আজ পর্যন্ত কোন নাস্তিক কি বলতে পেরেছে এসমস্ত সৃষ্টি কোথা থেকে এলো? বিগ-ব্যাং টিগব্যাং অনেক পুরাতন বিষয়। এগুলো দিয়ে তো আর মৃল সৃষ্টির সূচনার সমাধান হয় না।

ডিবেইটগুলো দেখছি। আল-হামদুলিল্লাহ, আমার বিশ্বাসের জায়গাগুলো আরও মজবুত হচ্ছে। সত্য কথা হলো, মানুষ নাস্তিক হওয়ার পেছনে কোন প্রমাণ ও যুক্তি থাকতে পারে না।

সর্বোচ্চ এতটুকু বলতে পারে, স্রষ্টা আছে কি নেই, সেটা আমি জানি না।

কিন্তু দাম্ভিকতার সাথে স্রষ্টা নেই বলে দেয়া কপটতা ও মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়। ডিবেইটগুলো দেখার পরে এগুলো আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি। পরে হয়তো আরও বিস্তারিত লিখবো ইনশা আল্লাহ।

ইলমের সফর অব্যাহত থাকুক

খতীব বাগদাদী রহ. তার ‘আল-জামে লি-আখলাকির রাবি ও আদাবিস সামে’ কিতাবে ইমাম আবু ইউসুফ রহ. থেকে একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।
الْعِلْمُ شَيْءٌ لا يُعْطِيكَ بَعْضَهُ حَتَّى تُعْطِيَهُ كُلَّكَ
অর্থ: ইলম এমন একটি জিনিস, সে তোমাকে তার কিছু অংশও দিবে না যতক্ষণ না তুমি নিজেকে পূর্ণভাবে তার কাছে সমর্পণ না করবে।

অন্যান্য সৃষ্টি থেকে মানুষের শ্রেষ্ঠত্যের একটি বিশেষ দিক হলো ইলম অর্জনের ক্ষমতা। এটি মানুষের জন্য আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

ইলমের জন্য যেমন পিপাসা প্রয়োজন ঠিক তেমনি প্রয়োজন অধ্যবসায় ও পরিশ্রম। ইলমের পথে কোন শটকাট নেই। এ পথ দীর্ঘ। কন্টকাকীর্ণ। বন্ধুর এপথে পরিক্ষা দিতে হয়। ধৈর্য ও কষ্টের পরীক্ষা। ইলমের প্রতি আকুলতা ও ভালবাসার পরীক্ষা।

দু:খের বিষয় হলো ইলমের জন্য নিবেদিতপ্রাণ লোকের সংখ্যা খুবই কম। বর্তমান ফেতনার জামানা। চারিদিকে জাহালাতের ছড়াছড়ি। আলেমরাও এসব ফেতনায় জড়িয়ে পড়ছেন পর্যাপ্ত ইলম অর্জনের অভাবে। সাধারণ মানুষের অবস্থা তো আরও করুন। যুবক ভাইদের অবস্থাও দু:খজনক।

১. যুবক ভাইদের মধ্যে একটি মারাত্মক সমস্যা চোখে পড়ে। কোন বিষয়ের গভীরে না যাওয়া। ইলমের পথে তার যাত্রা হয়তো দু’মাসের কিংবা দু’বছরের। দু’মাস বা দু’বছর কি ইলমের জন্য যথেষ্ট? অনেককে তো দেখা যায় দু’একজন শায়খের দু’একটি লেকচার থেকেই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে যান। অথচ বিষয়টি এতটা সহজ নয়।

২. ইলম মানেই হলো অজানা বিষয়ের জ্ঞান। এই জ্ঞান বাড়তে থাকলে নিজের মধ্যে একটা ভালো লাগা কাজ করে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এটি অহংকারে রূপ নেয়। যাদের মধ্যে ইলমের অহংকার ঢুকে যায়, এদের জন্য ইলম রহমত হয় না। এটি তার ক্ষতির কারণ হয়ে যায়।

অনেক বড় জ্ঞানী হলেই এই অহংকার আসবে, বিষয়টা এমন নয়। অনেককে দেখা যায়, খুব সামান্য জেনেও অহংকারী আচরণ করেন। এটা খুবই দু:খজনক। বাস্তবতা হলো, যিনি যতো বড় জ্ঞানী, তার বিনয় ততো বেশি হওয়া উচিত। দু:খজনক হলেও সত্য, সাধারণ ভাইয়েরা যখন ইলমের পথে অগ্রসর হোন, সামান্য জেনেই অন্যদেরকে হেয় করতে থাকেন। বড় বড় আলেমদেরকে নিয়েও কথা বলেন। আপনি যে বিষয়ে কথা বলছেন, সেটা হয়তো আলেমের অজানা, বা আলেমের ভুল, কিন্তু সেই আলেমকে তাচ্ছিল্য করাটা আপনার জন্য শোভনীয় নয়।

৩. যারা আলেম হোন, তারা ইলমের পেছনে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে থাকেন। মাদ্রাসা থেকে পাশ করা একজন অযোগ্য আলেমও যথেষ্ট সময় দিয়েছেন ইলমের পেছনে। এক্ষেত্রে সে বড় বড় আলেমের দরসে বসার সুযোগ পেয়েছে দীর্ঘ সময়। তার যোগ্যতা কম হলেও এসব দরসের বিশেষ বরকতের কারণে তার মধ্যে এক ধরণের বুঝ তৈরি হয়। আলেমদের সান্নিধ্যে অর্জিত এ বুঝটি তার সারা জীবনের চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। এধরণের সাধারণ পর্যায়ের আলেমও বিভিন্ন ফেতনা থেকে সহজে মুক্ত থাকতে পারে।

সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এধরণের সুযোগ খুবই কম। আলেমদের সান্নিধ্যে গিয়ে ইলম অর্জনের সুযোগ তেমন হয় না। এ কারণে তাদের মধ্যে এই বুঝ আসতে সময় লাগে। বর্তমানে অনেকের মধ্যে একটা প্রবণতা দেখা যায়। স্বশিক্ষিত হওয়ার প্রবণতা। দু’একটি বই পড়ে কিংবা একটা দু’টো লেকচার শুনে তারা নিজেদের যথেষ্ট মনে করেন। এটা শুধু ভুল নয়, মারাত্মক ভুল। সঠিক ইলমের থেকে দূরে থাকার অন্যতম কারণও এটি। এগুলোর মাধ্যমে হয়তো কিছু শব্দ শেখা যায়, কিছু মাসআলা জানা হয়, কিন্তু দীনের প্রকৃত বুঝ আসে না। দীনের প্রকৃত বুঝের জন্য আলেমদের সান্নিধ্যের কোন বিকল্প নেই।

৪. যুবক ভাইদের মধ্যে একটা ভয়ংকর রোগ দেখা যায়। তারা ভিডিও ও অডিও নির্ভর হয়ে যাচ্ছেন। কিতাব পড়ার প্রতি আস্তে আস্তে তাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এটা সত্যিই ভয়ংকর একটা বিষয়। সত্য কথা হলো, অডিও -ভিডিও কখনও কিতাবের বিকল্প হতে পারে না। কখনও নয়। প্রয়োজনের খাতিরে অডিও-ভিডিওর সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে, তবে প্রকৃত ইলমের জন্য কিতাব অধ্যয়নের কোন বিকল্প নেই।

৫. অনেকের মধ্যেই একটা বিশেষ প্রবণতা দেখা যায়। নিজের ইলমকে যথেষ্ট মনে করা ও আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তোলা। ভাবেন, আমি তো অনেক জেনে ফেলেছি। আমার মতো আর কে আছে। এই ধরণের আত্ম-প্রবঞ্চনা ইলমের পথে অন্যতম অন্তরায়। নিজের ইলমকে সব-সময় বড় বড় আলেমদের সামনে পেশ করা এবং নিজেদের অবস্থানকে সর্বদা যাচাই করতে থাকা খুব জরুরি।

একটা বাস্তবতা হলো, আমাদের জানার তুলনায় অজানা বিষয় বেশি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, [অনুবাদ],”তোমাদেরকে খুব সামান্য ইলম দেয়া হয়েছে”। এই সামান্য ইলমের অধিকাংশও আমাদের অজানা। সুতরাং এত বড় অজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নিজের জ্ঞান নিয়ে অহংকার করাটা আসলেই বোকামী।

বর্তমান জামানায় সাধারণ মানুষের সামনে হাজারও ফেতনার দরজা উন্মুক্ত। সেকুলারিজমের দাওয়াত তাকে চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। অধিকাংশ দাওয়াতের পেছনে রয়েছে জ্ঞান-বিজ্ঞান, যুক্তি ও তথ্য-উপাত্ত। অন্যান্য সকল জামানার তুলনায় বর্তমান সময়ের মুসলমানদের ইলমের প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হওয়া প্রয়োজন। ইলম থেকে বিচ্ছিন্ন হলেই এসব ফেতনায় আক্রান্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থেকে যায়। এজন্য সর্বদা ইলম শেখার পেছনে সময় দিতে হবে। একটা একটা দীর্ঘ সময় দিয়ে ইলম শিখতে হবে। আলেমদের সান্নিধ্যে গিয়ে ইলমের গভীরতা অর্জন করতে হবে।

ইলমের পথে আপনার এই যাত্রা অব্যাহত থাকুক আমৃত্যু। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে সেই তাফাক্কুহ দান করুন, যার মূলে রয়েছে প্রভূত কল্যাণ। আপনার এ পথের যাত্রা শুরু হবে দুনিয়ায়। এ পথের শেষ মঞ্জিল জান্নাত। রাসূল স. বলেছেন,
من سلك طريقاً يطلب فيه علماً سهل الله له طريقاً إلى الجنة
অর্থ: যে ইলমের পথে যাত্রা শুরু করবে, আল্লাহ তায়ালা তার জান্নাতের পথ সহজ করে দিবেন। (বোখারী শরীফ, কিতাবুল ইলম)।

আল্লাহ তায়ালা সবাইকে ইলমের জন্য কবুল করুন। আমীন।

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA