iDEA

islamic dawah and education academy

Category: Uncategorized

তাকফির ও শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদি

১। অনেকের মত আমিও বিশ্বাস করতাম শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদি একজন সংস্কারক ছিলেন। এখনও অনেক কওমি আলেম এই বিশ্বাস রাখেন। দেওবন্দি আলেমদের মধ্যে তার পক্ষে বিপক্ষে দু’ধরণের বক্তব্য আছে। মাওলানা মনজুর নুমানি রহঃ তার বিপক্ষের বক্তব্যগুলোর কিছু কিছু জওয়াব দিয়েছেন।

কারও ব্যাপারে যখন ভালো মন্দ দু ধরণের মতামত থাকে, তখন আমি কারও বক্তব্যকেই মূল হিসেবে বিবেচনা করি না । যারা প্রশংসা করেছেন, তাদের কথা চোখ বুজে মেনে নেইনি। আবার যারা বিরোধিতা করেছেন, তাদের কথাগুলোও মাথা পেতে মেনে নেইনি।

 

আমি শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদির নিজের লেখা কিতাবগুলো দেখা শুরু করি। তার লেখা কিতাব পড়তে গিয়ে বারবার হোঁচট খেতে থাকি। তার তাকফিরি চিন্তা-চেতনা দেখে যার পর নাই অবাক হতে থাকি।

এরপর আমি হুসাইন ইবন গান্নামের روضة الأفكار والأفهام لمرتاد حال الإمام وتعداد غزوات ذوي الإسلام কিতাবটি পড়া শুরু করি। কিতাবটি তারিখে নজদ নামে পরিচিত। কিতাবের নাম থেকেই আপনি বুঝতে পারছেন, ভেতরে কী আছে। এই কিতাবে এসে আমি শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদি এর তাকফিরি চিন্তা-চেতনাগুলোর বাস্তব প্রয়োগ দেখতে পাই। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলমানদেরকে কাফের বলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। মুসলমানদের রক্ত ও সম্পদ হালাল করেছেন তাকফির করে। মুসলমানদের সম্পদকে গনিমত বানিয়েছেন তাদেরকে মুশরিক ফাতাওয়া দিয়ে। এই কিতাবে এর বিস্তারিত ইতিহাস পাবেন। কিতাবের লিঙ্ক আমি কমেন্টে দিয়ে দিব।

আস্তে আস্তে বিষয়গুলো দিনের আলোর মত স্পষ্ট হতে থাকে। পরবর্তিতে আমার জন্য শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদিকে একজন দ্বীনের সংস্কারক বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। শাইখের নিজের কিতাবে যেই তাকফিরি চিন্তা-চেতনা দেখেছি, সেটাকে বাদ দিয়ে শুধু অন্যদের প্রশংসাবাণীর উপর নির্ভর করাটা বেশ কঠিন।

বিষয়টা যদি শুধু মৌখিক ফতওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে এর একটা ব্যাখ্যা দাড় করান যেত। তিনি ওই ফাতওয়াগুলোর উপর আমল করে যুদ্ধ করেছেন, মুসলমানদেরকে রক্ত ও সম্পদ হালাল করেছেন, এই জন্য তার ফাতওয়াগুলোর তাবিল করা সম্ভব হয়নি। ফলে আমি শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদির ব্যাপারে আমার বিশ্বাস ও অবস্থান পরিবর্তন করি। সব শেষে আমি তার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে উপনীত হই,

১। তিনি একজন তাকফিরি ছিলেন।
২। তিনি শুধু মুখে তাকফিরি ফাতওয়া দিয়ে ক্ষান্ত হননি, মুসলমানদের রক্তপাতের মাধ্যমে সেগুলো বাস্তবায়ন করেছেন।

শাইখের বিষয়ে এখনও আমি এই বিশ্বাস রাখি। এর বিপরীতে যদি যথেষ্ট দলিল পাই, তাহলে ভিন্ন বিষয় বিবেচনা করব ইনশা আল্লাহ।

২। শাইখ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদির ইতিহাস পড়তে গিয়ে সৌদি রাজ বংশের কালো অধ্যায় সামনে আসে। তাদের রক্তপাত ও খুন-খারাবির নোংরা ইতিহাস পড়ে তাদের প্রতি কোন ধরণের ভক্তি অবশিষ্ট নেই। এদেরকে আমি কখনও ইসলামের খাদেম বিশ্বাস করতে পারিনি।

যারা বিষয়গুলো নিয়ে ভাবেন, এদের ইতিহাস পড়ে দেখার অনুরোধ রইল।

তাকফীর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা

আমি বিভিন্ন সময়ে আকিদার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লিখে থাকি। অালোচনায় অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্ট বলে থাকি যে, এটি তাউহীদ, এটি শিরক। এটি ইমান এবং এ বিষয়টি কুফুরী। যেমন গতকালের পোস্টে দু’টি আকিদা সম্পর্কে লিখেছিলাম, এ দু’টি বিশ্বাস জঘন্য শিরকী আকিদা।

১. আল্লাহ তায়ালা আরশে বসে আছেন।
২. আল্লাহ তায়ালা রাসূল স.কে আরশে তার সাথে বসাবেন।

আমি এখনও বলছি, বিষয় দু’টো অত্যন্ত গর্হিত শিরকী আকিদা। এখন প্রশ্ন হলো, পূর্ববর্তী কিছু আলেমের কিতাবে এই ধরণের আকিদা বিশ্বাস রয়েছে। যেমন ইবনে তাইমিয়া রহ. ও ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর কিতাবে। তাদেরও আগে আরও কিছু আলেমের কিতাবে এগুলো আছে। খাল্লালের আস-সুন্নাহ কিতাবে, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদের নামে প্রসিদ্ধ আস-সুন্নাহ কিতাবে এগুলো রয়েছে। বরং কারও কারও কিতাবে এর চেয়েও জঘন্য আকিদা রয়েছে। যেমন ইবনে খোজাইমা রহ. এর কিতাবুত তাউহীদে খুবই জঘন্য কিছু আকিদা আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদের আস-সুন্নাহ কিতাবের কথা তো বলার প্রয়োজন নেই। অনেক আকিদা মুখে আনাও সম্ভব নয়। ইবনে তাইমিয়া রহ ও তার ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর কিতাবেও এর চেয়ে জঘন্য আকিদা বিশ্বাস রয়েছে। উসমান ইবনে সাইদ আদ-দারিমির কিতাবে মারাত্মক আকিদা বিশ্বাস রয়েছে। এধরণের আরও অনেক কিতাব রয়েছে যেগুলোতে বিভিন্ন ধরণের শিরকী আকিদা রয়েছে।

মূল বিষয় হলো, যাদের কিতাবে এজাতীয় শিরকী বিষয় রয়ে গেছে, তাদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা কী হওয়া উচিত? তাদেরকে কি আমরা মুশরিক মনে করবো? কুফুরী বিষয়ের কারণে তাদেরকে কাফের বলে দিবো?

Read More

সাহাবায়ে কেরাম সম্পর্কে আহলে হাদীসদের দৃষ্টিভঙ্গি(৩)

হযরত আয়েশা রা. কে মুরতাদ আখ্যা

ইংরেজদের সময়ে সৃষ্ট তথাকথিত ভ্রান্ত মতবাদ আহলে হাদীসের পুরোধা হলো মৌলিভি আব্দুল হক বেনাসরী। পথভ্রষ্ট এই লোকটি এতটা সাহাবী বিদ্বেষী ছিলো যে সে হযরত আয়েশা রা. কে মুরতাদ আখ্যায়িত করে। ভারত উপমহাদেশে আহলে হাদীস ফেতনাটি সাহাবী বিদ্বেষী এই পথভ্রষ্ট্রের হাতে জন্ম লাভ করে। আব্দুল হক বেনারসী মূলত: হিন্দু ছিলো। আব্দুল্লাহ ইবনে সাবা ইহুদীর মতো লোক দেখানো ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমানদের মাঝে বিভেদ সৃষ্টি করতে থাকে। “মুযাহেরে হক” কিতাবের স্বনামধন্য লেখক মাওলানা কুতুব উদ্দীন তার “তুহফাতুল আরব ওয়াল আযম”গ্রন্থে লিখেন- “সৈয়দ আহমদ শহীদ রহঃ,মাওলানা ইসমাইল শহীদ রহঃ ও মাওলানা আব্দুল হাই রহঃ পাঞ্জাবে আগমন করার পরপর্‌ই কতিপয় বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারীর সমন্বয়ে চার মাযহাবের ইমামগণের তাকলীদ অস্বীকারকারী নতুন ফিরকাটির সুত্রপাত লক্ষ করা যায়। যারা হযরত সায়্‌য়িদ আহমদ শহিদ রহঃ-এর মুজাহিদ বাহিনীর বিদ্রোহী গ্রুপের সদস্য ছিলেন,এদের মুখপাত্র ছিলেন মৌলভী আব্দুল হক বেনারসী(১২৭৫ হিঃ) তার এই ধরনের অসংখ্য ভ্রান্ত কর্মকান্ডের কারণে সাইয়ে‍্যদ আহমদ শহিদ রহঃ ১২৪৬ হিজরীতে তাকে মুজাহিদ বাহিনী থেকে বহিষ্কার করেন। তখন্‌ই গোটা ভারতবর্ষের সকল ধর্মপ্রাণ জনগন, বিশেষ করে শহিদ রহঃ এর খলীফা ও মুরীদগন হারামাইন শরিফাইনের তদানিন্তন উলামায়ে কেরাম ও মুফতিগণের নিকট এ ব্যপ্যারে ফতওয়া তলব করেন।ফলে সেখানখার তৎকালীন চার মাযহাবের সম্মানিত মুফতিগন ও অন্যান্য উলামায়ে কেরাম সর্বসম্মতিক্রমে মৌলবী আব্দুল হক বেনারসী ও তার অনুসারীদেরকে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্তি সৃষ্টিকারী ফিরকা বলে অভিহিত করেন করেন এবং বেনারসীকে কতল(হত্যা)করার নির্দেশ প্রদান করেন।(এ ফতওয়া ১২৫৪ হিজরীতে তাম্বীহুদ্দাল্লীন নামে প্রকাশ করা হয়). বেনারসী পলায়ন করত ঃ কোনভাবে আত্নরক্ষা পান। সেখান থেকে গিয়ে তিনি নবআবিষ্কৃত দলের প্রধান হয়ে সরলমনা জনসাধারণের মধ্যে তার ভ্রান্ত মতবাদ ছড়াতে থাকে।” (তুহফাতুল আরব ওয়াল আজম, পৃঃ১৬, খঃ২; আল-নাজাতুল কামেলা, পৃঃ২১৪; তম্বীহুদ্দাল্লীন, পৃঃ৩১)

Read More

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA