iDEA

islamic dawah and education academy

Category: তাসাউফ (Page 2 of 3)

তাকওয়ার আলামত- মাওলানা সা’আদ কান্দলভী দামাতবারকাতুহুম

 

মৃত্যুপরবর্তী কারামত ও কারামত অস্বীকারকারীদের মনস্তত্ব (৮)

মৃত ব্যক্তি একে-অপরের সাথে সাক্ষাৎ

মৃত ব্যক্তি একে -অপরের সাথে সাক্ষাতের বিষয়টি রাসূল স. এর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। রাসূল স.বলেন,

” إذا ولي أحدكم أخاه فليحسن كفنه , فإنهم يبعثون في أكفانهم و يتزاورون في أكفانهم “

অর্থ: তোমরা যখন তোমাদের মৃত ভাইকে বিদায় করবে, তখন তার কাফন সুন্দর করো। কেননা তাদের কাফনে তারা পুনরুত্থিত হবে  এবং তাদের কাফনে তারা একে-অপরের সাথে সাক্ষাৎ করে।

হাদীসটিকে শেইখ নাসীরুদ্দীন আলবানী সহীহ বলেছেন।  সিলসিলাতুস সহীহা, খ.৩, পৃ.৪১১

সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত বিষয়টি যদিও আমাদের জ্ঞানের উর্ধ্বে, তবুও আমরা এটি বিশ্বাস করি।

কবরের বিভিন্ন নেয়ামত ও সংক্রান্ত কারামত:

এ বিষয়ে ইবনে রজব হাম্বলী রহ. বলেন,

و ما شوهد من نعيم القبر و كرامة أهله فكثير أيضا

অর্থ: কবরের বিভিন্ন নেয়ামত ও কবরবাসীর কারামতের উপর বহু ঘটনা  প্রত্যক্ষ করা হয়েছে।

-আহওয়ালুল কুবুর, পৃ.১২১

এরপর এ বিষয়ে তিনি অনেক কারামত ও ঘটনা উল্লেখ করেছেন তার আহওয়ালুল কুবুর কিতাবে।

Read More

মৃত্যুপরবর্তী কারামত ও কারামত অস্বীকারকারীদের মনস্তত্ব (৭)

মৃত্যুর পর বিভিন্ন আমল

বিখ্যাত ইমাম ইবনে রজব হাম্বলী রহ. কবরের বিভিন্ন অবস্থা সম্পর্কে বিখ্যাত একটি কিতাব লিখেছেন। আহওয়ালুল কুবুর কিতাবের নাম।  রুহ, বারজাখ ও কবর সম্পর্কে অনেকেই কিতাব রচনা করেছেন। এর মধ্যে বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ. আল-কুবুর কিতাবটি সবচেয়ে প্রাচীন। এছাড়া ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রহ. আজ-জুহদ কিতাবে এসম্পর্কিত বেশ কিছু বর্ণনা রয়েছে। এ বিষয়ে পৃথক কিতাব লিখেছেন, ইবনুল কাইয়্যিম রহ.। ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর আর-রুহ কিতাবটি বিখ্যাত। এছাড়াও জালালুদ্দীন সূয়ূতী রহ.  শরহুস সুদুর নামে বারজাখ বা কবরের জীবনের উপর কিতাব লিখেছেন। জালালুদ্দীন সূয়ূতী রহ. এর কিতাবটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হল, এতে পূর্ববর্তী লিখিত বিভিন্ন কিতাবের সার নির্যাস তুলে ধরেছেন।

মৃত্যুর পর বিভিন্ন আমল সম্পর্কে উপর্যুক্ত কিতাবগুলোর প্রত্যেকটিতেই আলোচনা রয়েছে। আমরা ইবনে রজব হাম্বলী রহ. এর কিতাব থেকে আলোচনার মৌলিক অংশটি তুলে ধরব।

Read More

মৃত্যুপরবর্তী কারামত ও কারামত অস্বীকারকারীদের মনস্তত্ব (৬)

মৃত্যুর পর পুনরায় জীবন লাভ

 ইবনে কাসীর রহ. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়াতে বিখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে আবিদ দুনিয়ার সূত্রে ঘটনাটি উল্লেখ করেছেন। ইবনে আবিদ দুনিয়া রহ. নিজ সনদে বর্ণনা করেন, রবীয়া ইবনে কুলসুম জনৈক ব্যক্তি থেকে বর্ণনা করেছেন, উক্ত ব্যক্তির এক বৃদ্ধা প্রতিবেশী ছিল। তিনি অন্ধ ও কিছুটা বধির ছিলেন। হাটা-চলা করতে পারতেন না। তার একটি মাত্র ছেলে ছিল। ছেলেটি তার দেখা-শোনা করতো। ছেলেটি মৃত্যুবরণ করল। আমরা এসে বৃদ্ধাকে  বললাম, মুসীবতে আল্লাহর উপর সবর করুন। তিনি বললেন, কী হয়েছে? আমার ছেলে কি মারা গেছে? হে আমার মাওলা, আমার উপর রহম করো। আমার থেকে আমার ছেলেকে নিও না। আমি অন্ধ, বধির ও অচল। আমার দুনিয়াতে আর কেউ নেই। মাওলা, আমার উপর রহম করুন।

আমি বললাম, বৃদ্ধার স্মৃতিভ্রম হয়েছে। এই বলে আমি বাজারে গেলাম। আমি তার কাফনের কাপড় ক্রয় করে নিয়ে এলাম। ফিরে এসে দেখি সে জীবিত হয়ে বসে আছে।

১. আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, খ.৬, পৃ.১৫৪।

২.দালাইলুন নুবুওয়া, খ.৬, পৃ.৫০-৫১

Read More

মৃত্যুপরবর্তী কারামত ও কারামত অস্বীকারকারীদের মনস্তত্ব (৫)

মৃত্যুপরবর্তী কার্যক্রম ও দুনিয়াতে এর প্রতিক্রিয়া:

আর রুহ ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর বিখ্যাত একটি কিতাব। ইবনে তাইমিয়া রহ. এর ইন্তেকালের পরে তিনি কিতাবটি লিখেছিলেন।

ইবনুল কাইয়্যিম রহ. কিতাবুর রুহে লিখেছেন,

وأما من حصل له الشفاء بإستعمال دواء رأى من وصفه له في منامه فكثير جدا وقد حدثنى غير واحد ممن كان غير مائل إلي شيخ الإسلام ابن تيمية أنه رآه بعد موته وسأله عن شيء كان يشكل عليه من مسائل الفرائض وغيرها فأجابه بالصواب وبالجملة فهذا أمر لا ينكره إلا من هو أجهل الناس بالأرواح وأحكامها وشأنها وبالله التوفيق

অর্থ: স্বপ্নের মাধ্যমে প্রাপ্ত ওষুধের দ্বারা আরোগ্য লাভের অসংখ্য ঘটনা রয়েছে। ইবনে তাইমিয়া রহ. এর ভক্ত ছিল না, এমন অনেকেই আমার কাছে বর্ণনা করেছে, তার মৃত্যুর পরে তাকে স্বপ্নে দেখেছে। তার কাছে বিভিন্ন জটিল মাসআলা-মাসাইল জিজ্ঞাসা করেছেন। যেমন, উত্তরাধিকার (ফারাইজ) বন্টন সম্পর্কিত মাসআলা। তিনি এগুলোর সঠিক উত্তর দিয়েছেন। মোটকথা, এ বিষয়গুলি যারা অস্বীকার করে, তারা রুহ ও এর বিভিন্ন কার্য সম্পর্কে সবচেয়ে মূর্খ।

[কিতাবুর রুহ, দারুল কুতুবিল ইলমিয়া, পৃ.৪৮]

Read More

মৃত্যুপরবর্তী কারামত ও কারামত অস্বীকারকারীদের মনস্তত্ব (৪)

মৃত্যুর পর কথোপকথন: আমরা আগের পর্বে মৃত্যুর পর কথোপকথনের দু’টি ঘটনা উল্লেখ করেছি। এ বিষয়ে আরও অনেক ঘটনা রয়েছে। সংক্ষিপ্ত কয়েকটি উল্লেখ করে পরবর্তী বিষয়ের দিকে যাবো ইনশাআল্লাহ।

ঘটনা -৩:

বিখ্যাত মুহাদ্দিস ও ঐতিহাসিক ইবনে আসাকির তার তারীখে লিখেছেন,

عن عبد الله بن عتبة الأنصاري ، قال بينما ثم يثورون القتلى يوم مسيلمة إذ تكلم رجل من الأنصار من القتلى ، فقال : محمد رسول الله أبو بكر الصديق عمر الشهيد عثمان الرحيم ثم سكت

আব্দুল্লাহ ইবনে উতবা আল-আনসারী রা. বলেন, মুসালাইমাতুল কাজ্জাবের সাথে যখন ঘোরতর লড়াই চলছিল, আনসারী এক শহীদ  কথা বলে উঠল। সে বলল, “মুহাম্মাদ স. আল্লাহর রাসূল। আবু বকর হলেন সিদ্দিক (সত্যবাদী), উমর রা. হলেন শহীদ। উসমান রা. হলেন নম্র ও কোমল হৃদয়ের অধিকারী। এরপর সে চুপ করল।

তারীখে দিমাশক, খ.৩০, পৃ.৪০৮

মান আশা বা’দাল মাউত, পৃ.১৭, বর্ণনা নং ৮

Read More

মৃত্যুপরবর্তী কারামত ও কারামত অস্বীকারকারীদের মনস্তত্ব (২)

কারামত অস্বীকারকারীদের মনস্তত্ব হল, যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে কারামত সংগঠিত হওয়া সম্ভব নয। তাদের মতে মৃত্যুপরবর্তী কারামতে বিশ্বাস কুফুরী। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, একজন মৃত্যুবরণ করেছেন। তার কবর থেকে সালামের উত্তর শোনা সম্ভব নয়। এটা ভ্রান্ত ও কুফুরী। তাকে কবরের মাঝে সরাসরি দেখতে পাওয়া অথবা কবর থেকে তার হাতবের হতে পারে, এধরনের বিশ্বাস রাখা শিরক। কারামত অস্বীকারকারীরা এগুলোকে কুফুরী ও শিরকী আকিদা বলে থাকেন। বিশেষভাবে মৃত ব্যক্তির পক্ষ থেকে দুনিয়াতে যে কোন ধরনের ঘটনা প্রকাশিত হওয়া তাদের নিকট কুফুরী ও শিরক। এটা হল, তাদের মৌলিক বিশ্বাস।

হায়াতুন্নবী বাহাসে কারামত অস্বীকারকারী মুরাদ বিন আমজাদ ও তার সঙ্গীরা এধরনের কারামতকে কুফুরী শিরকী আখ্যা দেয়ার চেষ্টা করেছে। তাদের মতে এগুলো ভ্রান্ত আকিদ। এগুলো ছাটাই করার  মিশনে নেমেছেন তথাকথিত আহলে হাদীস ও সালাফীরা । আল্লাহ এসব কারামত অস্বীকারকারীদের ফেতনা থেকে উম্মাহকে হেফাজত করু।

Read More

মৃত্যুপরবর্তী কারামত ও কারামত অস্বীকারকারীদের মনস্তত্ব (১)

ভূমিকা:

আমরা বিশ্বাস করি, ওলীদের থেকে মৃত্যুর পূর্বে যেমন কারামত প্রকাশিত হতে পারে, তাদের মৃত্যুর পরেও কারামত প্রকাশিত হতে পারে। এটিই আহলে সুন্নত ওয়াল জামাতের আকিদা। মৃত্যুর পরে কারামত প্রকাশিত হবে না, বা হওয়া অসম্ভব, এজাতীয় ধ্যান-ধারণা রাখা কুরআন ও সুন্নাহের বড় একটি অংশ অস্বীকারের নামান্তর। একইভাবে নবীদের থেকে তাদের জীবদ্দশায় যেমন মু’জিযা প্রকাশিত হতে পারে, তাদের ইন্তেকালের পরেও প্রকাশিত হতে পারে।

কারণ কারামত একমাত্র আল্লাহর ক্ষমতা ও ইচ্ছায় সংঘঠিত হয়। এতে বান্দার ক্ষমতা ও ইচ্ছার কোন প্রভাব নেই। আল্লাহ কখন কার মাধ্যমে কোন কারামতের প্রকাশ ঘটাবেন তিনিই ভালো জানেন। এক্ষেত্রে বান্দা শুধুমাত্র উপলক্ষ। সুতরাং মৃত্যুর পূর্বেও যেমন আল্লাহর ক্ষমতা ও ইচ্ছায় কারামত প্রকাশিত হয়, তেমনি মৃত্যুর পরেও আল্লাহর ইচ্ছা ও ক্ষমতায় কারামত প্রকাশিত হতে পারে।

Read More

সূফীদের সংগ্রামী জীবন (৪)

দ্বিতীয় হিজরী শতকের অন্যতম সূফী ছিলেন ইমাম মালিক ইবনে দিনার রহ। ত্বরীকত ও তাসাউফের শীর্ষস্থানীয় ইমাম ছিলেন তিনি। কুনুজুল আউলিয়া গ্রন্থকার বর্ণনা করেন, মালিক ইবনে দিনার রহ. দীর্ঘ দিন যাবৎ যুদ্ধে অংশ গ্রহণের অধীর আগ্রহে অপেক্ষমান ছিলেন। পরবর্তীতে যুদ্দের উদ্দেশ্যে মুসলিম সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। যুদ্ধ শুরু হলে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এমনকি ঘোড়ার পিঠে আরোহণের মতো শক্তি তার ছিলো না। লোকেরা তাকে একটি তাবুতে নিয়ে যায়। সেখানে তিনি কান্না শুরু করেন। নিজেকে ভর্সৎসনা করে বলতে থাকেন, আমার শরীরে কল্যাণকর কিছু থাকলে আজ আমি জ্বরে আক্রান্ত হতাম না…।

Read More

সূফীদের সংগ্রামী জীবন (৩)

দ্বিতীয় হিজরী শতকের সূফীগণ

দ্বিতীয় হিজরী শতকের বিখ্যাত দুই বুজুর্গ, আবিদ ও জাহিদ হলেন, মুহাম্মাদ বিন ওয়াসি ও মালিক ইবনে দিনার। তারা উভয়ে তাসাউফের বড় ইমাম ছিলেন। হাসান বসরী রহ. এর সংশ্রবে ধন্য হোন। জুহদ ও তাকওয়ার ক্ষেত্রে তাদের প্রসিদ্ধি আকাশচুম্বী।

Read More

Page 2 of 3

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA