iDEA

islamic dawah and education academy

Page 2 of 15

তাকফির ও শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদি

১। অনেকের মত আমিও বিশ্বাস করতাম শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদি একজন সংস্কারক ছিলেন। এখনও অনেক কওমি আলেম এই বিশ্বাস রাখেন। দেওবন্দি আলেমদের মধ্যে তার পক্ষে বিপক্ষে দু’ধরণের বক্তব্য আছে। মাওলানা মনজুর নুমানি রহঃ তার বিপক্ষের বক্তব্যগুলোর কিছু কিছু জওয়াব দিয়েছেন।

কারও ব্যাপারে যখন ভালো মন্দ দু ধরণের মতামত থাকে, তখন আমি কারও বক্তব্যকেই মূল হিসেবে বিবেচনা করি না । যারা প্রশংসা করেছেন, তাদের কথা চোখ বুজে মেনে নেইনি। আবার যারা বিরোধিতা করেছেন, তাদের কথাগুলোও মাথা পেতে মেনে নেইনি।

 

আমি শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদির নিজের লেখা কিতাবগুলো দেখা শুরু করি। তার লেখা কিতাব পড়তে গিয়ে বারবার হোঁচট খেতে থাকি। তার তাকফিরি চিন্তা-চেতনা দেখে যার পর নাই অবাক হতে থাকি।

এরপর আমি হুসাইন ইবন গান্নামের روضة الأفكار والأفهام لمرتاد حال الإمام وتعداد غزوات ذوي الإسلام কিতাবটি পড়া শুরু করি। কিতাবটি তারিখে নজদ নামে পরিচিত। কিতাবের নাম থেকেই আপনি বুঝতে পারছেন, ভেতরে কী আছে। এই কিতাবে এসে আমি শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদি এর তাকফিরি চিন্তা-চেতনাগুলোর বাস্তব প্রয়োগ দেখতে পাই। তিনি বিভিন্ন অঞ্চলের মুসলমানদেরকে কাফের বলে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। মুসলমানদের রক্ত ও সম্পদ হালাল করেছেন তাকফির করে। মুসলমানদের সম্পদকে গনিমত বানিয়েছেন তাদেরকে মুশরিক ফাতাওয়া দিয়ে। এই কিতাবে এর বিস্তারিত ইতিহাস পাবেন। কিতাবের লিঙ্ক আমি কমেন্টে দিয়ে দিব।

আস্তে আস্তে বিষয়গুলো দিনের আলোর মত স্পষ্ট হতে থাকে। পরবর্তিতে আমার জন্য শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদিকে একজন দ্বীনের সংস্কারক বিশ্বাস করা কঠিন হয়ে যায়। শাইখের নিজের কিতাবে যেই তাকফিরি চিন্তা-চেতনা দেখেছি, সেটাকে বাদ দিয়ে শুধু অন্যদের প্রশংসাবাণীর উপর নির্ভর করাটা বেশ কঠিন।

বিষয়টা যদি শুধু মৌখিক ফতওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকত, তাহলে এর একটা ব্যাখ্যা দাড় করান যেত। তিনি ওই ফাতওয়াগুলোর উপর আমল করে যুদ্ধ করেছেন, মুসলমানদেরকে রক্ত ও সম্পদ হালাল করেছেন, এই জন্য তার ফাতওয়াগুলোর তাবিল করা সম্ভব হয়নি। ফলে আমি শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদির ব্যাপারে আমার বিশ্বাস ও অবস্থান পরিবর্তন করি। সব শেষে আমি তার ব্যাপারে সিদ্ধান্তে উপনীত হই,

১। তিনি একজন তাকফিরি ছিলেন।
২। তিনি শুধু মুখে তাকফিরি ফাতওয়া দিয়ে ক্ষান্ত হননি, মুসলমানদের রক্তপাতের মাধ্যমে সেগুলো বাস্তবায়ন করেছেন।

শাইখের বিষয়ে এখনও আমি এই বিশ্বাস রাখি। এর বিপরীতে যদি যথেষ্ট দলিল পাই, তাহলে ভিন্ন বিষয় বিবেচনা করব ইনশা আল্লাহ।

২। শাইখ শায়খ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল অহহাব নজদির ইতিহাস পড়তে গিয়ে সৌদি রাজ বংশের কালো অধ্যায় সামনে আসে। তাদের রক্তপাত ও খুন-খারাবির নোংরা ইতিহাস পড়ে তাদের প্রতি কোন ধরণের ভক্তি অবশিষ্ট নেই। এদেরকে আমি কখনও ইসলামের খাদেম বিশ্বাস করতে পারিনি।

যারা বিষয়গুলো নিয়ে ভাবেন, এদের ইতিহাস পড়ে দেখার অনুরোধ রইল।

তাবিল কেন জরুরি

মৌলিক আকিদার ক্ষেত্রে আশ-আরি মাতুরিদি আকিদা এক ও অভিন্ন। এটা জানার জন্য আপনাকে উভয়ের আকিদা ভালভাবে জানতে হবে। কিছু শাব্দিক ও শাখাগত বিরোধ থাকলেও মৌলিক আকিদার ক্ষেত্রে তারা এক। উভয় আকিদা আহলে সুন্নতের আলেমগণের কাছে গ্রহণযোগ্য আকিদা ।

আপনি লিখেছেন, ফিকহ ভিন্ন হতে পারে কিন্তু আক্বীদাহ দুইটা হবে কেন? আকিদার ক্ষেত্রে সালাফিদের মাঝে অসংখ্য মতবিরোধ আছে। আকিদা বিষয় সালাফিদের মতবিরোধ সম্পর্কে আমি ১০ পরবে সংক্ষেপে আলোচনা করেছি।

এছাড়া সালফিদের আকিদা ও ফিকহের আরও ইখতেলাফ জানতে ড সায়াদ আল-বুরাইক এর আল-ইজাজ দেখুন।

আপনাকে ভালভাবে মনে রাখতে, ইসলামের মৌলিক যেসব আকিদার উপর মানুষের মুমিন ও মুসলিম হওয়া নির্ভর করে, সেগুলোতে কোন মতবিরোধ নেই। আল্লাহর হাত, পা, চোখ এগুলো ইসলামি আকিদায় পরে ঢুকান হয়েছে। এগুলো ইসলামি আকিদার অংশ নয়।

Read More

নারীর ক্ষমতায়ন

চিন্তা করুন। দু’জন ভালো বন্ধু। একজনকে ছাড়া আরেকজন চলে না। চলতে পারে না। হঠাৎ কোন কারণে বিবাদে লিপ্ত হয়েছে। রেসলিং এর মতো একজন আরেকজনকে ধরাশায়ী করেছে। আরেকজনকে চেপে ধরে হুংকার ছাড়ছে।

আপনি এখানে দর্শক। দু’জনকে এ অবস্থায় দেখে আপনি কী কী করতে পারেন?

১. নীচে পড়া বন্ধুকে উপরে তুলে দিতে পারেন। যেন উপরের বন্ধুকে নীচের বন্ধু একইভাবে ধরাশায়ী করতে পারে।

২. উপরের বন্ধুকে বাহবা দিয়ে আরও কঠোর হতে উদ্বুদ্ধ করতে পারেন।

৩. দু’জনকে বুঝিয়ে উভয়ের মধ্যকার সমস্যার সমাধান করতে পারেন। তাদেরকে পূর্বের বন্ধুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে বলতে পারেন, একে অপরকে ধরাশায়ী করা তোমাদের সাজে না। তোমরা একে অপরের হাত ধরবে। বন্ধুত্বের নির্মল হাসি তোমাদের মুখে শোভা পায়।

আপনি যদি প্রথম দু’টি বেছে নেন, তাহলে উভয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাদের চলার পথ ভিন্ন হবে। উভয়ের প্রতি কল্যাণকামী ব্যক্তি অবশ্যই তৃতীয় পদ্ধতি বেছে নিবে। উভয়ের হৃদ্যতা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করবে।

Read More

নিরপেক্ষতা ও ঘৃণার পঁচা লাশ

ঘৃণা, অহংকার ও আবেগ সঠিক মঞ্জিলে পৌছার অন্তরায় হতে পারে। এজন্য যে কোন বিষয়ে যথাসম্ভব এগুলো থেকে মুক্ত হওয়ার চেষ্টা করা জরুরি। নিজেকেই প্রশ্ন করতে থাকা। আমি কি এগুলোর কোনটায় আক্রান্ত?

আপনার যদি কোন বিষয়ের প্রতি পূর্ব থেকেই ঘৃণা থাকে তাহলে আপনি সহজে সঠিক সিদ্ধান্তে যেতে পারবেন। ঘৃণা আপনার চিন্তা শক্তিকে ভোতা করে দিবে।

আপনি যদি আত্ম অহংকারে ভোগেন তাহলে তো আরও মারাত্মক বিষয়। এটা সুষ্ঠু জ্ঞান চর্চার অন্যতম বাধা।

আর আবেগ যদি আপনার দাড়িপাল্লা হয়, তাহলে আপনি কখনও ইনসাফ করতে পারবেন কি না সন্দেহ। আপনার পছন্দের মত ও দলের দিকেই আপনি ঝুঁকবেন। মূল বিষয়কে এড়িয়ে যাবেন। সত্যকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করবেন। কখনও সত্যের মুখোমুখি হতে পারেবন না।

যে কোন বিষয়ে সিদ্ধান্তে পৌছার আগে যাচাই করুন আপনার মধ্যে এসব উপসর্গ আছে কি না।

আমাদের সমাজের অনেক মডার্ণ চিন্তা-চেতনার ভাইয়েরা ইসলাম ও মুসলমানদেরকে নিয়ে কথা বলেন। চিন্তা-ভাবনা করেন। মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়ে থাকেন। এদের অধিকাংশের কাছ থেকে আমরা হতাশাজনক কিছু আচরণ দেখতে পাই। যেমন,

শিক্ষা কারিকুলাম ও সামাজিকতার কারণে কলেজ ইউনিভার্সিটি পার হওয়ার আগেই একটা ধারণা তাদের মনে তৈরি হয়ে যায়। এসব মোল্লা-মৌলবীরা সেকেলে। কুপমন্ডুক । এরা আধুনিক সমাজে অপাংক্তেয়। বিভিন্নভাবে ইসলাম, মুসলমান ও হুজুরদের বিষয়ে যত্ন করে বপণ করা হয় ঘৃণার বীজ।

পরবর্তীতে যখন এই ভাইয়েরা ইসলাম ও মুসলমানদের নিয়ে চিন্তা করেন, কথা বলেন, সেই ঘৃণার উদগীরণ হতে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ঘৃণার মরা লাশ এমন দুর্গন্ধ ছড়ায়, যা অসহনীয়। অকথ্য। অবর্ণনীয়। অনেক সময় এই ঘৃণাবোধ তাদেরকে ইসলাম সম্পর্কে অধ্যয়ন থেকে বিমুখ রাখে।

শুধু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানই নয়, নাটক, সিনেমা, উপন্যাসেও এই ঘৃণা সুকৌশলে ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। পুরো বিশ্বের মিডিয়া এ কাজে সমস্ত শক্তি নিয়োগ করেছে।

আপনি যদি সুস্থ্যভাবে চিন্তা করতে চান। ইসলাম ও মুসলমানদেরকে জানতে চান, তাহলে এই ঘৃণার জগত থেকে সামান্য বের হওয়ার চেষ্টা করুন। হয়তো ভালো কোন সিদ্ধান্তে সহজে পৌছতে পারবেন।

অহংকার জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে বড় বাধা। জ্ঞানের প্রথম শর্তই কিন্তু কারও কাছে নত হওয়া। আপনি জানেন না বা কম জানেন সেই উপলব্ধি ও বিনয় থাকা। উস্তাদের কাছে শিখছেন। নতজানু হয়ে বসছেন। এগুলো না থাকলে আপনি কিছু শিখতে পারবেন না। আপনি যদি চিন্তা করেন, আরে বাদ দাও। এসব মোল্লা-মৌলবীরা কী জানে। তাহলে আপনি মোল্লা-মৌলবীদের কাছ থেকে কিছু শিখতেও পারবেন না। নিতেও পারবেন না। এজন্য আপনার ডিগ্রি, সামাজিক স্ট্যাটাসের অহংকার থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করুন। এগুলো একেকটা কালো চশমা। যেগুলো আপনাকে সত্য ও সুন্দর থেকে পদে পদে বঞ্চিত করবে।

আমাদের অনেক ভাই রাসূল স. কে মহব্বত করেন। তাদের মহব্বত নিয়ে আমার কোন প্রশ্ন ও সংশয় নেই। আশা করা যায়, এই মহব্বতের কারণে তারা সওয়াবও পাবেন। কিন্তু অতিরিক্ত মহব্বতের কারণে এমন কিছু কাজ করেন, যেগুলো শরীয়ত সমর্থন করে না। আবার অনেকে পীরের প্রতি অতিরিক্ত মহব্বত ও আবেগের কারণে শরীয়ত বিরোধী কাজ করে বসেন। আবেগ ও মহব্বত অনেক সময় তাদেরকে শরীয়তের বিধান নিয়ে চিন্তা ভাবনা থেকে বিরত রাখে।

যারা সমাজের ভালো চান, মানুষ ও মানবতার কল্যাণ নিয়ে একটু হলেও ভাবেন, তাদেরকে আরও সচেতন হতে হবে। দৃষ্টিকে আরেকটু প্রসারিত করতে হবে। অহংকার, ঘৃণা ও আবেগের কালো চশমা খুলে সত্যের উন্মুক্ত চত্ত্বরে ডানা মেলে উড়তে হবে। আপনি নিজেকে পরিপূর্ণ করার সুযোগ পাবেন। সমাজকে দিতে পারবেন অকল্পনীয় কল্যাণ।

উপলব্ধি

অবসর সময় পেলে ইউটিউবে কিছু কিছু ভিডিও দেখি। বহু দিন থেকে নাস্তিকতার উপর বিভিন্ন ডিবেইট দেখি। ভালোই লাগে। বড় বড় নাস্তিকদের অধিকাংশ ডিবেইট দেখছি। অনেকগুলো অলরেডি দেখা শেষ হয়েছে।

সবার মধ্যে কয়েকটা কমন জিনিস লক্ষ্য করেছি।

১. স্রষ্টা নেই, এটা নিশ্চিতভাবে বলার মতো কোন প্রমাণ না থাকলেও বিভিন্নভাবে ঘুরিয়ে পেচিয়ে নিজের মতকে প্রমাণ করার চেষ্টা করা। এধরণের প্রচেষ্টা আমার কাছে হাস্যকর।

২. নাস্তিকতা আসলে একটা ধর্ম বিশ্বাস। অন্যান্য ধর্মের সাথে পার্থক্য এতটুকু যে, অন্যান্য ধর্মের লোকেরা নিজেদের অনেক জ্ঞানী বা পন্ডিত দাবী করে না, কিন্তু অধিকাংশ নাস্তিক নিজেকে একটু জ্ঞানী বা পন্ডিত মনে করে।

বাস্তবতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে, নাস্তিকতার পেছনে তার এমন কোন প্রমাণ নেই যা তার অতিরিক্ত অহংকারের সহায়ক হতে পারে। ডারইউনের থিউরি, স্ট্রিং থিউরি, ইশ্বর কণা, অমুক-তমুক এগুলো দিয়ে আসলে কিছু প্রমাণিত হয় না। অন্তত স্রষ্টা না থাকর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তো নয়ই।

এসব থিউরি নাস্তিকদের টাইম পাসের একটা মাধ্যম। নাস্তিকতার আলোচনায় এসব থিউরি আমার কাছে গার্বেজ ছাড়া আর কিছুই মনে হয়নি। এগুলো দিয়ে কিছু হাই থটের কথা বলে মূল প্রসঙ্গ থেকে সরে টাইম পাস ছাড়া আর তেমন কিছু হওয়ার কথা নয়।

৩. নাস্তিকতার যেই বিশ্বাস কিছু মানুষ লালন করে, সেখান থেকে আসলে পাওয়ার কিছু নেই। সমস্ত যুক্তি তর্কের উর্ধ্বে গিয়ে পরিণতিটা আমাকে ভাবতে হবে। নাস্তিকতা না আমার জীবনের কোন প্রশ্নের সমাধান দেয়। না জীবনের কোন উদ্দেশ্য বলতে পারে। না মানুষকে ভালো মন্দের বিচারে কোন গাইড করতে পারে।

যেখানে আমার পাওয়ার কিছু নেই, সেখানে আমি সময় নষ্ট করবো কেন? আজ পর্যন্ত কোন নাস্তিক কি বলতে পেরেছে এসমস্ত সৃষ্টি কোথা থেকে এলো? বিগ-ব্যাং টিগব্যাং অনেক পুরাতন বিষয়। এগুলো দিয়ে তো আর মৃল সৃষ্টির সূচনার সমাধান হয় না।

ডিবেইটগুলো দেখছি। আল-হামদুলিল্লাহ, আমার বিশ্বাসের জায়গাগুলো আরও মজবুত হচ্ছে। সত্য কথা হলো, মানুষ নাস্তিক হওয়ার পেছনে কোন প্রমাণ ও যুক্তি থাকতে পারে না।

সর্বোচ্চ এতটুকু বলতে পারে, স্রষ্টা আছে কি নেই, সেটা আমি জানি না।

কিন্তু দাম্ভিকতার সাথে স্রষ্টা নেই বলে দেয়া কপটতা ও মূর্খতা ছাড়া কিছুই নয়। ডিবেইটগুলো দেখার পরে এগুলো আমার ব্যক্তিগত উপলব্ধি। পরে হয়তো আরও বিস্তারিত লিখবো ইনশা আল্লাহ।

ইলমের সফর অব্যাহত থাকুক

খতীব বাগদাদী রহ. তার ‘আল-জামে লি-আখলাকির রাবি ও আদাবিস সামে’ কিতাবে ইমাম আবু ইউসুফ রহ. থেকে একটি বর্ণনা উল্লেখ করেছেন।
الْعِلْمُ شَيْءٌ لا يُعْطِيكَ بَعْضَهُ حَتَّى تُعْطِيَهُ كُلَّكَ
অর্থ: ইলম এমন একটি জিনিস, সে তোমাকে তার কিছু অংশও দিবে না যতক্ষণ না তুমি নিজেকে পূর্ণভাবে তার কাছে সমর্পণ না করবে।

অন্যান্য সৃষ্টি থেকে মানুষের শ্রেষ্ঠত্যের একটি বিশেষ দিক হলো ইলম অর্জনের ক্ষমতা। এটি মানুষের জন্য আল্লাহর বিশেষ নিয়ামত। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় বিষয়টি উল্লেখ করেছেন।

ইলমের জন্য যেমন পিপাসা প্রয়োজন ঠিক তেমনি প্রয়োজন অধ্যবসায় ও পরিশ্রম। ইলমের পথে কোন শটকাট নেই। এ পথ দীর্ঘ। কন্টকাকীর্ণ। বন্ধুর এপথে পরিক্ষা দিতে হয়। ধৈর্য ও কষ্টের পরীক্ষা। ইলমের প্রতি আকুলতা ও ভালবাসার পরীক্ষা।

দু:খের বিষয় হলো ইলমের জন্য নিবেদিতপ্রাণ লোকের সংখ্যা খুবই কম। বর্তমান ফেতনার জামানা। চারিদিকে জাহালাতের ছড়াছড়ি। আলেমরাও এসব ফেতনায় জড়িয়ে পড়ছেন পর্যাপ্ত ইলম অর্জনের অভাবে। সাধারণ মানুষের অবস্থা তো আরও করুন। যুবক ভাইদের অবস্থাও দু:খজনক।

১. যুবক ভাইদের মধ্যে একটি মারাত্মক সমস্যা চোখে পড়ে। কোন বিষয়ের গভীরে না যাওয়া। ইলমের পথে তার যাত্রা হয়তো দু’মাসের কিংবা দু’বছরের। দু’মাস বা দু’বছর কি ইলমের জন্য যথেষ্ট? অনেককে তো দেখা যায় দু’একজন শায়খের দু’একটি লেকচার থেকেই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়ে যান। অথচ বিষয়টি এতটা সহজ নয়।

২. ইলম মানেই হলো অজানা বিষয়ের জ্ঞান। এই জ্ঞান বাড়তে থাকলে নিজের মধ্যে একটা ভালো লাগা কাজ করে। তবে অনেকের ক্ষেত্রে এটি অহংকারে রূপ নেয়। যাদের মধ্যে ইলমের অহংকার ঢুকে যায়, এদের জন্য ইলম রহমত হয় না। এটি তার ক্ষতির কারণ হয়ে যায়।

অনেক বড় জ্ঞানী হলেই এই অহংকার আসবে, বিষয়টা এমন নয়। অনেককে দেখা যায়, খুব সামান্য জেনেও অহংকারী আচরণ করেন। এটা খুবই দু:খজনক। বাস্তবতা হলো, যিনি যতো বড় জ্ঞানী, তার বিনয় ততো বেশি হওয়া উচিত। দু:খজনক হলেও সত্য, সাধারণ ভাইয়েরা যখন ইলমের পথে অগ্রসর হোন, সামান্য জেনেই অন্যদেরকে হেয় করতে থাকেন। বড় বড় আলেমদেরকে নিয়েও কথা বলেন। আপনি যে বিষয়ে কথা বলছেন, সেটা হয়তো আলেমের অজানা, বা আলেমের ভুল, কিন্তু সেই আলেমকে তাচ্ছিল্য করাটা আপনার জন্য শোভনীয় নয়।

৩. যারা আলেম হোন, তারা ইলমের পেছনে দীর্ঘ সময় ব্যয় করে থাকেন। মাদ্রাসা থেকে পাশ করা একজন অযোগ্য আলেমও যথেষ্ট সময় দিয়েছেন ইলমের পেছনে। এক্ষেত্রে সে বড় বড় আলেমের দরসে বসার সুযোগ পেয়েছে দীর্ঘ সময়। তার যোগ্যতা কম হলেও এসব দরসের বিশেষ বরকতের কারণে তার মধ্যে এক ধরণের বুঝ তৈরি হয়। আলেমদের সান্নিধ্যে অর্জিত এ বুঝটি তার সারা জীবনের চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করে। এধরণের সাধারণ পর্যায়ের আলেমও বিভিন্ন ফেতনা থেকে সহজে মুক্ত থাকতে পারে।

সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে এধরণের সুযোগ খুবই কম। আলেমদের সান্নিধ্যে গিয়ে ইলম অর্জনের সুযোগ তেমন হয় না। এ কারণে তাদের মধ্যে এই বুঝ আসতে সময় লাগে। বর্তমানে অনেকের মধ্যে একটা প্রবণতা দেখা যায়। স্বশিক্ষিত হওয়ার প্রবণতা। দু’একটি বই পড়ে কিংবা একটা দু’টো লেকচার শুনে তারা নিজেদের যথেষ্ট মনে করেন। এটা শুধু ভুল নয়, মারাত্মক ভুল। সঠিক ইলমের থেকে দূরে থাকার অন্যতম কারণও এটি। এগুলোর মাধ্যমে হয়তো কিছু শব্দ শেখা যায়, কিছু মাসআলা জানা হয়, কিন্তু দীনের প্রকৃত বুঝ আসে না। দীনের প্রকৃত বুঝের জন্য আলেমদের সান্নিধ্যের কোন বিকল্প নেই।

৪. যুবক ভাইদের মধ্যে একটা ভয়ংকর রোগ দেখা যায়। তারা ভিডিও ও অডিও নির্ভর হয়ে যাচ্ছেন। কিতাব পড়ার প্রতি আস্তে আস্তে তাদের আগ্রহ কমে যাচ্ছে। এটা সত্যিই ভয়ংকর একটা বিষয়। সত্য কথা হলো, অডিও -ভিডিও কখনও কিতাবের বিকল্প হতে পারে না। কখনও নয়। প্রয়োজনের খাতিরে অডিও-ভিডিওর সহযোগিতা নেয়া যেতে পারে, তবে প্রকৃত ইলমের জন্য কিতাব অধ্যয়নের কোন বিকল্প নেই।

৫. অনেকের মধ্যেই একটা বিশেষ প্রবণতা দেখা যায়। নিজের ইলমকে যথেষ্ট মনে করা ও আত্মতৃপ্তির ঢেকুর তোলা। ভাবেন, আমি তো অনেক জেনে ফেলেছি। আমার মতো আর কে আছে। এই ধরণের আত্ম-প্রবঞ্চনা ইলমের পথে অন্যতম অন্তরায়। নিজের ইলমকে সব-সময় বড় বড় আলেমদের সামনে পেশ করা এবং নিজেদের অবস্থানকে সর্বদা যাচাই করতে থাকা খুব জরুরি।

একটা বাস্তবতা হলো, আমাদের জানার তুলনায় অজানা বিষয় বেশি। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, [অনুবাদ],”তোমাদেরকে খুব সামান্য ইলম দেয়া হয়েছে”। এই সামান্য ইলমের অধিকাংশও আমাদের অজানা। সুতরাং এত বড় অজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও নিজের জ্ঞান নিয়ে অহংকার করাটা আসলেই বোকামী।

বর্তমান জামানায় সাধারণ মানুষের সামনে হাজারও ফেতনার দরজা উন্মুক্ত। সেকুলারিজমের দাওয়াত তাকে চারিদিক থেকে ঘিরে রেখেছে। অধিকাংশ দাওয়াতের পেছনে রয়েছে জ্ঞান-বিজ্ঞান, যুক্তি ও তথ্য-উপাত্ত। অন্যান্য সকল জামানার তুলনায় বর্তমান সময়ের মুসলমানদের ইলমের প্রতি সবচেয়ে বেশি আগ্রহী হওয়া প্রয়োজন। ইলম থেকে বিচ্ছিন্ন হলেই এসব ফেতনায় আক্রান্ত হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থেকে যায়। এজন্য সর্বদা ইলম শেখার পেছনে সময় দিতে হবে। একটা একটা দীর্ঘ সময় দিয়ে ইলম শিখতে হবে। আলেমদের সান্নিধ্যে গিয়ে ইলমের গভীরতা অর্জন করতে হবে।

ইলমের পথে আপনার এই যাত্রা অব্যাহত থাকুক আমৃত্যু। আল্লাহ তায়ালা আপনাকে সেই তাফাক্কুহ দান করুন, যার মূলে রয়েছে প্রভূত কল্যাণ। আপনার এ পথের যাত্রা শুরু হবে দুনিয়ায়। এ পথের শেষ মঞ্জিল জান্নাত। রাসূল স. বলেছেন,
من سلك طريقاً يطلب فيه علماً سهل الله له طريقاً إلى الجنة
অর্থ: যে ইলমের পথে যাত্রা শুরু করবে, আল্লাহ তায়ালা তার জান্নাতের পথ সহজ করে দিবেন। (বোখারী শরীফ, কিতাবুল ইলম)।

আল্লাহ তায়ালা সবাইকে ইলমের জন্য কবুল করুন। আমীন।

নিজেকে সময় দিন

কিছু বিক্ষিপ্ত চিন্তা মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। এলোমেলো চিন্তাগুলো গুছিয়ে বলার তেমন ইচ্ছে নেই। তবে সংক্ষেপে দু’একটা বলি।

অধিকাংশ মানুষ আজ ধর্ম থেকে বিমুখ কেন? ধর্ম কী তার আবেদন হারিয়ে ফেলেছে না কি মানুষগুলো ধর্ম ছাড়াই ভালো আছে? মানুষ কি আসলেই ভালো আছে?

কয়জন মানুষ ভালো আছে? ভালোর সংজ্ঞাটা যদিও একেক জনের কাছে একেক রকম, কিন্ত এরপরেও কয়জন ভালো আছে, সেটা ভাবার বিষয়। প্রাচুর্য, সামাজিক স্ট্যাটাসের প্রতিযোগিতা, যান্ত্রিক জীবন, অন্ত:সারহীন বিনোদন, উদ্দেশ্যহীন জীবন যাপনে সুখি মানুষের সংখ্যা খুব বেশি বলে মনে হয় না। অাত্মিক শূন্যতা সবাইকে কুরে কুরে খাচ্ছে। এই শূন্যতা ভুলে থাকার জন্য বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করছে সবাই। কেউ সারা দিন হেডফোন কানে লাগিয়ে অন্তরের শূন্যতা পূরণ করার চেষ্টা করছে। কেউ আরেক ধাপ এগিয়ে লালন-রবীন্দ্রের মর্মী গানে ঝুকছে। কেউ সিনেমা, সিরিয়ালকে জীবনের লক্ষ্য বানিয়েছে।

নিজেকে খুব সুখি হিসেবে পেশ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলো তো আছেই। নিজের ভালো গাড়িটা সহজে হাজারও মানুষকে দেখানো যায়। নতুন ফ্ল্যাটের বারান্দায় বসে তোলা ছবিগুলো প্রমাণ করে যে, তার সারা জীবনের পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। এগুলোকেই অধিকাংশ মানুষ জীবনের উদ্দেশ্য বানিয়েছে। এগুলো অর্জিত হওয়ার পরে তার অন্তরের শূন্যতার সমাধান কে দিবে? প্রতি মুহূর্ত যেই শূন্যতা তাকে আরও ব্যতিব্যস্ত করে রাখে।

জীবনের ছোট ছোট ঘটনাতে আসলে জীবনের ছোট ছোট আনন্দ লুকিয়ে আছে। ছোট্র ছেলের সুন্দর হাসি পিতার হৃদয়কে আন্দোলিত করে। ছেলের মুখে এক টুকরো হাসি ফোটানোর জন্য মুখ বুজে বছরের পর বছর বাবারা কষ্ট করে যেতে পারে। পরিবারের সদস্যদের একটু সুখের মাঝেই হয়তো মায়েরা জীবনের মানে খুঁজে পায়।

সব কিছুর পরেও সবার অন্তরে একটা হাহাকার থাকে। সেটা থেকে কেউ মুক্ত হতে পারে না। পারার কথা নয়। সেটা যে আল্লাহ তায়ালা প্রত্যেকের মাঝেই দিয়ে রেখেছেন। রুহকে কতকাল সে ক্ষুধার্ত রাখবে?

অনেককে দেখেছি। রুহের সামান্য খোরাক পেয়েছে। আবেগে চোখে অশ্রুর বন্যা বইছে।এতো দিন এই সুখ থেকে আমি বঞ্চিত ছিলাম! এই অাফসোসেও আবার অশ্রু ঝরাতে থাকে।

জীবনকে নিয়ে ভাবা উচিত। জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবা উচিত। জীবনের গন্তব্য নিয়ে চিন্তা করা উচিত। আমি কেন? কোথায় আছি? কোথায় যাচ্ছি?

সারা দিন হেডফোন কানে লাগিয়ে অন্তরের প্রকৃত সুখ কি আমি পাচ্ছি? সারা দিন সিনেমা দেখে আমার সেই কাংখিত ভালো লাগা কি অর্জিত হচ্ছে? লালনের গানগুলো কি আমাকে প্রকৃত সুখের সন্ধান দিচ্ছে? এগুলোর উত্তর আমার জানা থাকা উচিত। জানার চেষ্টা থাকা উচিত।

মানুষ আসলে ভালো নেই। পুরো মানবজাতির অধিকাংশ ভালো নেই। ভেতর-বাহির সব দিক থেকেই মানুষ ভয়ংকর সময় পার করছে। একটু চিন্তার ফুরসত পেলে নিজেকে নিয়ে ভাবুন। জীবনকে নিয়ে ভাবুন। জীবনের উদ্দেশ্য ও গন্তব্য নিয়ে ভাবুন। মানুষ ও মানবতাকে নিয়ে ভাবুন। যান্ত্রিক জীবনের ছক থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করুন। হয়তো জীবনকে নতুনভাবে সাজানোর সুযোগ পাবেন। জীবনের শূন্যতা ও হাহাকার থেকে মুক্তির রাস্তা খুজে পাবেন। পঞ্চাশ-ষাট বছর কিন্তু কিছুই না। আবার এটাই সব। যা করার এর মধ্যেই করতে হবে। নিজেকে একটু সময় দিন। হয়তো খুজে পাবেন জীবনের মানে।

জীবনের উদ্দেশ্য
কী উদ্দেশ্যে মানব জীবনের এতো আয়োজন? কষ্ট করে ইবাদত বন্দেগী করার উদ্দেশ্য কী? রমজানে কষ্টের রোজা। শীতের রাতের তাহাজ্জুদ ও ফজরের নামায। এগুলোর মূল উদ্দেশ্য কী?

জীবনের উদ্দেশ্য কী ইবাদত না কি ইবাদতেরও উদ্দেশ্য আছে? নামায কি আমার শেষ মঞ্জিল না কি মঞ্জিলে পৌছানোর একটি সিঁড়ি?

দুনিয়ার সকল কষ্ট, পরিশ্রম ও ইবাদতের উদ্দেশ্য একটাই। তায়াল্লুক মায়াল্লাহ। আল্লাহর সাথে সম্পর্ক। স্রষ্টার সাথে সৃষ্টির সম্পর্ক। সমগ্র পৃথিবীর বাদশাহর সাথে নগন্য গোলামের সম্পর্ক। গভীর মহব্বতের সম্পর্ক। এই মহব্বতের মাধ্যমে গোলামের অন্তরে যেই ঐশী শান্তি অনুভূত সেটাই সবচেয়ে বড় অবলম্বন। জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন। ভাবতে অবাক লাগে। সেই মহান সত্ত্বা এই ক্ষুদ্র সৃষ্টিকে কাছে টেনে নিবেন। একটু কষ্টের বিনিময়ে এতো বড় নেয়ামত দিবেন! আল্লাহু আকবার।

ইবাদত বন্দেগি একেকটি সিড়ি মাত্র। চূড়ান্ত মঞ্জিল আল্লাহর মহব্বত। এর চেয়ে উচ্চ মঞ্জিল আর নেই। এর চেয়ে বড় সফলতা আর কিছু নেই। এটাই জীবনের একমাত্র আরাধ্য। একমাত্র উদ্দেশ্য। সব কিছুই এই উদ্দেশ্য অর্জনের নিয়ামক মাত্র। আল্লাহ তায়ালা সবাইকে মঞ্জিলে পৌছানোর তৌফিক দান করুন। আমীন।

আকিদার দলিল গ্রহণে সতর্কতা..

শরীয়তের মৌলিক দলিল চারটি।
১.কুরআন।
২.সুন্নাহ।
৩.ইজমা।
৪.কিয়াস।
আহলে সুন্নত ওয়াল জামাত এই চার মূলনীতি অনুসরণ করে। মুসলিম উম্মাহের ইজমা যে কোন যুগেই হতে পারে। সাহাবীদের ইজমা, তাবেয়ীগণের ইজমা কিংবা পরবর্তী যুগের আলেমদের ইজমাও শরীয়তের দলিল।
এই চার মূলনীতির বাইরে শরীয়তের অন্য কোন দলিল নেই। সালাফদের ব্যক্তিগত মতামত শরীয়তের পৃথক কোন দলিল নয়। বিষয়টা এমন নয় যে, সালাফদের যে কেউ যাই বলুক, সেটাই শরীয়তের দলিল হয়ে যাবে। তবে কোন বিষয়ে সালাফদের মধ্যে যদি ইজমা হয়, তাহলে সেটা শরীয়তের দলিল হবে। নতুবা এটা সাধারণ বক্তব্য হিসেবে ধর্তব্য হবে।
সালাফদের মধ্যে যারা ইজতিহাদের যোগ্য ছিলেন, তাদের কুরআন-সুন্নাহ ভিত্তিক ইজতিহাদ শরীয়তের দলিল বলে গণ্য হবে। মুজতাহিদের ইজতিহাদ সব যুগেই শরীয়তের দলিল। এটা শুধু সালাফদের সাথেই নির্দিষ্ট নয়।
সালাফদের যুগ অবশ্যই উত্তম যুগ ছিলো। এটা রাসূল স. এর হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। একইভাবে সালাফদের ইলম,তাকওয়া, যুহদ অবশ্যই অতুলনীয়। ইবনে রজব হাম্বলী রহ. তাদের ইলমের ফজীলতের বিষয়ে পৃথক কিতাব লিখেছেন। ফাজলু ইলমিস সালাফ আলাল খালাফ। কিন্তু তাদের প্রত্যেকের সকল বক্তব্য শরীয়তের দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে না। এটা অবশ্যই মনে রাখতে হবে।

Read More

তাকফীর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু কথা

আমি বিভিন্ন সময়ে আকিদার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে লিখে থাকি। অালোচনায় অনেক ক্ষেত্রেই স্পষ্ট বলে থাকি যে, এটি তাউহীদ, এটি শিরক। এটি ইমান এবং এ বিষয়টি কুফুরী। যেমন গতকালের পোস্টে দু’টি আকিদা সম্পর্কে লিখেছিলাম, এ দু’টি বিশ্বাস জঘন্য শিরকী আকিদা।

১. আল্লাহ তায়ালা আরশে বসে আছেন।
২. আল্লাহ তায়ালা রাসূল স.কে আরশে তার সাথে বসাবেন।

আমি এখনও বলছি, বিষয় দু’টো অত্যন্ত গর্হিত শিরকী আকিদা। এখন প্রশ্ন হলো, পূর্ববর্তী কিছু আলেমের কিতাবে এই ধরণের আকিদা বিশ্বাস রয়েছে। যেমন ইবনে তাইমিয়া রহ. ও ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর কিতাবে। তাদেরও আগে আরও কিছু আলেমের কিতাবে এগুলো আছে। খাল্লালের আস-সুন্নাহ কিতাবে, আব্দুল্লাহ ইবনে আহমাদের নামে প্রসিদ্ধ আস-সুন্নাহ কিতাবে এগুলো রয়েছে। বরং কারও কারও কিতাবে এর চেয়েও জঘন্য আকিদা রয়েছে। যেমন ইবনে খোজাইমা রহ. এর কিতাবুত তাউহীদে খুবই জঘন্য কিছু আকিদা আছে। আব্দুল্লাহ ইবনে আহমদের আস-সুন্নাহ কিতাবের কথা তো বলার প্রয়োজন নেই। অনেক আকিদা মুখে আনাও সম্ভব নয়। ইবনে তাইমিয়া রহ ও তার ছাত্র ইবনুল কাইয়্যিম রহ. এর কিতাবেও এর চেয়ে জঘন্য আকিদা বিশ্বাস রয়েছে। উসমান ইবনে সাইদ আদ-দারিমির কিতাবে মারাত্মক আকিদা বিশ্বাস রয়েছে। এধরণের আরও অনেক কিতাব রয়েছে যেগুলোতে বিভিন্ন ধরণের শিরকী আকিদা রয়েছে।

মূল বিষয় হলো, যাদের কিতাবে এজাতীয় শিরকী বিষয় রয়ে গেছে, তাদের সম্পর্কে আমাদের ধারণা কী হওয়া উচিত? তাদেরকে কি আমরা মুশরিক মনে করবো? কুফুরী বিষয়ের কারণে তাদেরকে কাফের বলে দিবো?

Read More

ইজতিহাদী মাসআলায় সঠিক অবস্থান

শরীয়তের যেসব মাসআলায় গবেষণার সুযোগ রয়েছে এগুলোকে ইজতিহাদী মাসআলা বলে। ইজতিহাদী মাসআলাগুলো নিয়েই মূলত: মতবিরোধ হয়ে থাকে। মতবিরোধপূণর্ ইজতিহাদী মাসআলার ক্ষেত্রে চূড়ান্ত সত‍্য কোনটি, তা বের করার তিন’টি পদ্ধতি রয়েছে।
১. আল্লাহর পক্ষ থেকে চূড়ান্ত সতে‍্যর ব‍্যাপারে ফয়সালা আসা। যেমন বদর যুদ্ধের বন্দীদের ব‍্যাপারে চূড়ান্ত সত‍্যটি আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনের মাধ‍্যমে জানিয়ে দিয়েছেন।
২.সরাসরি রাসূল স.কে জিজ্ঞাসা করে জেনে নেয়া।
৩. মুসলিম উম্মাহের মাঝে ইজমা সংগঠিত হওয়া। কারণ রাসূল স. বলেছেন, আমার উম্মত ভ্রষ্টতার উপর একমত হবে না।

Read More

Page 2 of 15

Designed By ijharul islam & Copyright iDEA